Briddhi - Industrial & Marketing Consultants

Briddhi - Industrial & Marketing Consultants Briddhi
*A Multisectoral consulting house.
*BRIDDHI - Corporate training
* BRIDDHI - Orgn. Develop Md. Akbar Hassan
CEO & Managing Director

Md.
(1)

Briddhi- Industrial & Marketing Consultants
Contact Person: MD. AKBAR HASSAN
Managing Director & CEO
Official Address:
House No 50/A, Road No. 10/A
Dhanmondi R/A,
Dhaka 1205 Bangladesh

Mobile: 0189-218044, 01713457021
E-mail: [email protected], [email protected]
Website: www.briddhi.org

Banker:
Standard Chartered Bank Ltd. Dhanmondi Branch
Road No. 2, House

No. 37 Dhanmondi R/A
Dhaka, Bangladesh Tel: 9669096, 9669097. Akbar Hassan has been instrumental in driving organizational excellence and grooming future executives for over 35 years, combining invaluable real-world multinational corporation experience with profound academic expertise. As the founder and CEO of BRIDDHI- Industrial & Marketing Consultants and BRIDDHI- School Of Professionals & School Of Knowledge, his institute specializes in Management Consultancies & Training for the development of Best Management Practices like Leadership Development, Sales & Sales Management, Goal Achievement, and Success & Achievement Psychology. This unique blend allows him to offer comprehensive and impactful solutions. Professional Experience:
His journey began with a 19.5-year tenure at renowned MNCs such as Philips, Youngone, and Mobil Oil Bangladesh. During this time, he honed skills in strategic management, optimizing operational efficiency, and fostering high-performing teams. These experiences provided insights into large-scale organizational dynamics and the importance of adaptability. Transitioning to Consulting and Training, he founded BRIDDHI Consulting & Training Institute in Bangladesh. He has conducted over 1000 corporate training sessions, impacting 114 reputed MNCs and firms across various industries. His expertise spans Supply Chain Management (CIPS Certified, London), Total Quality Management, Business Strategy, and Operational Excellence. Academic Contributions:
As a Visiting Faculty at institutions like BRAC University (IGS-Masters in Procurement/SCM) and the International University of Business Agriculture & Technology, he imparts valuable knowledge. Additionally, serving as Chief Resource Person for organizations such as the International Trade Centre Geneva and National Defense College, he contributes to policy formulation and capacity-building initiatives. Thought Leadership:
Md. Akbar Hassan's thought leadership is evident through published articles on Textiles/Garments prospects (Cotton Bangladesh magazine) and Quality/Productivity (BASS '05). He has delivered keynotes on topics like Social Compliance ('07) and Changing Garments Trade Dynamics ('08), offering insights into SCM resilience, quality frameworks, and industry challenges. He is one of the most well-known and well-respected inspirational speakers and self-development authors, having authored a book of inspirational quotations named “একটু ভাব.” His philosophy is to create people to GROW. Video Journey:
BRIDDHI's video journey, starting in 2001, resulted in 2516 videos created, with 1741 shared on social media platforms. The BRIDDHI NETWORK YouTube channel hosts 772 exclusive corporate training videos for global accessibility, showcasing practical scenarios for training programs. These efforts have garnered 75 Million views worldwide, with continuous professional learning. Accolades:
Recognized with the prestigious "World Confederation of Business" Award (USA) for professional excellence, Md. Akbar Hassan remains committed to empowering organizations, nurturing talent, and propelling sustainable progress through impactful knowledge sharing, driven by a passion to make a lasting, positive impact.

ARTICLE .NO 85      Title : মানুষই প্রতিষ্ঠানের শ্রেষ্ঠ সম্পদ:একজন সিইওর নেতৃত্বের দর্শন"একটি অর্গানাইজেশনের জন্ম হয় মা...
08/08/2026

ARTICLE .NO 85
Title : মানুষই প্রতিষ্ঠানের শ্রেষ্ঠ সম্পদ:একজন সিইওর নেতৃত্বের দর্শন

"একটি অর্গানাইজেশনের জন্ম হয় মানুষের চিন্তা, প্রজ্ঞা, শ্রম ও স্বপ্ন থেকে। উদ্যোক্তা তার ভিত্তি নির্মাণ করেন, আর কর্মীদের নিষ্ঠা, দক্ষতা ও অবদানে সেই প্রতিষ্ঠান নক্ষত্রের মতো দীপ্তিমান হয়ে ওঠে, তাই মানুষের অবদানকে অবজ্ঞা করা মানেই সৃষ্টির মর্যাদাকে অবজ্ঞা করা।"

বলা বাহুল্য-একজন কোম্পানির সিইও, তিনি মালিক-সিইও(Owner CEO) হোন কিংবা বেতনভোগী সিইও (Paid CEO), বিশাল দায়িত্বের অধিকারী। একটি প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ অনেকাংশেই নির্ভর করে তাঁর নেতৃত্ব, কর্মকাণ্ড, মানসিকতা, চিন্তাধারা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতার ওপর। কীভাবে প্রতিষ্ঠানকে আরও ত্বরান্বিত করা যায়, কীভাবে প্রতিনিয়ত নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া যায় এবং কীভাবে একটি শক্তিশালী, দক্ষ ও টেকসই প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা যায়, সেই চিন্তাই একজন প্রকৃত সিইওর প্রধান দায়িত্ব।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, একজন মানুষ কি একাই একটি প্রতিষ্ঠানকে সফল করতে পারেন? আমার উত্তর হলো—না। বর্তমান পৃথিবীতে একক নায়কের (Solo Hero) যুগ প্রায় শেষ। আজকের প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হলো Teamwork।

একজন সিইওর সঙ্গে বিভিন্ন স্তরের মানুষ কাজ করেন। একটি প্রতিষ্ঠান যত বড় হয়, ততই মানুষের সংখ্যা বাড়ে। আর এই মানুষগুলোর সম্মিলিত অবদান, দক্ষতা, শ্রম, মেধা ও নিবেদনের ওপর ভিত্তি করেই একটি প্রতিষ্ঠান ধাপে ধাপে এগিয়ে যায়। আমি সাধারণভাবে একটি প্রতিষ্ঠানের মানুষকে চারটি স্তরে ভাগ করি।

প্রথম স্তর হচ্ছে Upper Level, যেখানে রয়েছেন বিভাগীয় প্রধানরা (Department Heads)। দ্বিতীয় স্তর হলো Middle Level, যেখানে রয়েছেন Managers। তৃতীয় স্তর হলো Lower Level, যেখানে রয়েছেন Officers। আর চতুর্থ স্তর হলো Worker Level, যাঁদের ঘাম, পরিশ্রম এবং নিরলস শ্রমের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত উৎপাদন (Output) সৃষ্টি হয়।

এই চার স্তরের মানুষের সঙ্গেই একজন সিইও, একজন মালিক এবং বিভাগীয় প্রধানকে প্রতিনিয়ত কাজ করতে হয়। তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করতে হয়, সিদ্ধান্ত নিতে হয়, মতবিনিময় করতে হয় এবং প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ নিয়ে একসঙ্গে এগিয়ে যেতে হয়।

এখানেই আমার মূল প্রশ্ন। একজন সিইওর আচরণ কেমন হওয়া উচিত? তিনি তাঁর সহকর্মীদের—বিভাগীয় প্রধান, ম্যানেজার, অফিসার কিংবা একজন কর্মী—কী মানসিকতা নিয়ে দেখবেন?

কী ধরনের নেতৃত্ব অনুসরণ করলে একটি প্রতিষ্ঠান প্রতিযোগিতামূলক এই বিশ্বে ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে যেতে পারবে? কীভাবে তিনি এমন একটি কর্মপরিবেশ সৃষ্টি করবেন, যেখানে প্রতিটি সহকর্মী সর্বদা অনুপ্রাণিত থাকবে, নিজের কর্মজীবনের উন্নয়নে আন্তরিক হবে এবং একই সঙ্গে একটি শক্তিশালী, দক্ষ ও টেকসই প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার জন্য নিবেদিত থাকবে?

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খোঁজার চিন্তা থেকেই আজকের এই প্রবন্ধটি লেখার ইচ্ছা আমার মধ্যে জন্ম নিয়েছে। এখন আমরা সিইওদের দুটি প্রধান শ্রেণি নিয়ে আলোচনা করতে পারি। আমি সাধারণভাবে সিইওদের দুই ভাগে বিভক্ত করি।প্রথমত, Paid CEO। দ্বিতীয়ত, Owner CEO।

একজন Paid CEO একজন পেশাজীবী। তিনি কর্মচারী হিসেবে প্রতিষ্ঠানে যোগ দেন এবং প্রতিষ্ঠানের Vision, Mission ও Values বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি যত বেশি নিবেদিত হতে পারবেন, প্রতিষ্ঠানকে তত বেশি এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবেন। তবে তাঁর মনের গভীরে একটি দ্বৈত অনুভূতি সবসময় কাজ করে। একদিকে তিনি ভাবেন, "আমি এখানে চাকরি করছি। একদিন হয়তো আমাকে এই প্রতিষ্ঠান ছেড়ে যেতে হবে।"

অন্যদিকে তিনি এটাও জানেন, "আমি যদি প্রতিষ্ঠানের প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারি, যদি প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে নিতে ব্যর্থ হই, তাহলে আমার চাকরিও হারাতে পারি।"

এই দুই বাস্তবতার মাঝখানেই একজন Paid CEO কাজ করেন। কিন্তু আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্য জায়গায়। তিনি কতটা বেতন পাচ্ছেন, সেটি নয়; তিনি কতটা নিবেদিত, কতটা দূরদর্শী এবং কতটা Visionary, সেটিই আসল বিষয়।

আপনি বেতনভোগী হতে পারেন। মাস শেষে বেতন পান। কিন্তু আপনার দায়িত্ববোধ কখনোই বেতনভোগীর মানসিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। আপনার নেতৃত্ব এমন হতে হবে, যেন প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি অগ্রগতি আপনার নিজের অর্জন।

একজন Paid CEO যদি যথেষ্ট দূরদর্শী না হন, তাহলে মালিক-সিইওর সঙ্গে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য তৈরি হবে। ধীরে ধীরে সেই ব্যবধান প্রতিষ্ঠান পরিচালনায়ও প্রভাব ফেলবে। এই কারণেই একজন Paid CEO-কে হতে হবে অত্যন্ত দূরদর্শী, দক্ষ এবং ভবিষ্যতমুখী।

তিনি শুধু একটি দল পরিচালনা করবেন না; তিনি জানবেন কীভাবে একটি দল গড়ে তুলতে হয়, কীভাবে সেই দলকে অনুপ্রাণিত রাখতে হয় এবং কীভাবে প্রতিষ্ঠানকে প্রতিনিয়ত এক ধাপ করে সামনে এগিয়ে নিতে হয়।

এবার যদি Owner CEO-এর কথা চিন্তা করি, তাহলে তাঁর দায়িত্ব আরও ব্যাপক।তাঁকে হতে হবে আরও দূরদর্শী, আরও চিন্তাশীল এবং আরও ভবিষ্যতমুখী। প্রতিনিয়ত তাঁকে ভাবতে হবে, কীভাবে তাঁর প্রতিষ্ঠানকে আরও বড় করা যায়, কীভাবে নতুন ব্যবসার সুযোগ সৃষ্টি করা যায় এবং কীভাবে প্রতিষ্ঠানকে একের পর এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া যায়।

আমার দৃঢ় বিশ্বাস, একজন Owner CEO-এর কখনোই Micro Management-এ নিজেকে ব্যস্ত রাখা উচিত নয়।তাঁর প্রধান দায়িত্ব হলো Macro Management।

একইভাবে, একজন Paid CEO-এরও মূল মনোযোগ থাকা উচিত Macro Management-এ। প্রতিদিনের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বিষয় নিয়ে সময় ব্যয় না করে তাঁকে সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা, কৌশল, কর্মসম্পাদন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার দিকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।

Micro Management-এর তথ্য তিনি অবশ্যই জানবেন। প্রয়োজন হলে রিপোর্ট দেখবেন, বিশ্লেষণ করবেন এবং প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবেন। কিন্তু প্রতিটি ছোটখাটো বিষয়ে নিজেকে জড়িয়ে ফেললে তাঁর সৃজনশীলতা, কৌশলগত চিন্তাশক্তি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার সক্ষমতা বাধাগ্রস্ত হবে।

বিশেষ করে একজন Owner CEO-এর চিন্তার পরিধি সবসময় বৃহৎ হতে হবে।তাঁকে ভাবতে হবে—আমি কীভাবে আরও একটি কারখানা স্থাপন করব?কীভাবে আরও একটি ব্যবসা সৃষ্টি করব? কীভাবে নতুন বাজারে প্রবেশ করব?কীভাবে আগামী দশ বছর পরের প্রতিষ্ঠানটি আজ থেকেই গড়ে তুলব? তাঁর সময় ব্যয় হওয়া উচিত ভবিষ্যৎ নির্মাণে।

একই সঙ্গে তাঁকে হতে হবে একজন দক্ষ Resource Manager। প্রতিষ্ঠানের মানুষ, অর্থ, প্রযুক্তি, সময় এবং অন্যান্য সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করাই তাঁর অন্যতম দায়িত্ব। আরও একটি বিষয় আমি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করি।Owner CEO হবেন প্রতিষ্ঠানের Visionary person।

অন্যদিকে Paid CEO হবেন সেই Vision-এর সফল বাস্তবায়নকারী।অর্থাৎ, একজন Vision সৃষ্টি করবেন, আর অন্যজন সেই Vision-কে বাস্তবে রূপ দেবেন।এই কারণেই দুজনের ভূমিকা এক হলেও তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গি এক নয়।

একজন সিইও তাঁর সহকর্মীদের কী দৃষ্টিতে দেখবেন, সেটিই একটি প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে।কেউ ভাবতে পারেন,"ওরা আমার অধীনস্থ কর্মচারী।"আবার কেউ ভাবতে পারেন,"ওরা আমার সহযোদ্ধা।"

বিশেষ করে যদি কোনো Owner CEO মনে করেন,"ওরা তো বেতনভোগী। টাকা দিচ্ছি, তাই কাজ করছে। কেউ চলে গেলে চলে যাক। মানুষ তো পাওয়া যাবে।" তাহলে সেই দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত বিপজ্জনক।

একবার একজন Managing Director আমাকে বলেছিলেন,
"আকবার ভাই, ভাত ছিটালে কাকের অভাব হবে না। যেতে চাইলে যাক।" আমি হেসে তাঁকে বলেছিলাম, "আপনি কাক পাবেন, কোকিল পাবেন না। লোক পাবেন, কিন্তু যোগ্য মানুষ পাবেন না।" তিনি কিছুক্ষণ নীরব হয়ে গিয়েছিলেন। এই ছোট্ট কথোপকথনের মধ্যেই একটি বড় সত্য লুকিয়ে আছে। যোগ্য মানুষ কখনোই সহজে পাওয়া যায় না।

যে কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত শক্তি তার ভবন, যন্ত্রপাতি কিংবা মূলধনে নয়; তার প্রকৃত শক্তি তার যোগ্য মানুষ।সুতরাং একজন Owner CEO হোন কিংবা একজন Paid CEO, সর্বদা একটি বিষয় মনে রাখতে হবে। এই মানুষগুলোই আমার প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত সম্পদ (Assets)। তাঁরাই সেই শক্তি, যাঁদের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান তার স্বপ্নের গন্তব্যে পৌঁছায়।

তাঁদের শ্রম, মেধা, অভিজ্ঞতা, চিন্তাশক্তি এবং জীবনের শ্রেষ্ঠ সময় একটি প্রতিষ্ঠানের পেছনে ব্যয়িত হয়।এই মানুষগুলোর অবদানকে কখনোই ছোট করে দেখা উচিত নয়। আজকের পৃথিবীতে অনেক উন্নত প্রতিষ্ঠান নিয়মিত Psychometric Assessment ব্যবহার করছে। আমরাও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এই ধরনের মূল্যায়নের কাজ করি।

Psychometric Assessment-এর মাধ্যমে একজন কর্মীর ব্যক্তিত্ব, মানসিক গঠন, নেতৃত্বের সম্ভাবনা, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধরন, দলগত আচরণ এবং কাজের উপযোগিতা সম্পর্কে একটি সুস্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়।ফলে একজন মানুষকে কোথায় সবচেয়ে কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যাবে, তা নির্ধারণ করা অনেক সহজ হয়ে যায়।যে প্রতিষ্ঠান মানুষকে বুঝতে শেখে, সেই প্রতিষ্ঠানই মানুষকে সর্বোচ্চভাবে কাজে লাগাতে পারে।

এখানে আমি নেতৃত্বের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখ করতে চাই।অনেক নেতা মনে করেন, নেতৃত্ব মানেই Command। আমি এই দর্শনের সঙ্গে একমত নই।আপনি কাউকে Command করতে পারেন, যদি তিনি আপনার ক্রীতদাস হন।কিন্তু আপনার প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা ক্রীতদাস নন। আপনি তাঁদের শ্রম কিনছেন।আপনি তাঁদের মেধা, দক্ষতা এবং সৃজনশীলতা কাজে লাগানোর সুযোগ নিচ্ছেন। তাঁরাও তাঁদের যোগ্যতার বিনিময়ে প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করছেন।আপনার আচরণ যদি সম্মানজনক না হয়, যদি তাঁদের বিকাশের সুযোগ না থাকে, তাহলে একজন মেধাবী কর্মী অন্য প্রতিষ্ঠানে চলে যাবেন।

তিনি হারিয়ে যাবেন না।তাঁর যোগ্যতার মূল্য অন্য কোথাও অবশ্যই পাওয়া যাবে।ক্ষতিগ্রস্ত হবেন আপনি।ক্ষতিগ্রস্ত হবে আপনার প্রতিষ্ঠান।কারণ একজন প্রকৃত Talent কখনো বেকার থাকেন না।যোগ্য মানুষের জন্য সবসময়ই নতুন সুযোগ অপেক্ষা করে।সেই কারণেই আমি বিশ্বাস করি, একজন সিইওর প্রথম পরিচয় হওয়া উচিত একজন Coach হিসেবে।

তিনি একজন Mentor হবেন।তিনি একজন Advisor হবেন।তিনি বলবেন—"আসো, আমি তোমাকে শিখিয়ে দিই।" "আসো, আমি তোমাকে দেখিয়ে দিই।" "আসো, আমরা একসঙ্গে শিখি।"

কিছুদিন আগে আমি ভারতের একজন খ্যাতিমান শিল্পপতির মুকেশ আম্বানি একটি ছবি দেখেছিলাম। তিনি তাঁর একজন অত্যন্ত জুনিয়র কর্মীর ডেস্কে গিয়ে বসেছেন।তিনি কর্মীকে জিজ্ঞেস করলেন,"তুমি কি এই কাজটি করতে পারবে?" ছেলেটি বলল, "স্যার, আমি এটি জানি না।" তিনি সঙ্গে সঙ্গে নিজের চেয়ারে ফিরে যাননি।বরং কর্মীর পাশে বসে ধৈর্য নিয়ে তাঁকে কাজটি শিখিয়েছেন।আমি সেই দৃশ্য দেখে মুগ্ধ হয়েছিলাম।

আমি মনে মনে বলেছিলাম—"এটাই নেতৃত্বের মহত্ত্ব।" এই ধরনের মহত্ত্ব ছাড়া মহৎ প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা সম্ভব নয়। আমি জানি, আমার এই কথাগুলো সবার ভালো নাও লাগতে পারে। কিন্তু আমি আমার সাতচল্লিশ বছরের কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা থেকে যা উপলব্ধি করেছি, সেটাই আপনাদের সামনে তুলে ধরছি।

আমার উদ্দেশ্য সমালোচনা করা নয়। আমার উদ্দেশ্য একটি শক্তিশালী, মানবিক এবং টেকসই নেতৃত্বের সংস্কৃতি গড়ে তোলার আহ্বান জানানো। আরেকটি বিষয় একজন সিইওকে সর্বদাই মনে রাখতে হবে।You must create Future Leaders. একজন প্রকৃত নেতার অন্যতম দায়িত্ব হলো নিজের প্রতিষ্ঠানের ভেতর থেকেই আগামী দিনের নেতৃত্ব গড়ে তোলা।

আপনার প্রতিষ্ঠানে যাঁরা আজ Manager, Officer কিংবা Department Head হিসেবে কাজ করছেন, তাঁদের মধ্য থেকেই ভবিষ্যতের নেতৃত্বকে খুঁজে বের করতে হবে। তাঁদের শিখিয়ে, প্রশিক্ষণ দিয়ে, দায়িত্ব দিয়ে এবং অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি করে ধীরে ধীরে নেতৃত্বের জন্য প্রস্তুত করতে হবে। কারণ একটি প্রতিষ্ঠান কখনোই একজন মানুষের ওপর নির্ভর করে টেকসই হতে পারে না। প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পদের জন্য প্রস্তুত বিকল্প নেতৃত্ব (Leadership Pipeline) থাকতে হবে।

যদি একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি প্রতিষ্ঠান ছেড়ে চলে যান, অবসর গ্রহণ করেন কিংবা কোনো কারণে দায়িত্ব পালন করতে না পারেন, তাহলে যেন নেতৃত্বে কোনো শূন্যতা (Leadership Vacuum) সৃষ্টি না হয়।বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে নেতৃত্বের সামান্য শূন্যতাও একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য বড় ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে।এই কারণেই আমি সবসময় বলি—"A Leader is he who creates another Leader."

যে নেতা নিজের পরবর্তী নেতা তৈরি করতে পারেন না, তাঁর নেতৃত্ব কখনোই দীর্ঘমেয়াদি হয় না।এখানে আমি আরেকটি বাস্তব সমস্যার কথা বলতে চাই।আমরা অনেক সময় একজন কর্মকর্তাকে Responsibility দিয়ে দিই, কিন্তু সেই দায়িত্ব পালনের জন্য প্রয়োজনীয় Authority দেই না।এটি কোনো কার্যকর ব্যবস্থাপনা নয়, বরং এটি বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে।আপনি যদি কাউকে একটি বিভাগের দায়িত্ব দেন, তাহলে সেই দায়িত্ব বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাও তাঁকে দিতে হবে।

অন্যথায় তিনি কীভাবে তাঁর দায়িত্ব পালন করবেন? যদি প্রতিটি সিদ্ধান্তের জন্য তাঁকে প্রতিবার আপনার অনুমতির অপেক্ষায় থাকতে হয়, তাহলে তাঁর দায়িত্ব কেবল কাগজেই সীমাবদ্ধ থাকবে, বাস্তবে তার কার্যকারিতা থাকবে না।আমার অভিজ্ঞতায় বাংলাদেশের অনেক প্রতিষ্ঠানে এই সমস্যাটি এখনো বিদ্যমান।দায়িত্ব দেওয়া হয়, কিন্তু ক্ষমতা দেওয়া হয় না।এর প্রধান কারণ অনেক ক্ষেত্রেই বিশ্বাসের অভাব।অনেক মালিক মনে করেন, "সব সিদ্ধান্ত আমার হাতেই থাকবে।"

ফলে প্রতিষ্ঠানের অন্য কর্মকর্তারা কখনোই পূর্ণাঙ্গভাবে দায়িত্ব পালন করার সুযোগ পান না।এর ফলাফল কী হয়?কাজ মাঝপথে থেমে যায়।সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্ব হয়।উদ্যোগ নেওয়ার মানসিকতা কমে যায়।যোগ্য মানুষ ধীরে ধীরে নিরুৎসাহিত হয়ে পড়েন।একজন সিইওর উচিত এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসা।যাকে দায়িত্ব দেবেন, তাঁকে সেই দায়িত্ব পালনের জন্য প্রয়োজনীয় কর্তৃত্বও দেবেন।সেই সঙ্গে জবাবদিহিতার একটি সুস্পষ্ট কাঠামোও নিশ্চিত করবেন। এটাই আধুনিক ব্যবস্থাপনার অন্যতম মৌলিক নীতি।

আরেকটি বিষয় আমি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করি। যে মানুষটিকে আপনি আজ নিয়োগ দিলেন, তাঁর ভবিষ্যৎ কোথায়?তিনি আগামী পাঁচ বছর পর কোথায় থাকবেন? দশ বছর পর তাঁর অবস্থান কী হবে? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর কি আপনার প্রতিষ্ঠানের কাছে আছে? আপনার প্রতিষ্ঠানের কি একটি সুস্পষ্ট Career Path রয়েছে? আপনার কি একটি বাস্তবসম্মত Organogram রয়েছে, যেখানে একজন কর্মী তাঁর সম্ভাব্য অগ্রযাত্রার পথ দেখতে পারেন? যদি এই কাঠামোই না থাকে, তাহলে একজন মেধাবী মানুষ তাঁর ভবিষ্যৎ কল্পনা করবেন কীভাবে?

তিনি কি সারা জীবন একই পদে কাজ করবেন? তিনি কি জানবেন না, তাঁর পরবর্তী ধাপ কোথায়?

একজন কর্মী যখন দেখতে পান যে তাঁর দক্ষতা, নিষ্ঠা এবং কর্মসম্পাদনের ভিত্তিতে তিনি ধাপে ধাপে আরও বড় দায়িত্বে যেতে পারবেন, তখন তাঁর কাজের প্রতি অঙ্গীকারও বহুগুণ বেড়ে যায়। তিনি তখন শুধু বেতনের জন্য কাজ করেন না। তিনি তাঁর ভবিষ্যতের জন্য কাজ করেন।

আর যখন একজন কর্মীর ব্যক্তিগত স্বপ্ন প্রতিষ্ঠানের স্বপ্নের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায়, তখন সেই প্রতিষ্ঠান একটি অসাধারণ শক্তি অর্জন করে। দুঃখজনক হলেও সত্য, আমাদের দেশের অনেক প্রতিষ্ঠানে এখনো Organogram কেবল একটি আনুষ্ঠানিক নথি।অনেক ক্ষেত্রে বাস্তবে তার কোনো কার্যকারিতা নেই।অনেক কর্মী বছরের পর বছর কাজ করেও জানেন না, তাঁদের পরবর্তী পদোন্নতির সুযোগ কোথায়। ফলে তাঁদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতি তৈরি হয় না।

আরেকটি বিষয় আমি বহু বছর ধরে লক্ষ্য করেছি। বাংলাদেশের অনেক প্রতিষ্ঠানে Promotion Culture এখনো অত্যন্ত দুর্বল।বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে আমি দেখেছি, একজন যোগ্য কর্মকর্তা এক বছরের মধ্যেই একাধিক পদোন্নতি পেতে পারেন।কারণ সেখানে মূল্যায়ন হয় যোগ্যতার ভিত্তিতে।অবদানের ভিত্তিতে।ফলাফলের ভিত্তিতে।

কিন্তু আমাদের অনেক প্রতিষ্ঠানে তিন বছর, পাঁচ বছর, এমনকি সাত বছর পার হয়ে গেলেও পদোন্নতির কোনো সুস্পষ্ট পরিকল্পনা থাকে না।কখনো সামান্য বেতন বৃদ্ধি করে বলা হয়,"বেতন তো বাড়িয়ে দিয়েছি।"কিন্তু একজন মানুষের কর্মজীবন শুধু বেতনের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে না।তিনি সম্মান চান।তিনি দায়িত্ব চান।তিনি বিকাশের সুযোগ চান।তিনি নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ চান।

এই বাস্তবতাকে উপেক্ষা করে কোনো প্রতিষ্ঠান দীর্ঘমেয়াদে একটি শক্তিশালী Corporate Culture গড়ে তুলতে পারে না।আমি বিশ্বাস করি, Corporate Management গড়ে তুলতে হলে প্রথমে Corporate Mindset গড়ে তুলতে হবে।শুধু আধুনিক অফিস, আকর্ষণীয় পদবি কিংবা বড় বড় নাম দিয়ে Corporate Organization তৈরি হয় না।

Corporate Organization গড়ে ওঠে—
• যোগ্য মানুষ,
• সুসংগঠিত কাঠামো,
• স্বচ্ছ মূল্যায়ন ব্যবস্থা,
• দায়িত্ব অর্পণ,
• নেতৃত্বের বিকাশ এবং
• দীর্ঘমেয়াদি মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে।

আর এই পরিবর্তনের সূচনা করতে হবে প্রতিষ্ঠানের মালিক এবং সর্বোচ্চ নেতৃত্বকেই।কারণ নেতৃত্বের মানসিকতা যেমন হবে, প্রতিষ্ঠানের সংস্কৃতিও ধীরে ধীরে তেমনই হয়ে উঠবে।আরেকটি বিষয় একজন সিইওকে সর্বদাই মনে রাখতে হবে।Continuous Learning এবং Professional Development নিশ্চিত করা তাঁর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

একজন কর্মী যদি মনে করেন যে তিনি একটি প্রতিষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন, কিন্তু সেখানে শেখার কোনো সুযোগ নেই, নিজেকে উন্নত করার কোনো পরিবেশ নেই, নতুন জ্ঞান অর্জনের কোনো ব্যবস্থা নেই, তাহলে ধীরে ধীরে তাঁর কর্মদক্ষতা স্থবির হয়ে পড়বে।তিনি শুধু একটি দায়িত্ব পালন করবেন।নিজেকে আর এগিয়ে নিতে পারবেন না।একজন মেধাবী মানুষ সবসময় জানতে চান—"আমি এখানে কী শিখব?""আমি কীভাবে আরও দক্ষ হব?""এই প্রতিষ্ঠান কি আমার ব্যক্তিগত বিকাশে বিনিয়োগ করবে?" যদি একজন কর্মী এই প্রশ্নগুলোর ইতিবাচক উত্তর খুঁজে পান, তাহলে তিনি শুধু প্রতিষ্ঠানে টিকে থাকবেন না; বরং নিজের সর্বোচ্চ সামর্থ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে নেওয়ার জন্যও কাজ করবেন।

আমি সবসময় একটি বিষয় বিশ্বাস করি। যদি আপনি আপনার প্রতিষ্ঠানকে Learning Organization-এ রূপান্তর করতে না পারেন, তাহলে দীর্ঘমেয়াদে উৎকর্ষ (Excellence) ধরে রাখা সম্ভব হবে না।Quality Management, Innovation এবং Sustainable Growth—এই তিনটির ভিত্তিই হলো Learning।এই প্রসঙ্গে আমি জাপানের কথা উল্লেখ করতে চাই।জাপান আজ যে উচ্চতায় পৌঁছেছে, তার অন্যতম কারণ তাদের Kaizen দর্শন।Continuous Improvement এবং Continuous Learning—এই দুটি নীতির ওপর ভিত্তি করেই তারা তাদের শিল্প, প্রযুক্তি এবং ব্যবস্থাপনাকে বিশ্বমানে উন্নীত করেছে।

তারা শুধু পণ্যের গুণগত মান উন্নত করেনি।মানুষের গুণগত মানও উন্নত করেছে।কারণ তারা বিশ্বাস করে, উন্নত পণ্য তৈরি করার আগে উন্নত মানুষ তৈরি করতে হয়।এই দর্শন আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যেও প্রতিষ্ঠিত হওয়া উচিত।

এবার আমি একজন সিইওর Mindset নিয়ে কিছু কথা বলতে চাই। একজন নেতা তাঁর সহকর্মীদের প্রতিনিয়ত Feedback দেবেন।Feedback ছাড়া উন্নতি সম্ভব নয়।কিন্তু Feedback-এরও দুটি রূপ রয়েছে।একটি হলো Constructive Feedback।অন্যটি হলো Destructive Feedback।একজন নেতার সবসময় চেষ্টা করা উচিত Constructive Feedback দেওয়ার।কারণ এটি মানুষকে উন্নতির পথ দেখায়।এটি আত্মবিশ্বাস বাড়ায়।এটি ভুল সংশোধনের সুযোগ সৃষ্টি করে।

অন্যদিকে Destructive Feedback মানুষের আত্মসম্মান ক্ষুণ্ণ করে।এটি আত্মবিশ্বাস নষ্ট করে।এটি কর্মস্পৃহা কমিয়ে দেয়।আমি কখনোই চাই না, আমার কথায় কোনো সহকর্মীর মনোবল ভেঙে যাক।আমি চাই, আমার Feedback তাঁকে আরও শক্তিশালী করে তুলুক।

আমাদের অনেকের মধ্যেই একটি প্রবণতা রয়েছে।আমরা মনে করি, মানুষকে ছোট করে কথা বলতে পারলেই আমরা বড় হয়ে যাই।আমি এই ধারণার সঙ্গে কখনোই একমত নই। আপনি যখন কাউকে অপমান করেন, তখন আসলে আপনি নিজের ব্যক্তিত্বকেই ছোট করেন।কারণ আপনি মানুষকে মূল্যায়ন করতে শেখেননি।আপনি প্রশংসা করতে শেখেননি।আপনি মানুষের সম্ভাবনাকে জাগিয়ে তুলতে শেখেননি।একজন প্রকৃত নেতা মানুষের ভুল ধরিয়ে দেন, কিন্তু মানুষটিকে ভেঙে দেন না।তিনি ভুল সংশোধন করেন, কিন্তু তাঁর আত্মসম্মান নষ্ট করেন না।

বর্তমান বিশ্বে Industrial Psychology, Organizational Behaviour এবং Leadership Studies-এ এই বিষয়গুলো নিয়ে ব্যাপক গবেষণা হচ্ছে।কারণ গবেষণা বারবার দেখিয়েছে, কোনো প্রতিষ্ঠানের সাফল্য শুধু প্রযুক্তি, মূলধন কিংবা কৌশলের ওপর নির্ভর করে না।সবচেয়ে বড় নির্ধারক হলো People Management।

আপনি যদি গবেষণা করে দেখেন, পৃথিবীর অসংখ্য প্রতিষ্ঠান কেন ব্যর্থ হয়েছে, তাহলে দেখবেন অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মূল কারণ ছিল মানুষের সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাব।এই কারণেই আজ Harvard Business School, Oxford এবং বিশ্বের অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নেতৃত্ব ও People Management-এর ওপর এত গুরুত্ব দিচ্ছে।

আজ সবাই Artificial Intelligence (AI) নিয়ে কথা বলছে।আমিও AI নিয়ে নিয়মিত পড়াশোনা করছি।বিভিন্ন Certification সম্পন্ন করেছি।International Workshop-এ অংশগ্রহণ করেছি।Business School-এ AI নিয়ে আরও গভীরভাবে অধ্যয়ন করছি। এই অভিজ্ঞতা থেকে আমি একটি বিষয় স্পষ্টভাবে উপলব্ধি করেছি।

AI একটি শক্তিশালী Tool।কিন্তু কোনো Tool নিজে Vision তৈরি করতে পারে না।কোনো Tool নিজে মূল্যবোধ সৃষ্টি করতে পারে না।কোনো Tool নিজে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে না।মানুষই AI-কে ব্যবহার করবে।মানুষই সিদ্ধান্ত নেবে।মানুষই সৃজনশীলতা সৃষ্টি করবে।মানুষই নেতৃত্ব দেবে। এই কারণেই আমি বিশ্বাস করি— মানুষের মেধাই পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ সম্পদ।

একজন সিইওর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হলো মানুষকে লক্ষ্য (Goal) এবং স্বপ্ন (Vision)-এর প্রতি অনুপ্রাণিত করা। শুধু লক্ষ্য নির্ধারণ করলেই হয় না।মানুষকে সেই লক্ষ্য নিজের লক্ষ্য বলে অনুভব করাতে হয়।শুধু Vision লিখে অফিসের দেয়ালে টাঙিয়ে রাখলেই হয় না।সেই Vision মানুষের হৃদয়ে পৌঁছে দিতে হয়।যখন একজন কর্মী বিশ্বাস করতে শুরু করেন যে প্রতিষ্ঠানের সাফল্যের সঙ্গে তাঁর নিজের ভবিষ্যৎ অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত, তখন তিনি শুধু কাজ করেন না। তিনি নিজেকে সেই স্বপ্নের অংশ করে তোলেন।

সেই অনুপ্রেরণাই একটি সাধারণ প্রতিষ্ঠানকে একটি অসাধারণ প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করে।আমি জানি, এই বিষয় নিয়ে আরও অনেক কথা বলা যায়।বলতে গেলে হয়তো শত পৃষ্ঠার একটি বই হয়ে যাবে।কিন্তু এই প্রবন্ধে আমি এখানেই শেষ করতে চাই।

শেষ করার আগে শুধু একটি কথাই বলতে চাই। মানুষকে মূল্যায়ন করুন।আপনি যদি মানুষকে মূল্যায়ন করেন, মানুষ আপনার প্রতিষ্ঠানকে মূল্যায়ন করবে।আপনি যদি তাঁদের সম্মান দেন, তাঁরা আপনার স্বপ্নকে নিজেদের স্বপ্ন হিসেবে গ্রহণ করবেন।আপনি যদি তাঁদের বিকাশের সুযোগ দেন, তাঁরা আপনার প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ নির্মাণ করবেন।

আমি আমার সাতচল্লিশ বছরের কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা, বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে কাজের শিক্ষা, পরামর্শক হিসেবে শতাধিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠদানের অভিজ্ঞতা থেকে এই কথাগুলো বলছি।আমার জ্ঞানের ঝুলি থেকে যা শিখেছি, তারই সামান্য অংশ আপনাদের সামনে তুলে ধরলাম।

আমার দৃঢ় বিশ্বাস—মানুষই শ্রেষ্ঠ।মানুষই সম্পদ।মানুষই সৃষ্টি করে।আপনি যদি মানুষকে সঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারেন, তাহলে একটি শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠা অবশ্যম্ভাবী।
সবাই ভালো থাকবেন।সুস্থ থাকবেন।আমার এই কথাগুলো নিয়ে একটু হলেও ভাববেন।

নিজেকে ভালোবাসবেন।আপনার সহকর্মীদের ভালোবাসবেন।আপনার প্রতিষ্ঠানকে ভালোবাসবেন।আপনার দেশকে ভালোবাসবেন।

আল্লাহ হাফেজ।

-Md. Akbar Hassan
MBA(IBA), MPA(DU)
CEO & Managing Director of BRIDDHI
Tel: +880 1713-457021, +8801819-218044
Email: [email protected]
Website: www.briddhi.org, YouTube: BRIDDHI NETWORK

"ইতিবাচক চিন্তার শক্তি”Quotation of Md. Akbar Hassan.আপনি কি আমার কবিতা, কোটেশন, আত্মচিন্তা এগুলো পড়তে ইচ্ছুক তাহলে এই ...
08/08/2026

"ইতিবাচক চিন্তার শক্তি”
Quotation of Md. Akbar Hassan.

আপনি কি আমার কবিতা, কোটেশন, আত্মচিন্তা এগুলো পড়তে ইচ্ছুক তাহলে এই পেজে আসুন ভালো লাগতে পারে।
https://www.facebook.com/profile.php?id=10006867266473

Stronger People. Stronger Organizations.Success is built by people who are willing to learn, improve, and lead with purp...
08/08/2026

Stronger People. Stronger Organizations.

Success is built by people who are willing to learn, improve, and lead with purpose.

At BRIDDHI, we help professionals sharpen their skills, strengthen their mindset, and build organizations that are prepared for tomorrow's challenges.

Your next level starts with one decision. BRIDDHI can help you.

👤 Md. Akbar Hassan
CEO & Managing Director, BRIDDHI

📞 +880 1713-457021 | +880 1819-218044
📧 [email protected]
🌐 www.briddhi.org

BRIDDHI — We Help to Grow.

ARTICLE NO 84  TOPIC:জন্ম নয়, জন্মের সার্থকতাই জীবনের প্রকৃত দর্শনআমরা অনেকেই জন্মকে অত্যন্ত বেশি প্রাধান্য দিই। একটি শ...
07/08/2026

ARTICLE NO 84
TOPIC:জন্ম নয়, জন্মের সার্থকতাই জীবনের প্রকৃত দর্শন

আমরা অনেকেই জন্মকে অত্যন্ত বেশি প্রাধান্য দিই। একটি শিশু যখন পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করে, তখন একটি পরিবারে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। পরিবারের প্রত্যেক সদস্য উৎফুল্ল হয়ে ওঠেন। মনে হয়, যেন সংসারে একটি নতুন ফুল ফুটেছে। সন্তান জন্মগ্রহণ করেছে, এ আনন্দ নিঃসন্দেহে অপরিসীম।

কিন্তু আমার প্রশ্ন হলো, জন্মই কি সব?

আমার বিশ্বাস, জন্মগ্রহণ করাই সবচেয়ে বড় বিষয় নয়। পিতামাতার প্রকৃত সার্থকতা শুধু সন্তানকে পৃথিবীতে নিয়ে আসার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রকৃত সার্থকতা তখনই অর্জিত হয়, যখন তাঁরা সন্তানকে যথাযথ শিক্ষা, দীক্ষা, জ্ঞান, প্রজ্ঞা, মূল্যবোধ এবং মানবিক গুণাবলিতে গড়ে তুলতে সক্ষম হন। তখনই সেই জন্ম সার্থক হয়। অন্যথায়, একটি জন্ম কেবল জন্ম হয়েই থেকে যায়; তার প্রকৃত মূল্যায়ন হয় না।

দুঃখজনক হলেও সত্য, আমরা জন্মকে কেন্দ্র করে অনেক বেশি উৎসব করি। জন্মদিন এলেই আনন্দ-উৎসবে মেতে উঠি। বছর বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কেক কাটি, মোমবাতি জ্বালাই এবং শুভেচ্ছা বিনিময় করি। কিন্তু খুব কম মানুষই নিজেকে প্রশ্ন করি, এই বাড়তি বছরগুলোর সঙ্গে আমার যোগ্যতা কতটুকু বেড়েছে? আমি কি জ্ঞান, চরিত্র, নৈতিকতা, দক্ষতা ও মানবিকতায় পরিপূর্ণ হতে পেরেছি? যে বয়সে আমার যতটুকু পরিণত হওয়ার কথা ছিল, আমি কি সত্যিই ততটুকু হতে পেরেছি?

আমরা প্রায়ই বলি, আমরা বেঁচে আছি। আমাদের ছেলে বড় হচ্ছে, মেয়ে বড় হচ্ছে। কিন্তু শুধু শারীরিকভাবে বেড়ে ওঠাই কি প্রকৃত বড় হওয়া? আমার মতে, নয়। প্রকৃত বড় হওয়া হলো শ্রেষ্ঠত্বে বড় হওয়া, বৈশিষ্ট্যে বড় হওয়া, গুণে বড় হওয়া এবং চরিত্রে বড় হওয়া।

আমরা সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাই, লেখাপড়া করাই, তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করি। কিন্তু পিতামাতার দায়িত্ব কি শুধু তাদের খাওয়ানো, পরানো এবং বড় করে তোলা? আমি তা মনে করি না। প্রকৃত দায়িত্ব হলো এমনভাবে তাদের গড়ে তোলা, যাতে তারা শিক্ষা, জ্ঞান, প্রজ্ঞা, নৈতিকতা ও মানবিকতায় পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। সেখানেই পিতামাতার প্রকৃত সার্থকতা।

একজন সন্তানের সাফল্যই পিতামাতার গর্ব। কিন্তু সেই গর্ব কেবল ডিগ্রি, চাকরি কিংবা উপার্জনের কারণে হওয়া উচিত নয়; হওয়া উচিত তার চরিত্র, সততা, মানবিকতা এবং সমাজের প্রতি অবদানের জন্য।

আজ আমাদের সমাজে একটি উদ্বেগজনক পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। অনেক পিতামাতা সন্তানের চরিত্র গঠনের চেয়ে উপার্জনের বিষয়টিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। কীভাবে আয় বাড়ানো যায়, কীভাবে আরও বেশি অর্থ উপার্জন করা যায়, সেটিই যেন তাঁদের প্রধান চিন্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেই অর্থ সৎ পথে আসছে নাকি অসৎ পথে, অনেক ক্ষেত্রেই সেই প্রশ্নটি গুরুত্ব হারিয়ে ফেলছে।

কিন্তু আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, পড়াশোনার চেয়েও বড় বিষয় হলো শিক্ষা। শিক্ষা বলতে আমি শুধু বইয়ের জ্ঞানকে বুঝি না; আমি বুঝি নৈতিক শিক্ষা, মূল্যবোধ, মানবিকতা, সততা এবং সুশীল চরিত্রের বিকাশকে।

এই বিশ্বাস থেকেই আমি আজকের এই লেখাটি লিখছি।

জীবনে শুধু বেঁচে থাকাই কোনো বড় অর্জন নয়। প্রকৃত অর্জন হলো এমনভাবে বেঁচে থাকা, যাতে একজন মানুষ নিজের জীবনকে অর্থবহ করে তুলতে পারে এবং সমাজ ও জাতির জন্য মূল্যবান সম্পদে পরিণত হতে পারে।

মানুষের মতো মানুষ হয়ে, দৃঢ় চরিত্র নিয়ে, সমাজ ও দেশের জন্য ইতিবাচক অবদান রেখে যাওয়ার মধ্যেই জীবনের প্রকৃত সার্থকতা নিহিত রয়েছে।

আর যদি জীবনের কোনো লক্ষ্য না থাকে, কোনো স্বপ্ন না থাকে, কোনো দর্শন না থাকে, তাহলে সেই জীবন অনেকটা দিকহীন নৌকার মতো। সে চলতে থাকে, কিন্তু কোথায় পৌঁছাবে, তা নিজেও জানে না।

তাই প্রত্যেক মানুষের জীবনে একটি সুস্পষ্ট লক্ষ্য থাকা উচিত। একটি দর্শন থাকা উচিত। একটি স্বপ্ন থাকা উচিত। জীবনের কোন প্রান্তে পৌঁছাতে চাই, সেই গন্তব্য সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা উচিত। কারণ লক্ষ্যহীন জীবন কখনো পূর্ণতার পরিচয় বহন করতে পারে না।
জীবনের স্বপ্ন, দর্শন ও মূল্যবোধ

প্রতিটি মানুষের জীবনে একটি বিষয় সর্বদা মনে রাখা উচিত। আমরা যা-ই করি না কেন, আমাদের একটি স্বপ্ন থাকতে হবে। সেই স্বপ্নই হবে আমাদের জীবনের চালিকাশক্তি। আর সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে যা যা প্রয়োজন, তা অর্জনের জন্য আমাদের নিরলসভাবে কাজ করে যেতে হবে।

তবে শুধু স্বপ্ন থাকলেই হবে না; সেই স্বপ্নের ভিত্তি হতে হবে পবিত্রতা, সততা এবং নৈতিকতা। এমন কোনো স্বপ্নের কোনো মূল্য নেই, যার বাস্তবায়নের পথে অসততা, প্রতারণা কিংবা অন্যায়ের আশ্রয় নিতে হয়। জীবনে যা-ই অর্জন করি না কেন, তার গায়ে যেন কোনো কালিমার ছাপ না লাগে। এমন স্বপ্নই মানুষকে মহৎ করে, এমন দর্শনই মানুষকে সম্মানিত করে।

আমি বিশ্বাস করি, প্রত্যেক মানুষের নিজের জীবনের জন্য একটি মহৎ দর্শন নির্মাণ করা উচিত। যে দর্শনের কেন্দ্রবিন্দু হবে সততা, নৈতিকতা, মানবিকতা এবং মূল্যবোধ। এই ভিত্তি দুর্বল হলে জীবনের সার্থকতাও একসময় ম্লান হয়ে যায়।

আমার কাছে মূল্যবোধই মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ। একজন মানুষের জীবন হওয়া উচিত Values-Based Life, অর্থাৎ মূল্যবোধভিত্তিক জীবন।

একটি বিষয় মনে রাখবেন, আপনি জন্মগ্রহণ করেছেন। সময়ের প্রবাহে একদিন আপনি মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাবেন। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত এই পথচলাই জীবন। কিন্তু এই সময়টুকু আপনি কীভাবে কাটালেন, সেটিই আপনার প্রকৃত পরিচয়।

আমি এমন কোনো কাজ করতে চাই না, যা আমাকে কলঙ্কিত করবে। আমি সেই কাজই করতে চাই, যা আমাকে সম্মানিত করবে। জীবনে যা-ই করি না কেন, আমার সততার মধ্যে যেন কখনো কোনো ঘাটতি না থাকে। আমি পৃথিবীতে পবিত্রতা, সততা এবং নৈতিকতা নিয়ে বেঁচে থাকতে চাই।

Honesty এবং Integrity এমন দুটি গুণ, যার মধ্যে কোনো প্রশ্ন বা কালিমার স্থান থাকা উচিত নয়। একজন মানুষের সবচেয়ে বড় শক্তি তার চরিত্র। আর চরিত্রের মূল ভিত্তিই হলো সততা ও নৈতিকতা।

আমরা মানুষ। সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে আমাদের সবচেয়ে বড় পরিচয় হওয়া উচিত মানবতা। যার মধ্যে মানবতা নেই, সে কেবল মানুষরূপী প্রাণী; প্রকৃত মানুষ নয়।

মানুষ মানুষকে ভালোবাসবে। মানুষ প্রাণীকে ভালোবাসবে। প্রাণীও মানুষের ভালোবাসা অনুভব করবে। এটাই পৃথিবীর স্বাভাবিক নিয়ম। এটাই সভ্যতার সৌন্দর্য।

কিন্তু আজ আমাদের সমাজে মানবিকতার সংকট দিন দিন গভীর হচ্ছে। বাংলাদেশের বাস্তবতা আমাদের অনেক প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়। হত্যা, সহিংসতা, নির্যাতন এবং ধর্ষণের মতো ঘটনা যেন ক্রমেই সাধারণ সংবাদে পরিণত হচ্ছে। এটি কোনো সভ্য সমাজের চিত্র হতে পারে না।

আরও বেদনাদায়ক বিষয় হলো, দুর্ঘটনায় কেউ আহত হলে অনেক মানুষ তাকে সাহায্য করার আগে মোবাইল ফোন বের করে ছবি তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই ছবি প্রকাশের আগ্রহ যেন আহত মানুষটিকে বাঁচানোর তাগিদের চেয়েও বেশি হয়ে গেছে। এই পরিবর্তন আমাদের মানবিকতার জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়।

আমি যখন এসব ভাবি, তখন কষ্ট পাই। কারণ একটি সমাজ তখনই সভ্য হয়, যখন মানুষ মানুষের পাশে দাঁড়ায়। শুধু কথায় নয়, কাজে মানবতার পরিচয় দেয়।

ন্যায়পরায়ণতা, বিশ্বাস ও চরিত্রের সংকট
আজ আমাদের সমাজে আরেকটি বিষয় আমাকে গভীরভাবে ভাবায়। সেটি হলো ন্যায়পরায়ণতার ক্রমাবনতি। মনে হয়, ন্যায় যেন ধীরে ধীরে তার ভারসাম্য হারিয়ে ফেলছে। ন্যায়বিচারের পাল্লা আজও আছে, কিন্তু তার প্রকৃত ওজন যেন অনেক ক্ষেত্রেই হালকা হয়ে গেছে। ন্যায়ের প্রত্যাশা মানুষের মধ্যে আজও আছে, কিন্তু ন্যায় প্রতিষ্ঠার বাস্তবতা ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছে।

এ কথা বলতে যেমন কষ্ট হয়, অনুভব করতে তার চেয়েও বেশি কষ্ট হয়। কারণ একটি জাতির শক্তি শুধু তার অর্থনীতি, প্রযুক্তি বা অবকাঠামোয় নয়; ন্যায়বিচারের প্রতি মানুষের আস্থার মধ্যেই একটি সভ্য রাষ্ট্রের প্রকৃত ভিত্তি নির্মিত হয়।

বিশ্বাসও আজ এক গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। একসময় মানুষ সহজেই মানুষকে বিশ্বাস করত। আজ সেই বিশ্বাসের জায়গায় স্থান করে নিয়েছে অবিশ্বাস। কখনো কখনো মনে হয়, অবিশ্বাস যেন বিশ্বাসকে বলছে, "তোমার আর এখানে কোনো স্থান নেই।"
একটি জাতির জন্য এর চেয়ে বড় দুর্ভাগ্য আর কী হতে পারে?

মানুষ তার কষ্টার্জিত অর্থ নিরাপদ থাকবে এই বিশ্বাসে ব্যাংকে জমা রাখে। কিন্তু যখন সেই নিরাপত্তা নিয়েই প্রশ্ন তৈরি হয়, তখন মানুষের মনে অনিশ্চয়তা জন্ম নেয়। রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান, আর্থিক ব্যবস্থা কিংবা দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের প্রতি মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ণ হলে তার নেতিবাচক প্রভাব পুরো সমাজের ওপর পড়ে।

এসব বাস্তবতা আমাকে গভীরভাবে ব্যথিত করে। কারণ বিশ্বাস একদিনে গড়ে ওঠে না; দীর্ঘ সময় ধরে তা অর্জিত হয়। অথচ একটি অনৈতিক কাজ মুহূর্তের মধ্যেই সেই বিশ্বাসকে ভেঙে দিতে পারে।

চরিত্রের বিষয়টিও আজ আমাদের নতুন করে ভাবতে হবে। চরিত্র এমন একটি সম্পদ, যার কোনো বিকল্প নেই। অথচ আমরা এমন কিছু ঘটনার সাক্ষী হচ্ছি, যা আমাদের গভীরভাবে মর্মাহত করে।

যে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের জ্ঞান দান করবেন, নৈতিকতার শিক্ষা দেবেন এবং মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবেন, যদি তিনিই অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন, তবে সেটি শুধু একজন ব্যক্তির ব্যর্থতা নয়; পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য তা এক গভীর বেদনার বিষয়।

আমি জানি, আমার এই লেখার অনেক বক্তব্য হয়তো সবার ভালো লাগবে না। কেউ সমালোচনা করবেন, কেউ ভিন্নমত প্রকাশ করবেন। কিন্তু আমি একটি বিষয় স্পষ্টভাবে বলতে চাই, আমি কখনোই বলছি না যে সবাই খারাপ।

আমাদের সমাজে অসংখ্য সৎ, নৈতিক, আদর্শবান ও নিবেদিতপ্রাণ মানুষ আছেন। তাঁদের কারণেই সমাজ আজও টিকে আছে। কিন্তু অল্প কয়েকজন অসাধু মানুষের কর্মকাণ্ড অনেক সময় পুরো সমাজের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দেয়।

একটি প্রচলিত প্রবাদ আছে, এক বালতি দুধে এক ফোঁটা টক পড়লেই পুরো দুধ নষ্ট হয়ে যায়। সমাজের ক্ষেত্রেও অনেক সময় একই বাস্তবতা দেখা যায়। অল্প কিছু মানুষের অনৈতিক আচরণ অসংখ্য সৎ মানুষের অবদানকে আড়াল করে দেয়।

ন্যায়পরায়ণতা, বিশ্বাস ও চরিত্রের সংকট
আজ আমাদের সমাজে আরেকটি বিষয় আমাকে গভীরভাবে ভাবায়। সেটি হলো ন্যায়পরায়ণতার ক্রমাবনতি। মনে হয়, ন্যায় যেন ধীরে ধীরে তার ভারসাম্য হারিয়ে ফেলছে। ন্যায়বিচারের পাল্লা আজও আছে, কিন্তু তার প্রকৃত ওজন যেন অনেক ক্ষেত্রেই হালকা হয়ে গেছে। ন্যায়ের প্রত্যাশা মানুষের মধ্যে আজও আছে, কিন্তু ন্যায় প্রতিষ্ঠার বাস্তবতা ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছে।

এ কথা বলতে যেমন কষ্ট হয়, অনুভব করতে তার চেয়েও বেশি কষ্ট হয়। কারণ একটি জাতির শক্তি শুধু তার অর্থনীতি, প্রযুক্তি বা অবকাঠামোয় নয়; ন্যায়বিচারের প্রতি মানুষের আস্থার মধ্যেই একটি সভ্য রাষ্ট্রের প্রকৃত ভিত্তি নির্মিত হয়।

বিশ্বাসও আজ এক গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। একসময় মানুষ সহজেই মানুষকে বিশ্বাস করত। আজ সেই বিশ্বাসের জায়গায় স্থান করে নিয়েছে অবিশ্বাস। কখনো কখনো মনে হয়, অবিশ্বাস যেন বিশ্বাসকে বলছে, "তোমার আর এখানে কোনো স্থান নেই।"

একটি জাতির জন্য এর চেয়ে বড় দুর্ভাগ্য আর কী হতে পারে?

মানুষ তার কষ্টার্জিত অর্থ নিরাপদ থাকবে এই বিশ্বাসে ব্যাংকে জমা রাখে। কিন্তু যখন সেই নিরাপত্তা নিয়েই প্রশ্ন তৈরি হয়, তখন মানুষের মনে অনিশ্চয়তা জন্ম নেয়। রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান, আর্থিক ব্যবস্থা কিংবা দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের প্রতি মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ণ হলে তার নেতিবাচক প্রভাব পুরো সমাজের ওপর পড়ে।

এসব বাস্তবতা আমাকে গভীরভাবে ব্যথিত করে। কারণ বিশ্বাস একদিনে গড়ে ওঠে না; দীর্ঘ সময় ধরে তা অর্জিত হয়। অথচ একটি অনৈতিক কাজ মুহূর্তের মধ্যেই সেই বিশ্বাসকে ভেঙে দিতে পারে।

চরিত্রের বিষয়টিও আজ আমাদের নতুন করে ভাবতে হবে। চরিত্র এমন একটি সম্পদ, যার কোনো বিকল্প নেই। অথচ আমরা এমন কিছু ঘটনার সাক্ষী হচ্ছি, যা আমাদের গভীরভাবে মর্মাহত করে।

যে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের জ্ঞান দান করবেন, নৈতিকতার শিক্ষা দেবেন এবং মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবেন, যদি তিনিই অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন, তবে সেটি শুধু একজন ব্যক্তির ব্যর্থতা নয়; পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য তা এক গভীর বেদনার বিষয়।

আমি জানি, আমার এই লেখার অনেক বক্তব্য হয়তো সবার ভালো লাগবে না। কেউ সমালোচনা করবেন, কেউ ভিন্নমত প্রকাশ করবেন। কিন্তু আমি একটি বিষয় স্পষ্টভাবে বলতে চাই, আমি কখনোই বলছি না যে সবাই খারাপ।

আমাদের সমাজে অসংখ্য সৎ, নৈতিক, আদর্শবান ও নিবেদিতপ্রাণ মানুষ আছেন। তাঁদের কারণেই সমাজ আজও টিকে আছে। কিন্তু অল্প কয়েকজন অসাধু মানুষের কর্মকাণ্ড অনেক সময় পুরো সমাজের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দেয়।

একটি প্রচলিত প্রবাদ আছে, এক বালতি দুধে এক ফোঁটা টক পড়লেই পুরো দুধ নষ্ট হয়ে যায়। সমাজের ক্ষেত্রেও অনেক সময় একই বাস্তবতা দেখা যায়। অল্প কিছু মানুষের অনৈতিক আচরণ অসংখ্য সৎ মানুষের অবদানকে আড়াল করে দেয়।

শিক্ষার বিষয়েও আমাদের গভীরভাবে আত্মসমালোচনা করা প্রয়োজন। শিক্ষা মানুষের দক্ষতা বৃদ্ধি করে, চিন্তাশক্তিকে সমৃদ্ধ করে এবং তাকে একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলে। কিন্তু যদি সেই শিক্ষার মধ্যেই গুণগত ঘাটতি থাকে, তাহলে ডিগ্রি বাড়লেও প্রকৃত শিক্ষিত মানুষ তৈরি হয় না।

পেশাগত জীবনে আমি নিয়মিত তরুণদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করি। সেখানে অনেক সময় এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হই, যা আমাকে উদ্বিগ্ন করে। অনেকের হাতে ডিগ্রি আছে, সনদ আছে, কিন্তু মৌলিক জ্ঞান, বিশ্লেষণক্ষমতা এবং বাস্তব দক্ষতার ঘাটতি স্পষ্টভাবে চোখে পড়ে।
তবে এর জন্য শুধু শিক্ষকদের দায়ী করলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। একজন শিক্ষার্থী নিজের জীবনকে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে, শেখার জন্য কতটা নিবেদিত, সেই প্রশ্নও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
কারণ শিক্ষা কখনো একমুখী প্রক্রিয়া নয়। শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয়ের আন্তরিক প্রচেষ্টার মধ্য দিয়েই প্রকৃত শিক্ষা অর্জিত হয়।

শিক্ষা, চরিত্র, কর্ম ও উৎকর্ষের সাধনা
একটি বিষয় সর্বদা মনে রাখবেন, আপনি যত বেশি শিক্ষিত হবেন, তত বেশি সমৃদ্ধ হবেন। এখানে আমি শুধু অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির কথা বলছি না; জ্ঞান, প্রজ্ঞা, চিন্তাশক্তি, সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা এবং ব্যক্তিত্বের সমৃদ্ধির কথাও বলছি।

যে মানুষ প্রকৃত শিক্ষা অর্জন করতে পারে না, সে তার সম্ভাবনার পূর্ণ বিকাশ ঘটাতে পারে না। শিক্ষা শুধু একটি ডিগ্রি অর্জনের নাম নয়; শিক্ষা মানুষকে চিন্তা করতে শেখায়, বাস্তবতাকে বুঝতে শেখায় এবং নিজের অন্তর্নিহিত শক্তিকে আবিষ্কার করতে সহায়তা করে।

তবে শিক্ষার সঙ্গে একটি বিষয় অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িত, আর সেটি হলো চরিত্র।

আমি প্রায়ই একটি কথা বলি, সম্পদ হারালে সেই সম্পদ আবার অর্জন করা যায়। অর্থ হারালে তা পুনরায় উপার্জন করা সম্ভব। ব্যবসায় ক্ষতি হলেও আবার ঘুরে দাঁড়ানো যায়। কিন্তু চরিত্র একবার নষ্ট হয়ে গেলে সেই ক্ষতি পূরণ করা অত্যন্ত কঠিন। চরিত্র হারানো মানে নিজের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হারিয়ে ফেলা।

তাই জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে চরিত্রকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। আমরা যেহেতু জন্মগ্রহণ করেছি, এই জন্মকে সার্থক করাই আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত। আর সেই সার্থকতার অন্যতম ভিত্তি হলো একজন চরিত্রবান মানুষ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা।

আমি আরেকটি কথা প্রায়ই বলি, অজ্ঞ থেকে কখনো প্রকৃত অর্থে বড় হওয়া যায় না। মানুষকে শিখতে হবে, জানতে হবে এবং সেই জ্ঞানকে কাজে লাগাতে হবে।
শেখার কোনো বিকল্প নেই। শেখার কোনো শেষও নেই।

পৃথিবী প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে। প্রতিদিন নতুন নতুন জ্ঞান, নতুন প্রযুক্তি, নতুন তত্ত্ব, নতুন দক্ষতা এবং নতুন বাস্তবতার আবির্ভাব ঘটছে। আপনি যদি শেখা বন্ধ করে দেন, তবে পরিবর্তনের এই স্রোত থেকে ধীরে ধীরে পিছিয়ে পড়বেন।

তাই প্রতিদিন নিজেকে একটি প্রশ্ন করুন, আজ আমি নতুন কী শিখলাম?

প্রতিদিন কিছু না কিছু শিখুন। নতুন কিছু জানুন। শেখা বিষয়কে বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করুন। কারণ জ্ঞান তখনই শক্তিতে পরিণত হয়, যখন তা কর্মে প্রতিফলিত হয়।

পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেকে খাপ খাইয়ে নেওয়া শুধু একটি দক্ষতা নয়; এটি টিকে থাকার অন্যতম শর্ত। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজেকেও পরিবর্তিত হতে হবে। সমাজ, রাষ্ট্র এবং কর্মক্ষেত্র আপনাকে যেভাবে দেখতে চায়, সেই যোগ্যতা অর্জনের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে।
অন্যথায় আপনি প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বেন।

মনে রাখবেন, আপনার পরিচয় আপনার কথায় নয়; আপনার কর্মে।

মানুষকে তার কাজই পরিচিত করে। কর্মই একজন মানুষের প্রকৃত পরিচয় নির্মাণ করে। তাই এমন কাজ করুন, যা আপনাকে সম্মান এনে দেয় এবং সমাজে ইতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করে।
যে মানুষ বড় কাজ করার সাহস রাখে, বড় দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারে এবং নিষ্ঠার সঙ্গে তা সম্পন্ন করে, সমাজে তার মূল্যও তত বেশি।

বাস্তব জীবনে আমরা এর অসংখ্য উদাহরণ দেখি। একজন দক্ষ প্রকৌশলী, স্থপতি, চিকিৎসক বা বিজ্ঞানী শুধু তাঁর পেশার জন্য মূল্যবান নন; তিনি মূল্যবান তাঁর জ্ঞান, দক্ষতা, দায়িত্ববোধ এবং কাজের মানের জন্য।

একইভাবে, যেকোনো পেশায় একজন মানুষের মূল্য নির্ধারিত হয় তার কাজের গুণগত মান, দক্ষতা এবং ফলাফলের ভিত্তিতে।

তাই নিজের কর্মের মান উন্নত করুন। দক্ষতা বৃদ্ধি করুন। উৎকর্ষ অর্জনের জন্য নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যান। কারণ কর্মের উৎকর্ষই মানুষের মর্যাদা, সম্মান এবং সাফল্যের অন্যতম ভিত্তি।

সময়ের মূল্য, ব্যর্থতার শিক্ষা ও পুনর্জাগরণের দর্শন
আমি শুরুতেই বলেছি, মানুষ জন্মগ্রহণ করে এবং একদিন মৃত্যুর দিকে অগ্রসর হয়। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত এই যাত্রাই মানুষের জীবন। কিন্তু এই দুই প্রান্তের মধ্যবর্তী সময়টুকুই আমাদের প্রকৃত সম্পদ। এই সময়ই আমাদের মূলধন, এই সময়ই আমাদের সবচেয়ে মূল্যবান বিনিয়োগ।

তাই সময়কে কখনো অবহেলা করা যাবে না। সময় অপচয় করার অধিকার আমারও নেই, আপনারও নেই। বরং সময়কে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করে সঠিক কাজে বিনিয়োগ করার মধ্যেই একজন মানুষের প্রজ্ঞা, দূরদর্শিতা এবং ব্যক্তিত্বের পরিচয় নিহিত থাকে।

একটি কথা সর্বদা মনে রাখবেন, যে সময় একবার চলে যায়, তা আর কখনো ফিরে আসে না।

প্রতিদিন আমাদের জীবনে ৮৬,৪০০ সেকেন্ড এসে জমা হয়। কী বিশাল একটি সম্পদ! এখন প্রশ্ন হলো, এই অমূল্য সম্পদের কতটুকু আমরা অর্থবহ কাজে ব্যবহার করছি? কতটুকু সময় আমরা নিজের উন্নয়নে ব্যয় করছি? কতটুকু সময় আমরা পরিবার, সমাজ এবং দেশের কল্যাণে কাজে লাগাচ্ছি?

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর আমাদের প্রত্যেককেই নিজের কাছে দিতে হবে।

সময় যদি অবহেলায় নষ্ট হয়ে যায়, তবে একসময় জীবনও অবহেলিত হয়ে পড়ে। তখন মানুষ নিজের সম্ভাবনার পূর্ণ বিকাশ ঘটাতে পারে না। সমাজেও তার অবদান ক্ষীণ হয়ে আসে।

তাই কাজ ফেলে রাখার অভ্যাস পরিহার করুন। অলসতা মানুষকে ধীরে ধীরে দুর্বল করে দেয়, আর কর্মনিষ্ঠা মানুষকে শক্তিশালী করে। যত বেশি নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করবেন, তত বেশি পরিশ্রমী হয়ে উঠবেন। আর যত বেশি পরিশ্রমী হবেন, তত বেশি সাফল্যের সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে।
জীবনের পথে চলতে গিয়ে ব্যর্থতা আসবেই। অনেক স্বপ্ন ভেঙে যাবে। অনেক পরিকল্পনা সফল হবে না। কখনো কখনো মনে হবে, সবকিছু শেষ হয়ে গেছে।
কিন্তু আমি বলব, কখনো ভেঙে পড়বেন না।

ব্যর্থতা কখনো সমাপ্তি নয়; ব্যর্থতা একটি নতুন সূচনার দ্বার উন্মোচন করে। প্রতিটি ব্যর্থতা আমাদের নতুন কিছু শেখায়। প্রতিটি ব্যর্থতা আমাদের ভুলগুলো চিহ্নিত করার সুযোগ করে দেয়।

তাই ব্যর্থতাকে বিশ্লেষণ করুন। কোথায় ভুল হয়েছে, কেন হয়েছে এবং কীভাবে সংশোধন করা যায়, তা খুঁজে বের করুন। সেই শিক্ষাই হবে আপনার পরবর্তী সাফল্যের ভিত্তি।

সফল মানুষ ব্যর্থতাকে ভয় পায় না। বরং সে ব্যর্থতাকে নিজের শিক্ষক হিসেবে গ্রহণ করে। কারণ সে জানে, প্রতিটি ব্যর্থতা তাকে আরও শক্তিশালী, আরও অভিজ্ঞ এবং আরও পরিণত করে তুলছে।

তাই হেরে যাওয়ার অনুভূতিকেই শেষ কথা মনে করবেন না। বরং সেখান থেকেই নতুনভাবে উঠে দাঁড়ান। নিজেকে নতুনভাবে গড়ে তুলুন। নিজের অন্তর্নিহিত শক্তিকে আবার জাগিয়ে তুলুন।

আমাদের দেশে অনেক তরুণ-তরুণী সামান্য ব্যর্থতাতেই ভেঙে পড়ে। আমি তাদের বলতে চাই, জীবন আপনার নিজের। এই জীবনকে আপনাকেই গড়ে তুলতে হবে। অন্য কেউ এসে আপনার জীবন নির্মাণ করে দেবে না।

জীবন গড়তে হলে সাহস লাগবে, অধ্যবসায় লাগবে, ধৈর্য লাগবে এবং নিজের ওপর অটুট বিশ্বাস রাখতে হবে।

যে মানুষ প্রতিটি ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আবার সামনে এগিয়ে যেতে পারে, শেষ পর্যন্ত বিজয় তার হাতেই ধরা দেয়।

ইতিবাচক মানসিকতা: সাফল্যের চালিকাশক্তি
জীবন গড়ার পথে একটি বিষয় সর্বদা মনে রাখতে হবে, আর সেটি হলো আপনার মানসিকতা (Attitude)। মানুষের জীবনে জ্ঞান, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার যেমন গুরুত্ব রয়েছে, তেমনি তার মানসিকতার গুরুত্বও অপরিসীম।

একটি প্রচলিত উদাহরণ রয়েছে। ইংরেজি শব্দ ATTITUDE-এর প্রতিটি অক্ষরকে ইংরেজি বর্ণমালার ক্রমিক সংখ্যায় প্রকাশ করলে তার যোগফল দাঁড়ায় ১০০। এই উদাহরণটি আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ সত্য স্মরণ করিয়ে দেয়। জীবনের প্রতি আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি, মানসিকতা এবং চিন্তার ধরনই অনেক সময় আমাদের সাফল্য বা ব্যর্থতার গতিপথ নির্ধারণ করে।
তাই আপনার মানসিকতা সর্বদা ইতিবাচক হওয়া উচিত।

ইতিবাচক মানসিকতা ছাড়া উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নির্মাণ করা সম্ভব নয়। নেতিবাচক চিন্তা মানুষকে পিছিয়ে দেয়, দুর্বল করে এবং সম্ভাবনার দ্বার সংকুচিত করে। অন্যদিকে, ইতিবাচক চিন্তা মানুষকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যায়, নতুন শক্তি দেয় এবং নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেয়।
জীবনের পথে নানা সমস্যা আসবে। প্রতিকূলতা থাকবে। প্রতিবন্ধকতাও থাকবে। এগুলো জীবনযাত্রার স্বাভাবিক অংশ।

কিন্তু প্রশ্ন হলো, আপনি সমস্যাকে কীভাবে দেখবেন?
যদি আপনার মানসিকতা ইতিবাচক হয়, তাহলে আপনি সমস্যার মধ্যেও সম্ভাবনা খুঁজে পাবেন। প্রতিটি প্রত্যাখ্যানের মধ্যেও একটি নতুন সুযোগ লুকিয়ে থাকে। প্রতিটি ব্যর্থতার মধ্যেও একটি নতুন শিক্ষা অপেক্ষা করে।

তাই প্রত্যাখ্যানকে ভয় পাবেন না। ব্যর্থতাকে ঘৃণা করবেন না। বরং প্রতিটি অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করুন এবং নতুন সম্ভাবনার পথ অনুসন্ধান করুন।

সমস্যার মধ্যে সমাধান খুঁজে বের করাই একজন সচেতন, দায়িত্বশীল এবং পরিণত মানুষের পরিচয়।

আমি বিশ্বাস করি, অভিযোগ করে কোনো পরিবর্তন আনা যায় না। অজুহাতও কোনো সমাধান নয়। অভিযোগ এবং অজুহাত মানুষকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যায় না; বরং তাকে স্থবির করে দেয়।

সফল মানুষ সমস্যার কথা বলে সময় নষ্ট করে না; সে সমাধানের পথ খুঁজে বের করে।
আমাদেরও সেই মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। প্রতিটি সমস্যাকে শান্তভাবে বিশ্লেষণ করতে হবে, ইতিবাচকভাবে চিন্তা করতে হবে এবং সাহসের সঙ্গে তার সমাধান খুঁজে বের করতে হবে।
এটাই হওয়া উচিত আমাদের জীবনের দর্শন।

আমরা হার মানার জন্য জন্মগ্রহণ করিনি। আমরা সৃষ্টি করার জন্য জন্মগ্রহণ করেছি। আমরা আমাদের জীবনকে অর্থবহ করার জন্য জন্মগ্রহণ করেছি। আমাদের এমনভাবে বেঁচে থাকতে হবে, যাতে আমাদের জন্ম শুধু একটি তারিখ হয়ে না থাকে; আমাদের কর্ম, চরিত্র, সততা, মানবিকতা এবং অবদানই আমাদের প্রকৃত পরিচয় হয়ে ওঠে।

একদিন আমাদের সবাইকে এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হবে। কিন্তু আমাদের জীবন যেন মানুষের হৃদয়ে, সমাজের অগ্রগতিতে এবং আগামী প্রজন্মের অনুপ্রেরণায় বেঁচে থাকে। তখনই আমাদের জন্ম সত্যিকার অর্থে সার্থক হবে।

আল্লাহ হাফেজ।

-Md. Akbar Hassan
MBA(IBA), MPA(DU)
CEO & Managing Director of BRIDDHI
Tel: +880 1713-457021, +8801819-218044
Email: [email protected]
Website: www.briddhi.org, YouTube: BRIDDHI NETWORK

Address

House No 50/A, Road No. 10/A Dhanmondi
Dhaka

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Briddhi - Industrial & Marketing Consultants posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Briddhi - Industrial & Marketing Consultants:

Shortcuts

Share