16/01/2026
শহীদ ওসমান হাদি ভাই এর সম্মানিতা স্ত্রীর স্ট্যাটাস:
ছাত্রদল নেতা আমানুল্লাহ আমান বললেন—
“৫ আগস্টের আগে ওসমান হাদির একটা ভিডিও ক্লিপ দেখান তো!”
এই একটি বাক্যেই আসলে সব বলা হয়ে গেছে।
তাচ্ছিল্য, অবজ্ঞা আর ক্ষমতার অহংকার, সব একসাথে।
সত্যি বলতে কী, ১৬ জুলাইয়ের এই ক্লিপটাই ওসমান হাদির জুলাই বিপ্লবের একমাত্র দৃশ্যমান দলিল। আরও কিছু ছবি-ভিডিও ছিল জাবেরের কাছে। কিন্তু ইন্টারনেট শাটডাউন করে যখন রাষ্ট্রীয় ক্র্যাকডাউন নামানো হলো, তখন স্বভাবতই নিরাপত্তার কারনে সেই ছবি-ভিডিওগুলো ডিলিট করা হয়, ব্যাকআপ না থাকায় আর ফেরত আনা যায়নি।
তাই হ্যাঁ, আমানুল্লাহ আমান ঠিকই বলেছেন—
৫ আগস্টের আগে ওসমান হাদি কেউই ছিলেন না।
তিনি কোনো নেতা ছিলেন না, কোনো পোস্টারবয় ছিলেন না।
তিনি ছিলেন একজন সাধারণ নাগরিক।
একজন শিক্ষক।
একজন কবি।
একজন মানুষ—যিনি অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নিয়ে নিজের জীবনটা বাঁচানোর চেষ্টায় ছিলেন।
এখন আসি তুলনায়।
আপনারা বলছেন, আপনারা ১৭ বছর লড়াই করেছেন। রাজপথ কাঁপিয়েছেন। ফ্যাসিস্ট পতন ঘটিয়েছেন। ধরে নিলাম, আপনাদের অবদান ভুবনজয়ী।
আপনারা যখন রাজপথ কাপাচ্ছেন, তখন হয়তো ওসমান হাদি ক্লাস নিচ্ছিলেন।
শিক্ষার্থীদের পড়াচ্ছিলেন।
কবিতা লিখছিলেন।
নিজের মতো করে জীবন যাপনের চেষ্টা করছিলেন।
কিন্তু যে জায়গাটায় আপনারা বারবার ধাক্কা খাচ্ছেন, সেটা হলো,
ওসমান হাদির কোনো রাজনৈতিক অ্যাফিলিয়েশন ছিল না।
না ছাত্রদল।
না ছাত্রলীগ।
না শিবির।
না কোনো দল।
আজ পর্যন্ত যদি কেউ ৫ আগস্টের আগে ওসমান হাদিকে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দেখাতে পারেন—কাগজে-কলমে, ছবিতে, ভিডিওতে, আমি নিজ উদ্যোগে ক্ষমা চেয়ে মুখবন্ধ করে নিবো। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ গোয়েন্দা সংস্থাকে কাজে লাগিয়েও যদি প্রমাণ আনতে পারেন, আনুন। তিনি তার জীবদ্দশায় না কোনো দলের কর্মী ছিলেন, না কোনো দলের নুন খেয়েছেন।
এই কথাটা বলার মানে আপনাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখানো—
রাজনীতির বাইরের একজন মানুষও কীভাবে ৫ আগস্টের পর এমন এক ইমপ্যাক্ট তৈরি করে গেলেন, যা আপনারা ১৭ বছরে পারেননি।
আপনারা ১৭ বছর ধরে রাজপথে থেকেও বালির ট্রাক সরাতে পারেননি।
ককটেলের শব্দে মিটিং ছেড়ে দৌড়েছেন।
আর এখন চাচার বয়সে ক্লিন সেইভ করে ছাত্র সেজে টকশোতে বসে লেকচার দিচ্ছেন
“হাদি কই ছিল?”
ভাই, আপনি ১৭ বছর রাজপথে থেকে কোন কচুটা ফেলেছেন?
হাদি ২০২২ সালে ‘রজঃস্রাবের রাষ্ট্র’ কবিতায় মুজিব-হাসিনাকে স্বৈরাচার হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন। আপনি রাজপথে থেকে কি করছেন?
২০২৪-এর বইমেলায় প্রকাশ করেন ‘লাভায় লালশাক পুবের আকাশ’—যেখানে কবিতায় কবিতায় বিদ্রোহ, প্রতিবাদ, বিপ্লব কথা বলে। আপনি রাজপথে কি করছেন? আপনার কাজ তো রাজপথ ছিল, হাদির কাজ তো রাজপথ ছিল না!
তিনি রাজনীতিবিদ ছিলেন না।
তিনি শিক্ষক-কবি ছিলেন।
অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে ঘরে রেখে রাস্তায় নামার বাধ্যবাধকতা তার ছিল না।
তবু তিনি নেমেছেন।
গুলির সামনে দাঁড়িয়েছেন।
দেশকে নতুন করে স্বাধীন করার লড়াইয়ে শরীর রেখে গেছেন।
আর স্বাধীনতার পর মানুষকে পথ দেখিয়েছেন।
এখন প্রশ্ন, আপনি কী করেছেন?
একটু আয়নার সামনে দাঁড়ান।
নিজেকে জিজ্ঞেস করুন, ১৭ বছরে জাতির জন্য কী রেখে যাচ্ছেন?
আপনার দলের নেতা-কর্মীরাই আপনাকে আর কয়দিন মনে রাখবে?
কাইন্ডলি একটু মরুন,
তখনই বুঝবেন—হাদি কে।
যেদিন হাদি গুলি খেয়েছেন, সেদিন থেকেই বিএনপি-ছাত্রদলের দ্বিতীয় কিলিং মিশন শুরু হয়েছে অনলাইনে।
“ডোনাল্ড ট্রাম্পের গুলির নাটক”—এই ভাষা সেদিনই চালু হয়।
শহীদ হওয়ার পর আপনাদের অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টরা যে নোংরামি করেছে, তার হিসাব ইতিহাস রাখবে।
প্রথম সারির নেত্রীরা পর্যন্ত গিরগিটির সাথে তুলনা দিয়েছে হাদিকে।
আপনাদের ইন্টেনশন শুরু থেকেই পরিষ্কার—
হাদিকে যে করেই হোক আবার মেরে ফেলা।
কারণ আপনারা হাদিকে ভয় পান।
জীবিত হাদিকে তো বটেই,
মৃত হাদিকেও।
এই ভয়টাই আপনাদের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক পরিচয়।