08/02/2026
ব্যর্থতা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোই ইসলামের শিক্ষা
মানুষ হিসেবে আমাদের জীবনে উত্থান-পতন অনিবার্য। কখনো আমরা সাফল্যের চূড়ায় আরোহণ করি, আবার কখনো ব্যর্থতার গভীর অন্ধকারে হারিয়ে যাই।
কিন্তু একজন মুমিনের জন্য 'ব্যর্থতা' কোনো স্থায়ী গন্তব্য নয়, বরং এটি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি পরীক্ষা এবং নিজেকে সংশোধনের সুযোগ।
ব্যর্থ হলে আমরা প্রায়ই ভেঙে পড়ি এবং নিরাশ হয়ে যাই। অথচ পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা স্পষ্টভাবে বলেছেন: "তোমরা হতাশ হয়ো না এবং দুঃখ করো না; তোমরাই বিজয়ী হবে যদি তোমরা মুমিন হও।" (সূরা আল-ইমরান: ১৩৯)
ইসলাম শেখায় যে, পথ যতই কঠিন হোক আল্লাহর রহমত থেকে বিচ্যুত হওয়া যাবে না। লা-তাহযান (চিন্তা করো না)। কারণ আল্লাহ আপনার সাথে আছেন।
অনেক সময় আমরা যা চাই তা পাই না। আর সেটাকেই ব্যর্থতা মনে করি। কিন্তু আল্লাহ আমাদের জন্য যা ভালো মনে করেন সেটাই নির্ধারণ করেন। আপনার আজকের ব্যর্থতা হয়তো আগামীকালের বড় কোনো সাফল্যের বীজ।
ইসলামে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রধান হাতিয়ার হলো দুটি: ধৈর্য (সবর) এবং নামাজ। ধৈর্য আপনাকে প্রতিকূল সময়ে স্থির থাকতে সাহায্য করে। আর নামাজ সরাসরি স্রষ্টার সাথে সংযোগ স্থাপন করে মানসিক প্রশান্তি দেয় এবং নতুন উদ্যমে কাজ করার শক্তি যোগায়।
আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনের দিকে তাকালে দেখা যায়, তিনি তায়েফের ময়দানে রক্তাক্ত হয়েছেন, মক্কায় লাঞ্ছিত হয়েছেন। জাগতিক দৃষ্টিতে এগুলো চরম প্রতিকূলতা হলেও তিনি দমে যাননি। এই ধৈর্য এবং আল্লাহর ওপর অবিচল আস্থার ফলেই শেষ পর্যন্ত ইসলামের বিজয় নিশান উড়েছে।
ইসলাম কেবল দোয়া করতে শেখায় না, বরং প্রচেষ্টাকে ইবাদত হিসেবে গণ্য করে। আল্লাহ বলেন, "মানুষ যা চেষ্টা করে, তা-ই সে পায়।" (সূরা আন-নাজম: ৩৯)। তাই একবার পড়ে গেলে সেখানেই বসে না থেকে, ধুলো ঝেড়ে আবার উঠে দাঁড়ানোই হলো প্রকৃত ইসলামি চেতনা।
ব্যর্থতা আপনাকে এটিই মনে করিয়ে দেয় যে, আপনি একজন মানুষ, আর আপনার সাহায্যকারী হিসেবে স্বয়ং আল্লাহ আছেন। তাই হার মেনে নেওয়া নয়, বরং আল্লাহর ওপর ভরসা (তাওয়াক্কুল) রেখে নতুন কৌশলে এগিয়ে যাওয়াই মুমিনের বৈশিষ্ট্য। মনে রাখবেন, অন্ধকারের পরেই ভোরের আলো ফোটে।
🖋️