24/08/2017
ফ্রিল্যান্স???? লাখ লাখ টাকা??
অনেক সহজেই আয়???
এই চিন্তা ঝেড়ে ফেলুন নিচের
লেখাটি পড়ুন
কেনো অভিজ্ঞ ফ্রিল্যান্সাররা
নতুনদের সাহায্য করতে উৎসাহবোধ
করেন না?
১। একজন সফল ফ্রিল্যান্সারের
জীবনী যদি জানতেন তবে আপনি
নিজেই প্রত্যেককে ‘লিজেন্ড’
উপাধিতে ভূষিত করতেন। বিশ্বাস
করুন তাঁরা শতবার ব্যর্থ হয়েছে।
কাউকে সে কথা বলেনি। রাতের
পর রাত পার করেছে শুধু স্কিল
ডেভেলপমেন্ট করার জন্য। কিন্তু যখন
একজন ছোটভাই তার কাছে এসে
আবদার করে, ‘ভাইয়া, দয়া করে
আমাকে সহজে ইনকাম করার কোন
উপায় দেখিয়ে দিন।’ তখন বড়
ভাইটি লজ্জায় লাল হয়ে যাওয়ার
মতো বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে। বড়
ভাইটি ভালো করেই জানে যে,
লং টার্ম ইনকাম করার জন্য কোনো
শর্টকাট উপায় নেই। আপনার বড় ভাই
আপনাকে কোনো রকম একটা বুঝ
দিয়ে গা ঢাকা দিবে।
২। প্রত্যেকটা সফল ফ্রিল্যান্সার
তাঁর নিজ আগ্রহে সফল হয়েছে।
কম্পিউটার, ইংরেজিতে দক্ষতা,
ইন্টারনেট থাকুক বা না থাকুক তাঁর
আগ্রহের কাছে এসব কোনো
ব্যাপারই না। নিজের আগ্রহ এতো
বড় একটা ব্যাপার যে, এটা ছাড়া
আপনার শরীরে কম্পিউটার আঠা
দিয়ে লাগিয়ে দিলেও আপনি
জীবনে অনলাইন প্রফেশনাল হতে
পারবেন না। যখন আপনি
আর্থিকভাবে সমস্যায় পড়ে
এক্সপার্ট কোনো বড় ভাইয়ের কাছে
যাবেন শুধু লাক লাক টাকা ইনকাম
করার জন্য, তখন আপনার বড় ভাই খুব
সহজেই বুঝে যাবে যে, আপনার
এখানে শেখার কোনো ইচ্ছে নেই।
শুধু টাকা ইনকামের ধান্ধা।
এক্ষেত্রেও সে আপনাকে সাহায্য
করতে চাইবে না।
৩। প্রত্যেকটা অনলাইন ফ্রিল্যান্সার
খুবই ব্যস্ত থাকে। তাঁদের হাতে
আহামরি কোনো সময় থাকে না।
আপনারা ফেসবুকে তাঁদের
ঘুরাঘুরির যে ছবি দেখে থাকেন,
তা হলো তাদের অবসর সময়ে ঘুরতে
যাওয়ার ছবি। হয়তো নতুন হিসেবে
আপনি ভেবে থাকবেন যে, ইশ! কত্ত
স্বাধীনতা অনলাইন কাজের মধ্যে।
না, ব্যাপারটা মোটেও এতো
সোজা নয়। সে হয়তো কোন রকম
বাসায় ফিরে ছবিটি আপলোড
দিয়েই কাজে নেমে পড়েছে।
সেটা আমরা কেউ ভাবতে চাই না।
যাইহোক, আপনি যখন কোনো বড়
ভাইয়ের কাছে সাহায্য চাইবেন,
সে আপনাকে সাহায্য করতে
চাইলেও পারবে না, কারন তার
ক্লায়েন্ট তার প্রজেক্ট
ডেলিভারির জন্য বসে আছে। এমন
অবস্থায় আপনি তাকে ভাবওয়ালা
বলতে পারবেন। কিন্তু তার
প্যারাটা আপনি তখনই বুঝবেন যখন
একদিন আপনি এক্সপার্ট
ফ্রিল্যান্সার হবেন। আপনি হয়তো
সেটা না ভেবেই তাকে কষ্ট
দিয়ে কিছু বললেন বা ম্যাসেজে
গালি দিলেন। ব্যাস, তার মনটা
ভেঙ্গে গেলো। আপনার সাথে
আরও ১০ জন নতুন তার সাহায্য থেকে
বঞ্চিত হলো।
৪। যখন কোনো বড় ভাই আমাদের কিছু
টিপস দিলো, তখন সবাই হুমড়ি
খেয়ে তাকে ম্যাসেজ দেওয়া শুরু
করে দিলো। একটা ব্যস্ত মানুষ যদি
প্রতিদিন ৫০ টা ম্যাসেজের
রিপ্লাই দেয়, তাহলে সে কাজ
করবে কখন? ব্যক্তিগতভাবে সাহায্য
কামনা করাটা বোকামী ছাড়া
কিছুই না। তাই তাকে ম্যাসেজ
দিয়ে তার কাছ থেকে রিপ্লাই
আশা করাটা সব সময়ের জন্য যথার্থ
নাও হতে পারে। কারন বড় ভাই
ভালো করেই জানে, যে শিখার
সে ২০ ভাগ ক্লু পেয়ে গেলে
বাকি ৮০ ভাগ নিজে নিজে খুঁজে
বের করে নিবে। আর যে ব্যক্তি
বাকি ৮০ ভাগ খুঁজে নিতে পারবে
না, মূলত তার অনলাইনে আয় করার
যোগ্যতাই হয়নি।
৫। গতানুগতিক চাকরি আর
ফ্রিল্যান্সিং এক জিনিস নয়।
গতানুগতিক চাকরিতে আপনি
অফিসে বসে কাজ করেন বা না
করেন মাস শেষে কিন্তু ঠিকই বেতন
পাবেন। আর ফ্রিল্যান্সারদের
ইনকামটা হয় কাজের উপর। কাজ না
করলে তাদের কোনো ইনকাম নেই।
কেউ যদি আওয়ারলি জব করে এবং
তার কাজের রেট যদি হয় ঘন্টায় ২০
ডলার তাহলে সে যদি কাউকে এক
ঘণ্টা সময় দেয় তাহলে তার ২০ ডলার
মানে প্রায় ১৫০০ টাকা লস। আপনি
কি অপরিচিত কারো জন্য এই টাকা
লস করতে চাইবেন? তাছাড়া
গতানুগতিক চাকরিজীবীদের
সাথে ফ্রিল্যান্সারদের আরেকটা
পার্থক্য হলো গতানুগতিক
চাকরিজীবীরা অফিস টাইমের পর
ফ্রি। তখন তারা যা খুশি করতে
পারে। ফেসবুকে চ্যাটিং করতে
পারে বা কারো সাথে আড্ডা
দিতে পারে। কিন্তু
ফ্রিল্যান্সারদের ডিউটি ২৪
ঘণ্টাই। তাই আপনার ফ্রি টাইমে
ফ্রিল্যান্সাররাও ফ্রি থাকবে এটা
আশা করাও বোকামি।
৬। হয়তো অনেক বড় ভাই-ই সাহায্য
করতে চায় কিন্তু যখন দেখে যে
সাহায্য করা মাত্র আমাদের কিছু
ভাইরা বীরের বেশে স্প্যামিং
করছে, ইউটিউবে বাজে গল্প নিয়ে
ভিডিও পোষ্ট করছে তখন আর কী
করবে? সোজা চুপ হয়ে যায়। কারন
আমাদের দেশের অন্তত ২০-২৫% মানুষ
শুধু কপি পেষ্ট বা স্প্যামিং করে
ইনকাম করার ধান্ধায় থাকে।
৭। একজন হেল্পফুল মাইন্ডের মানুষ যে
সত্যিই নতুনদের সাহায্য করতে চায়
তাকে আবার আমরা সময়ে অসময়ে
বার বার মেসেজ দিয়ে জানতে
চাই, ‘ভাইয়া, কেমন আছেন? /
ভাইয়া, কি করেন? /
আসসালামুয়ালাইকুম ভাইয়া / হাই,
হ্যালো / ভাইয়া, বাসার সবাই
ভালো? / ভাইয়া, আপনার শরীরটা
ভালো? / ভাইয়া, আপনার দিনকাল
কেমন যাচ্ছে? / ভাইয়া, আপনার
ফোন নম্বরটা দিবেন? / ভাইয়া,
আপনার বাড়ি কোথায়? / ভাইয়া,
একটা হেল্প করবেন? / ভাইয়া, আমি
কি ফ্রিল্যান্সার হতে পারব?’
ইত্যাদি ইত্যাদি। আহা! কত
ফরমালিটি। কিন্তু সত্যি কথাটা
কি জানেন? অনলাইন
প্রফেশনালদের কাছে এই সকল
বিষয়গুলো খুবই বিরক্তিকর। একজন
ব্যস্ত মানুষকে বার বার এই টাইপের
মেসেজ দিলে সে বিরক্ত হবে না?
আপনি একজন বড় ভাইকে সোজা
মেসেজ দিয়ে আপনার সমস্যার কথা
বলতে পারেন। এতো ফরমালিটির
দরকার নেই।
৮। অনেক ক্ষেত্রে আমাদের
সাহায্য চাওয়ার ধরনটা এই রকম যে,
‘ভাইয়া, আমি অনলাইনে আয় করতে
চাই, প্লিজ আমাকে সাহায্য করুন।’
অনলাইনে এতো বেশি পরিমান
রিসোর্স থাকার পরও যদি কাউকে
এমন প্রশ্ন করেন তাহলে মেজাজ
বিগড়ে যাওয়ার মতো অবস্থা হয়।
আপনি এই কথাটি লিখে গুগলে
সার্চ করেন না, উত্তর পেয়ে
যাবেন। আপনার কি মনে হয় আপনার
বড় ভাই আপনাকে সবকিছু
বিস্তারিত বলে দেবে? কিংবা
আপনাকে হাতে ধরে শিখাবে?
এতো টাইম কোনো
ফ্রিল্যান্সারের নেই। একদম সোজা
সাপ্টা নির্দিষ্ট প্রশ্ন করুন। আপনার
বড় ভাই যখন বুঝতে পারবে যে,
আপনি অনেক রিসার্চ করেছেন এবং
কোথাও গিয়ে আটকে গেছেন তখন
দেখবেন ভালো একটা রিপ্লাই
পাবেন। পরিশ্রমী ফ্রেশারদের
সবাই সাহায্য করতে ভালোবাসে।
৯। ‘ভাইয়া আপনার ফোন নম্বারটা
দিবেন প্লিজ?’ এই প্রশ্নটা আমি খুব
বেশি বিরক্তির চোখে দেখি।
যেখানে খাওয়ার সময় পাই না,
গোসলের সময় পাই না সেখানে
কারো সাথে ফোনে কথা বলার মন
মানুষিকতা কীভাবে হবে? ফোনে
সমস্যার কথা বলে ফ্রিল্যান্সার
হওয়া যায় না। তাছাড়া একটু পরপর
ফোন আসলে ফ্রিল্যান্সারদের
কাজের সমস্যা হয়। কাজ করার সময়
অনেক মনোযোগ দিয়ে কাজ করতে
হয়। কোনো বড় ভাইয়ের কাছে ফোন
নম্বর চাইলে যথার্থ কারন দেখিয়ে
ফোন নম্বর চাইবেন। উদ্দেশ্যহীন
ভাবে ফোন নম্বর চাইলে দেখবেন
মেসেজ সিনই করবে না।
১০। আমাদের মধ্যে খাইয়ে দেওয়ার
একটা ব্যাপার থাকে। অর্থাৎ কেউ
কোন টিউটোরিয়াল বা টিপস
দিলে কেনো সে একেবারে
আপনাকে শরবত বানিয়ে খাইয়ে
দিলো না, তাই তাকে
গালাগালি করতে আমাদের
গায়ে লাগে না। সামান্যতম
রিসার্চ করতে না পারলে আপনার
অনলাইনে কাজ করার যোগ্যতাই
হয়নি। আবার কারো ভালো
কাজের যথাযথ মূল্যায়ন না করে
আমরা সমালোচনাই করি বেশি।
এতে এক্সপার্টদের মন ভেঙ্গে যায়।
আর তখন দেখবেন যে, বড় ভাইরা শুধু
ফেসবুকে ফানি ভিডিও পোষ্ট
করবে আর বাংলিশ কমেন্ট করে
মজা নবে। কারন তাঁরা আজাইরা
পরিশ্রম করতে চায় না।
- 'ফ্রিল্যান্সার হওয়ার গল্প' বই
থেকে