12/04/2018
ভাই! আমি যত জনের সাথে কোন একটি বিরোধপূর্ণ মাসালাগত সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেছি সকলেই ইমাম বুখারীসহ সকল মুজতাহিদ ইমামগণের উপর গোস্তাখি করেছেন। তার মধ্যে আমার সহোদর ভাই একজন। তাহলে আপনারা বোখারী খতম করে লাভ কী??? আপনাদের মতের বিরুদ্ধে গেলে সে যতই বড় ইমাম হোক আর মুজতাহীদ হোক ও কিছু যায় আসে না, আপনারাই সঠিক আর পৃথিবীর সমস্ত মুজতাহীদ ইমাম, মুহাদ্দীস, মহাক্কিক (রহিঃ) সবাই ভুল??? আপনাদের মতের (ওলাময়ে দেওবন্দ) বিরুদ্ধে গেলে পৃথিবীর তাবৎ মতালম্বীরা ফাসেক, ফেৎনা সৃষ্টিকারী হয়ে যায়, আবার মাঝে মধ্যে দেখি সয়ং নাবী (সাঃ) কেও মুকাল্লিদ বানাতে ছাড়ছেন না (নাউযু বিল্লাহ্)। আমার জীবনের একটি স্মরণীয় ঘটনা (২৭/০৩/২০১৮) বলি তা হলো আমি প্রত্যাহ ঢাকার একটি সুনামধন্য মাদ্রাসা-মসজিদে ইশার সালাত আদায় করি। ইমাম সাহেব সূরা ফাতিহা পাঠের পর আমীন আওয়াজ করেই পড়লাম। সালাত শেষে উক্ত কাউমি মাদ্রাসায় হাদীসের দারস দানকারী জনাব, মাওঃ মিজানুর রহমান সাহেব আমাকে ইঙ্গিতের মাধ্যমে মসজিদের বাহিরে নিয়ে গেলেন এবং বললেন আমীন জোড়ে বলে ফেৎনা সৃষ্টি করলেন কেন? আমি বললাম কেন কোন সমস্যা হয়েছে? ভাই আমি দোষের কিছু করেছি? আর একে আপনী ফেৎনা বলছেন কেন? তিনি বললেন অবশ্যই এটা হানাফী মসজিদ আর সমাজ দেখে চলতে হয় এটা আপনী জানেন না? আমি বললাম ভাই আপনাদের এই মসজিদে যদি স্বয়ং ইমাম শাফেয়ী (রহিঃ) এসে জোড়ে আমীন বলতেন তাকেও আপনারা মসজিদের বাহিরে ডেকে নিয়ে বলবেন আমীন জোড়ে বললেন কেন? ভাই আপনারাই তো বলেন চার মাযহাব হক্ব তাহলে ইমাম শাফেয়ীর মাজহাব মানতে সমস্যা কোথায়? হক্বের কোন প্রতিবাদ হয় নাকী? একটা জিনিস যদি উত্তম আর অধমের মধ্যে আপনাকে গ্রহণ করতে বলি আপনি কোনটা নিবেন? তিনি বললেন কোনটা উত্তম? আমি বললাম ইমাম শাফেয়ী, ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল, ইমাম মালেক, ইমাম বুখারী, ইমাম দারা কুতনীসহ অধিকাংশ মুজতাহীদ ইমামগণ একে উত্তম বলেছেন। তিনি বললেন দলীল দেন। আমি বললাম ইমাম বুখারী (রহিঃ) এর লেখা জুজ্উল কিরাআত গ্রন্থটি নিশ্চই আপনি পড়েছেন? তিনি বললেন আরে ভাই আপনী দলীল দেন। আমি বললাম ও ঠিক আছে আমি মোবাইলে বুখারীর পিডিএফ ভার্সন থেকে বুখারী শরীফের ৭৮০ নং হাদীস দেখিয়ে বললাম দেখুন আত্বা (রহিঃ) এখানে কি কল দিয়েছেন ইবনে যুবাইর (রহিঃ) ও তার পিছনের মুসল্লিগণ মসজিদে নববীতে এমন জোড়ে আমীন বলতেন যে, মসজিদে গুমগুম করে আওয়াজ হত। তিনি বললেন বুখারী কেন! আর কোন হাদীসের কিতাবে নাই? আমি বললাম কেন আপনী বুখারী অস্বীকার করেন নাকি?? তিনি বললেন না তবে বুখারী সব সহীহ্ হাদীস পেয়ে গেলেন! আর আবু হানীফা (রহিঃ) সহীহ্ হাদীস পেলেননা! ইমাম বুখারী সঠিক আবু হানীফাই ভুল!? আমি বললাম এখন পর্যন্ত ইমাম আবু হানীফা ভুল আমিকি সেটা বলেছি? আপনী কয়টা হাদীসের কিতাবের উদ্ধৃতি নিবেন? অবশ্য আমার এখানে বোকামী হচ্ছে! কারণ আপনী হাদীস পড়ান আর আমি হাদীস পড়ি পার্থক্য কত....? আপনাকে হাদীস দেখানো আর মায়ের কাছে মামার বাড়ির কিচ্ছা বলা একই কথা।................... যাই হোক এর পর অনেক কথা হলো সনদ নিয়ে কথা বললাম, মুসলীম শরীফ, হাদীস একাডেমী প্রকাশিত হাদীস নং (৮০১-৮০৬ ও ৭৯০), তিরমিযি (২৪৮ ও ২৫০), নাসায়ী (৮৩১, ৮৮২, ৯২৮, ৯২৯-৯৩৫, ১০৬৯,২৮৩), আবু দাউদ এবং ইবনে মাজাহ্ থেকে দলীল দিলাম তাতেও তিনার পেট ভরল না তিনি শেষে বললেন আস্তে বলার হাদীসকি নাই? আমি বললাম আস্তে ‘আমীন’ বলার রিওয়ায়াতগুলো দূর্বল তাই উচ্চৈঃস্বরে বলার রিওয়ায়াতকে অগ্রাহ্য করতে পারবেন না। (আস্ সিআয়া ১/১৩৬) আমীন বলার স্বপক্ষে ১৭টি হাদীস এসেছে। (রওযাতুন নাদিইয়াহ ১/২৭১) যার মধ্যে আমীন আস্তে বলার পক্ষে শু‘বা (রাহিঃ) হতে একটি রিওয়ায়াত আহমাদ ও দারাকুৎনীতে এসেছে جفض أو أخفى بهما صوته অর্থাৎ আমীন বলার সময় রসূলুল্লাহ্ সল্লালাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আওয়ায নিম্ন হত। একই রিওয়ায়াতে সুফ্ইয়ান সত্তরী (রহঃ) হতে এসেছে رفع بهما صوته অর্থাৎ তাঁর আওয়ায উচ্চ হত। হাদীস বিশারদগণের নিকট শু‘বা (রহিঃ) থেকে বর্ণিত নিম্নস্বরে আমীন বলার হাদীসটি মুযতারাব। যার সনদ ও মতনে নাম ও শব্দগত ভুল থাকার কারণে য’ঈফ। পক্ষান্তরে সুফ্ইয়ান সত্তরী (রহঃ) বর্ণিত সরবে আমীন বলার হাদীসটি এসব ক্রটি হতে মুক্ত হবার কারণে সহীহ। (দারাকুতনী হাঃ ১২৫৬ এর ভাষ্য, রওযাতুন নাদিয়াহ ১/২৭২, নায়লুল আওত্বার ৩/৭৫)। দেখলেন তো কিভাবে বুখারী (রহিঃ) এর গোস্তাখি করে?? আরো এরকম অনেক তর্ক আছে আমার সাথে যা লিখলে অনেক সময় লেগে যাবে। সূতরাং বুখারী খতম করে কি লাভ যদি তাদের মাযে বুখারীর মত হাদীসের জ্ঞান পিপাসু না হতে পারেন?????
I'm a full stack web developer