28/12/2025
কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে নেমে সামনে একটু হাঁটতেই হঠাৎ বিকট শব্দে বুকটা কেঁপে উঠল।
পেছনে তাকিয়ে দেখি—১৭–১৮ বছরের এক কিশোর হোঁচট খেয়ে রাস্তায় পড়ে আছে। চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ফুচকা, মশলা, বাসন। দুই চোখ বেয়ে টুপটাপ করে পানি পড়ছে, কিন্তু মুখে কোনো শব্দ নেই।
পাশেই কোট-প্যান্ট পরা এক ভদ্রলোক চা খেতে খেতে কর্কশ গলায় বলে উঠল—
“ঐ, ঝাড়ু এনে জায়গাটা পরিষ্কার কর।”
মানুষটা হয়তো শিক্ষিত, কিন্তু মনুষ্যত্বের ন্যূনতমটুকুও নেই।
ছেলেটা মাথা নিচু করে রাস্তায় বসে পরিষ্কার করতে লাগল।
নিজের স্বপ্ন, নিজের পরিশ্রম—সব পলিথিনে ভরে ডাস্টবিনে ফেলছে।
আর আমরা? দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে নির্বিকার চোখে সেই দৃশ্য দেখছি।
জিজ্ঞেস করলাম, “কত টাকার মাল ছিল?”
সে বলল, “ভাই, এই টাকাতেই কালকের কাঁচামাল কিনতে হবে… এটাই আমার পুরো পুঁজি।”
কিছুক্ষণ চুপ থেকে কাঁপা গলায় বলল—
“ভাই, আজ ১০০ টাকা চাঁদা চেয়েছিল। বলছিলাম একটু পরে দেবো… তাই রাগে সব ফেলে দিয়েছে।”
আমি হয়তো তার আর্থিক ক্ষতিটা কিছুটা পুষিয়ে দিতে পেরেছি,
কিন্তু ১৭–১৮ বছরের এই ছেলেটার মনে
সমাজের কোট-প্যান্ট পরা অমানুষদের যে নিষ্ঠুর চেহারাটা আঁকা হয়ে গেল—
সেই দাগটা হয়তো কোনোদিনই মুছে যাবে না… 💔