05/06/2023
২০১৫ সালে দৈনিক যুগান্তরে আমার ছোট সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়েছিল।
দৈনিক যুগান্তরে প্রকাশিত সফলতা প্রাপ্তির গল্পঃ
♦ ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে সফল এক তরুণ ♦
ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার যে টার্গেট নিয়ে সরকার এগিয়ে যাচ্ছে সেভাবে সবকিছুই ডিজিটালাইজড হবে এটাই স্বাভাবিক। উন্নত বিশ্বে ডিজিটাল মার্কেটিং কনসেপ্ট অনেক আগে থেকেই চালু রয়েছে। বাংলাদেশে এ ধারণা তেমন একটা প্রচলিত হয়নি এখনও। তবে হাতেগোনা ২-৩টি প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের কাজ করে যাচ্ছে,তাও আকাশচুম্বী রেটে।
ফেসবুক অ্যাড বা ফেসবুক মার্কেটিং বর্তমানে ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের মৌলিক অংশ হিসেবে ধরা হচ্ছে বাংলাদেশের মার্কেটে। বাংলাদেশে যারা ফেসবুক মার্কেটিং নিয়ে কাজ করছেন তাদের একজন চট্টগ্রামের ছেলে মিনহার মহসিন। অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে অবশেষে নিজের ডিজিটাল মার্কেটিং ফার্ম দিতে সক্ষম হন,তার ডিজিটাল মার্কেটিং ফার্মের ক্লায়েন্ট লিস্টে বাংলাদেশের নামকরা প্রায় সব প্রতিষ্ঠানের নাম রয়েছে।
এছাড়া বাংলাদেশ সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা,সংসদ সদস্য,চলচ্চিত্র জগতের বিরাট অধিকাংশ তারকা,বিভিন্ন কনসাল্টেন্সি ফার্ম,লেডিস অনলাইন ফ্যাশন স্টোর,আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর ফ্যানপেজ,বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ফ্যানপেজ,বিভিন্ন জনসচেতনতামূলক ফ্যানপেজ বর্তমানে তার ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের সঙ্গে কাজ করছে।
মিনহারের বাবা কাজী নাসিম উদ্দিন বিটিসিএলের ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে চাকরি করেছেন,মা আয়েশা রোকসানা গৃহিণী। সম্ভ্রান্ত পরিবারের ছেলে, চট্টগ্রামে বিবিএ গ্র্যাজুয়েশন করা মিনহার জানান,আমি মার্কেটিংয়ের ছাত্র। বিবিএতে ইন্টার্ন করি একটি বেসরকারি ব্যাংকে। সেখানে টাকা গোনার কাজ করতে গিয়ে আমার ঘুম চলে আসতো। সাধারণভাবেই আমার এডুকেশনাল ব্যাকগ্রাউন্ডের একজন ছাত্রের ব্যাংকে বা বীমা কোম্পানিতে চাকরি করা ছাড়া তেমন কিছু করার থাকে না। তারপরেও আমি নিজেই শঙ্কিত ছিলাম কীভাবে আমি ব্যাংকে চাকরি করবো। মামা চাচার অভাব নেই তবুও গ্র্যাজুয়েশন শেষে চাকরির জন্য অনেকের কাছে গিয়েও তেমন লাভ হয়নি। এক পর্যায়ে হতাশায় আমি সিদ্ধান্ত নেই ঘর ছেড়ে বেরিয়ে পড়বো এবং সে লক্ষ্যে ঢাকায় চলে আসি। এরপর থেকেই ডিজিটাল মার্কেটিং নিয়ে কাজ করতে গিয়ে দিন বদলের শুরু হয়।
তিনি আরও বলেন,ছোটবেলা থেকেই কম্পিউটার চালানোর শখ ছিল নেশার মতো। আমার মার্কেটিং স্কিল এবং ডিজিটাল জগতের অভিজ্ঞতাকে একত্রিত করে ডিজিটাল মার্কেটিং ফার্ম দেয়ার সিদ্ধান্ত নেই। শুরুতেই আমি উনাদের বোঝাতে সক্ষম হই,বাংলাদেশ কীভাবে ফেসবুকনির্ভর হয়ে পড়েছে। কীভাবে সাধারণ মার্কেটিংয়ে একজন লিফলেট,পত্রিকায় বিজ্ঞাপন,টিভি বিজ্ঞাপন দিয়ে পানির মতো টাকা খরচ করার পরও টার্গেট অডিয়েন্সের কাছে যাওয়া অনেক কঠিন। তার চেয়েও হাজারগুণ কম টাকা খরচ করে প্রতিটি পয়সা স্পেসিফিক টার্গেটের পেছনে খরচ করতে পারেন শুধু ফেসবুকেই।
তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন যেমন ধরুন,আপনি বসে আছেন ঢাকায়,কিন্তু আপনি চান আপনার একটি অফার শুধু চট্টগ্রামের একটি স্পেসিফিক ভার্সিটির স্টুডেন্টদের জন্য। তো স্বাভাবিকভাবেই আপনি সেখান থেকে চট্টগ্রামে মার্কেটিং টিমকে পাঠানোর খরচ,লিফলেট ছাপানোর খরচ বহন করার পর সব স্টুডেন্টকে এক স্থানে এনে আপনার প্রোডাক্টের মার্কেটিং করতে পারছেন কিনা সেটাই দেখার বিষয়। সেক্ষেত্রে ফেসবুকে মার্কেটিং করলে আপনি একই সময়ে টার্গেটেড অডিয়েন্সের কাছে রিচ করতে পারবেন।
নিজের প্রথম কাজ প্রসঙ্গে মিনহার বলেন,চ্যালেঞ্জের বশে একটি কাজ করেছিলাম। ফেসবুকে মেয়েদের এক্সেসরিজ সেল করার একটি স্টোরের প্রায় ১০ হাজার টাকা মূল্যের দুটি ড্রেস সেল করার মার্কেটিংয়ের কাজে আমার ব্যয় হয়েছিল মাত্র ৮০০ টাকা। সেই থেকে স্টোরের সব কাজ এখন আমার হাতেই। একটি অনলাইন নিউজ পেপারের ফেসবুক মার্কেটিং এর কাজ আমি পেয়েছি কিছুদিন আগে। চ্যালেঞ্জ ছিল,আগে যে পরিমাণ ব্যয় করা হতো তার অর্ধেক ব্যয় করেই আগের চেয়ে বেশি ভিজিটর এনে দিতে পারছি। কয়েকদিন কাজ করার পর তাদের পুরো কাজটি আমার হাতে দিয়ে দেয়। বর্তমানে আগের চেয়ে সহস্রগুণ ভালো অবস্থানে আছে সেই অনলাইন নিউজ পেপারটি।
আপনার সাফল্যের জায়গা কোনটি? উত্তরে তিনি বলেন,ফ্যানপেজে অ্যাড দিয়ে প্রমোট সবাই করতে পারে। তবে কত কম খরচে কত বেশি লাভ হচ্ছে সেটাই বের করাটা চ্যালেঞ্জ। আর এ জাগাতেই আমি সফল। মিনহারের স্বপ্ন প্রসঙ্গে বলেন,আমার স্বপ্ন বাংলাদেশের সেরা এবং সবচেয়ে বড় ডিজিটাল মার্কেটিং ফার্ম আমারই হবে। যেখানে সবচেয়ে কম খরচে সবচেয়ে বেশি সেবা পাওয়ার সুযোগ তৈরির মাধ্যমে মানুষের কাছে যাওয়ার রাস্তা করতে পেরেছি।
ডিজিটাল মার্কেটিং সম্পর্কে যে কোনো তথ্য জানতে বা ব্যবসার প্রসারে ডিজিটাল মার্কেটিং সম্পর্কে যে কোনো পরামর্শ পেতে DigitalTime এ যোগাযোগ করা যাবে।
দৈনিক যুগান্তরে চাকরীর খোঁজ পাতায় প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছে।
এখানে দেখতে পারেনঃ https://www.jugantor.com/old/job-searching/2015/11/05/2637