25/02/2022
যুবক ছেলে। ছাত্র মানুষ, পড়াশোনা করে। মাথায় পরীক্ষার চিন্তা। ইকামত দেওয়ার সময় কোনোরকমে এসে জামায়াত ধরে। সালাম ফিরিয়েই দৌড়ে মসজিদ থেকে বেরিয়ে যায়।
মাঝবয়সী রিকশাওয়ালা। মসজিদের পাশ দিয়ে রিকশা চালিয়ে যাওয়ার সময় তার কানে আযানের সুর ভেসে আসে। এই সময়টায় দু'টো ভাড়া বেশি মারলে সপ্তাহে একদিন মাংস কিনে খেতে পারবে। বাড়িতে রেখে আসা বৌয়ের চেহারাটা এসময় চোখের সামনে ভেসে ওঠে। এই সময়টায় ভাড়া মারলে সে বৌয়ের জন্য উপহার কিনে বাড়ি ফিরতে পারবে। কিন্তু সে এসব চিন্তা ঝেড়ে ফেলে রিকশাটা থামায়। ওযু করে চার রাকাআত ফরজ নামাজ পড়ে। সালাম ফেরানো শেষ হওয়া মাত্র মসজিদের ত্রিসীমানায় তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায় না।
আর আপনি দাড়ি সফেদ হওয়ার পর, দুনিয়াদারীর পাট চুকিয়ে মসজিদে নিয়মিত হয়েছেন। এখন ফরজ শেষ হওয়া মাত্র মুসল্লিদের পথ আটকে রেখে ঘন্টাব্যাপী সুন্নাত আদায় করা শুরু করেন, আর মনে মনে ভাবেন- ' এদের ফরজ স্বলাতে মন নাই। মন থাকলে সালাম ফিরিয়েই দৌড়ে পালাইতো না '
কিন্তু আল্লাহ্ তো উল্টা কথা বলছেন, ভাই। আল্লাহ্ বলছেন- আপনার এই অখণ্ড অবসরে ভাঙ্গা কোমরের লম্বা লম্বা রূকূ-সেজদার চেয়ে, ওই সুঠাম যুবক যে ব্যস্ততার ভেতর আল্লাহকে স্মরণ করে মসজিদে হাজিরা দিয়েছে- এটা উনার বেশি প্রিয় !
আপনি যুবা বয়স কাটিয়েছেন ইবাদাতে অবহেলা করে, আর বার্ধক্যে এসে আপনাকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে ইবাদাতের অহমিকা; যে অহমিকার কারণে আপনি এখন অন্য আবেদদেরকে তাচ্ছিল্য করেন। বিশ্বাস করেন, ভাই..আপনার মতো কপালপোড়া আল্লাহ্'র দুনিয়ায় আর একটা নাই !
"
---- খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর (রাহিমাহুল্লাহ্ )এর বয়ান থেকে সংগৃহীত।