10/07/2024
আপনি কি ২১২৪ সালের ইতিহাসের কিতাবে আপানার নাম লিখাতে চান? তাহলে লেখাটি পড়ুন (প্রয়োজনে সেভ রাখুন পড়ে সময় করে পড়ুন) …
নিয়ত হলো বীজের মতো। মৃত্যুর আগে হলেও এই বীজ থেকে চারা বেরোবেই। নিয়ত নেক হলে (শাজার তাইয়েবা) উত্তমবৃক্ষ। বদ হলে যাক্কুম।
শায়েখ হারুন ইজহার হাফিঃ একটা বক্তব্য অনেকটা এরকম যে হঠাৎ করে ময়দানে যাওয়া এবং জীবন দেয়া সহজ, কিন্ত কঠিন কাজ হলো ঈমানের দৈনন্দিন দাবীগুলো নিয়মিত (ধারাবাহিক) আদায় করা।
বাংলদেশের শ্রদ্ধেয় আলেমে দ্বীন শায়খুল হাদীস আল্লামা আজিজুল হক রহ. এর জীবনে সবচেয়ে আকর্ষণীয় বক্তব্য ছিলো ”ইসলাম নামের বৃক্ষের গোড়ায় পানি নয়, রক্ত ঢালতে হবে’’।
মুসলিম বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ সময় ছিলো তাতারীদের আমল। চেঙ্গিস খানের বাহিনীর আক্রমন। এই সময় মিশর ও ফিলিস্তিন ব্যতীত প্রায় সম্পূর্ণ মুসলিম বিশ্ব তাতারীদের দখলে ছিল। মুসলিমদের ধারণাছিলো তাতারীদের পরাজিত করা অসম্ভব। তার চেয়ে তাদের কাছে সহজে ধরা দেয়া উত্তম। এরকম নীচু মানষিকতা নিয়ে তখনকার মুসলিমরা কোনমতে জীবন পার করছিলেন। ঠিক সেই সময় মিশরের আলেম ও মুজাহিদদের একটা ছোট দল মঙ্গল তাতারীদের দাঁতভাঙ্গা জবাব দিয়ে প্রমাণ করে মুসলিমা মরে না দ্বিগুন শক্তি নিয়ে ফিরে আসে।
এখন ২০২৪ সালে আমরা সেই ছোট মুজাহিদ দলের কথা পড়ছি ইতিহাসের কিতাবে। ঠিক একশ বছর পরে (আনুমানিক সময়) ইতিহাসের কিতাবে হয়তো নিচের লেখাগুলো থাকবেঃ
“মুসলিমদের খেলাফত ধবংস হয় ১৯২৪ সালে। তারপর শুরু মুসলিম ইতিহাসে দ্বিতীয় ভয়াবহ আক্রমন। এবারের আক্রমন তাতারীদের পক্ষ থেকে আসেনি। এবারের আক্রমন আসছে ইয়াহুদী আর খৃষ্টানদের পক্ষ থেকে। অতঃপর তাতারীদের সময় যেমন মামলুক মুজাহিদরা দৃশ্যপটে হাজির হয়েছে ঠিক তেমনিভাবে বিংশ শতাব্দীর শেষে এবং একাবিংশ শতাব্দীর পুরোটা জুড়ে দৃশ্যপটে হাজির ছিলো ছাত্র ও কায়েদা। তাদের সাথে অন্য সকল দল একাত্বতা ঘোষণার পর প্রতিষ্ঠিত হয় বিশ্বব্যাপী ইসলামী খেলাফত।”
ভাই এবার একটা বিষয় মনোযোগ সহকারে ভাবুন। একজন মুসলিম হিসাবে আপনি কি চান যে উক্ত ইতিহাসে আপনিও শরীক থাকবেন?
তাহলে শুণ্য থেকে শুরু করতে হবে। হাজার মাইলের পথচলা শুরু হয় ঘর থেকে এককদম ফেলার মাধ্যমে। সর্বপ্রথম ধাপ হিসাবে দৈনিক ফরজ ইবাদাতের পাশাপাশি নিম্নোক্ত বিষয় চারটি বাস্তবায়ন করতে হবে-
✅ লেবাস ও সালামঃ নিজেকে সুন্নতের চাদরে মোড়াতে হবে। মাথা থেকে পা পর্যন্ত সুন্নত স্পষ্ট থাকতে হবে। যেন আপনাকে দেখেই বুঝা যায় আমি একজন মুসলিম। আমি মুসলিম উম্মাহর অংশ। এরপর প্রতিদিন কমপক্ষে বিশজন চেনা-অচেনা ভাইকে সালাম দিতে হবে। তারা সালামের উত্তরে আপনার জন্য দোয়া করবে, যদি কোন একজনের দোয়া কবুল হয়ে যায় তাহলে আপনার জন্য আল্লাহর রহমত নির্ধারিত হয়ে গেল। আপনি হেদায়াত প্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেলেন।
✅ আলেমের সোহবতঃ একজন হক্কানী আলেমের সোহবতে থাকা শুরু করুন। যতটুকু সম্ভব সময় দিন। তার কাছের থেকে ইসলামী জ্ঞাণ অর্জন করুন। আগ্রহ নিয়ে যাতায়াত করতে থাকলে নিজের পরিবর্তন দেখে আপনি নিজেই বিস্মিত হয়ে যাবেন। শুধু ধৈর্য্য সহকারে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে। তাহলেই আপনি সফল।
✅ বই পড়ুনঃ প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় নিয়ে বই পড়ুন। বই হলো সবচেয়ে উত্তম বন্ধু। বই আপনাকে পথ দেখাবে। সঠিক সিলেবাস অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো জানার চেষ্টা করুন। ধারাবাহিকতা রক্ষা করে পড়তে থাকুন। আপনার জীবন বদলে যাবে। আপনি চাইলে হক্কানী আলেমদের তাহ্কীক করা ফজর প্রজন্মের সিলেবাস ফলো করতে পারেন। মোট ৪৫টি বই পড়তে হবে। ২/৩ বছর সময় দিলে সম্ভব ইনশাআল্লাহ।
✅ দাওয়াতঃ ধরুন আপনার কৃষি জমি মাঝখানে। চারপাশে আছে অন্যদের জমি। আপনি জমিতে পানি দেন কিন্ত অন্যরা দেয়না। এক্ষেত্রে আপনার জমির পানি না থাকাই স্বাভাবিক। বিপরীতে আপনি পানি অল্প দিচ্ছেন কিন্ত আপনার চারপাশের জমির মালিক পানি ঠিকমতো দিচ্ছে তাহলে দেখবে আপনার জমিতে পর্যাপ্ত পানি আছে। তাই নিজের চারপাশে দাওয়াত অব্যহত রাখুন। একথা বলার সুযোগ নেই যে আমি আগে ১০০%ভালো হবো তারপর অন্যদের দাওয়াত দিব। কিংবা একথা বলারও সুযোগ নেই যে সাহাবায়ে কেরাম (রা.) এভাবে দাওয়াত দেয়নি, তারা শুধুমাত্র আখলাক প্রদর্শনের মাধ্যমে অমুসলিদের দাওয়াত দিয়েছেন। এই দুটি ভূল ধারণার বিপরীতে সঠিক মত হলো আবু বকর রা. ইসলাম গ্রহণ করে পরবর্তী দুদিনের মধ্যে নয়জনকে দাওয়াত দিয়ে নবী স. এর নিকট নিয়ে আসেন আর বলেন ইয়া রাসূল স. এই আমার দুদিনের মেহনত। তখন রাসূল স. বলেন এগুলো তোমার সারা জীবনের অর্জন। অর্থাৎ তাদের থেকেই বাকীরা ইসলাম গ্রহণ করবে। সাহাবী মুসআব ইবনে উমায়ের রা. এক প্রকার একক দাওয়াতে পুরো মদিনাবাসীকে মুসলিম বানিয়েছে। আল্লাহ তার মাধ্যমে ইসলামের দাওয়াত পৌছে দিয়েছেন মদিনাাবাসীর নিকটে।
তাই প্রতিদিন কমপক্ষে দুজন ভাইকে ইসলামের দাওয়াত পৌছে দিন। মাসে ষাটজন, বছরে ৭২০ জন। দেখবেন একটা সময়ে এর মধ্যে থেকেই আপনার টিম তৈরী হয়ে যাবে সেই টিম নিয়ে আপনি হতে পারবেন পরবর্তী ইতিহাসের অংশ।
সবশেষ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট হলো আপনি যদি দাওয়াতের নিয়তে উম্মাহ গঠনের নিয়তে কাজ করেন আর দৃশ্যমান সফলতা না পান তাহলে আল্লাহর ইচ্ছায় আপনি নিয়ত অনুসারে পরিপূর্ণ সওয়াব পেয়ে যাবেন ইনশাআল্লাহ।
চলুন আজ থেকেই কাজ শুরু করি….