07/08/2023
ফেসবুক অ্যাড বা বুস্টিং সার্ভিস নেয়ার আগে - এই সার্ভিসটা সম্পর্কে ভালোভাবে আপনার বুঝা উচিত।
প্রথমত, সবার আগে আপনার বুঝা উচিত বা জানা উচিত ফেসবুক অ্যাড কি আর ফেসবুক পোস্ট বুস্ট কি। আফসোসের সাথে বলতে হয়, ১০ মিনিট সময় ব্যয় করে আপনার এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি বুঝার সুযোগ হয়না। যার ফলে অনেক উদ্যোক্তা প্রাথমিকভাবে বুস্ট করে কিছু সেল পেলেও একটা সময় পার হলে, বিজনেসের আর কোন অগ্রগতি না হলে ঠিকই তখন এই অ্যাড বা বুস্ট সম্পর্কে জানার চেষ্টা করেন।
অধিকাংশ উদ্যোক্তা ফেসবুক অ্যাড বা বুস্ট সার্ভিস নিতে চান অনেকটা এভাবেঃ
প্রশ্নঃ স্যার, ডলার রেট কত করে? আমার পেজটা বা একটা পোস্ট বুস্ট করে দিতে হবে। ভালো সেল এনে দিতে হবে, তাহলে কন্টিনিউ আপনাকে দিয়ে বুস্ট করাব।
যিনি সার্ভিস দেন তার উত্তরঃ ডলার রেট ১৩০ বা ১৫০ ইত্যাদি (জাস্ট ফর উদাহরণ)। পেজের এক্সেস নেন, এরপর ৫ ডলার বা ১০ ডলার এর বুস্ট মেরে দেন। কিছু টার্গেট দিলে দেন, তা না হলে ব্ল্যাংক টার্গেটে বুস্ট করে দেন। ফলাফল কারো রেজাল্ট ভালো, কারো রেজাল্ট খারাপ।
এবার আসি মূল কথায় - ফেসবুক অ্যাড বা বুস্ট আসলে কিভাবে করা উচিত?
দেখুন, বিজনেস অনুযায়ী বা প্রোডাক্ট অনুযায়ী সেটার মার্কেটিং স্ট্রাটেজি ভিন্ন হবে। সো, আপনার বিজনেসে কোনটা, কখন, কিভাবে স্টেপ বাই স্টেপ করা উচিত সেটা বুঝতে হলে আপনাকে টোটাল বিষয়গুলো বুঝতে হবে।
একটা অ্যাড দেয়ার আগে করণীয় কি কি?
১. যে প্রোডাক্টের অ্যাড দিবেন, সেটা কোন অডিয়েন্সের জন্য? তাদের লিঙ্গ, বৈবাহিক অবস্থা, বয়স, প্রফেশন, লোকেশন, ইন্টারেস্ট, বিহ্যাভিয়ার ইত্যাদি সহ আরো অনেক বিষয় রয়েছে সেগুলো সম্পর্কে ক্লিয়ার ধারণা থাকতে হবে।
২. আপনার অডিয়েন্স কোন চ্যানেলে এক্টিভ বেশি, কোথায় অ্যাড দিলে খুব সহজে তাদেরকে রিচ করতে পারবেন সেটা আপনাকে জানতে হবে। যদি আপনার অডিয়েন্স ইনস্টাগ্রামে বেশি এক্টিভ থাকে তাহলে ফেসবুকে অ্যাড দিয়ে তো লাভ নাই, তাই না? সো, সঠিক মার্কেটিং চ্যানেল ব্যবহার করতে হবে।
৩. আপনার প্রোডাক্টের USP কি সেটা সম্পর্কে আপনার ক্লিয়ার ধারণা থাকতে হবে। প্রোডাক্টের উপকারিতা বা প্রোডাক্টটি কাস্টমারের কি সমস্যার সমাধান করবে, কিভাবে করবে, কাস্টমারের লাইফে কিভাবে পরিবর্তন আনবে ইত্যাদি বিষয় অডিয়েন্সের সামনে তুলে ধরতে হবে। এখন এটা হতে পারে, ভিডিও বা ইমেজ বা লেখা যেভাবে আপনার জন্য ইজি হয় এবং অডিয়েন্সও বুঝবে সেভাবেই এই কাজটা করতে হবে।
৪. কন্টেন্ট তৈরি হয়ে গেলে অ্যাড কপি কি হবে সেটা নিয়ে কাজ করতে হবে। কাস্টমারের এটেনশন গ্রাব করার জন্য পাওয়ার ফুল হুক ব্যবহার করতে হবে। এ ক্ষেত্রে আই ক্যাচিং ইমেজ, প্রোডাক্ট ফটোগ্রাফি বা প্রফেশনাল ভিডিও ইত্যাদির প্রয়োজন হবে।
৫. এরপর আসবে ফেসবুক অ্যাড। সো বুঝতেই পারতেছেন, আগের কাজ গুলো কয়জন করে। এটা কে করে দিবে? উদ্যোক্তা যিনি সার্ভিস নিবে, নাকি যিনি সার্ভিস দিবে?
যদি যিনি সার্ভিস দিবেন তার কাছ থেকে নিতে চান সে আপনাকে কখনো ডলার রেট হিসেবে সার্ভিস দিবে না। ফেসবুক অ্যাড বাবদ ডলার কষ্ট আপনি দিবেন যা আসবে তাই, আর উপরের যে কাজ গুলো সেগুলো সম্পর্কে উনি রিসার্চ করে, প্ল্যান তৈরি করে আপনার সাথে বসে সবকিছু রেডি করে ফেসবুক অ্যাডে যাবে এবং এই রিসার্চ, প্ল্যানের জন্য তাকে আলাদা সার্ভিস চার্জ দিতে হবে, হতে পারে সেটা 2 হাজার বা ৫ হাজার , ৫০ হাজার ইত্যাদি।
এখন আপনি চিন্তা করেন- আপনি কার থেকে সার্ভিস নেন আর কি ধরণের সার্ভিস নেন। অনেকেই বলবে, নতুন উদ্যোক্তা, শুরুতে এত টাকা কই পাবে হ্যানত্যান অনেক কিছু। আমি বলব ভাই বিজনেস তো বিজনেস। টাকা কামাবেন, টাকা ঢালবেন না সেটা তো হবে না। আপনার টাকা ঢালার সামর্থ্য না থাকলে আপনার জন্য অল্টারনেট কি ওয়ে আছে সেভাবে কাজ করুন। বাট আপনাকে নিয়ম মেনে কাজ করতে হবে, অন্যথায় হতাশ হয়ে যাবেন।
অনেক কঠিন কঠিন কথা বললাম - এবার আসি আমাকে অনেকে প্রশ্ন করবেন আমি সার্ভিস দেই কিনা?
উত্তরঃ আমার সার্ভিস দেয়ার সময় নাই, কেননা আমি প্রতিনিয়ত শিখি, নিজের বিজনেসে এপ্লাই করি এবং আমার যারা শিক্ষার্থী আছেন তাদেরকে শেখাই। আমার কাছে যেসব উদ্যোক্তা শেখে তারা উপরের কাজ গুলো নিজেরাই বুঝে নিজেরাই রেডি করে, নিজেরাই ফেসবুকে অ্যাড রান করে। তাদেরকে সময় ও সাপোর্ট দিতে হয়, সো সার্ভিস দেয়ার মত সময় আমার কাছে নাই।
ও আর হ্যাঁ, যারা অনলাইন বিজনেসের জন্য এসব কাজ শিখতেছে সবাই কিন্তু ননটেক পার্সন। তাদের তেমন কোন পূর্ব অভিজ্ঞতা নাই, সময় দিচ্ছে, পরিশ্রম করতেছে, একশন নিতেছে। কেউ সফলতা পাচ্ছে, কেউ লেগে আছে, এভাবেই চলছে আর কি...
সো, এবার আশা করি - সার্ভিস নিবেন, নিলে কার কাছ থেকে নিবেন, কিভাবে নিবেন ইত্যাদি বিষয়ে কিছু আইডিয়া পেয়ে গেছেন।
নাকি নিজে শিখে নিজে করবেন?
ডিসিশন ইজ ডিপেন্ডিং অন ইউ।
ধন্যবাদ এত সময় নিয়ে পড়ার জন্য। পড়েই যখন ফেলেছেন, একটা শেয়ার দিয়ে দেন না, অন্যদেরও উপকার হবে।