28/07/2025
উত্তরার মাইলেস্টোন ট্রাজেডির চারদিন পার হলো মাত্র, এরইমধ্যে আমাদের টাইমলাইন থেকে সেই শোক একেবারে হাওয়া হয়ে গিয়েছে। আমরা ফেরত এসেছি আমাদের সেই চিরচেনা ভার্চুয়াল জগতে। মীম, ট্রল, রাজনীতি, আড্ডা, ঘুরাঘুরি, তর্কবিতর্ক, ব্যবসা, চাকরি, হাসাহাসি, কাঁদাছোঁড়াছুঁড়ি, বই, গ্লোবাল পলিটিক্স ইত্যাদি ইত্যাদি ইত্যাদি।
এবং, এটাই হওয়ার ছিল।
দিনশেষে জগতের কেউই কাউকে তাদের সমস্তটাজুড়ে ধারণ করে না এবং মনেও রাখে না। এটাই মানবসভ্যতার অবিসংবদিত নিয়ম এবং এই নিয়মের ব্যত্যয় কোনোকালে হয় না।
একবার খেয়াল করুন তো—মাইলেস্টোনের মতো এতো করুণ ট্রাজেডি, চোখের সামনে ঝলসে যাওয়া মানুষগুলোর এতো সকরুণ দৃশ্য যদি আমাদের টাইমলাইনে চারটা দিনও স্থায়ী হতে না পারে, আমি এবং আপনি, আমরা যারা (অবশ্যই যদি আল্লাহ সেভাবেই তাকদির রাখেন) নিতান্ত সাধারণভাবে একদিন মারা যাব, অতি নিশ্চুপে, কোথাও কোনো সাড়াশব্দ ব্যতীতই, আমাদের মৃত্যুর পর এই বায়বীয় জগতের কতোজন মানুষ ঠিক কতো সেকেন্ড আমাদের জন্য শোক অনুভব করবে?
দিনশেষে এটাই আসলে বাস্তবতা।
আরও খেয়াল করুন, মাইলেস্টোনের শোক হয়ত আমাদের টাইমলাইন থেকে হারাতে সময় নিয়েছে চারদিন, কিন্তু যারা হারিয়েছে তাদের আপনজন, যে বাবা-মা হারিয়েছে তাদের ছোট ছোট রাজপুত্র আর রাজকন্যা, যে সন্তান হারাল তাদের পরম মমতাময়ী মা আর বাবা, যে স্বজনেরা এখনও দিনরাত একাকার করে ছুটছে হাসপাতাল থেকে বাসায়, বাসা থেকে হাসপাতালে, যারা কেবিনের জানালার পাশে, আইসিইউর দরোজার কাছে বসে কাটাচ্ছে দিন, কারণ তাদের স্বজনেরা জীবন আর মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে—সেই মানুষগুলোর স্মৃতি থেকে এতো অল্প কয়েকদিনে কিন্তু এই শোক, এই ধকল, এই ভয় হারাবে না। এই শোক ভুলতে তাদের কারও লাগবে চার বছর, কারও চব্বিশ কিংবা কেউ সারাজীবনেও ভুলতে পারবে না।
বলতে পারেন কারা এইসব মানুষ?
হ্যাঁ, তারা হলেন ট্র্যাজেডিতে ক্ষতিগ্রস্ত ওই সকল মানুষগুলোর পরিবারের সদস্য। দিনশেষে আমাদেরকে একটু বেশি সময় ধরে মনে রাখেন আসলে পরিবারের মানুষগুলোই। বাবা আর মা, ভাই আর বোন, স্ত্রী আর সন্তানেরাই।
ব্যস্ততার দোহাই দিয়ে, কখনো ভার্চুয়ালের বায়বীয় সম্পর্ক আর টানের কারণে আমরা আমাদের পরিবারের মানুষগুলোকে অবহেলা করি। কিন্তু দিনশেষে তারাই দীর্ঘ সময় ধরে পাশে থেকে যায়। হাসপাতালের বেডে হোক, কিংবা হৃদয়গভীরে সুদীর্ঘ সময় মনে রাখার বেলায়। প্রিয়জনকে চিরতরে হারিয়ে ফেলার আগে এটা খুব কম মানুষই আজকাল উপলব্ধি করতে পারে।
একবার একটা জায়গায় পড়েছিলাম—
‘একদিন আপনি বুঝতে পারবেন, আপনার পরিবারের কোলাহলই হচ্ছে দুনিয়ার সবচেয়ে মনোরম নৈঃশব্দ।’