14/02/2024
ভুয়া অনলাইন বিজ্ঞাপনদাতার ফাঁদে পা দিচ্ছেন নাতো।
বর্তমান যুগের সোশ্যাল মিডিয়ার অনেক শক্তিশালী মাধ্যম হচ্ছে ফেসবুক। অনেকেই এই মাধ্যম ব্যাবহার করে নিজেদের বিজনেস পরিচালনা করছেন। বিজনেসের পণ্যের বা সার্ভিসের প্রচার এবং প্রসারের জন্য বিক্রেতাদের সবারই কম বেশী বিজ্ঞাপন প্রচার করতে হয়। যেহেতু খুব অল্প খরচে এবং অল্প সময়ে কাঙ্ক্ষিত ক্রেতার কাছে বিজ্ঞাপন প্রচার করা যায় তাই ফেসবুকে বিজ্ঞাপন প্রচার করা বিক্রেতার কাছে লাভজনক। কিন্তু বর্তমানে কিছু অসাধু লোক এই বিজ্ঞাপনের নামে বিক্রেতাদের তাদের ফাঁদে ফেলছে। এই অসাধু মানুষ গুলো ফেসবুকের বিজ্ঞাপন মাধমকে ব্যাবহার করে এমন সব বিজ্ঞাপন প্রচার করে যা আদতে কখনোই সম্ভব নয় অথবা যেভাবে সম্ভব করে সেটা একজন বিক্রেতার জন্য পরবর্তীতে মারাত্মক সব ঝুঁকির কারণ হয়ে দাড়ায়। এদের বিজ্ঞাপন গুলো এতোই লোভনীয় থাকে যে, বেশিরভাগ সময় আমরা এদের ফাঁদে পা দেই। এদের বিজ্ঞাপনের বেশিরভাগ থাকে ১৫০০ টাকায় ৫০০০ পেজ লাইক, ২০০০ টাকায় ৮০০০ লাইক, ১০০ টাকায় ২৫০ পোস্ট শেয়ার, ইত্যাদি।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে এটা কি আদো সম্ভব?
এই প্রশ্নের উত্তর হচ্ছে এটা স্বাভাবিক ভাবে কখনোই সম্ভব নয়। কারণ ফেসবুকে যখন এই ধরণের এড রান করা হয়। ফেসবুক তখনই বলে দেয় কত টাকা খরচ করলে কত থেকে কত পর্যন্ত আপনার পেইজ লাইক হতে পারে। অর্থাৎ ফেসবুক নিজেও কখনো নিদিষ্ট করে বলে দেয় না আপনার কতজন লাইক আসতে পারে। যেমন উধারণ স্বরূপ আপনি যদি ১৫০০ টাকার পেইজ এড রান করেন তাহলে ফেসবুক থেকে বলা হয় আপনার ১৫০০ টাকায় সর্বনিম্ন ৫০০-১৫০০ পেইজ লাইক আসতে পারে। তাহলে এবার চিন্তা করুন যিনি ১৫০০ টাকায় ৫০০০ লাইক দেওয়ার কমিটমেণ্ট করে তাহলে এটা কিভাবে সম্ভব। এখানে ১৫০০ টাকায় ৫০০-১৫০০ পেইজ লাইকের ভেরিয়েশান ফেসবুক করে দেয় কারণ এই ভেরিয়েশান নির্ভর করে আপনার এড এর মান এবং আপনার টার্গেট কাস্টমার নির্ধারণ করার উপরে। এখানে এড এর মান বলতে বুজায় আপনি এড টাকে কতটা আকর্ষণীয় করে উপস্থাপন করছেন। যা দেখলেই ভালো লাগে। আর টার্গেট কাস্টমার বলতে বুজানো হচ্ছে এমন কাস্টমারের কাছে আপনার এড টাকে পোঁছানো যারা সত্যি আপনার প্রোডাক্ট অথবা সার্ভিস টা নিতে ইচ্ছুক। উধারণ স্বরূপ আপনি বাচ্চাদের ড্রেস বিক্রি করেন। এখন আপনি যদি আপনার এড টা একজন বয়স্ক লোকের কাছে প্রচার করেন। তাহলে তিনি কি কখনোই আপনার পেইজ বা আপানর এড টাকে পছন্দ করবেন। উত্তর হচ্ছে কখনোই না।
এখন অনেকেই প্রশ্ন করতে পারেন, অনেকেই তো করছে এবং হচ্ছে ও, তাহলে তারা কিভাবে করছে?
জি আপনি ঠিক বলেছেন, করছে। কিন্তু সেটা স্বাভাবিক ভাবে করছে না। বিভিন্ন অসাধু পন্থা বের করে তারা এই কাজ টা করে। যারা লাইক দেয় তাদের মোস্ট অব টাইম ফেইক লাইক হয়। এই ধরণের ফেইক লাইক কিভাবে করা যায় তা আপনারা ইউটিউব এ সার্চ করলেই অনেক কিছু জেনে যাবেন। (how to get unlimited likes on page, 5000 Real page likes in 1 day) মূলত এগুলো লিখে সার্চ দিলে মোটামুটি অনেক গুলো কন্টেন্ট পেয়ে যাবেন। যার সবগুলোই হচ্ছে ১০০ ভাগ ভুয়া লাইক বাড়ানোর উপায়।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে এভাবে ভুয়া লাইক বাড়ালে সমস্যা কি?
ভুয়া লাইক বাড়ানোর সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে যেহেতু পুরো জিনিস টাই ভুয়া, তাই এই ধরণের লাইক আপনার কখনোই আপনার কোন উপকারে আসবে না। বছর শেষে দেখবেন বা যেকোনো সময়েই হটাৎ দেখতে পাবেন আপনার পেইজ থেকে লাইক কমে গেছে। এটা মূলত হয় ফেসবুক এই ধরণের ফেইক আইডি গুলো রিমুভ করে দেয়। এবং সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি যেটা দেখা যায় সেটা হচ্ছে অনেক সময় পেইজ ট্রান্সপেরেনসি তে পড়লে ফেসবুক অনেক সময় এই ধরণের ফেইক আইডি ভরপুর পেইজ গুলোকে অনেক ধরণের রেস্টিকশান বা অনেক সময় পুরো পেইজটি ব্লক করে দেয়। অতএব সাবধান।
আমরা এই ধরণের ফাঁদে পড়ি কেন?
কয়েকটা কারণ। ১. বিষয় গুলো সম্বন্ধে অবগত না থাকা ২. রাতারাতি বড় হবার লোভ ৩. আজকে পেইজ খুলে কালকেই পেইজকে বড় করার ইচ্ছা ৪. অধিক লাভের বাসনা।
মূলত এই কয়েকটা কারণে আমরা খুব সহজেই এদের পাল্লায় পড়ে যাই। এবং অনেকেই যারা সঠিক ভাবে কাজ গুলো করেন তাড়াও অনেক ধরণের প্রশ্নের সম্মুখীন হয়।
এদের থেকে বাঁচার উপায় কি?
এদের থেকে প্রথমেই বাঁচার সহজ উপায় হচ্ছে উপরের ৪ টি বিষয় থেকে নিজেকে বের করে নিয়ে আসা। আপনার ফেসবুক পেইজকে সবসময় একটা দোকানের সাথে তুলনা করবেন। ধরুণ বসুন্ধারা সিটি তে আপনি একটা শাড়ির দোকান দিলেন। এখন কি করবেন দোকান টা নিয়েই আপনার সব প্রোডাক্ট তুলে বিক্রি করতে শুরু করে দিবেন। না কখনোই তা করবেন না। আপনি প্রথম দোকানটা সাজাবেন। লাইটিং করবেন। আপনার প্রোডাক্ট গুলো সুন্দর ভাবে দেখা যায় সেই বেবস্থা করবেন। আপনার দোকানটা যেন আশে পাশের আর ১০ টা দোকান থেকে আলাদা ভাবে দৃষ্টি গোচর হয় সেই ধরণের বেবস্থা করবেন। আপনি বিক্রয় কর্মী নিয়োগ দিবেন। তারপর আপনি আপনার প্রোডাক্ট তুলবেন। তারপর আপনার প্রোডাক্ট যাতে তাড়াতাড়ি বিক্রি হয় সেই জন্য বিভিন্ন ডিস্কাউন্ট দিবেন বা বিভিন্ন এড প্রচার করবেন। তারপর এক সময় যখন আপনার দোকানের প্রচার বা প্রসার হয়ে যাবে। এটাই কিন্তু স্বাভাবিক প্রসেস। এর বাহিরে আলাদা কিছু করতে গেলেই ভালো কিছু হবার সম্ভাবনা কমই থাকে।
আশা করছি বিষয় গুলো অনেকের উপকারে আসবে। ভালো থাকুন। বেঁচে থাকুক আশা নিয়ে থাকা মানুষ গুলো।