16/05/2026
১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসন থেকে মুক্তি দিলেও, মূলত ছিল এক ঔপনিবেশিক শক্তির হাত থেকে আরেক শোষক চক্রে। ৫২-র ভাষা আন্দোলন, আমাদের সংস্কৃতির ওপর আঘাতের প্রতিবাদ। ৬ দফা (১৯৬৬) আমাদের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্বাধিকারের দাবি। ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান আইয়ুব খানের সামরিক স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে গণবিস্ফোরণ, বাঙালির অধিকার আদায়ের ধারাবাহিক ধাপ।
১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বরের চূড়ান্ত বিজয় না এলে পূর্বের সব আন্দোলন ও ত্যাগ ব্যর্থ হতো। একাত্তরের বিজয়ই পূর্বের সংগ্রামগুলোকে পূর্ণতা দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশ জাতিরাষ্ট্রের জন্ম দিয়েছে। কিন্তু ১৯৭১ যদি না ঘটত, তবে এগুলো কেবল "পাকিস্তানের অভ্যন্তরে কিছু অধিকার আদায়ের আন্দোলন" হিসেবেই ইতিহাসের পাতায় থেকে যেত।
অথচ, কিছু রাজনৈতিক গোষ্ঠী এখনো ১৯৭১-কে এড়িয়ে ১৯৪৭ সালের মাতাল-শুকোর মাংসে খোর-জিন্নাহ তত্ত্বকে বড় করে দেখালে, তাদের সেই অপরাধগুলো ঢাকা পড়ে যায় না। মূল কারণ তাদের আদর্শিক দেউলিয়াত্ব, মুক্তিযুদ্ধে নেতিবাচক ভূমিকা এবং পরাজয়ের গ্লানি। একাত্তরের কথা উঠলে তাদের পূর্বসূরিদের দেশদ্রোহিতা সামনে চলে আসে বলেই তারা ইতিহাস বিকৃতির চেষ্টা করে। এখনো '৪৭ নিয়ে বেশি মেতে থাকে, কারণ মূলত সেই ধর্মীয় বিভাজনের রাজনীতি বা সাম্প্রদায়িক চেতনাকে লালন করেন।
৭১ বললে গায়ে জ্বালাপোড়া করার সবচেয়ে বড় ব্যবহারিক কারণ হলো ইতিহাসের দায় ও অপরাধবোধ। ঐতিহাসিক লজ্জা ও অপরাধবোধ থেকে বাঁচতেই তারা ১৯৭১-কে এড়িয়ে যেতে চায় বা খাটো করে দেখতে চায়।
৫২, ৬৬ বা ৬৯-এর সব আন্দোলনকে পাকিস্তানি শাসকরা "বিচ্ছিন্নতাবাদী বা রাষ্ট্রদ্রোহী কর্মকাণ্ড" হিসেবে আখ্যা দিয়ে চিরতরে দমন করত। ১৯৭১ সালের মূল চেতনা ছিল ধর্মনিরপেক্ষতা, অসাম্প্রদায়িকতা, ভাষা, সংস্কৃতি এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদ।
৪৭ দিয়ে শুরু করার পেছনে আরেকটি উদ্দেশ্য হলো বর্তমান প্রজন্মের সামনে মুক্তিযুদ্ধের গুরুত্বকে হালকা করা। তারা বোঝাতে চায় যে, বাঙালির মূল মুক্তি '৪৭-এই হয়ে গিয়েছিল, '৭১ কেবল একটি "দুর্ঘটনা" বা "ভারতের ষড়যন্ত্র" যা পাকিস্তানি শোষকদের চিরন্তন বয়ান।