11/03/2026
নতুন উদ্যোক্তাদের খুব কমন একটা প্রশ্ন- ভাই আমার সেল আসে না ক্যান? আগে তো কম ডলার খরচ করেও বেশ সেল পাইতাম, আর এখন তো হিউজ ডলার খরচ করি কিন্তু সেল তো আগের মত আসে না!
সত্যি বলতে কি- এইটার স্পেসিফিক কোন আন্সার নাই। অনেকগুলা কারণ থাকতে পারে সেল না আসার পিছনে। সবচাইতে কমন কয়টা কারণ বলি আপনাকে। বাকিগুলা আপনি রিলেট করতে পারবেন।
১. এক নাম্বার কারণ হইতেছে- টার্গেটিং এবং স্ট্রাটেজি। বিশেষ করে যারা বলেন- ”আগে সেল আসতো মাগার এখন সেল আসে না” তাদের বেশিরভাগের ক্ষেত্রেই টার্গেটিং এবং স্ট্রাটেজির ঝামেলা আছে। দেখেন, মেটা প্রতিনিয়তই নতুন নতুন আপডেট নিয়ে আসতেছে। বিশেষ করে লাস্ট ইয়ারের শেষে তারা যে এন্ড্রমেডা আপডেটটা নিয়ে আসছে, সেইটার পরে তাদের টার্গেটিং এলগরিদম পুরাই ১৮০ ডিগ্রি ফ্লিপ করছে! এখন আপনেই বলেন- আপনি যদি এখনও আগের টার্গেটিং মেথডই ফলো করেন তাইলে কি আপনার সেল আসবে?
২. দুই নাম্বারে যেই বড় কারণটা, সেটা হচ্ছে আপনার কন্টেন্ট! দেখেন-আপনি মানেন আর না মানেন, বর্তমানে মানুষের টেস্ট প্রায় প্রতিদিনই পাল্টাইতেছে। আগে মানুষ লং ভিডিও দেখতো এখন শর্টস বেশি পছন্দ, আগে সিনেমেটিক ভিডিওতে ট্রাস্ট করতো এখন রিয়েল ফিল দেয় এমন ভিডিওতে বেশি ভরসা করে, আগে ধামাকা অফারেই কাস্টমার চইলা আসতো এখন কাস্টমার আনতে হুক লাগে। এইরকম একশটা চেইঞ্জের কথা বলা যাবে। কাজেই আপনি যদি আগের ধাচেই শুধু প্রডাক্ট দেখায়ে ভিডিও বানায়েই সেল আনতে চান তাইলে ভাই সেই ভিডিও কাজ করবে না এইটাই স্বাভাবিক।
৩. তিন নাম্বারে যেই কারণটায় সেল ডাউন হয় সেটা হচ্ছে- টাইমিং! সবসময় সব প্রডাক্ট মানুষ কিনবে না, এইটাই স্বাভাবিক। একটা উদাহরণ দিলে ব্যপারটা রিলেট করতে সুবিধা হবে। যেমন- এখন ঈদের সময় চলতেছে- সবাই কমবেশি এই অকেশনটার সাথে রিলেটেড জিনিসপত্রের এ্যাডের প্রতি আগ্রহ বেশি দেখাবে। এখন আপনার প্রডাক্ট যদি হয়- বই তাহলে এই সময়ে আপনার সেল কিছুটা ডাউন হবেই। একেতে এখন মানুষ আপনার প্রডাক্টে তেমন আগ্রহই দেখাবে না, তার উপর এই সময়ে ঈদ রিলেটেড প্রডাক্টের প্রচুর এ্যাড চলবে। সেই সব এ্যাডের ভিরে ফেসবুক আপনার এ্যাডের রিচ এমনেই কমায়ে দিবে। কাজেই আপনার সেল ডাউন হবেই।
৪. চার নাম্বার কারণ হচ্ছে- খোদ আপনার প্রডাক্ট! এখানে প্রডাক্ট বলতে- প্রাইজিং,প্যাকেজিং এবং কোয়ালিটি তিনটাই। এমনকি এইটাও হতে পারে- আপনার প্রডাক্টটার চাহিদা এখন আর আগের মত নাই। কিংবা আপনার কম্পিটিটর অনেক বেড়ে গেছে। অথবা আপনার প্রডাক্ট যে সমস্যার সমাধান করতো সেই সমস্যার বেটার সলুশন বাজারে এসে গেছে। এক কথায়- আপনার প্রডাক্টের কোন একটা ঝামেলা আছে।
এছাড়া আরও কিছু ছোট ছোট কারণেও আপনার সেল কমে যেতে পারে। যেমন- ওয়েব সাইট বা ল্যান্ডিং পেজের ঝামেলা। আপনার পেজর পোস্ট দেখে ট্রাস্ট না করা। পেমেন্ট মেথডের জটিলতা ইত্যাদি ইত্যাদি।
এখন আপনি যেটা করবেন- টার্গেটিং নিয়ে একটু ডিপলি ঘাটাঘাটি শুরু করবেন। এলগরিদমের পুরোটা নিয়ে মাথা ঘামানোর দরকার নাই, তবে এটলিস্ট এইটুকু বোঝার চেষ্টা করবেন-নতুন এলগরিদম অনুযায়ী টার্গেটিং কেমন হওয়া উচিৎ। সেই অনুযায়ী আপনার স্ট্রাটেজি সাজাবেন।
কন্টেন্ট সাইকোলজি নিয়ে হালকা পাতলা পড়াশোনা করবেন। তারপর নিজের কন্টেন্টগুলা নিজেই রিভিউ করবেন। কন্টেন্টে ঝামেলা থাকলে সেইটা ঠিক করবেন।
আপনার প্রডাক্টের বেস্ট সেলিং টাইমিং অন্য কেউ ফাইন্ডআউট করে দিতে পারবে না। এইটা আপনাকেই খুজে নিতে হবে। এইক্ষেত্রে কাস্টমারের সাইকোলজি বুঝার চেষ্টা করেন।
একজন কনজিউমারের দৃষ্টিকোন থেকে ভাববেন- আপনি হইলে এই প্রডাক্টটা এই দামে কেনার পর স্যাটিসফাইড হইতেন কিনা। উত্তর যদি না হয় তাহলে- প্রডাক্ট ঠিক করেন।
আর সবশেষ কথা- আপনার খুব সখের প্রডাক্ট, খুব কষ্ট করে প্রডাক্টটা বাজারে আনছেন, কিংবা এই প্রডাক্টটা আপনারে সেই সেল এনে দিছে ইত্যাদি আবেগগুলারে একটু সরায়ে রাইখা ভাবেন সত্যিই কি বাজারে এইটার ডিমান্ড এখনও আছে? উত্তর যদি ‘না’ হয় তাহলে সব আবেগের খেতা পুইরা আজকেই নতুন প্রডাক্ট নিয়া কাজ শুরু করে দেন। কারণ Smart people know when to quit.
আচ্ছা শেষ করার আগে আরেকটা কথা কই। অনেক সময় দেখা যায়- সব কিছু পজিটিভ থাকার পরেও সেল আসে না! আর সেল না আসার পিছনে কোন কারণও খুইজা পাওয়া যায় না। মানে- কারণটা এমন অদৃশ্য হয় যে, মার্কেটারও খুইজে বের করতে পারে না, এজেন্সিও খুইজা পায় না আর আপনার তো সব মাথার উপর দিয়াই যায়। এই ক্ষেত্রে কথা একটাই- এইটারে ভাগ্য মনে করতে হবে। ধৈর্য্য ধরে ঠিকঠাক কাজ করতে থাকলে এইটার সমাধান হবেই। কিছুদিন পর দেখবেন এমনেই সেল শুরু হয়ে গেছে।