06/06/2026
খাল খননে সরকারি উদ্যোগের বিপরীতে ফরিদপুরে খাল ভরাট ও দখলের অভিযোগ: সংবাদ প্রকাশের পরও নেই দৃশ্যমান ব্যবস্থা
লায়ন হায়দার খানঃ ফরিদপুরে মাটি ফেলে খাল ভরাট, দখল এবং খালের মধ্যে বর্জ্য ফেলার অভিযোগ নিয়ে একাধিক গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পরও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না থাকায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা| জলাবদ্ধতা নিরসন, পানি প্রবাহ সচল রাখা এবং কৃষি সেচব্যবস্থা উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার দেশব্যাপী খাল খনন ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রমকে গুরুত্ব দিলেও ফরিদপুরে বাস্তব চিত্র তার সম্পূর্ণ বিপরীত বলে অভিযোগ উঠেছে| স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফরিদপুর পৌরসভার বিভিন্ন এলাকার বর্জ্য ও ময়লা দীর্ঘদিন ধরে খাল ও জলাশয়ে ফেলা হচ্ছে| বিশেষ করে পৌরসভার বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ প্রকল্পসংলগ্ন খালের বিভিন্ন স্থানে বড় আকারের ময়লার স্তুপ জমে থাকায় খালের ¯^াভাবিক পানি প্রবাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে| একই সঙ্গে জেলার বিভিন্ন সরকারি খাল দখল করে মার্কেট, বসতবাড়ি এবং অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগও রয়েছে| এ বিষয়ে এর আগে বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকা, অনলাইন পোর্টাল এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে সংবাদ প্রকাশিত হলেও এখন পর্যন্ত খাল দখলমুক্তকরণ কিংবা বর্জ্য অপসারণে কার্যকর কোনো অভিযান চোখে পড়েনি বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা| সচেতন মহলের প্রশ্ন, খাল রক্ষায় বারবার অভিযোগ ও সংবাদ প্রকাশের পরও কেন নীরব ভূমিকা পালন করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা? কেন খালের মধ্যে বর্জ্য ফেলা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না? আর কোন ¯^ার্থের কারণে সরকারি খাল দখলকারীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে না—এমন প্রশ্ন এখন জনমনে ঘুরপাক খাচ্ছে| স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, ফরিদপুরের কুমার নদ এবং এর সঙ্গে সংযুক্ত সরকারি খালগুলো জেলার কৃষি, পরিবেশ ও পানি ব্যবস্থাপনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ| এসব খাল ভরাট ও দখল হয়ে গেলে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা বৃদ্ধি, কৃষি জমিতে সেচ সংকট এবং পরিবেশগত ভারসাম্যহীনতা আরও প্রকট আকার ধারণ করবে| ফরিদপুরের সচেতন নাগরিকরা অবিল¤ে^ জেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং পৌর কর্তৃপক্ষের সমšি^ত উদ্যোগে খাল দখলমুক্তকরণ, বর্জ্য অপসারণ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন| তারা বলেন, শুধু প্রকল্প ঘোষণা করলেই হবে না, মাঠপর্যায়ে তার বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে| অন্যথায় সরকারি উদ্যোগের সুফল জনগণ কখনোই পাবে না| এদিকে সংবাদ প্রকাশের পরও দীর্ঘ সময় অতিক্রম হলেও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে জনমত ˆতরি হয়েছে| স্থানীয় সচেতন মহল ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এবং দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ কামনা করেছে| বিষয়টির অগ্রগতি ও কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে শিগগিরই আরও একটি অনুসন্ধানী ফলোআপ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে বলে জানা গেছে|