10/09/2022
আসসালামু আলাইকুম
পরিবতনের শুরুটা মনে রাখার মতো, প্রচন্ড আগ্রহ এবং চেষ্টা থাকা সত্ত্বেও মাঝে মাঝে আপনি ব্যর্থ হবেন। কিন্তু ঐ আগ্রহ আর চেষ্টা আপনাকে যা শিখিয়ে দিবে, তা আপনার সারা জীবনের সম্পদ। বার বার চেষ্টা করে ব্যর্থ হওয়া মানুষগুলো এক সময় ভূলেই যায় হতাশা বলে কিছু আছে। এটাই তাদের সফলতা।
আমার কাছে সফলতার ব্যাখ্যা এমনি, আমি ঢাকায় আসি ২০১০ সালে ডিসেম্বর এ আমার বোন জান্নাতুল ফেরদৌস আপন এর হাত ধরে। আমরা পিঠাপিঠি ভাইবোন। ও আমার বয়সে ছোট। বয়সে ছোট হলেও, ঢাকায় বেশিরভাগ সময় সে আমার বড় বোনের ভূমিকা পালন করে। আমি ঢাকা আসার আগে থেকেই সে স্ট্রাগল করে চলছে, এখনো লড়াই করছে কিন্তু ধরন আলাদা। যাইহোক ঐ অবস্থায় ও আমার জন্য যা করেছে তা আসলে বতমানে বিরল। আপনার জীবনে কিছু মানুষের গল্প আলাদা হওয়া উচিত, যদি একই গল্পে মিলিয়ে ফেলেন, মানুষটির সঠিক মূল্যায়ন করা হবে না।
আমার বোন জান্নাতুল ফেরদৌস আপন এর পরিচিত কম্পিউটার সলিউশন এন্ড ট্রেনিং সেন্টার, ফামগেট, ঢাকা। যেখানে আমি নাম মাত্র বেতনে নিযুক্ত হই। সেসময় ট্রেনিং সেন্টার এ রেগুলার দুটি কোচ চালু ছিল। একটি অফিস কোচ এবং অন্যটি গ্রাফিক্স কোচ। ছোটবেলায় একটু আঁকাআঁকি অভ্যেস ছিল যার দরুন গ্রাফিক্সের প্রতি দুর্বলতা তৈরি হয়। যিনি কম্পিউটার সলিউশনের রেগুলার শিক্ষক ছিলেন, ওনার আমার ব্যাপারে ভীষণ অনিহা ছিল। অবশ্য অনিহার কারন আমার বুঝতে সময় লেগেছে একটু পরে আপনারাও বুঝতে পারবেন। যাইহোক আমার আগ্রহ আর চেষ্টাকে ওনি ততটা সাপোর্ট দেননি যতটা দেওয়া অনার উচিত ছিল।
ওনার প্রতিও আমি কৃতজ্ঞ কারন ওনার অনাগ্রহ আমার জন্য শিক্ষা ছিল। ২০১১ সালের মাঝামাঝি / শেষের দিকে কম্পিউটার সলিউশনে শিক্ষকতা করার অনুমতি পাই সোহেল ভাইয়ের কাছ থেকে। সোহেল ভাই যিনি কম্পিউটার সলিউশনের মালিক এবং যার অবদান আমার ক্যারিয়ারে সবচেয়ে বেশি। যিনি বড়ভাইয়ের মতো সাপোর্ট দিয়েছেন সবসময় এবং এখন পর্যন্ত । আল্লাহ্ ওনার নেক হায়াত দান করুক।
২০১২ সালে বাংলাদেশ ওপেন ইউনিভার্সিটির কল্যানে নতুন করে পড়াশুনারও শুরু করি, যেখানে নতুন কিছু বন্ধু বান্ধব মিলে যাদের অবদান আছে আমার জীবনে বিশেষ করে আলআমিন। যাইহোক আমি অনুমতি পাওয়ার সাথে সাথে বিদায় হন আগের শিক্ষক। আগের শিক্ষকের আমার ব্যাপারে অনিহার কারন স্পষ্ট হয়। আমার কোচ তালিকায় মাক্রোসফট অফিস, গ্রাফিক্স এবং অটোক্যাড ছিল। আলহামদুলিল্লাহ্ প্রায় ৪ বছর কম্পিউটার সলিউশনে ট্রেইনার হিসাবে ছিলাম। কিন্তু আমার গ্রাফিক্সের খিদা বাড়তে থাকে এবং গ্রাফিক্স নিয়ে প্রফেশনালি চিন্তা শুরু করলাম।
এবং কম্পিউটার সলিউশন থেকে সাময়িক বিদায় নিয়ে, ধানমন্ডি ৩২ একটি ডিজাইন এবং প্রিন্টিং হাউজে জব নেই বন্ধু আলআমিন এর রেফারেন্স এ। যেখানে গ্রাফিক্স নিয়ে আমার ধারনাকে পুরোপুরি পাল্টে দেয়। গ্রাফিক্স একটি বিশাল জগত, যেখানে আপনার আগ্রহ বাড়তে থাকবে এবং আপনার কল্পনার জগতে জমা হতে থাকবে অনেকগুলো চিত্র। এরপর অনেক কিছুই ঘটে, আলোচনা সংক্ষিপ্ত করার চেষ্টা করছি।
২০১৬ সালে জানুয়ারীতে আমি আর আমার বন্ধু রাতুল মিলে যাই টঙ্গি এজতেমায়। রাতুল আরেকটি আবেগের নাম, ওকে নিয়ে আরেকদিন গল্প হবে ইনশাহ্আল্লাহ্। এজতেমা থেকে বন্ধু রাতুল ফেরত আসে অসুস্থ হয়ে আর আমি চলে যাই ১২০ দিনের লম্বা সফরে। আমার জীবন পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় কারন তাবলীগের ঐ ১২০ দিন। তারমানে এই না যে আমি তাবলীগে গিয়ে ফেরেস্তা হয়ে গিয়েছি। এখনো আমার দ্বারা গুনাহ হয়, আপনি মানুষ হয়ে থাকলে অবশ্যই হবে। প্রাথক্য আগে কবিরাহ গুনাহ করেও বুঝতাম না গুনাহ হয়েছে আর এখন সগীরা গুনাহ্ করলে আফসোস তৈরি হয়, আল্লাহর কাছে মাফ চাওয়ার আগ্রহ তৈরি হয়। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজকে জীবনের অবিছেদ্য অংশ মনে হয়। আলহামদুলিল্লাহ্
তাবলীগ থেকে এসে বিয়ে করে ফেলি সে এক লাম্বিক ইতিহাস। আল্লাহর অশেষ রহমতে ২০১৬ সাল মাঝামাঝি সময়ে অনলাইন মাকেটপ্লেসে কাজ করার সুযোগ আসে এবং এখনও পর্যন্ত সফলতার সাথে করে আসছি। চেষ্টা করছি নিজেকে আরো বেশি যোগ্য করে উপস্থাপন করতে। দুনিয়ার মানুষ আপনার সফলতা দেখবে আর আপনার রব আপনার চেষ্টা দেখবে।
দীর্ঘ এই ১০/১২ বছরের অভিজ্ঞতাই আপনাদের সাথে শেয়ার করতে চাই। খুব শিঘ্রই ফ্রিল্যান্সিং এর জন্য সময় উপযোগী কিছু কোচ শুরু করবো ইনশাহআল্লাহ্। আগ্রহীদের স্বাগতম।
পেইজ লিং https://web.facebook.com/StudioTech777
Group https://web.facebook.com/groups/studiotech1
নিচের ছবি দুটো একটি বিজনেস কাড আর অন্যটি লোগো। প্রতিযোগীতায় লোগোটি (১৫০ ডলার) গত পরশু এবং বিজনেস কাডটি (৬০ ডলার) গতকাল উইনার হিসাবে নির্বাচিত হয়। আলহামদুলিল্লাহ্ আমার কাজের সফলতার জন্য সবাই দোয়া করবেন।