11/06/2025
বিএনপির বর্তমান রাজনীতি: ভুল পথ, Opportunities হারানো, ও মানুষের অবিশ্বাস
বাংলাদেশের রাজনীতিতে ২০২৫ সালের এই সময়ে সবাই চায় একটি নতুন, শক্তিশালী ও বিশ্বাসযোগ্য রাজনৈতিক বিকল্প।
কিন্তু বিএনপি আজও সেই সুযোগ নিতে পারেনি। বরং নিজেদের ভুল সিদ্ধান্ত, দ্বিধাদর্শী অবস্থান ও অহংকারের কারণেই তারা জনমনের আস্থা হারাচ্ছে।
বিএনপির বড় কিছু ভুল ও সমস্যা:
১. আন্দোলনের স্লোগান ছাড়া বাস্তব কর্মসূচি নেই:
১৫ বছরের রাজনৈতিক যুদ্ধে বিএনপি বারবার বলেছে “সরকার যাবে” আর “নির্বাচন চাই”, কিন্তু মাটি বা জনসমর্থন গড়ে তুলতে পারেনি।
আন্দোলন হয়েছে মুখে, মাঠে না।
২. পরিবারতান্ত্রিক ও এককেন্দ্রিক নেতৃত্ব:
দল এক ব্যক্তির ঘেরাটোপে আবদ্ধ।
নেতৃত্বহীনতার কারণে দল দ্বন্দ্বে বিভক্ত, নতুন নেতৃত্ব গড়ে ওঠেনি।
৩. তরুণ সমাজ থেকে বিচ্ছিন্নতা:
নতুন প্রজন্মের ভাষা, তাদের আশা-আকাঙ্খা বিএনপি বুঝে উঠতে পারেনি।
২০২৪ এর আন্দোলনে তরুণেরা স্বতন্ত্র ভূমিকা নিয়েছে, বিএনপি ছিল পিছনে।
৪. মাঠে দুর্নীতি ও স্বার্থপরতা:
রাজনীতিকে সেবা নয়, সুবিধার হাতিয়ার বানানো হয়েছে।
দলের মধ্যে দুর্নীতি ও স্বার্থপরতা জনগণের আস্থা কমিয়েছে।
৫. অযাচিত অহংকার ও প্রতিশোধের রাজনীতি:
জনগণের আশা ভুলে বিএনপি এখনো অতীতের শত্রু শোধ করার প্রতিশ্রুতিতে আটকে।
এই অহংকার দলকে আরও দুর্বল করছে।
৬. ভারতের সঙ্গে দ্বৈত অবস্থান:
জনগণ চায় বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষার দৃঢ় ও স্পষ্ট কূটনীতি।
বিএনপি ভারত নিয়ে দ্বিধাদর্শী, একদিকে সমঝোতার কথা বলে, অন্যদিকে সমালোচনা করে।
এতে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি বাড়ে, আস্থা কমে।
৭. রাজনীতি মানে:
জনতার পাশে থাকা, বিশ্বাস অর্জন করা
সদ্যই শেখ হাসিনার পতনের সুযোগ বিএনপির সামনে এসেছে।
কিন্তু তারা সেই সুযোগ হারিয়েছে—ভুল কৌশল, দুর্নীতি ও অহংকারের কারণে।
শেষ কথা:
বিএনপি যদি সত্যিই দেশের বিকল্প শক্তি হতে চায়,
তবে তাদের এখনই নিজেদের ভুল থেকে শিক্ষা নিতে হবে,
নেতৃত্ব ও সংগঠনকে সংস্কার করতে হবে,
মাঠ থেকে দুর্নীতি নির্মূল করতে হবে,
ভারতের সঙ্গে স্পষ্ট ও দৃঢ় অবস্থান নিতে হবে,
আরেকটু নম্রতা নিয়ে জনগণের পাশে দাঁড়াতে হবে।
নাহলে, ইতিহাস তাদেরকে আবারও ভুল ইতিহাস হিসেবে স্মরণ করবে।