28/07/2026
কিয়েভ ও ওডেসায় সহজেই ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাতে পারে ইরান
কাস্পিয়ান সাগরে একটি ইরানি জাহাজে ইউক্রেনের সাম্প্রতিক হামলার জবাবে ইরান যে পাল্টা পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছে, তা বাস্তবায়নের মতো ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ইরানের রয়েছে বলে ইউক্রেনীয় গণমাধ্যম স্বীকার করেছে।
ইরানের উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত থেকে কিয়েভের দূরত্ব প্রায় ১,৮৫০–১,৯০০ কিলোমিটার, আর ওডেসা অঞ্চলের দূরত্ব প্রায় ১,৫০০–১,৬০০ কিলোমিটার।
ইউক্রেনে আঘাত হানতে সক্ষম ইরানের কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র:
Ghadr – পাল্লা ১,৯৫০–২,০০০ কিমি, ৭৫০ কেজি ওয়ারহেড বহনে সক্ষম।
Emad – ১,৭০০–২,০০০ কিমি পাল্লা, ম্যানুভারেবল রি-এন্ট্রি ভেহিকল থাকায় প্রতিহত করা আরও কঠিন।
Sejjil – সলিড-ফুয়েল ক্ষেপণাস্ত্র, প্রায় ২,০০০ কিমি পাল্লা, ৭০০ কেজি ওয়ারহেড বহনে সক্ষম।
Khorramshahr – ইরানের সবচেয়ে দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র, দাবি অনুযায়ী ৪,০০০ কিমি পর্যন্ত পাল্লা এবং সর্বোচ্চ ১,৫০০ কেজি ওয়ারহেড বহনে সক্ষম।
ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এসব হুমকি মোকাবিলায় THAAD বা Arrow-2-এর মতো উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রয়োজন। বর্তমানে ইউক্রেনে থাকা Patriot সিস্টেমের সক্ষমতা মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে সীমিত।
এছাড়া ইরানের কাছে ২,০০০ কিমি বা তার বেশি পাল্লার একাধিক ড্রোনও রয়েছে—
Arash / Arash-2 – একমুখী আক্রমণ ড্রোন, প্রায় ২,০০০ কিমি পাল্লা।
Mohajer-10 – দীর্ঘপাল্লার যুদ্ধ ও নজরদারি ড্রোন, ২,০০০ কিমি পাল্লা, ২৪ ঘণ্টা উড্ডয়ন সক্ষমতা।
Shahed-136 ও এর বিভিন্ন সংস্করণ – কম খরচের কামিকাজে ড্রোন, ১,০০০–২,৫০০ কিমি পাল্লা।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউক্রেনের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সক্ষমতা এবং ন্যাটো মিত্রদের ইন্টারসেপ্টর মজুত কমে যাওয়ায়, ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাত ইউক্রেনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।