29/02/2024
মাত্রাতিরিক্ত কথাবলা যখন অপূরনীয় ক্ষতির দিকে নিয়ে যায়-----
কথা বলবেনা।
কোথায় স্যার চেম্বারে... ??
ইদানীং প্রচুর রোগী আসেন কন্ঠ স্বর পরিবর্তন বা ভাঙা কন্ঠ নিয়ে। তাদের কেউ কেউ অল্প কয়েক দিনের। কেউ দীর্ঘ দিনের সমস্যা। তাদের সবাই মোটামুটি কোন না কোন প্রফেশনাল। যেমন কেউ শিক্ষক, কেউ কর্মজীবী, কেউ দোকানী, হিফজ পড়ুয়া ছাত্র, মসজিদের ঈমাম ইত্যাদি।
সেদিন এক যুবক এলো স্বর ভাঙা নিয়ে। আমি প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বললাম কথা বলবেন না। সে আমায় জিগ্যেস করে, কোথায় স্যার চেম্বারে না বাইরে? আমি বললাম কোথাও না।
আরেক মহিলা এলেন। পেশায় শিক্ষিকা তাকেও বললাম বেশি কথা বলবেন না। তিনি অনেক প্রশ্ন করলেন, যাওয়ার সময় বড়ো করে সালাম দিলেন, কথা বলতে বলতে বের হয়ে গেলেন।
আরেক মাওলানা সাহেব পেলাম। কথা বলা নিষেধ করার পর বললেন আমিতো প্রধন ওস্তাদ। আমি না হলেতো মাদ্রাসা বন্ধ হয়ে যাবে।
আরেক যুবক বললেন আমি কথা না বললে দোকান কিভাবে চালাব?
সুতরাং জাতির এতো সমস্যায় আমি কিভাবে ডাক্তারী করব বুঝতে পারছি না। মানুষ এতে ব্যস্ত, এতো ব্যস্ত যে কথা না বলে থাকা সম্ভব না!
অতিরিক্ত কথা, বেশি কথা, জোরে কথা, অযথা কথা, চিল্লিয়ে বলা কথা, এভাবে কথা বলতে বলতেই আমাদের কন্ঠনালী যখন আর নিতে পারেনা তখন বেচারা দুর্বল হয়ে যায়, ছিড়ে যায়, ফুলে যায় এভাবেই তৈরি হয় নডিউল, পলিপ ইত্যাদি। যার মাধ্যমে কন্ঠ স্বর পরিবর্তন হয়ে যায়। কথা বলতে গেলে দুর্বল লাগে, অল্প কথায় হাফিয়ে যায়।
অতএব কথা কম বলুন, অপ্রয়োজনীয় কথা বাদ দিন কন্ঠকে বিশ্রাম দিন। প্রয়োজনে কিছু কথা ইশারায় শেষ করুন, কিছু লিখে প্রকাশ করুন, কিছু কথা অন্যকে দিয়ে বলান, কন্ঠ কে নিয়ন্ত্রণ করুন। ছাত্ররা মনে মনে পড়ুন।
মুখ পরিস্কার রাখুন, সব সময় একটু একটু করে পানি পান করুন। গলাটা ভিজিয়ে রাখুন, ধুমপানসহ বদ অভ্যাস বর্জন করুন। চিল্লাপাল্লা বাদ দিন। দেখবেন মহান আল্লাহ আপনার সুন্দর কন্ঠটা হেফাজত করবেন। তাই কথা কম বলবেন।
®Dr Nasir Uddin
Collected