আড্ডা রসিক

Directions

আড্ডা রসিক Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from আড্ডা রসিক, Advertising/Marketing, Dinajpur.

🎬 গল্প থেকে ব্র্যান্ড—আমরা তৈরি করি মনে থাকার
মতো গল্প।
✍️ Storytelling • Content • Creative
🎙️ Audio Stories • Visual Stories • Brand
Narratives
✒️ Stories that stay.
📩 Brand Narrative & Creative Collaborations:
[email protected]

একটি পুরোনো ব্রিটিশ ফরেস্ট হাউজ,তিনটি প্রাণ। কি হবে তাদের পরিণতি???জানতে হলে পড়ুন.....The crimson outpost. Author : Adda...
18/08/2026

একটি পুরোনো ব্রিটিশ ফরেস্ট হাউজ,
তিনটি প্রাণ। কি হবে তাদের পরিণতি???

জানতে হলে পড়ুন.....
The crimson outpost.
Author : Adda Roshik.

লিংক কমেন্টে...

#হররগল্প #ভয়াবহগল্প #ভূতুড়েগল্প #রহস্যগল্প #সাসপেন্স

পাবলিক বাসের ভীড়।কোনোমতে দাঁড়িয়ে আছে নোমান। বাসের প্রতিটি ঝাঁকুনিতে মনে হচ্ছে, আর একটু হলেই পড়ে যাবে।সামনের স্টপেই নামবে...
17/08/2026

পাবলিক বাসের ভীড়।

কোনোমতে দাঁড়িয়ে আছে নোমান। বাসের প্রতিটি ঝাঁকুনিতে মনে হচ্ছে, আর একটু হলেই পড়ে যাবে।
সামনের স্টপেই নামবে।
কিন্তু সেই সামান্য পথটুকুও আজ যেন অসহ্য লাগছে।..
বাসায় ফিরে আয়নার সামনে দাঁড়াতেই দেখলো একরাশ ক্লান্তিমাখা চেহারা, চোখের নিচে কালি, চামড়ায় ভাঁজ। অথচ বয়স তো মাত্র ২৮!! মুচকি হাসল সে।..
অফিসের কাজ বাকি।
ওভারটাইম করতে হবে।
বাবার ওষুধ।
মায়ের ওষুধ।
বাসা ভাড়া।
ছোট ভাইয়ের কলেজ ফি।
সবকিছুর হিসাব আছে।
শুধু নিজের জন্য সময়টার কোনো হিসাব নেই।
বারান্দায় বসে এসবই ভাবছিল নোমান।

— কীরে? এত কী চিন্তা করছিস?
মায়ের কণ্ঠে চিন্তার জালটা ছিঁড়ে গেল।
— না মা। কিছু না।
মা কিছু বললেন না।
শুধু পাশে এসে একটা কাপ এগিয়ে দিলেন।
— অনেকদিন তোকে নিয়ে চা খাওয়া হয় না। আজ একটু বসি।

নোমান কাপটা হাতে নিল।
তারপর দুজন পাশাপাশি বসে রইল।
কোনো তাড়া নেই।
কোনো অফিস নেই।
কোনো হিসাব নেই।
শুধু মা আর ছেলে।

চায়ের কাপে ধোঁয়া উঠতে উঠতে কথারাও যেন জমে থাকা জায়গা থেকে বেরিয়ে এলো।
কখন যে দশ মিনিট কেটে গেল, নোমান বুঝতেই পারল না।
হয়তো জীবনের সব সমস্যার সমাধান আজ হবে না।
কিন্তু কিছু মুহূর্ত সমস্যার কথা ভুলিয়ে দিতে পারে।

📫 এই ব্যস্ত জীবনের ভীড়ে আমরা অনেক সময়
নিজেকে ভুলে যাই। কতদিন হলো ১টা মিনিটও
কারো সাথে প্রাণ খুলে কথা বলেন নি??

“সেই রাতে উদ্ধারকর্মীরা ভেবেছিল তারা মানুষ বাঁচাতে এসেছে। তারা জানত না, শিকার হতে যাচ্ছে নিজেরাই।"The Crimson Outpost #আ...
15/08/2026

“সেই রাতে উদ্ধারকর্মীরা ভেবেছিল তারা মানুষ বাঁচাতে এসেছে। তারা জানত না, শিকার হতে যাচ্ছে নিজেরাই।"

The Crimson Outpost
#আড্ডারসিক

​জুন, ২০১৭। চন্দনাইশ-সাতকানিয়া, চট্টগ্রাম।

​নিজের উপর খুব রাগ হচ্ছে আরমানের। সিগারেটে শেষ টানটুকু দিয়ে বাকিটা মেঝেতে ফেলে জুতো দিয়ে মাড়িয়ে দিল । শূন্যে একটি ধোঁয়ার কুণ্ডলী ছেড়ে মনে মনে কষে কয়েকটা গালি দিল নিজেকে।

​সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করে পুরো এলাকা ভাসিয়ে নিয়ে যাবে—এমনটা ঘুনাক্ষরেও ভাবেনি সে। টানা বর্ষণে চন্দনাইশ ও সাতকানিয়া যখন তলিয়ে যেতে শুরু করে, তখন এনজিও-র ফিল্ড লিডার হিসেবে চারজন নবীন ট্রেইনিকে সাথে নিয়ে জরুরি ত্রাণ ও উদ্ধার সামগ্রী পৌঁছে দিতে চট্টগ্রামে এসেছিল আরমান। কিন্তু পাহাড়ি ঢল ও নজিরবিহীন প্লাবনে তারা নিজেরাই এখন পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন ও জলাবদ্ধতার শিকার। আজ এক সপ্তাহ ধরে তারা বন্যাকবলিত। নেটওয়ার্ক ও বিদ্যুৎ সংযোগ একেবারেই নেই।

​প্রথম তিন দিন তো খুবই খারাপ অবস্থা ছিল। চতুর্থ দিন থেকে বিভিন্ন NGO ও ট্রাস্ট ফান্ডের সাহায্য আসতে শুরু করলো। তাদের মাধ্যমে সে নিজের NGO-তেও যোগাযোগ করে, কিন্তু তারা ফেমের লোভে পড়ে তাকে আরও ৩-৪ দিন সমাজ কল্যাণের নামে NGO-এর মার্কেটিং এর দায়িত্ব দেয়; বিনিময়ে অফার করে 'বেস্ট এমপ্লয়ি অব দ্য ইয়ার'-এর অ্যাওয়ার্ড ও নিশ্চিত প্রমোশন। আরমান মানা করতে পারেনি—এর কারণ হয়তো তার প্রমোশনের লোভ ছিল, অথবা এই কদিন মানুষগুলোর দুর্দশা দেখে সত্যিই তার ভেতরের মনুষ্যত্ব জেগে উঠেছিল। কারণ যেটাই হোক, সিদ্ধান্তের মাশুল তাকে গুনতে হচ্ছে।

​পঞ্চম দিন থেকে আবহাওয়া আরও প্রতিকূল হতে শুরু করেছে। দুদিন যাবত গ্রামের মানুষদের ইভাকুয়েট করা হচ্ছে উপজেলা শেল্টারে। আগামীকাল তারাও হয়তো বের হতে পারবে সেখান থেকে। জনবহুল গ্রামটা দুদিনেই ফাঁকা হয়ে গেল!

​গ্রাম তলিয়ে যাওয়ায় তারা বাধ্য হয়ে আশ্রয় নেয় টিলার ওপর দাঁড়িয়ে থাকা এক পরিত্যক্ত ফরেস্ট হাউসে। বাহ্যিকভাবে এটি ছিল ব্রিটিশ আমলের এক বন বিভাগের বাংলো, তবে এর পেছনে ছিল এক অন্ধকার ইতিহাস। লোকমুখে প্রচলিত, এটি কোনো সাধারণ ফরেস্ট হাউস ছিল না; পাহাড়ি গহিন জঙ্গলের আড়ালে ব্রিটিশরা এটাকে ব্যবহার করত এক গোপন টর্চার সেল হিসেবে। স্বাধিকার আন্দোলনের বহু বিপ্লবী ও স্থানীয় বিদ্রোহীকে এখানে তুলে এনে চালানো হতো অমানুষিক নির্যাতন এবং শেষমেশ হত্যা করে গুম করে ফেলা হতো তাদের নিথর দেহ। স্থানীয়দের বিশ্বাস, আজও সেখানে সেই নিষ্পাপ প্রাণগুলোর অতৃপ্ত আত্মা ঘুরে বেড়ায়। পূর্ণিমার রাতে নাকি ওখান থেকে শেকলের শব্দ আর বুকফাটা আর্তচিৎকার ভেসে আসে—যদিও খুঁজলে এর কোন সত্যতা পাওয়া যাবে বলে আরমানের মনে হয় না।

​গত কয়েক দিন যাবত আরমানের টিমের সাথে কিছু শিক্ষিত স্থানীয় লোকও এই বাংলোটিতে আশ্রয় নিয়েছিল। প্রায় দেড়শ বছরেরও বেশি পুরোনো হওয়ায় দালানটির অবস্থা ছিল অত্যন্ত শোচনীয়। চুন-সুরকির পলেস্তারা ধসে পড়ে ভেতরের লালচে সুরকি ও ইটের কঙ্কাল বেরিয়ে এসেছে; কালচে আর নোনা ধরা দেয়ালে শেওলা ও আগাছায় ছেয়ে যাওয়া এই জীর্ণ ইমারতে সাপখোপ বা বিষাক্ত পোকামাকড় থাকাও অস্বাভাবিক কিছু নয়। পশ্চিম দিকের দোতলার অংশটি এখনো অক্ষত রয়েছে। তবে সমস্যা হলো, সিঁড়ির অংশটি পুরোটাই ধসে গেছে। তাদের সাথে থাকা রোপ স্টেয়ার এখানে খুবই উপকারে আসলো। ওপরের দুটো কামরা ও পূর্ব পাশের একটি ব্যালকনি এখনো টিকে আছে। ব্যালকনির পাশেই বিরাট একটি পাকুড় গাছ ইতিহাসের নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আগাছা গুলো পরিষ্কার করতে গিয়ে পোকামাকড় ও সাপ খোপের দেখাও মিলেছিল প্রচুর। পরিষ্কার শেষে নিরাপত্তার জন্য কার্বলিক এসিড সর্বত্র ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। সেখানে আশ্রয় গ্রহণকারীরা ছিল আরমান ও তার ৪ জন ট্রেইনি। আশিক, তুষার, রাকিব ও সাদমান। সাথে গ্রামবাসীদের মধ্যে থেকে ৪ সদস্যের এক পরিবার। সদস্যরা হলো গৃহকর্তা আব্দুল মান্নান সাহেব, তার স্ত্রী রোকেয়া বেগম, ছেলে আয়মান ও গৃহ পরিচারক শফিক। আব্দুল মান্নান সাহেব গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের হেড মাষ্টার ও খুবই সজ্জন লোক। রোকেয়া বেগমও খুবই আন্তরিক ও নরম মনের নারী। তার কথাবার্তায় মাতৃত্বের মমতা লক্ষ্য করা যায়। আয়মানের বয়স ১৫-১৭ এর মধ্যেই হবে। খুবই চঞ্চল, সাহসী ও রোমাঞ্চ প্রিয় ছেলে।

পিতা-পুত্র দুজনেই তাদের মিশনে অনেক সাহায্য করেছে। বিশেষ করে ইভেকুয়েট মিশনে। তাদের খাবারের সরঞ্জামের ব্যবস্থাপনাও তারাই করেছে। মাথার উপর ছাদ ও দোতলায় পানি থেকে পরিত্রাণ পাওয়ায় সেখানেই কেরোসিনের স্টোভে তাদের রান্না-বান্না হয়। রোকেয়া বেগম পরম মমতায় রান্না করেন।

বলতে গেলে চাল-চলন ও কথা-বার্তার শালীনতার দিক থেকে তারা অনেক শহুরে মানুষদেরও পেছনে ফেলে দেবে । গ্রামে সবাই তাদের শ্রদ্ধার চোখে দেখে। তাই তো গ্রামবাসীদের নিছক কেচ্ছা-কাহিনিকে উপেক্ষা করে আমাদের সাথে এই ফরেস্ট হাউজ কাম ভূত বাংলোতে আশ্রয় নিতে একটি বারের জন্যেও দ্বিধায় পড়েননি।
তবে গৃহ পরিচারক শফিক প্রথম দিন থেকেই খুব অস্বস্তিতে আছে। এমনিতেই সে একটু ভীতু প্রকৃতির তার উপর জুটেছে গ্রামের প্রচলিত ভৌতিক কেচ্ছ-কাহিনি। বেচারা কিছু বলতেও পারছেনা আবার সইতেও পারছে না।

আজ সকালে ইভাকুয়েট মিশন প্রায় শেষের দিকে। সকল গ্রামবাসীকে নিরাপদে উদ্ধার সম্ভব হয়েছে। কোন বড় দুর্ঘটনা ছাড়াই। আরমানদেরও বের হয়ে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু রেসকিউ বাহিনির দুটি ইনফ্লেটেবল বোটের একটিতে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় বোটের ঘাটতি তৈরী হয়। আর যেহেতু আজই মিশন শেষ হবে তাই আর নতুন কোন বাহিনির সাহায্য নেওয়ার প্রয়োজন তারা অনুভব করেনি। আর বৈরী আবহাওয়ার কারণে পেলোড লিমিটের বেশি প্যাসেঞ্জার তোলাও পসিবল না।

তারপরও আরমান তার কর্মীদের দুজনকে পেলোড লিমিটের অতিরিক্ত হিসেবে বোটে উঠিয়ে দেয়। তখন প্রায় বিকেল। আরো দেরী হলে আবহাওয়া আরো খারাপ হতে পারে। আর ২-৩ জনকে একা ফেলে যাওয়া মোটেও সেইফ না। তাই রেসকিউ টিম ২ ঘন্টার মধ্যে ফিরে এসে তাদেরকে উদ্ধারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শেষ উদ্ধারকৃত ব্যাচকে নিয়ে শেল্টারে রওনা হয়।

থেকে গেল শুধু আরমান, আব্দুল মান্নান সাহেব ও শফিক। বোটে জায়গা হওয়া সত্ত্বেও আরমান ও মান্নান সাহেবের সাহায্যের জন্য শফিককে রেখে দিলেন রোকেয়া বেগম। স্বামী ও আরমানের সাহায্যের জন্য। আয়মানও থাকতে চেয়েছিল। কিন্তু ছোট হওয়ায় তারা কেউই রাজি হয়নি। তারা তখনও ধারণা করতে পারেনি যে, কি ভয়ংকর পরিণতি তাদের জন্য অপেক্ষা করছে।

📌 এই বন্যাকবলিত এলাকায় প্রাচীন আউটপোস্টে তাদের জন্য কি পরিনতি অপেক্ষা করছিল তা জানার জন্য চোখ রাখুন আমাদের পেজে

#বাংলা_গল্প

"কালো কাঁচের জানালার ফাঁক দিয়ে সোডিয়ামের আলো ফুটতেই চোখ পড়লো ঘাড়ের বীভৎস কাটা দাগটায়। রোজিনার বুক কেঁপে উঠলো..."আয়ান ও র...
06/08/2026

"কালো কাঁচের জানালার ফাঁক দিয়ে সোডিয়ামের আলো ফুটতেই চোখ পড়লো ঘাড়ের বীভৎস কাটা দাগটায়। রোজিনার বুক কেঁপে উঠলো..."

আয়ান ও রক্তাক্ত চোরাবালি পর্ব-২
#আড্ডারসিক

গলা ভারী হয়ে এলো তার। দু-গাল বেয়ে অবাধে ঝরতে লাগলো তপ্ত অশ্রু। আর একটি শব্দও বেরুল না মহিলার মুখ দিয়ে, শুধু ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকলো স্বামীর দিকে। স্বামীর গণ্ডদেশ বেয়ে দু-ফোঁটা অশ্রু গড়িয়ে পড়তে দেখলো সে। এই প্রবল বৃষ্টির মধ্যেও অশ্রু ফোঁটাকে আলাদা করে চিনতে পারলো সে।

স্বামীর মুখ দিয়েও কোনো কথা বেরুলো না, কিন্তু তার চোখ কথা বলে চলেছিল অনবরত। যেন বুকের সমস্ত বেদনা উগড়ে দিতে চাইছে সেই চোখ। স্বামীর চোখের দিকে চেয়েই মহিলা যা বোঝার বুঝে গেল। বুঝে গেল তাদের কিছুই করার নেই; বুঝতে পারলো এটাই বাস্তবতা।

তাদের মেয়েটি এমন এক পরিবারে জন্মেছে, যাদের জন্য পৃথিবী কখনো জায়গা করে রাখেনি। মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই, চিকিৎসার ব্যবস্থা নেই, ভবিষ্যতের কোনো নিশ্চয়তা নেই। তারা বেঁচে থাকলেও কারও কিছু যায় আসে না, মরে গেলেও না।

দীর্ঘ এই জীবনযাত্রায় এই কথাগুলো কখনো তাদের মনে উঁকি দেয়নি, তারা যেন এই বাস্তবতাটি মেনেই নিয়েছিল। কিন্তু কেন জানি আজ তাদের এই অসহায়ত্বের উপর খুব অভিমান হচ্ছে, কেন জানি নিজের নিশ্চিত নিয়তির উপর বড়ই রাগ হচ্ছে।

হঠাৎ কিসের যেন আওয়াজ কানে আসলো। উভয়ে থমকে গিয়ে পরস্পরের দিকে চাইলো। পরক্ষণেই আওয়াজটি আবার কানে আসলো। এবার ঝলমলিয়ে উঠলো দু'জনের মুখ। নাহ! তারা ভুল শোনেনি, এটা যে একটা গাড়ির আওয়াজ!

দূর থেকে একজোড়া হলদেটে আলো ধীরে ধীরে বড় হতে লাগল। ওসমান মিয়া আর রোজিনা নিঃশ্বাস বন্ধ করে তাকিয়ে রইল। গাড়ি—নিশ্চয়ই একটা গাড়ি। তাদের বুকের ভেতর ক্ষীণ আশার আলো জ্বলে উঠল। হয়তো আল্লাহ তাদের কথা শুনেছেন।

ডুবন্ত মানুষ খড়কুটো আঁকড়ে ধরে হলেও ভেসে থাকার ব্যর্থ প্রয়াস চালিয়ে যায়, তাদের অবস্থাও এর থেকে কোনো অংশে কম নয়। এখন এটাই তাদের শেষ ভরসা, যদিও তা ক্ষীণ।

এদিকে গাড়িটা আরো কাছে চলে এসেছে। লোকটা তার স্ত্রীকে বললো— "দেহো রোজিনা, দেহো! আমার আল্লায় রহমতের দৃষ্টি দিছেন। অহন আমাগো মাইয়াডার কিচ্ছু হইবো না। আমাগো মাইয়া একবারে সুস্থ হইয়া যাইবো, দেইখো!"

রোজিনা বললো— "কিন্তু আমার কেন জানি ভয় করতাছে। আমরা হইলাম গিয়া ফকির-মিসকিন, এই রাত-বিরাতে কেউ কি আমাগো সাহায্য করবো?

স্বামী বললো— "এইসব তুমি কি কইতাছো রোজিনা? আল্লাহ্ যহন পাঠাইছে, খালি হাতে ফেরত নিবো না। মানুষডা সাহায্য করবই।

এই বলে লোকটি রাস্তায় নেমে পড়লো এবং দু-হাত উপরে উঠিয়ে চিৎকার করে গাড়ি চালকের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করতে লাগলো। গাড়িটা এখন অনেক কাছে চলে এসেছে। স্পষ্ট দেখা গেল সেটি টয়োটা প্রিমিওর পুরোনো মডেলের একটি সাদা সেডান। গাড়ির নম্বরপ্লেট কাদায় মাখামাখি ছিল। শেষের দুটি সংখ্যা ছাড়া আর কিছুই স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল না— ৩৭।

গাড়িটির সামনের ডানদিকের ফেন্ডারে হালকা একটা ডেন্ট ছিল। আর পেছনের উইন্ডশিল্ডের নিচে বিবর্ণ হয়ে যাওয়া একটা স্টিকার আটকে ছিল, তবে এত দূর থেকে লেখা পড়ার উপায় নেই।

বৃষ্টিতে ধুয়ে যেন তার রঙ আরো উজ্জ্বল হয়ে গেছে। ল্যাম্পপোস্টের সোডিয়াম লাইটের হলদে আলো গাড়িটার গায়ে লেগে প্রতিফলিত হয়ে আশপাশ আলোকিত করে তুলছে।

এবার গাড়ির হেডলাইটের আলো সোজা এসে পড়লো ওসমান মিয়ার চোখে, সাথে সাথে ধাঁধিয়ে গেল তার চোখ। কিন্তু এতটুকুও কমলো না গাড়ির গতি। আঁতকে উঠলো রোজিনা বেগম। সে চিৎকার করে স্বামীকে সতর্ক করতে যাবে, তার আগেই বিকট শব্দে ব্রেক কষলো গাড়িটা—ঠিক ওসমান মিয়ার হাত দেড়েক সামনে।

এভাবে জোরে ব্রেক ধরায় রাস্তার নোংরা কাদাপানি ভিজিয়ে দিলো ওসমান মিয়াকে। কিন্তু হাঁফ ছেড়ে বাঁচলো রোজিনা বেগম, এমনকি ওসমান মিয়ার অবস্থা দেখে এই পরিস্থিতিতেও তার একটু হাসি পেল।

ওসমান মিয়া গাড়ির জানালার কাছে গিয়ে বললো— "বাবু! আমাগোরে বাঁচান, আমাগো মাইয়াডা জ্বরে পুইড়া যাইতেছে! ওরে অহনি ডাক্তারখানা লইয়া না গেলে হয়তো আর কোনোদিন ওর মুখ দেখবার পারুম না, বাবু! অহন আফনেই আমগো একমাত্র ভরসা। আফনের পায়ে পড়ি বাবু, আমগো মাইয়াডারে বাঁচান!"

গাড়িটার কালো কুচকুচে জানালার কাঁচ সামান্য ফাঁক হলো। ভেতর থেকে একটি গুরুগম্ভীর আওয়াজ ভেসে এলো— "উঠে পড়ুন গাড়িতে।"

আনন্দের অতিশয্যে ওসমান মিয়ার গাল বেয়ে দু-ফোঁটা নোনা জল গড়িয়ে পড়লো। রোজিনা বেগম এতক্ষণ উৎসুক দৃষ্টিতে চেয়ে ছিল তাদের দিকে। বোধহয় তাদের মাঝে কি কথোপকথন চলছিল তা শোনার চেষ্টা করছিল, নতুবা কোনো অজানা আশঙ্কা তাকে বাধ্য করছিল সজাগ দৃষ্টি রাখতে।

ওসমান মিয়া তাড়াতাড়ি রোজিনা বেগমের দিকে ফিরতেই রোজিনা জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকালো। ওসমান মিয়া চোখের ইশারায় তাকে কাছে ডাকলো। রোজিনা বেগম তাড়াতাড়ি করে মেয়েকে যথাসম্ভব শাড়ির আঁচলে ঢেকে ওসমান মিয়ার কাছে এলো।

ওসমান মিয়াকে তার স্ত্রী বললো— "রোজিনা! বাবু রাজি হইছে। অহনি তুমি গাড়িত উঠা উইঠ্যা বসো।"

রোজিনা বেগম গাড়ি চালকের দিকে লক্ষ্য করলো। কিন্তু একে তো কালো কুচকুচে জানালার কাঁচ, তার উপর গাড়ির ভেতরে কোনো লাইট জ্বলছে না, তাই কিছু দেখতে পেল না সে। জানালার সরু ফাঁক দিয়ে ল্যাম্পপোস্টের আলো ভেতরে ঢুকল। মুহূর্তের জন্য লোকটার ঘাড়ের এক পাশ আলোকিত হয়ে উঠল।

রোজিনার বুক কেঁপে উঠল।

কানের নিচ থেকে আড়াআড়ি নেমে গেছে একটা পুরনো কাটা দাগ। দাগটা শার্টের কলারের ভেতরে হারিয়ে গেছে।

লোকটা বোধহয় বুঝতে পারলো যে রোজিনা বেগম তাকে লক্ষ্য করছে। তাই আবারও গুরুগম্ভীর সুরে বললো— "উঠতে চাইলে জলদি উঠুন, নইলে আমি চললাম। আমার বাড়ি ফেরার তাড়া আছে। এভাবে দাঁড়িয়ে থাকলে আপনাদের মেয়ে সুস্থ হয়ে উঠবে না, যা করার তাড়াতাড়ি করুন।" এই বলে সে জানালার কাঁচ উঠিয়ে নিল।

ওসমান মিয়া আর কথা না বাড়িয়ে রোজিনা বেগমের কোল থেকে মেয়েকে নিয়ে গাড়িতে উঠে পড়লো এবং রোজিনা বেগমকে ফিসফিসিয়ে বললো— "তুমি না আস্ত একডা বোকা! একডা লোক আমাগো সাহায্য করবার চাইতাছে, আর তুমি কিনা হের উপর সন্দেহ করতাছো! চুপচাপ গাড়িত উইঠ্যা বইসো, আর একডা কথাও কইবা না।"

রোজিনা বেগমও স্বামীর কথামতো চুপচাপ গাড়িতে উঠে বসলো। চাপা একটা গর্জন আর মৃদু ঝাঁকুনি দিয়ে গাড়ি স্টার্ট হলো।

এদিকে বাইরে ঝড় থেমে গেছে, শুধুই গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি পড়ছে আর কিছুক্ষণ পর পর আকাশ বিকট শব্দে ডেকে উঠছে। পুরো শহরে ইলেকট্রিসিটি নেই, রাত ১০টার দিকেই বিদ্যুৎ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। শুধু রাস্তার ধারের পোলগুলোর সোডিয়াম লাইট টিম টিম করে জ্বলছে। তারই মাঝে গাড়িটি চলছে।

যাত্রী ও চালক মিলে গাড়িতে মোট চারজন, কিন্তু সকলের মনের অবস্থা ভিন্ন। ওসমান মিয়ার মনে মেয়েকে বাঁচানোর একটা উপায় পাওয়ার আনন্দ, আর রোজিনা বেগমের মনে এই অজানা অপরিচিত সাহায্যকারীর প্রতি এক অপ্রত্যাশিত সন্দেহ।

যে লোকটা তাদের এই সংকটের মুহূর্তে অনাকাঙ্ক্ষিত দেবদূতের মতো উদয় হয়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে, তার মনে কি আদৌ তাদের সাহায্য করার কোনো ইচ্ছা আছে? নাকি অন্য কোনো উদ্দেশ্য আছে তার মনে?

হঠাৎ গাড়িটা মূল সড়ক ছেড়ে ডানদিকে একটি সরু রাস্তা ধরে নামল।
ওসমান মিয়া কিছু বলার জন্য মুখ খুলতেই নাকে এলো অদ্ভুত মিষ্টি একটা গন্ধ।
প্রথমে মাথা ঝিমঝিম করল।
তারপর হাত-পা ভারী হয়ে এলো।
রোজিনা কিছু বুঝে ওঠার আগেই চোখের সামনে সবকিছু দুলতে শুরু করল।
ঠিক তখনই আকাশ চিরে বিদ্যুৎ ঝলসে উঠল।
শেষবারের মতো সে দেখতে পেল—

লোকটার ঘাড়ের সেই বীভৎস কাটা দাগ।

​"সাহায্য করতে আসা সেই অচেনা চালক আসলে কে? ওসমান আর রোজিনার ভাগ্যে শেষ পর্যন্ত কী ঘটতে চলেছে—জানতে চোখ রাখুন আগামী বৃহস্পতিবারের পর্বে।"

#আড্ডারসায়ন #আয়ানওরক্তাক্তচোরাবালি #বাংলাথ্রিলার #রহস্যগল্প #ক্রাইমথ্রিলার #গল্পেরঝুড়ি

বিকেল চারটা। টার্মিনাল মোড়ে মোটামুটি শান্ত পরিবেশ। চা-পানের দোকানগুলো এরই মধ্যে সরব হয়ে উঠেছে। এদের মধ্যে কিছু আশপাশের দ...
03/08/2026

বিকেল চারটা। টার্মিনাল মোড়ে মোটামুটি শান্ত পরিবেশ। চা-পানের দোকানগুলো এরই মধ্যে সরব হয়ে উঠেছে। এদের মধ্যে কিছু আশপাশের দোকানি—দুপুরের বিশ্রামের পর আবার দোকানে বসার আগে শরীরটাকে একটু চাঙ্গা করে নেওয়া আরকি। আর বাকি সবাই পাশের গার্লস স্কুলের ছাত্রীদের অভিভাবক। এইচএসসি পরীক্ষার সময়, তাই এই বাড়তি নিরাপত্তা।
​সাথে কিছু বখাটে ছেলেও জুটেছে; এটা তাদের রোজকার রুটিন। সারাদিন যেখানেই থাকুক না কেন, বিকেল চারটায় তাদের দেখা মিলবে এই টার্মিনাল মোড়ে। ঝালমুড়ি ও আখের রস বিক্রেতাদেরও ঠিক একই সময়ে এখানে জায়গা দখল করতে দেখা যায়। রাস্তায় তেমন জ্যাম নেই; বাস, ট্রাক, অটোরিকশা—সব নিজ গতিতে চলছে।
​আজকাল আবহাওয়ার কোনো বিশ্বাস নেই—এই গ্রীষ্ম, তো এই বর্ষা! তবে আজকের আবহাওয়াটা বেশ চমৎকার। আকাশে তুলোর মতো সাদা মেঘেরা দলা পাকিয়ে ভেসে বেড়াচ্ছে, আর পড়ন্ত বিকেলের সোনালী রোদের ছোঁয়া দৃশ্যটাকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। চারিপাশে বইছে নির্মল হাওয়া। পরীক্ষা শেষ হতে এখনো ১৫ মিনিট বাকি, তাই মোড়ে তেমন হৈচৈ নেই। সব মিলিয়ে দৃশ্যটি অন্য দশটি দিনের মতোই সাধারণ।
​সাফিনও প্রতিদিনের ন্যায় মোতালেব ভাইয়ের চায়ের দোকানের সবচেয়ে অন্ধকার কোণের টুলটি দখল করে বসে আছে। মোতালেব ভাই সাফিনের রুটিন জানেন খুব ভালো করেই। তবে তাকে আজকে একটু অন্যরকম লাগছে, কেমন যেন একটু বেশিই মনমরা! মোতালেব ভাই সাফিনের পছন্দের কড়া লিকারের দুধ চা বানিয়ে দিয়ে জিজ্ঞেস করলেন,
— "কী ভাই? কিছু হয়েছে নাকি?"
​সাফিন বলল,
— "না ভাই, তেমন কিছু না।"
​মোতালেব ভাইও সাফিনকে আর ঘাটালেন না, কাস্টমার সামলাতে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন।
​চায়ের কাপে ছোট্ট একটা চুমুক দিয়ে স্মৃতির পাতা উল্টাতে শুরু করল সাফিন। ধুলো পড়া সেই স্মৃতিগুলোর কিছু কিছু লাইন ইতিমধ্যেই অস্পষ্ট হয়ে গেছে। কত বছর বয়স হলো তার? নিজেকেই প্রশ্ন করল সে। আশ্চর্য তো! শত চেষ্টার পরও নিজের জন্মসাল মনে করতে পারল না। শেষে পকেট থেকে ন্যাশনাল আইডি কার্ড বের করে নিশ্চিত হলো। হিসেব করে দেখল, আগামী অক্টোবরে তার ৪৬ পূরণ হবে।
​হিসেবটা দেখে নিজেই একটু অবাক হয়ে গেল। সময়গুলো যেন ঝড়ের গতিতে কেটে গেল! এই তো সেদিন কলেজ ক্যাম্পাসে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে দিতে সে প্রথমবার তাকে দেখেছিল—"শিমা", কলেজের সবচেয়ে সহজ-সরল মেয়েটি। কারো সাথে তার কোনো বিবাদ বা ঝগড়া ছিল না, সবাইকেই সে আপন করে নিত। সাফিনকেও সে আপন করে নিয়েছিল।
​তারা একসাথে সময় কাটাতে শুরু করে। কলেজের পর তারা একসাথে নদীর তীরে বসে গল্প করত। সাফিন শুধু মুগ্ধ হয়ে তার কথা শুনত আর ভাবত—একটা মানুষ এতটা সহজ-সরল ও চঞ্চল কীভাবে হতে পারে! দিন দিন সে শিমার প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ে। তার জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত জুড়ে তখন শুধু শিমা আর শিমা। তার নির্মল হাসি ও মনভুলানো কথাবার্তা সাফিনের নেশায় পরিণত হয়।
​শিমা একটা কথা সবসময় বলত, "আমি কিন্তু কখনোই তোমাকে ছেড়ে যাব না! আমার পিছ ছাড়ানো কিন্তু অসম্ভব!"
​হঠাৎ ঘণ্টার তীব্র শব্দ ও গোলমালে সাফিনের ভাবনায় ছেদ পড়ল।
​পরীক্ষা শেষ। সে নিজের গাল দুটো ভেজা অনুভব করল। সবার অগোচরে শার্টের হাতা দিয়ে দ্রুত চোখ দুটো মুছে ফেলল সে। কাপের চা অনেক আগেই ঠান্ডা হয়ে গেছে। চটজলদি মোতালেব ভাইকে চায়ের বিল পরিশোধ করে স্কুলের গেটের দিকে হাঁটা দিল সাফিন। কাউকে যেন খুঁজছে সে।
​— "বাবা!"
​পেছন থেকে ডাক আসতেই ঘুরে দাঁড়াল সাফিন। সামনে একটি ২০ বছরের প্রাণচঞ্চল তরুণী দাঁড়িয়ে আছে। ঠিক যেন ২০ বছর আগের সেই শিমা! তার মেয়ে নিপা।
​সাফিনকে জড়িয়ে ধরে নিপা বলে উঠল,
— "বাবা! পরীক্ষা খুব ভালো হয়েছে। নিশ্চিত এ-প্লাস! আমার খুব মিষ্টি খেতে মন চাইছে, আজকে কোনো বাহানা চলবে না কিন্তু! আর হ্যাঁ, কাল আমি সারাদিন ঘুমাব, কিচ্ছু বলতে পারবে না।"
​সাফিন মেয়ের নিষ্পাপ মুখের দিকে মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে রইল,
— "আচ্ছা ঠিক আছে মা, কিছু বলব না। তোর যা মন চায় করিস।"
​নিপা হঠাৎ একটু থমকে দাঁড়িয়ে বলল,
— "আচ্ছা বাবা, তুমি আবার মায়ের কথা ভেবে কাঁদছিলে, তাই না?"
— "কই, না তো..."
— "মিথ্যে বলবে না একদম! তোমার চোখ এখনো ভিজে আছে। ঠিক আছে, মিষ্টি খাওয়ানোর পর আমাকে মায়ের কাছে নিয়ে যাবে। তোমার নামে নালিশ জানাব!"
​সাফিন কোনো আপত্তি করল না।
​মায়ের কবরের সামনে দাঁড়িয়ে নিপা সমানে বাবার নামে বিচার দিয়ে যাচ্ছে। কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে সাফিন মেয়ের কাণ্ডকারখানা দেখছে। সে ভালো করেই জানে, ১০ মিনিট পর মেয়েটা কান্নায় ভেঙে পড়বে, আর কান্নারত অবস্থায় তাকে কেউ দেখুক—এটা নিপা একদমই পছন্দ করে না।
​সাফিন কিছুটা দূরে সরে এসে একটা সিগারেট ধরাল, কিন্তু হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হওয়ায় আর খাওয়া হলো না। সে মেয়ের দিকে তাকাল। নিপা ততক্ষণে কাঁদতে শুরু করেছে।
​এতদূর থেকেও আষাঢ়ের অঝোর বৃষ্টি আর মেয়ের চোখের জলের তফাৎ সাফিন স্পষ্ট চিনতে পারছিল।

📌আজ সঠিক সময়ে পোস্ট করতে না পারায় দুঃখ প্রকাশ করছি। আশা করি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

​ #আড্ডারসিক #আষাঢ়েরসেইবিকেল #বাংলাগল্প #ছোটগল্প #স্মৃতিরবৃষ্টি #গল্পেরঝুড়ি

আয়ান ও রক্তাক্ত চোরাবালি। ‎পর্ব-১‎রাত বাজে বারোটা। যদিও ঢাকা শহরের লোকদের জন্য, এটা তেমন কোন বড় ব্যাপার না, শহরের বড় বড় ...
30/07/2026

আয়ান ও রক্তাক্ত চোরাবালি। ‎পর্ব-১

‎রাত বাজে বারোটা। যদিও ঢাকা শহরের লোকদের জন্য, এটা তেমন কোন বড় ব্যাপার না, শহরের বড় বড় মার্কেট ও দোকান গুলি কম করে হলেও সাড়ে ১২টা-১টা পর্যন্ত খোলা থাকে, কিছু কিছু দোকান তো প্রায় সারা রাতই খোলা থাকে। দোকানের মধ্যেই কর্মচারীদের রাত্রি যাপনের ব্যবস্থা করা থাকে। সকাল থেকে রাত অবধি এই ধরণের কর্মব্যস্ততায় কাটে এই শহরের মানুষদের জীবন। কারণ সবারই কাঁধে কোন না কোন দায়বদ্ধতার বোঝা চেপে আছে। কারো বাসায় বৃদ্ধ বাবা অসুস্থতায় কাতরাচ্ছে, কিন্তু চিকিৎসার টাকা নেই। কারো বা বাসায় এতিম ছোট ভাই-বোনের দায়িত্ব, কিন্তু তাদের লেখাপড়া করানোর জন্য যথেষ্ট পরিমাণের টাকাও তো থাকতে হবে! কারো বা নেশা না করলে এক মুহূর্তও টিকে থাকা অসম্ভব নয়, কিন্তু পকেটে নেশা করার টাকা কই? তাই সকলেই কোনো না কোনো ভাবে টাকা রোজগারের কোনো একটি পথ বেছে নিয়েছে। কেউ বা সত্যের উজ্জ্বল পথ, কেউ বা অন্ধকার, কন্টকাকীর্ণ রাস্তা। কিন্তু আজকের রাতে যেন ঢাকা শহর নিজের নতুন কোন রূপে সেজেছে। দোকানপাট সব বন্ধ হয়ে গেছে রাত দশটার মধ্যেই। বিকেলের মধ্যেই আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়ে দিয়েছিল যে, বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের ফলে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় বয়ে যাচ্ছে ওয়েস্ট বেঙ্গলের উপর দিয়ে ও বাংলাদেশের ঠিক পশ্চিম কোল ঘেঁষে, তাই রাজধানী ঢাকা সহ পশ্চিমের আরো বেশ কয়েকটি জেলায় ভারী বর্ষণ ও সাথে প্রবল ঝড় ও বজ্রপাতের আশঙ্কা রয়েছে। তাই রাত ১০টার আগেই এ সমস্ত জেলার সকলকেই নিরাপদ আশ্রয় গ্রহণের জন্য অনুরোধ করেছিল আবহাওয়া অধিদপ্তর। মানুষ টাকার পিছনে যত পাগলই হোক না কেন কেউ বজ্রাঘাতে বা ঝড়ে গাছের নিচে চাপা পড়ে অঘোরে প্রাণ হারাতে চায় না। তাই দশটার আগেই সবাই দোকানপাট বন্ধ করে যে যার বাসায় নিরাপদ আশ্রয় গ্রহণ করেছে। কিন্তু সকলেই ভুলে গেল একশ্রেণীর মানুষের কথা, যাদের থাকার জন্য কোন ঘর নেই, পরার মত কোন কাপড় নেই।
‎​ঢাকা শহরের ফুটপাথই তাদের বিছানা, কমলাপুর রেলস্টেশন তাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই। রাত সাড়ে এগারোটার পর থেকে শুরু হলো মুষলধারে বৃষ্টি সাথে ভয়ংকর ধরণের বুককাঁপানো বজ্রপাত। বাতাস তো যেন একটা মাঝারি সাইজের গাড়িকে উড়িয়ে নিয়ে যাবে, এমনভাবে ফুসছে। ঢাকা শহরের রাস্তায় পানি উঠতে আধঘণ্টার বেশি সময় লাগলো না। সবাই নিজ নিজ বাসায় এই সময় স্ত্রী-সন্তানকে পাশে নিয়ে শান্তির নিদ্রায় মগ্ন। কিন্তু ফুটপাথে দেখা গেল এক পথ-পরিবারকে। এক মধ্যবয়স্ক রোগা লোককে সাথে তার স্ত্রী ও একটি ফুটফুটে ছোট মেয়ে, যার বয়স বড়জোর তিন কি চারের কাছাকাছি। পরিবারের প্রত্যেকের চেহারার মলিনতাই একথার প্রমাণ দিচ্ছে যে, গত দু-দিন ধরে পেটে একফোটা দানাপানি বলতে কিছুই পড়েনি। একেবারেই পড়েনি বললেও ভুল বলা হবে, সামান্য যা কিছু পড়েছে তা হলো হোটেলের বেঁচে যাওয়া বাসি উচ্ছিষ্ট, আর মানুষের ফেলে দেওয়া আধখাওয়া রুটির টুকরো। সবাই ভিজে একেবারে জবজবে হয়ে আছে। বৃষ্টি থেকে রক্ষার জন্য তারা একটি দোকানের বারান্দায় আশ্রয় নিয়েছে, কিন্তু দমকা হাওয়ার কারণে সেখানেও পানি থেকে বাঁচা যাচ্ছে না। মহিলাটি তার জরাজীর্ণ শাড়ির আঁচল দিয়ে যথাসম্ভব তার মেয়েটিকে ঢেকে রাখার বৃথা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ছোট মেয়েটি নির্বাক হয়ে দেখছে বৃষ্টির সেই এই অপরূপ খেলা। হঠাৎ মহিলাটি তার স্বামীকে কি যেন বলল, কথাটা শুনার সাথে সাথে যেন বজ্রপাত হলো লোকটার মাথায়, সে তার মেয়েকে কোলে তুলে তার ছোট কপালটিতে হাত রাখলো।
‎​— আরে! মাইয়াডা তো জ্বরে পুইড়া যাইতেছে। আ- আগে আগে কইলা না কেন আমারে? জ্বর আইছে কতক্ষণ হইলো?
‎— দুফুর থেইকাই মাইয়াডা কেমন জানি করতাছিল। খালি কইতাছিল “ও আম্মু, আম্মু শীত শীত লাগে”, মনে করছিলাম ঝড়-বাতাসের কারণে শীত লাগতাছে। কিন্তু অহন দেহি শরীরডা যেন আগুনের লাহান গরম হইছে।
‎​— কি কইতাছো এগুলা! আমারে আগে জানাবা না? অহন আমি এই ঝড়-বৃষ্টির রাইতে মাইয়াডারে লইয়া কই যামু?
‎হঠাৎ করে ছোট মেয়েটি তার দুর্বল, অসুস্থ শরীরের ভার সহ্য না করতে পেরে নেতিয়ে পড়লো দোকানের বারান্দায়। এটা দেখে মহিলাটি আঁতকে উঠলো, দৌড়ে গিয়ে মেয়েকে কোলে তুলে নিলো। ভেজা শাড়ির আঁচল দিয়ে মেয়ের মুখ মুছে দিল, সাথে সাথে মেয়ের গায়ের প্রচন্ড উষ্ণতা ও কাপুনিও টের পেল। মেয়েটির মুখ থেকে অস্ফুট স্বরে বেরিয়ে এলো “আম্মু শীত লাগতাছে”। মহিলা আর নিজেকে সামলাতে পারলো না, হাউ মাউ করে কেঁদে ফেলল, ফোঁপাতে ফোঁপাতে স্বামীকে বলল,
‎— আফনে যে করেই হোক আমার মাইয়াডারে বাঁচান, আমার মাইয়াডা...
‎মহিলা আর বলতে পারলো না।.....
‎
⛈️ ‎ঝড়-বৃষ্টির এই অভিশপ্ত রাতে নিঝুম শহরের ফুটপাতে ধলে পড়া নিষ্পাপ প্রাণটি কি পারবে বেঁচে থাকতে? নাকি অন্ধকারের কোনো অদেখা হাত ছক কষছে নতুন কোনো বিপদের?

​💬 আপনার মতামত জানান:
প্রথম পর্বটি আপনার কেমন লাগলো? মেয়েটির পরিণতি জানতে চোখ রাখুন ‘আড্ডা রসিক’-এর আগামী বৃহস্পতিবারের পর্বে!

​📌 লাইক, কমেন্ট এবং শেয়ার করে ‘আড্ডারসিক’ পরিবারের সাথেই থাকুন।
​
​ #আয়ান_ও_রক্তাক্ত_চোরাবালি #আড্ডারসিক #বাংলা_গল্প #অডিওবুক #সাসপেন্স

⏳ আড্ডা রসিকের গল্প প্রকাশের সময়সূচী (Schedule Announcement)​প্রিয় গল্পপ্রেমী বন্ধুরা,আপনার পড়ার অভিজ্ঞতাকে আরও গোছানো এ...
29/07/2026

⏳ আড্ডা রসিকের গল্প প্রকাশের সময়সূচী (Schedule Announcement)
​প্রিয় গল্পপ্রেমী বন্ধুরা,
আপনার পড়ার অভিজ্ঞতাকে আরও গোছানো এবং আনন্দদায়ক করতে 'আড্ডা রসিক' নিয়ে এলো গল্প প্রকাশের নিয়মিত রুটিন!
​এখন থেকে আপনার সপ্তাহজুড়ে রোমাঞ্চ আর সসপেন্স থাকবে একদম নির্ধারিত সময়ে:
​📖 প্রতি সোম (রাত ১০:০০ টা):
​'এক পর্বের ছোট গল্প' — যা আপনার সপ্তাহের শুরুতেই এনে দেবে এক ঝলক রোমাঞ্চ, হরর কিংবা নিবিড় ভালোবাসার অনুভূতি।
​📚 প্রতি বৃহস্পতিবার (রাত ১০:০০ টা):
​'ধারাবাহিক সিরিজ গল্প' (বড় গল্প) — উইকেন্ডের আমেজ জমিয়ে তুলতে গভীর রহস্য, শ্বাসরুদ্ধকর থ্রিল আর বড় ক্যানভাসের গল্প নিয়ে হাজির হবো আমরা!
​✨ আর বাকি দিনগুলো?
​সারা সপ্তাহ জুড়ে তো থাকছেই নানা ধরণের রিলস, শর্ট আপডেট, গল্পের টিজার আর বন্ধুদের সাথে জমজমাট আড্ডা!
​তাই ঘড়ির কাঁটা মেলান, আর প্রস্তুত থাকুন প্রতি সোম ও বৃহস্পতিবার রাত ১০টায় গল্পে ডুবে যাওয়ার জন্য!

#গল্পের_সময় #গল্পের_আসর #আড্ডার_সময়

📜 'আড্ডা রসিক'-এ আপনাকে স্বাগতম!​গোধূলির আলো আঁধারে নেমে এলে কিংবা নিঝুম রাতের নির্জনতায়... যখন মন চায় রোমাঞ্চের ছোঁয়া প...
28/07/2026

📜 'আড্ডা রসিক'-এ আপনাকে স্বাগতম!
​গোধূলির আলো আঁধারে নেমে এলে কিংবা নিঝুম রাতের নির্জনতায়... যখন মন চায় রোমাঞ্চের ছোঁয়া পেতে, ঠিক তখনই জমে ওঠে 'আড্ডা রসিক'-এর আসল গল্প।
​আমরা নিয়ে এসেছি সাহিত্য, সসপেন্স আর আভিজাত্যের এক অন্যরকম মিশ্রণ। যেখানে পুরানো দিনের গল্পবলার ঐতিহ্য আর আধুনিক থ্রিলারের শিহরণ মিলেমিশে এক হয়ে যায়।
​🕯️ আমাদের আড্ডায় যেসব রোমাঞ্চ থাকছে:
​Dark Horror: পিঠ শিউরে ওঠা অমীমাংসিত রহস্য আর অলৌকিক অনুভূতির গল্প।
​Suspense Thriller: শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত শ্বাসরুদ্ধকর প্লট আর মনস্তাত্ত্বিক কৌতূহল।
​Classic Romance: আভিজাত্য ও গভীর আবেগে বোনা প্রেমের আখ্যান।
​কফির কাপ কিংবা চা-এর ধোঁয়া ওঠা আড্ডায় নিজেকে হারিয়ে ফেলুন কথার ক্যানভাসে।
​👉 যুক্ত থাকুন আমাদের সাথে:
লাইক ও ফলো দিয়ে রাখুন, আর আপনার গল্পপ্রেমী বন্ধুদের কমেন্টে মেনশন করে আমন্ত্রণ জানান এই রোমাঞ্চকর আড্ডায়!
​"Horror • Thriller • Romance — গল্প যেখানে প্রাণ পায়।"

#আড্ডারসিক

Address

Dinajpur

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when আড্ডা রসিক posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share