27/11/2016
ফ্যারাডের সূত্র লিখ।
প্রথম সুত্রঃ একটি তার বা কয়েলে ই. এম. এফ আবিষ্ট হয় তখন, যখন উক্ত তার বা কয়েলের সাথে সংশ্লিষ্ট চৌম্বক ফ্লাক্স বা চৌম্বক বল রেখার পরিবর্তন ঘটে।
দ্বিতীয় সুত্রঃ আবেশিত বিদ্যুচ্চালক বল এর পরিমান চৌম্বক বল রেখার পরিবর্তনের হারের সাথে সরাসরি সমানুপাতিক।
উপরোক্ত সূত্র একত্রে এভাবে লেখা দুটি যায়ঃ একটি পরিবাহী এবং একটি চৌম্বক ক্ষেত্রে আপেক্ষিক গতি যখন এরুপভাবে বিদ্যমান থাকে যে, পরিবাহীটি চৌম্বক ক্ষেত্রটিকে কর্তন করে, তখন পরিবাহিতে আবেশিত একটি বিদ্যুচ্চালক বল সংঘটিত কর্তনের হারের সাথে সমানুপাতিক।
পরিবহী: যে পদার্থের মধ্য দিয়ে সহজেই এক স্হানহতে অন্য স্হানে বিদুৎ প্রবহিত হতেপারে অর্থাৎ-বিদুৎ প্রবাহে কোন বাধাঁ পায়না তাকে পরিবহী বলে। ইহা তিন প্রকার
1. Good Conductor(সু-পরিবাহী): যে পদার্থের মধ্য দিয়ে সহজেই বিদুৎ প্রবাহিত হতে পারে তাকে Good conductor বলে।পরমাণুর শেষ কক্ষপথে ইলেকট্রন সংখ্যা ১,২,৩ টি থাকে। যেমন:-তামা, সোনা, রূপা, এলমোনিয়াম, দস্তা, পিতল, নিকেল, সীসা, রাং, প্লাটিনাম, ফসফর ব্রোঞ্জ, পারদ ইত্যাদি।
2. Semi Conductor(অর্ধ-পরিবহী): যে পদার্থের মধ্য দিয়ে বিদুৎ প্রবাহিত হওয়ার সময় আংশিক ভাবে বাধাঁ প্রাপ্ত হয় Semi conductor বলে।পরমাণুর শেষ কক্ষপথে ইলেকট্রন সংখ্যা ৪ টি থাকে। যেমন:-কার্বন, সিলিকন, মাইকা, কয়লা, জার্মেনিয়াম, বিজা মাটি, বিজা বাঁশ ইত্যাদি।
3. Insulator(কু-পরিবহী)যে পদার্থের মধ্য দিয়ে বিদুৎ প্রবাহিত হতে পারেনা তাকে Insulator বলে। পরমাণুর শেষ কক্ষপথে ইলেকট্রন সংখ্যা ৫,৬,৭ টি থাকে।য়েমন:- ব্যকেলাইট, এসবেসটস, মার্বেল, পাথর, রাবার, চিনামাটি, তুলা, শুকনো কাগজ, শুকনো বাঁশ ইত্যাদি।
ওয়াট আওয়ার: কোন Load এ এক ঘন্টা যাবৎ এক Watt কারেন্ট প্রবাহিত হইলে তাকে ওয়াট আওয়ার বলে।
কিলো ওয়াট অশ্বক্ষমতা(Horse power)এর সম্পর্ক:
১ অশ্বশক্তি = ৫৫০ফুট পাউন্ড/সেকেন্ড
= ৫৫০*২.৫৪*১৫৩.৬ গ্রাম সে.মি./সেকেন্ড
১ পাউন্ড = ১৩৫.৬ গ্রাম ও ১ ফুট ১২*২.৫৪ সে.মি.
অতএব,
১ অশ্বশক্তি = ৫৫০*৩০.৪৮*৪৫৩.৬ গ্রাম সে.মি./সেকেন্ড
= ৫৫০*৩০.৪৮*৪৫৩.৬*৯৮১ ডাইন সে.মি./সেকেন্ড
= ৭৪৬ জুলস/সেকেন্ড
১ জুলস/সেকেন্ড = ১ ওয়াট
১ ওয়াট = ১ কিলোওয়াট
ইলেকট্রিক পাওয়ার: যে হারে ইলেকট্রন প্রবাহিত হয়ে কাজ সম্পন্ন হয় তাকে ইলেকট্রিক পাওয়ার বলে। বলে।একে p দ্বারা প্রকাশ করা হয়। এর একক জুল/সেকেন্ড বা ওয়াট।এক volt কাজের পার্থক্যে এক অ্যামপিয়ার কারেন্ট প্রবাহিত হইবে যে পরিমান অপচয় হয় তাকে ওয়াট বলে। অন্যথায় বলা যায় যে ক্ষমতা প্রতি সেকেন্ডে এক জুল পরিমান কাজ সম্পন্ন করে তাকে watt বলে।
1. Magnetizing/চুম্বকিয় প্রভাব: পরিবাহীর মধ্য দিয়ে যখন কারেন্ট প্রবাহিত হয় তখন ঐ পরিবাহীর চারিদিকে চুম্বকীয় ফ্লাক্স উৎপন্ন হয় একে পরিবাহীর Magnetizing/চুম্বকিয় প্রভাব।
2. তাপীয় ক্রিয়া: পরিবাহীর মধ্য দিয়ে যখন কারেন্ট প্রবাহিত হয় তখন ঐ পরিবাহীতে তাপের সৃষ্টি হয় তাকে তাপীয় ক্রিয়া বলে।
3. রাসায়নিক ক্রিয়া: রাসায়নিক প্রদার্থের মধ্যে কারেন্ট প্রবাহিত হলে এর রাসায়নিক প্রদার্থের ক্রিয়া নষ্ট হয়ে যায়।
4. দৈহিক ক্রিয়া: মানুষ কিংম্বা জিবজন্তুর দেহ দিয়ে কারেন্ট হলে মারাত্নক ভাবে আঘাত প্রাপ্ত হইবে।
5. এক্স-রে ক্রিয়া: ইলেকট্রিক কারেন্ট রেয়ার ফিড গ্যাস ,বাষ্প এবং বয়ুর মথ্যে দিয়ে যখন প্রবাহিত হয় উহাদের মথ্যে বিশেষ ধরণের রে(Ray) উৎপন্ন হয়।
6. ইলেকট্রোস্ট্যাটিক্যক ক্রিয়া: যখন পরিবাহীর মধ্য দিয়ে কারেন্ট প্রবাহিত হয় তখন ঐ পরিবাহীর পদার্থ ইলেকট্রোস্ট্যাটিক্যলী চার্জ যুক্ত হয়।
7. করণা ক্রিয়া: খোলা আকাশের নিচে দিয়ে পরিবাহী তার টানা হয় এবং ঐ পরিবাহীর মথ্যে দিয়ে যখন উচ্চ voltage পাঠানো হয় তখন ঐ পরিবাহীর তারের নিকট বাতাসের মধ্যে চার্জযুক্ত পরমাণু উৎপন্ন হয়।এই ক্রিয়া-ই করণা ক্রিয়া বলে। এর ক্রিয়ার ফলে ইলেকট্রিসিটি ডিসচার্জ হয়।এই ডিসচার্জ কে করণা ডিসচার্জ বলে।
কারেন্ট : ইলেকট্রন প্রবহের হারকে কারেন্ট বলে।কারেন্ট দুই প্রকার Alternating Current(AC)এবং Direct Current(D)। একে I দ্বারা প্রকাশিত করা হয়।এর একক Ampere(A)।
ভোল্টেজ: ইলেকট্রন সমূহকে স্থানচূত করার জন্য যে বলের প্রয়োজন হয় তাকে ভোল্টেজ বলে।একে V দ্বারা প্রকাশিত করা হয়।এর একক Volt(V)।