Star Tech Engineering & Consultancy.

Star Tech Engineering & Consultancy. Information Technology, Technological Solutions, Daily Life & Knowledges. All types of websites development

07/08/2026
ও কেন আজও পিছু ডাকে...
31/07/2026

ও কেন আজও পিছু ডাকে...

আজও পিছু ডাকে...
31/07/2026

আজও পিছু ডাকে...

আজও ভালো লাগে এ যেন আত্মার খোরাক একে ছাড়া বাঁচা যায় না
31/07/2026

আজও ভালো লাগে এ যেন আত্মার খোরাক একে ছাড়া বাঁচা যায় না

ক্লাসরুমের সেই শেষ বেঞ্চ, এক টিফিন ভাগ করে খাওয়া, আর ঘণ্টার পর ঘণ্টা জমিয়ে রাখা গল্পগুলো আজ কেবলই স্মৃতির পাতায় ধুলো জমা...
20/07/2026

ক্লাসরুমের সেই শেষ বেঞ্চ, এক টিফিন ভাগ করে খাওয়া, আর ঘণ্টার পর ঘণ্টা জমিয়ে রাখা গল্পগুলো আজ কেবলই স্মৃতির পাতায় ধুলো জমায়। ব্যস্ত জীবন আমাদের অনেক কিছু দিলেও, সেই সোনালী বন্ধুদের আর ফিরিয়ে দেয় না। খুব মনে পড়ে স্কুল-কলেজের সেই দিনগুলো! 🎒🏫❤️
#পুরোনোবন্ধু #স্কুলেরদিনগুলো #হারিয়েযাওয়াশৈশব

24/06/2026

ক্যাসেট প্লেয়ার এর সঙ্গে গান শুনে নিন

♦️হেমন্ত, রফি না কিশোর—কার গলাকে সেরা বলেছিলেন মান্না দে?আধুনিক গানের কিংবদন্তি শিল্পী মান্না দে ২০০৯ সালে ঢাকায় এসেছিল...
24/06/2026

♦️হেমন্ত, রফি না কিশোর—কার গলাকে সেরা বলেছিলেন মান্না দে?

আধুনিক গানের কিংবদন্তি শিল্পী মান্না দে ২০০৯ সালে ঢাকায় এসেছিলেন। তাঁর একটি দীর্ঘ সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন প্রথম আলোর ক্রীড়া সম্পাদক উৎপল শুভ্র। সাক্ষাৎকারটি ২০০৯ সালের ৬ মার্চ ছাপা হয়েছিল প্রথম আলোর সাময়িকীতে।

উৎপল শুভ্র: প্রথম প্রশ্নটা গান নিয়ে নয়, আপনার বয়স নিয়ে। এই যে প্রায় ৯০ বছর বয়সেও আপনি দেশে-বিদেশে ঘুরে গান গেয়ে যাচ্ছেন। কীভাবে পারেন, বলুন তো!
মান্না দে: গান আমার একটা প্যাশন। গানই আমার জীবন। এ কারণেই হয়তো পারি। এই বয়সেও গান করতে পারার পেছনে আর একটা ব্যাপারও হয়তো আছে। আমি স্পোর্টসম্যান ছিলাম। কুস্তিটুস্তি করে নামও করেছিলাম। সেই জন্য আমার শরীরটার বাঁধুনি শুরু থেকেই একটু শক্ত ছিল। আমার বাবাকেও কৃতিত্ব দেব এ জন্য। তিনি আমাদের শিখিয়েছিলেন, শরীর ভালো রাখতে হলে শরীরের যত্ন করতে হবে। যতটুকু খাওয়া দরকার, ততটুকু খাবে। সময়মতো খাবে, সময়মতো শোবে, সময়মতো এক্সারসাইজ করবে, সময়মতো কাজ করবে। জীবনের এই ডিসিপ্লিনটা আমাকে খুব সাহায্য করেছে। এ কারণেই আমি ৯০ বছর বয়সেও গান করতে পারছি। এখনো প্রতিদিন সকালে আমি দু ঘণ্টা রেয়াজ করি। রেয়াজ করতে না পারলে মনে হয় দিনটাই খারাপ গেল। এখনো কানটাকে সব সময় ভীষণ টিউন করে রাখি যে, কে ভালো গাইছে এবং তাদের কাছে কিছু শেখার আছে কি না! আমি বিশ্বাস করি, যত দিন শেখা যায়, শেখা উচিত। আমি এখনো শিখছি। © রূপকথা
শুভ্র: এখনো শিখছেন! তা কত বছর হলো এই ‘শিক্ষাজীবন’?
মান্না দে: ষাট বছর। ষাট বছরই আমার সংগীতজীবন। লেখাপড়া ভালোভাবেই করেছিলাম। তবে গ্র্যাজুয়েট হওয়ার পর সিঙ্গার হওয়াটাকেই আমি আমার জীবনের লক্ষ্য ঠিক করে নিই। কারণ ছিল হয়তো এটাই যে, কৃষ্ণচন্দ্র দে ছিলেন আমার কাকা। কাকা বিয়েটিয়ে করেননি, নিজের ছেলের মতো মানুষ করেছিলেন আমাদের। কাকার দৌলতে ভারতবর্ষের সেরা সেরা গাইয়ে-বাজিয়ে আমাদের বাড়িতে আসতেন, পারফর্ম করতেন। বাড়িতে বসেই আমরা তাই ভারতবিখ্যাত সব শিল্পীর গান শোনার সুযোগ পেয়েছিলাম। সা-রে-গা-মা-পা-ধা-নি-সা আমি শুনতে শুনতে নিজেই শিখেছিলাম। পড়াশোনা শেষ করার পর কাকা আমাকে শেখাতে শুরু করলেন। শিক্ষক হিসেবে কাকা ছিলেন খুব কড়া। কাকা কখনো দুটো মেডেল আর একটা কাপ পাওয়ার জন্য গান শেখাতেন না, কাকার তত্ত্বাবধানে শুরু করার পর আমি কাকার ওস্তাদ দবীর খাঁ সাহেবের কাছে গান শিখলাম। এরপর কাকার হাত ধরে বোম্বেতে যাওয়ার পর ওখানে কাকা আমাকে বড় বড় ওস্তাদের কাছে দিয়ে দিলেন, এর পাশাপাশি ফিল্মেও কাজ করতে লাগলাম। ভেতর থেকে একটা তাড়না ছিল, আমাকে সর্বভারতীয় গাইয়ে হতেই হবে। আমি শুধু বাংলা গান করতে চাই না, ভারতবর্ষে যত রকম গানবাজনা আছে আমি তা করতে চাই। আর বোম্বে ছিল এমন এক জায়গা, যেখানকার মূলমন্ত্র হলো: সারভাইভাল অব দ্য ফিটেস্ট। নিজেই নিজেকে প্রমাণ করতে হবে। আমি চ্যালেঞ্জটা নিয়েছিলাম।
শুভ্র: আপনার ঘনিষ্ঠজনদের কাছে শুনেছি, আপনি নাকি এখনো নিজের সব কাজ নিজেই করেন। বাজার করা, কাপড়চোপড় কাচা পর্যন্ত...।
মান্না দে: হ্যাঁ, আমি আমার নিজের কাজ নিজেই করতে ভালোবাসি। আমি খুব সেলফ-সাফিশিয়েন্ট। আমি আতিশয্যে বিশ্বাস করি না। আর্টিস্ট হয়েছি তাতে কী, আমি খুবই প্র্যাকটিক্যাল লোক। আমি জানি, নিয়মিত রেয়াজ না করলে আমি ভালো করে গাইতে পারব না। আমি তাই রেয়াজ করি। জানি, না শিখলে আমি এগোতে পারব না। আমি শিখি। কম খেলে শরীর ভালো থাকবে। আমি কম খাই। সব মিলিয়ে আমি খুবই ডিসিপ্লিনড মানুষ।
শুভ্র: জীবনে কিছু যা পাওয়া সম্ভব, নাম-খ্যাতি, মানুষের ভালোবাসা...সবই তো আপনি পেয়েছেন। এর মধ্যে নিজে সবচেয়ে বড় পাওয়া মনে করেন কোনটিকে?
মান্না দে: আমার জীবনে সক্কলের চাইতে বড় পাওয়া আমার স্ত্রী। ও কেরালার মালাবারের মেয়ে। উচ্চশিক্ষিত, বোম্বে ইউনিভার্সিটি থেকে ইংরেজি ভাষায় এমএতে ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট। ওকে দেখে প্রথম দর্শনেই প্রেম বলতে যা বোঝায়, তা-ই হয়েছিল আমার। এরপর আমরা একে অন্যকে জানলাম, বিয়ে করলাম। এই ৫৫ বছরের বিবাহিত জীবনে সব সময়ই ওকে আমার সঙ্গী হিসেবে যেমন সেরা মনে হয়েছে, তেমনি বন্ধু হিসেবেও সেরা, যেকোনো কিছু নিয়ে আলোচনা করার জন্য সেরা। ও শুধু আমার স্ত্রী-ই নয়; আমার ফ্রেন্ড, ফিলোসফার অ্যান্ড গাইড। আমার সবচেয়ে বড় সমালোচকও।
শুভ্র: এটা তো পুরো জীবনের পাওয়া। শুধু সংগীত জীবনটা যদি আলাদা করে নিই, তাহলে সবচেয়ে বড় পাওয়া মানেন কোনটিকে?
মান্না দে: সেই চাওয়া-পাওয়ার তো আর শেষ নেই। আমি যা হতে চেয়েছিলাম, সেই সর্বভারতীয় টপ সিঙ্গার হতে গেলে গোটাকতক জিনিস দরকার। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, আমি কোন অঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব করছি। আমি প্রতিনিধিত্ব করছি বাংলাদেশকে। বাংলাদেশের যে গানবাজনা—রবীন্দ্রসংগীত, নজরুলগীতি, অতুলপ্রসাদের গান, বাউল, ভাটিয়ালি—এগুলো তো সর্বভারতীয় হয় না। আমার সমসাময়িক যাঁরা ছিলেন—মোহাম্মদ রফি, মুকেশ, লতা মুঙ্গেশকর, আশা ভোঁসলে—সবারই এমন একটা পরিমণ্ডলে জন্ম হয়েছিল, যেখানে সর্বভারতীয় গানবাজনা হতো। ওঁরা সেখানেই জন্মেছিলেন বলে ওঁদের একটা অ্যাডভান্টেজ ছিল। একটা বাঙালির ওঁদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করাটা খুব মুশকিল ছিল। তা সত্ত্বেও আমি সহজে হার মেনে নিইনি, ভালো ভালো ওস্তাদের কাছে শিখেছি। এ কারণেই আমি একটু অন্যভাবেও গাইতে চেয়েছি। আমার যে গায়কি, তাতে সব সময়ই একটা ক্লাসিক্যাল বেজ থাকত। বাংলা গানেও আমি এসব ইন্ট্রোডিউস করেছি। সুখের কথা, আমার বাঙালি শ্রোতারা সেটি দু হাত ভরে গ্রহণ করেছে। বাংলা ভাষাতে আমি যত শক্তই গান করি, সে গানগুলো পপুলার হতো ও লোকে গ্রহণ করত। তবে এটা হিন্দি ফিল্ডে হয়নি। কারণ হিন্দি ফিল্ডে আই ওয়াজ অ্যান আউটসাইডার। একজন বাঙালি, যে হিন্দি বা উর্দু গান গাইছে। সেখানে যাদের এটি নিজেদের ভাষা, তারা অনেকটাই এগিয়ে ছিল। যেমন রফি ছিলেন পাঞ্জাবি, হিন্দি-উর্দু ওঁর স্বাভাবিকভাবেই আসত। আমি সেটা মেনে নিয়েছিলাম। কারণ রফির মতো গাইয়ে ভারতবর্ষে হয়নি। আমি বলছি লাইট মিউজিকের কথা...এতে রফির মতো সিঙ্গার হয়নি। আমি তাই মেনে নিয়েছিলাম, রফির সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নামলে আমি হয়তো কিছুটা এগোতে পারব, কিন্তু শেষ পর্যন্ত পারব না।
এ কারণেই বললাম, আমি মেনে নিই। যেমন কিশোর কুমার, ও যদিও বাঙালি, গাঙ্গুলী পদবি, তবে ওর জন্ম মধ্যপ্রদেশে। সেখানে ওদের কথাবার্তা চলত হিন্দিতে। ওই একটা অ্যাডভান্টেজ পেয়ে গেল সে। তার পর ছিল কিশোরের ওই গলা। অদ্ভুত রকমের একটা গলা ভগবান তাকে দিয়েছিলেন। অত বিউটিফুল ভয়েস খুব কম এসেছে। © রূপকথা
কিশোর, রফি, বাংলা গানে হেমন্ত—ওঁদের যে ঈশ্বরদত্ত অপূর্ব গলা ছিল, আমি তা পাইনি। আমার গলার মধ্যে অত আকর্ষণীয় কিছু ছিল না। কিশোরের গলা শুনলেই যেমন মনে হতো, ‘হোয়াট আ ভয়েস!’ হেমন্তবাবুর অত মিষ্টি ভয়েস; আর রফি—ওর গায়কি, গান করার ঢং, ওটা ছিল দারুণ। এ কারণেই নিজের জায়গা করে নেওয়ার জন্য আমাকে ক্লাসিকের দিকে ঝুঁকতে হয়েছিল। ভারতবর্ষে যে ক্লাসিক্যাল গানবাজনা, সেটি ভালোভাবে রপ্ত করে আমি ওদের সঙ্গে কমপিট করতে গিয়েছিলাম। যাওয়ার পর যা দেখলাম, আমার জন্য মিউজিক ডিরেক্টররা যে গান তৈরি করতেন, সে গান আমিই গাইতাম, অন্য কাউকে দিয়ে গাওয়ানো যেত না।
শুভ্র: যেকোনো শিল্পীর জন্য নিজের ভাষার গান দিয়ে শুরু করাটাই তো স্বাভাবিক। কিন্তু আপনি বাংলা গান করলেন অনেক পরে, বোম্বেতে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর। এটা কেন?
মান্না দে: আমার প্রথম বাংলা গান রেকর্ড করার ঘটনাটা খুব মজার। আমি আর লতা অমর ভূপালী বলে একটা ছবির গান করছিলাম। ওই ছবিতে আমি আর লতা যখন গান রেকর্ড করছি, লতা আমাকে বলল, ‘মান্নাদা, আমি বাংলা গানের রেকর্ড বের করতে চাই।’ লতার জন্য গৌরীপ্রসন্ন মজুমদারের লেখা দুটি গান আমি সুর করে লতাকে শেখালাম। এরপর রেকর্ডিংয়ের জন্য তৈরি হলাম। কিন্তু জানি না কেন, লতা গাইতে পারল না অথবা গাইল না। তো আমি গেয়ে দিলাম ওই দুটি গান—‘কত দূরে আর নিয়ে যাবে বল’ এবং ‘হায় হায় গো রাত যায় গো’। ওই দুটি গান শুরুতে তেমন সাড়া না ফেললেও পরে দারুণ হিট হলো। এটাই বাংলা গানে আমার প্রথম পদার্পণ। ওই দুটি গান ভালো চলার পর এইচএমভি আমাকে বলল, প্রত্যেক বছর পুজোয় রেকর্ডিং করতে হবে। আর তখন আমি যে গানেরই সুর করি, দেখি তা হিট হয়ে যায়। আমি ভেবে দেখলাম, আমার সুর করার ধারাটা গতানুগতিক যেটা চলছিল তার চেয়ে আলাদা এবং সেটিই পাবলিক খুব পছন্দ করছে। আমি সর্বভারতীয় একটা টাচ দিয়ে সুর করতাম। লোকেও দেখল, আরে, এর সুরটা বা গায়কিটা তো আলাদা।
এই যে অন্য রকম একটা দিক যোগ করা, এটা আমি জেনে-বুঝেই করেছিলাম। কারণ হেমন্তবাবুর অমন সুন্দর গলা, ভাষাটা এমন সুন্দর বলেন তিনি এবং মিষ্টি মিষ্টি গান করেন, আমি দেখলাম, এই ধারায় আমি তার সঙ্গে কমপিট করতে পারব না। আমাকে যেটা করতে হবে, সর্বভারতীয় সাংগীতিক রূপটাকে এনে গানটাকে পরের ধাপে নিয়ে নিতে হবে। সেটি করেই আমি সফল হলাম।
শুভ্র: আমার প্রশ্ন ছিল, শুরুটা কি নিজের ভাষার গান দিয়ে হওয়াটাই স্বাভাবিক ছিল না?
মান্না দে: না, আমি কখনোই বাংলা গানের শিল্পী হতে চাইনি। আমার মনে আছে, শচীন কর্তা (শচীন দেব বর্মণ) আসতেন কাকার কাছে গান শিখতে। উনি বহুদিন কাকার কাছে গান শিখেছেন। শচীন কর্তার গান শুনে ভালো লাগত, কেমন অন্য রকম গান করেন। কথার উচ্চারণগুলো নাকে নাকে। আমার খুব পছন্দ হতো। ওগুলো নকল করে করে আমি কলেজে গাইতাম, ‘তুঁমি যে গিঁয়াছ বঁকুল বিঁছানো পঁথে, নিঁশীথে যাঁইও ফুঁলবনে’। তবে তখন আমার সর্বভারতীয় শিল্পী হওয়ার লক্ষ্য। কাকা সবকিছু গাইতেন—ধ্রুপদ, খেয়াল, ঠুমরি, গজল, নাত, কীর্তন। আমাদেরও কাকা সেভাবেই তৈরি করেছিলেন যে, একটা ধ্রুপদ গাইতে হলে ধ্রুপদ গাইতে হবে তোমাকে। খেয়াল গাইতে হলে খেয়াল গাইতে হবে। বাংলা মডার্ন গাইতে হলে গাইতে হবে।
শুভ্র: আপনার সমসাময়িক বা আগে-পরে বাংলা গানের যেসব শিল্পী ছিলেন, যেমন সতীনাথ...
মান্না দে: না, না, না, সতীনাথ...এঁদের ব্যাপারে আমি কিছু বলতে চাই না। এঁদের গানের ব্যাপারেও না। এঁরা পপুলার আর্টিস্ট ছিলেন, পপুলার থাকতে দিন। তবে গান করার যে জায়গাটা, সেখান থেকে আমি এঁদের মোটেই পছন্দ করি না। আমি পছন্দ করতাম হেমন্তবাবুর গান। এত সাদাসিধে গান করতেন আর এমন মিষ্টি গান...যেন লোকেদের কাছে আস্তে করে গানটা তুলে দিতেন তিনি আর লোকেরাও দু হাত বাড়িয়ে তা লুফে নিত।
শুভ্র: হিন্দি-বাংলা সব মিলিয়ে আপনার সবচেয়ে প্রিয় শিল্পী কে?
মান্না দে: মোহাম্মদ রফি আর লতা মুঙ্গেশকর। আমি তো বলব, গানের জগতে মোহাম্মদ রফির থেকে বেটার সিঙ্গার হয়নি। আর ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি, লতার মতো আর্টিস্ট আর জন্মাবে না। লতা মুঙ্গেশকর যেভাবে গান করে গেছেন, তাতে তিনি নিজেই একটা ইনস্টিটিউশন। ‘কীভাবে ভালো গাইতে হয়’—বাকি সিঙ্গারদের একটা গাইডলাইনও দিয়ে গেছেন লতা। লতার আগে কত গাইয়ে ছিলেন...জোহরাবাই আম্বেলেওয়ালি, আমিন ভাই কর্নাটকি, পারুল ঘোষ, নূরজাহান, শামসাদ বেগম, গীতা দত্ত...লতা আসার পর সবাই হারিয়ে গেলেন। লতার মতো গাইয়ে...আহ্ হা হা...ওই যে বললাম, লতা হচ্ছেন গানের একটা টোটাল ইনস্টিটিউশন। আমার যেটা মনে হয়, শিখে কেউ লতা মুঙ্গেশকর হতে পারে না। এটা ভগবানের অদ্ভুত রকম একটা আশীর্বাদ তার ওপরে। নইলে কী করে একটা মারাঠি মেয়ে এভাবে গান করতে পারে!
শুভ্র: আপনি যতই সর্বভারতীয় শিল্পী হয়ে থাকুন, হিন্দি-মারাঠি-গুজরাতি গান গেয়ে থাকুন না কেন, বাংলাদেশে কিন্তু আমরা আপনাকে বাংলা গান দিয়েই চিনি। তার চেয়ে বেশি চিনি রোমান্টিক গান দিয়ে। আমাদের কয়েক প্রজন্মের তারুণ্য-যৌবন তো মান্না দেময়। প্রেমে পড়লেও মান্না দে, প্রেমে ব্যর্থ হলেও...। গানগুলোকেও অনেকে আপনার কথা বলেই ধরে নেয়। আপনি হয়তো গাইছেন, ‘ও কেন এত সুন্দরী হলো’, লোকে আপনাকে জিজ্ঞেস করছে, এই ‘ও’টা কে? অথচ গানটা তো আপনি লেখেননি!
মান্না দে: খুব সত্যি কথা। সব সময় এটাই হয়। একটা গান গাইলে ‘কিয়া গানা গায়া মান্না দে’। আরে, মান্না দে কিয়া গায়া? গানটা যদি কেউ না লিখত, যদি ওইভাবে সুর না হতো, তো মান্না দে কী গাইত!
আমার ওসব গানের জন্য আমি কৃতিত্ব দিই পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। ও যেভাবে গান লিখেছে...‘এ তো রাগ নয়, এ যে অভিমান। এ শুধু তোমায় কাছে পাওয়ার ছল ভরা গান।’ যখন এইভাবে কথা লেখা হয়, তখন সেটিতে সুর করতে বসলে তা বুকের ভেতর থেকে উঠে আসে। আমি এই গানটার সুর করেছি একটু ক্লাসিক্যাল ব্যাকগ্রাউন্ড রেখে। এটাই আমার গানের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক। সব গানের পেছনে একটু ক্লাসিক্যাল কিছু থাকবেই। © রূপকথা
শুভ্র: আমরা যেমন আপনার অনেক গানই গুনগুন করি, আপনি নিজে সবচেয়ে বেশি গুনগুন করেন কোন গান?
মান্না দে: রবীন্দ্রসংগীত। শুধুই রবীন্দ্রসংগীত।
শুভ্র: আপনার আত্মজীবনীতে রবীন্দ্রসংগীত নিয়ে যা লিখেছেন, সেটি আমার খুব পছন্দ হয়েছে। রবীন্দ্রসংগীত নিয়ে ওই ‘গেল গেল’ রব তোলার সংকীর্ণতা না থাকলে এটি আরও বেশি গণমানুষের গান হতে পারত।
মান্না দে: খুব সত্যি কথা। ওরা এই যে রবীন্দ্রসংগীতকে একটা নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে ধরে রেখেছেন না, ধরে রেখে খুব অন্যায় করেছেন। আরে বাবা, এটা কেমন নিয়ম যে রবীন্দ্রনাথের গান গাইতে গেলে ও রকম গলা চেপে চেপে গাইতে হবে। কেন? বাংলা ভাষায় লেখা গান, আমরা লেখাপড়া শিখেছি, গানবাজনা শিখেছি, নোটেশন পড়তে পারি, রবীন্দ্রনাথ যেভাবে অসাধারণ সুন্দর সুর করেছিলেন, সেভাবে গাইতে পারি। তাহলে এভাবেই গাইতে হবে নিয়ম কেন? ‘স্বপনে দোঁহে ছিনু কী মোহে, জাগার বেলা হলো।’ (প্রচলিত রাবীন্দ্রিক ঢঙে গেয়ে) এটা এইভাবে গাইতে হবে কেন? ‘ওই যে ঝড়ের মেঘের কোলে, বৃষ্টি আসে মুক্তকেশে আঁচলখানি দোলে।’ এটা কেন...(গলা চেপে গেয়ে) ওই যে ঝড়ের...আরে ননসেন্স...ঝড় কি ওইভাবে আসে? (গলা ছেড়ে গাইতে গাইতে) আহ্ হা...বৃষ্টি আসে মুক্তকেশে আঁচলখানি দোলে...কী...কী লিখেছেন! রবীন্দ্রনাথের কল্পনার পাখায় উড়ে যাওয়ার যে ক্ষমতা আর সেটিকে তিনি যেভাবে কথা আর সুরের মেলবন্ধন দিয়ে ব্যক্ত করেছেন...আমি এমন জিনিয়াস আর দেখিনি। আমি এত লোকের গান শুনেছি, এত গানবাজনা শুনেছি, গান নিয়ে এত লেখাপড়া করেছি, রবীন্দ্রনাথের ধারেকাছে ঘেঁষতে পারে এমন কারও দেখা আমি পাইনি।
কী গানের কথা! কী করে লিখে গেছেন প্রেমের গান ওই রকম—‘তুমি একটু কেবল বসতে দিয়ো কাছে, আমায় শুধু ক্ষণেক তরে আজি।’ আহ্ হা, আহা, কী কথা! ‘হাতে আমার যা কিছু কাজ আছে, আমি সাঙ্গ করব পরে।’ আহ্ হা, কী কথা—আমি ভীষণ ইমোশনাল হয়ে যাই রবীন্দ্রনাথের গানের কথা উঠলে। আমি বাড়িতে বসে সব সময় রবীন্দ্রসংগীত গাই। আমার বউকে শেখাই, দুজন একসঙ্গে গাই।

গানই আমার জীবন: মান্না দে

© রূপকথা

♦️মহানায়ক উত্তমকুমার ও মান্না দে বাংলা সিনেমার 'আমি যামিনী তুমি শশী 'আমি কেবল মান্না দে-র গান শুনি…।’ কিংবদন্তি সংগীতশিল...
22/06/2026

♦️মহানায়ক উত্তমকুমার ও মান্না দে বাংলা সিনেমার 'আমি যামিনী তুমি শশী '

আমি কেবল মান্না দে-র গান শুনি…।’ কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী মোঃ রফি একবার তাঁর ভক্তদের বলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন 'মান্না দে' মুম্বাই তথা বলিউড প্লেব্যাক জগতের প্রাণ এবং ১০০ বছর পরেও মানুষের মনে সেই স্থানেই তিনি থাকবেন। শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের নিয়মিত চর্চার সঙ্গে সঙ্গে গলার অসাধারন সুর, বহুমুখী গান করার দক্ষতা তাঁকে কিংবদন্তি গায়কের স্থানে বসিয়ে রেখেছে।

রাজকাপুর-মুকেশ, অমিতাভ- কিশোর, শশী কাপুর-মঃ রফি এরকম অনেক অভিনেতা গায়কের জুটির নাম জানা যায়। সেই রকমই, তৎকালীন সময়ে মহানায়ক উত্তম কুমারের ঠোঁটে হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের গান ছিল সমার্থক। তাঁদের এমনই বোঝাপড়া ছিলো কখনই বোঝা যেত না উত্তমকুমার হেমন্ত'র গানে লিপ দিচ্ছেন। এবং হেমন্ত মুখোপাধ্যায় ছাড়া অন্য কোনও শিল্পীর গাওয়া গানে মহানায়ক স্বচ্ছন্দ বোধও করতেন না, একথা তিনি অনেক সাক্ষাতকারে বলেছেন। সেই মহানায়কের লিপে এবার ভাবা হল অন্য শিল্পীর গান।
@রূপকথা
বাংলা সিনেমায় মান্না দে'র প্রবেশ এবং তাও মহানায়ক উত্তম কুমারের লিপে গান সেটা বেশ আকর্ষণীয়। ১৯৬৬ তে উত্তম কুমার অভিনীত শঙ্খবেলা'র সংগীত পরিচালক সুধীন দাশগুপ্ত যখন মান্না দে-কে ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন, তখন সকলেই প্রায় হতবাক হয়ে গিয়েছিলেন। মান্না দে হেঁসে বললেন "এটা একটা বিপর্যয় ছিল"। প্রযোজক ও পরিবেশক বলেছিলেন, ‘অসম্ভব। এই গান হেমন্ত'কে দিয়েই করাতে হবে'। পরিচালক 'অগ্রদূত' ও সংগীত পরিচালক সুধীন দাশগুপ্ত অনড় ছিলেন। অবশেষে সবাই নিমরাজি হয়ে সহমত হলেন। ছবিতে আরেক মহান শিল্পী কিন্নর কন্ঠী লতা মঙ্গেশকরও গান গেয়েছিলেন। সঙ্গীত পরিচালক সুধীন দাশগুপ্ত মুম্বাই গিয়ে দেখলেন সমস্ত রেকর্ডিং স্টূডিও ব্যস্ত। অনেক টালবাহানার পর সঙ্গীত পরিচালক নৌসাদ'জি কে অনুরোধ করে কোনওরকমে দিন ঠিক করলেন। মেহবুব স্টূডিওতে মাত্র একটা রিহার্সাল করে প্রথম টেকেই তৈরি হল ইতিহাস। আর কে না জানে কত বড় হিট গান তৈরি হল "কে প্রথম কছে এসেছি..."! মান্না দে-র কন্ঠের নিখুঁত রোম্যান্টিক ফ্লেবার বাঙ্গালি সিনেমা ও সঙ্গীত প্রেমিদের মোহিত করে দিল। এক অন্য অধ্যায় শুরু হল।

সবাই শঙ্খবেলা সিনেমায় প্রথমবার উত্তমের মুখে মান্নার গলায় গানের কথা জানলেও,আসলে মহানায়কের মুখে মান্নার প্রথম গান ১৯৫৯ এ "গলি থেকে রাজপথ" সিনেমায়। যদিও 'শঙ্খবেলা' আগে মুক্তি পাওয়ায় এটিকেই প্রথম গান বলে সবাই জানে।
@রূপকথা
মান্না দের তাঁর একটি সাক্ষাতকারে একবার বলেছিলেন, "আমার মনে আছে আমি যখন উত্তমের হয়ে প্রথম গান করি সেটি ছিল বাংলা সিনেমা 'গলি থেকে রাজপথ'। ১৯৫৯ সালে সংগীত পরিচালক সুধীন দাশগুপ্ত আমাকে 'লাগ লাগ ভেলকির খেলা' গানটি করান। উত্তমের কণ্ঠস্বর হিসাবে হেমন্ত মুখোপাধ্যায় যে স্তরে পৌঁছেছিলেন আমি সে স্তরে পৌঁছতে পারব কিনা তা নিয়ে আমার যথেষ্ঠ সন্দেহ ছিল। সর্বোপরি তিনি ছিলেন উত্তম কুমারের 'ঘোস্ট ভয়েস'। তবে আমি উত্তমবাবুর জন্য অ্যান্টনি ফিরিঙ্গির গানগুলি করার পরে উত্তম আমায় বলেছিলেন, ‘আপনি এই গানগুলিতে আমার কণ্ঠস্বর যে উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছেন তা অন্য কোনও গায়কই দিতে পারেননি। হেমন্ত মুখোপাধ্যায় এবং আপনার মধ্যে কোনও তুলনা হতে পারে না, কারণ আপনারা দুজনেই নিজের মতো করেই দুর্দান্ত। ’

উত্তমকুমার, সুধীন দাশগুপ্ত এবং মান্না দে, এই ত্রয়ীর বহু সিনেমার গান বাঙ্গালির মনে রেশ র‍য়ে গেছে, যেমন - কখনো মেঘ (১৯৮৬; এক দুই তিন), মঞ্জরি অপেরা (১৯৭০ মরন তোমার হার), ছদ্মবেশী (১৯৭১ আমি কোন পথে যে চলি, বাঁচাও কে আছো মরেছি যে প্রেম করে), হার মানা হার (১৯৭২ এসেছি আলাদিন, এসেছি আমি এসেছি) এবং আরও অনেক কাল জয়ী গান।

তাঁদের জুটিতে প্রথম রিলিজ হওয়া সিনেমা 'শঙ্খবেলা' সুপারহিট হল। গানগুলি মানুষের মুখে মুখে ঘুরতে থাকল। কিন্তু সিনেমা পাড়ায় বহু মানুষ মহানায়কের কানে কানে বলতে থাকলেন "মান্না দে'কে দিয়ে গান করালে আপনার ছবি আর হিট হবে না। পরের ছবিতে সুরকার অনিল বাগচি। আদ্যন্ত হিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় ঘরানার সুরকার বাগচি, শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের বিভিন্ন রাগ রাগিণীকে লঘু সঙ্গীতের উপযুক্ত করে ছোটো ছোটো গলার কাজ রেখে তৈরি করা তার সুর শুনে আপামর জনতা ধন্য ধন্য করে উঠল।
@রূপকথা
এর মধ্যে একদিন সকালে মুম্বাইয়ে গান রেকর্ডিং-এর উদ্দেশ্যে মান্না দে রাস্তা পার হচ্ছিলেন। দেখেন উল্টোদিকের রাস্তায় কানে হেডফোন লাগিয়ে একটা ওয়াকম্যান নিয়ে উত্তমকুমার প্রাতঃভ্রমন করছেন। মান্না দে'কে দেখে উত্তম হেঁসে বলে উঠলেন "এতে আপনার গানই বাজছে। গানগুলিতে যে ছোট ছোট কাজ লাগিয়েছেন গলায়, তাতে একেবারেই ফেঁসে গেছি, সারাদিন শুনে শুনে শুধু গেয়েই যাচ্ছি, কিন্তু কিছুতেই যেন ঠিকঠাক করতে পারছি না" মান্না দে শুনে আবাক! পরে এক সাক্ষাতে বলেছিলেন "একজন মানুষের ডেডিকেশন কোন উচ্চতায় থাকলে তবে একটা উত্তমকুমার হওয়া যায়। সেই আরব সাগরের তীরে প্রাতঃভ্রমন কালীন অভ্যাস করা গান বাংলা সিনামার এক যুগান্ত সৃষ্টি করল। ছবি, গান ও উত্তমের অভিনয় অবিস্মরণীয়। ছবিটি ছিল 'অ্যান্টনি ফিরিঙ্গি'।

এরপরে সলিল দত্ত পরিচালিত 'স্ত্রী' সিনেমা-তে উত্তম ও সৌমিত্র দুই মহারথী অভিনয় করেছিলেন। মজার ব্যপার উত্তমের গলায় মান্না আর সৌমিত্র'র লিপে হেমন্ত গান গেয়েছিলেন। উত্তমের লিপে মান্না দের গাওয়া ঝাড়বাতি র গৌরব বর্ণনা করে 'হাজার টাকার ঝাড়বাতিটা' সাবার মুখে মুখে ঘুরতে থাকল। উত্তমের স্ত্রী ও পরের ছবি 'সন্ন্যাসী রাজা' দুটি ছবিতেই সুরকার 'নচিকেতা ঘোষ' এবং গীতিকার 'গৌরিপ্রসন্ন মজুমদার'। মজার ব্যাপার, গীতিকার 'গৌরিপ্রসন্ন মজুমদার 'স্ত্রী' সিনেমা-তে যে ঝাড়বাতির মহিমা বর্ণনা করে লিখলেন 'হাজার টাকার ঝাড়বাতিটা - রাত কে যে দিন করেছে' গাইলেন মান্না দে, পরের ছবি 'সন্ন্যাসী রাজা' তে সেই গীতিকার লিখলেন 'ভালবাসার আগুল জ্বালাও - ওই ঝাড়বাতিটা নিভিয়ে দাও' এই গানও গাইলেন সেই মান্না দে।
@রূপকথা
গৌরিপ্রসন্ন মজুমদার একবার শচীন দেব বর্মনের জন্য একটা গান লিখলেন, যেকোনও কারনেই সেই গান আর তাঁকে দিয়ে গাওয়ানো যায়নি। তিনি পরিচালক অরবিন্দ মুখোপাধ্যায়কে গিয়ে বললেন সে কথা। গানটা দেখালেন। অরবিন্দবাবু তাঁকে বলেন, এই গান উত্তমের গলায় দারুন মানাবে, তিনি জানালেন ওই গান তাঁর ছবিতে ব্যবহার করবেন। গৌরিপ্রসন্ন মজুমদার তাঁকে বললেন, গানে অনেক নাটকীয়তা আছে অভিনেতা এবং গায়ককেও গানের মধ্যে অভিনয় করতে হবে। অরবিন্দ মুখোপাধ্যায় গৌরিপ্রসন্নকে জানালেন, এই গানের সুর করবে নচিকেতা ঘোষ আর গান গাইবে মান্না দে। ছবির নাম 'নিশিপদ্ম', গানটা 'না না আজ রাতে আর যাত্রা শুনতে যাবো না'। বলাবাহুল্য ছবিতে উত্তম-মান্না'র এক অনবদ্য যুগলবন্দী সাক্ষী থাকলো জনতা। এই ভাবেই শুরু হয়ে গেলো উত্তম-মান্না'র জয়যাত্রা। যার আবেশে শুধু আপামর দর্শক নয় মজে ছিলেন শিল্পী, অভিনেতা, কলাকুশলী সকলে।
#রূপকথা
মান্না দে এবং উত্তম কুমার জুটিতে ৫৪ টি সিনেমায় একসঙ্গে কাজ করেছিলেন। তিনি অন্যান্য সংগীত পরিচালকদের জন্যও বহু গান গেয়েছিলেন এবং সে গানও সমান জনপ্রিয় ছিল। মান্না-উত্তম জুটির শ্রেষ্ঠ সিনেমাগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য অ্যান্টনি ফিরিঙ্গি ('অমি যে জলসাঘরে' বা 'আমি যামিনী তুমি শশী হে'), নিশিপদ্ম (১৯৭০, সংগীত পরিচালক নচিকেতা ঘোষ, 'না না না আজ রাতে আর যাত্রা শুনতে যাবো না' বা যা খুশি ওরা বলে বলুক), আলো আমার আলো (১৯৭২, সংগীত: পবিত্র চ্যাটার্জী, 'এই এতো আলো, এতো আকাশ'), মৌচাক (পাগলা গারদ কোথায় আছে), দেবদাস (১৯৭৯, সংগীত পরিচালক জগন্ময় মিত্র ও কালিপদ সেন, 'শাওন রাতে যদি')। মান্না দে এবং উত্তম কুমারের যুগলবন্দি আগামী ১০০ বছরেও পুরনো হবে না!

@রূপকথা @রূপকথা

— জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়

Address

Dhaka
1219

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Star Tech Engineering & Consultancy. posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share