04/02/2026
প্রিয় বোনেরা--সবে বরাত পালন করার আগে লেখাটি পড়ুন😢
⭕ আগামী ০৩ ই ফেব্রুয়ারি রোজ মঙ্গলবার দিবাগত রাত অর্থাৎ দিন শেষ হয়ে যেই রাতটি আসে, সেই রাতটি হচ্ছে “লাইলাতুন নিসফি মিন শা'বান” [মধ্য শা'বানের রাত]
🔲 রাসূল সল্লাল্ল-হু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
“আল্লাহ তা'য়ালা মধ্য শা'বানের রাতে আত্নপ্রকাশ করেন এবং মুশ-রিক ও হিং-সুক ব্যক্তি ব্যতীত তাঁর সৃষ্টির সকলকে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করে দেন।” [ইবনে মাজাহ- ১৩৯০]
🔸 এই রাত্রিতে মহান আল্লাহ তা'য়ালা দুই শ্রেণীর মানুষ অর্থাৎ মুশ-রিক এবং হিং-সুক ব্যতীত সকলকেই ক্ষমা করে দেন। তাই আমাদের সকলের জন্য উচিত হচ্ছে প্রতিদিনের ন্যায় এই রাত্রিতেও বেশি বেশি করে ক্ষমা প্রার্থণা করা।
🔹 তবে বর্তমানে শবে বারা'আতকে কেন্দ্র করে যে সকল মিলাদ-মাহফিল, জলশা-জুলুশ, হালুয়া রুটি... ইত্যাদী খাবারের আয়োজন করা হয়, এসবের কোনো ভিত্তি কুরআন হাদীসে নেই। এসব কাজকে সুন্নাহ এবং জরুরী মনে করে করলে বিদ'আত হবে। আর বিদআতকারীর কোনো ইবাদত আল্লাহ তা'য়ালা কবুল করবেন না এবং সে ব্যক্তি হাউযে কাউসারেরও পানি পাবে না। [বুখারী- ৭২৭৭]
🔸 আবার অনেকে আছে যারা শবে বারা'আতকে কেন্দ্র করে শবে বারা'আতের নিয়তে নির্দিষ্ট করে ১২ রাকাত নফল নামাজ আদায় করে থাকে। এসব আমলেরও কোনো ভিত্তি কুরআন হাদীসে নেই, এসবই মানুষের বানানো আমল
🔹 তবে একটি দুর্বল হাদীসে এই দিনে রোজা রাখার কথা বলা হয়েছে। তাই এই দিনে রোযা রাখা সুন্নত আমল নয়, তবে মুস্তাহাব আমল বলা যেতে পারে। আর যেহেতু একটি দূর্বল হাদীসে নফল রোজা রাখার কথা বলা হয়েছে, তাই কেউ চাইলে এই দিনে নফল রোজা রাখতে পারবে।
⭕ আর রাসূল (ﷺ) শা'বান মাসে খুব বেশি পরিমাণে নফল রোজা রাখতেন, তাই এই মাসের যেকোনো দিন নফল রোজা রাখা যাবে ইন শা আল্লাহ।
🔲 আবার প্রতি আরবী মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ রোজা রাখা সুন্নত। এই রোজাকে আইয়্যামে বীজে রোজা বলা হয়। তাই সেই দৃষ্টিকোণ থেকে এই দিন সমূহে আইয়্যামে বীজের নিয়তে রোজা রাখা যেতে পারে। চলতি মাসের আইয়্যামে বীজের রোজা ০২, ০৩, ০৪ ই ফেব্রুয়ারি অর্থাৎ সোম, মঙ্গল এবং বুধবার রাখতে হবে ইন শা আল্লাহ
🔸 সর্বোপরি মূল কথা হচ্ছে, আপনারা সকলেই রমাদানের প্রস্তুতি স্বরূপ এই রাত্রিতে সাধ্য মোতাবেক কিছু নফল নামাজ (যেমন- সালাতুত তাসবীহ, সালাতুল হাজত, তাহাজ্জুদ), কুরআন তিলাওয়াত, জিকির আযকার, তওবা এস্তেগফার ও অধিক পরিমানে দরূদ শরীফ পাঠ করতে পারেন ইন শা আল্লাহ।