24/05/2022
ওয়ার্ডপ্রেস ফ্রী থিম এবং প্রিমিয়াম থিম এবং ক্র্যাক থিমের মধ্যে পার্থক্য কি?
এই পোস্টে আমি আপনাদেরকে বলবো, ওয়ার্ডপ্রেস ফ্রী থিম, প্রিমিয়াম থিম এবং ক্র্যাক থিম গুলোর মধ্যে পার্থক্য কি, এবং কোনটি থেকে আপনারা কি ধরনের সুযোগ সুবিধা পাবেন, নতুনদের জন্য আজকের এই পোস্টটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ, দয়াকরে সম্পূর্ণ পোস্টটি পড়বেন।
১. Free Theme ফ্রী থিম ব্যবহার করার সুবিধা গুলো হচ্ছে, ওয়ার্ডপ্রেসের হাজারও ফ্রী থিম আছে, যেগুলো আপনারা আপনাদের ইচ্ছে মতো ওয়েবসাইটে ব্যবহার করতে পারবেন, এবং এই থিম গুলো ফ্রী হলেও, থিম গুলোর আপডেট আপনি রেগুলার ফ্রীতেই পেয়ে যাবেন, আর ফ্রী থিম গুলো ব্যবহার করার দিক থেকে অনেকটাই সহজ, এই ফ্রী থিম গুলো ব্যবহার করার জন্য, আপনাকে খুব এক্সপার্ট হতে হবে না, যে কেউ চাইলেই খুব সহজে ফ্রী থিম গুলো মেন্টেন করতে পারবে। ফ্রী থিম ব্যবহার করার অসুবিধা গুলো হচ্ছে, ফ্রী থিম গুলোতে তুলনা মূলক ফিচার অনেক কম থাকে, একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে, যেই ধরনের ফিচার এবং ফাংশনালিটির প্রয়োজন হয়, ফ্রী থিম গুলোতে সেই সব ধরনের ফিচার গুলো পাওয়া যায় না, যার জন্য প্রচুর থার্টপার্টি প্লাগিন এবং সফটওয়্যার ব্যবহার করতে হয়, এবং ফ্রী থিম গুলো ব্যবহার করলে, আপনি কোনো ধরনের ডেডিকেটেড সাপোর্ট পাবেন না, একটি ওয়েবসাইট সেটআপ করার সময়, আপনার টুকটাক হেল্পের প্রয়োজন হতে পারে, আর আপনি যদি ফ্রী থিম গুলো ব্যবহার করেন, তাহলে আপনি সেই থিমের ডেভেলপারদের কাছ থেকে কোনো ধরনের সাপোর্ট পাবেন না, ফ্রী থিম ব্যবহার করার সর্বশেষ অসুবিধাটি হচ্ছে, ফ্রী থিম গুলোর ডিজাইন অনেকটাই লো কোয়ালিটির হয়ে থাকে, কথায়ই আছে প্রথমে দর্শনদারী পরে গুণবিচারী, একটি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট এমন হওয়া উচিত, যেন প্রথম দর্শনেই কাস্টমারদের একটি গুড ইম্প্রেশন তৈরি হয়, কিন্তু ফ্রী থিম গুলোতে সেই ধরনের, প্রফেশনাল ডিজাইন পাওয়াটি খুবই কঠিন একটি ব্যাপার, তারপরেও কিছু কিছু ফ্রী থিমে খুব ভালো কোয়ালিটি ডিজাইন আছে, কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ফ্রী থিম গুলোতে লো কোয়ালিটি ডিজাইন দেওয়া হয়। ওয়ার্ডপ্রেসের ফ্রী থিম গুলো খুঁজে পাওয়ার সবথেকে সেরা মার্কেটপ্লেসটি হচ্ছে WordPress.org, এটি ওয়ার্ডপ্রেস সফটওয়্যারের অফিসিয়াল থিম ডিরেক্টরি, এখানে হাজার হাজার ফ্রী ওয়ার্ডপ্রেস থিম রয়েছে, এখান থেকে আপনার পছন্দ মতো যে কোনো একটি থিমকে পছন্দ করে, আপনার ওয়েবসাইটের জন্য আপনি ব্যবহার করতে পারেন।
২. Premium Theme প্রিমিয়াম থিম ব্যবহার করার সুবিধা গুলো হচ্ছে, প্রিমিয়াম থিম গুলোতে প্রচুর এডভান্স ফিচার পাওয়া যায়, একটি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটের জন্য যত ধরনের ফিচারের প্রয়োজন হতে পারে, প্রিমিয়াম থিম গুলোর মধ্যে সেই সব ধরনের ফিচার দেওয়া থাকে, এবং প্রিমিয়াম গুলো প্রফেশনাল ডিজাইনার দ্বারা ডিজাইন করা হয়, একটি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট সম্পূর্ণ প্রফেশনাল ডিজাইন থাকাটি অত্যন্ত জরুরী, যেন কাস্টমারদের উপর সেই প্রতিষ্ঠানের একটি গুড ইম্প্রেশন তৈরি হয়, পাশাপাশি প্রফেশনাল ডিজাইন একটি প্রতিষ্ঠানের বেন্ড ভেলুও অনেকটা বাড়িয়ে দেয়, এবং প্রিমিয়াম থিম গুলোর সাথে অনেক গুলো এক্সট্রা প্রিমিয়াম প্লাগিন বা সফটওয়্যার ইনক্লুড করা থাকে, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই আপনাকে থার্টপার্টি সফটওয়্যারের পেছনে এক্সট্রা টাকা খরচ করতে হবে না, এবং সর্বশেষ সুবিধাটি হচ্ছে, একটি ওয়েবসাইট সেটআপ করতে গিয়ে, টুকটাক কোনো সমস্যায় পড়লে, সেই সমস্যা গুলোর জন্য আপনি ডেভেলপারদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারবেন, এবং সেই সমস্যা গুলোর সমাধান আপনি তাদের কাছ থেকে নিতে পারবেন। প্রিমিয়াম থিম গুলোর অসুবিধা গুলো হচ্ছে, একটি প্রিমিয়াম থিম কিনতে ৪০ ডলার থেকে ৬০ ডলারের মতো খরচ হতে পারে, আর প্রথম অবস্থায় এই এমাউন্টটি খরচ করে, একটি থিম কেনা অনেকের কাছেই অসুবিধা মনে হতে পারে, কিন্তু আমি বলবো একটি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটের জন্য একটি প্রিমিয়াম থিম ব্যবহার করাটি সবচেয়ে ভালো হবে, এবং আর একটি অসুবিধা হচ্ছে, প্রিমিয়াম থিম গুলো ব্যবহার করা অনেকটাই কমপ্লিকেটেড, বিশেষ করে যাদের ওয়ার্ডপ্রেস সম্পর্কে ধারণা অনেক কম তাদের ক্ষেত্রে এই সমস্যাটি হতে পারে, আপনি যদি ওয়ার্ডপ্রেসে একদমই নতুন হয়ে থাকেন, সেই ক্ষেত্রে আপনাকে একজন প্রফেশনাল ডেভেলপারকে হায়ার করতে হতে পারে, আপনার প্রতিষ্ঠানের জন্য ওয়েবসাইটটি সেটআপ করে দেওয়ার জন্য, যেহেতু প্রিমিয়াম থিম গুলোতে প্রচুর ফিচার থাকে, তাই নতুনদের জন্য ব্যবহার করাটা একটু কঠিন হয়ে যায়। প্রিমিয়াম থিম খুঁজে বের করার, সবচেয়ে জনপ্রিয় একটি মার্কেটপ্লেস হচ্ছে themeforest.net, এই মার্কেটপ্লেস থেকে কোনো থিম বা প্লাগিন আপনি একবার কিনলে, সেটি আপনারা লাইফ টাইমের জন্য ব্যবহার করতে পারবেন, অন্যান্য আরও অনেক কোম্পানি রয়েছে, যারাও অনেক ধরনের প্রিমিয়াম থিম এবং প্লাগিন অফার করে থাকে, কিন্তু সেই মার্কেটপ্লেস গুলোতে প্রতিবছরে তাদেরকে একটি চার্জ দিতে হবে, কিন্তু Themeforest.net থেকে যদি আপনারা কোনো থিম একবার কিনেন, তাহলে সেই থিম বা প্লাগিন আপনারা লাইফ টাইম ব্যবহার করতে পারবেন, আপনাকে বারবার আর সেটি রিনিউ করতে হবে না।
৩. Crack Theme ক্র্যাক থিম গুলোর সুবিধাটি হচ্ছে, আপনারা যে কোনো ধরনের প্রিমিয়াম থিম ফ্রীতে ডাউনলোড করে, সেটি আপনাদের ওয়েবসাইটে ব্যবহার করতে পারবেন, কিন্তু ক্র্যাক থিম গুলোর সুবিধা থেকে অসুবিধা গুলো অনেক বেশি। ক্র্যাক থিম গুলোর অসুবিধা গুলো হচ্ছে, আপনারা ১০০% নিশ্চিত থাকতে পারেন, যে ক্র্যাক থিম গুলোর মধ্যে প্রচুর পরিমাণ ভাইরাস থাকবে, আপনি যদি একদমই নতুন হয়ে থাকেন, বা প্রোগ্রামিং সম্পর্কে আপনার যদি কোনো ধারণা না থাকে, তাহলে আপনি কখনই বুঝতে পারবেন না, যে এই থিম গুলোর মধ্যে কোথায় ভাইরাস আছে, এবং আর একটি অসুবিধা হচ্ছে, একটি প্রিমিয়াম থিম যেভাবে কাজ করার কথা, একটি ক্র্যাক থিম কখনই সেভাবে কাজ করবে না, আপনি একটি ক্র্যাক থিম ব্যবহার করলেই দেখতে পারবেন, অনেক সময় অনেক ফিচার কাজ করবে না, আর একটি অসুবিধা হচ্ছে, আপনি ১০০% নিশ্চিত থাকতে পারেন, যে আপনার ওয়েবসাইট যে কোনো সময় হ্যাক হয়ে যাবে, আপনি যখন একটি ওয়েবসাইট শুরু করবেন, শুরুর দিকে হয়তো আপনার ওয়েবসাইটের কোনো ভেলু থাকবে না, কিন্তু ধিরে ধিরে যখন আপনার ওয়েবসাইটটি ভালো একটি পজিশনে চলে যাবে, ঠিক তখনই আপনার ওয়েবসাইটটি হ্যাক হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনার থাকবে, অনেক থার্টপার্টি ওয়েবসাইটে প্রিমিয়াম থিম গুলো ফ্রীতে ডাউনলোড করা যায়, তারপরেও বেশির ভাগ মানুষ সেই থিম গুলো ব্যবহার করে না, থিমফরেস্টের মতো মার্কেটপ্লেস থেকে লক্ষ লক্ষ ডলারের থিম সেল হচ্ছে, এর কারণ হলো প্রায় সকলেই জানে, এই ধরনের ক্র্যাক থিম গুলোর মধ্যে অনেক ভাইরাস থাকে। আপনি আপনার কম্পিউটারের কথা চিন্তা করে দেখুন, আপনি যখন বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে বিভিন্ন অ্যাপস আপনার কম্পিউটারে ডাউনলোড করেন, তাহলে অনেক সময় আপনাদের কম্পিউটারে ভাইরাস চলে আসে, এবং আপনার কম্পিউটারে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দেয়, থিম গুলোও ঠিক তেমনই আপনি যখন একটি ওয়েবসাইট থেকে বিভিন্ন, ক্র্যাক থিম ডাউনলোড করে আপনার ওয়েবসাইটে ব্যবহার করবেন, তখন আপনাদের ওয়েবসাইটেও বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দিবে, তখন আপনি পরবর্তীতে গিয়ে অনেক ঝামেলায় পরবেন, তাই আপনার প্রতি আমার রিকমেন্ড থাকবে, যদি প্রিমিয়াম থিম কেনার মতো, এই মুহূর্তে আপনার সামর্থ্য না থাকে, তাহলে আপনারা ফ্রী থিম গুলো ব্যবহার করতে পারেন, এতে আপনার কোনো ধরনের সমস্যা হবে না, কারণ ফ্রী থিম গুলো ১০০% সিকিউর থাকে, তারপরেও ক্র্যাক থিম গুলো ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন, এতে ফিউচারে আপনি বিভিন্ন ধরনের জামেলা থেকে বেঁচে যাবেন, এছাড়াও আপনি যদি স্টুডেন্ট হয়ে থাকেন, এবং আপনারা যদি আপনাদের ক্লানিটের জন্য, একটি ওয়েবসাইট ডেভেলপ করতে চান, এই ক্ষেত্রেও আপনাকে এই বিষয় গুলো সম্পর্কে একটি সম্পূর্ণ ধারণা রাখতে হবে, কোনো ক্লাইন্টই ক্র্যাক থিম ব্যবহার করবে না, তারা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই প্রিমিয়াম থিম গুলো ব্যবহার করে থাকে, আর তানাহলে ফ্রী থিম ব্যবহার করে, কিন্তু ক্র্যাক থিম কখনই ব্যবহার করে না। আজকের এই পোস্টে আমি আপনাদেরকে, ওয়ার্ডপ্রেস ফ্রী থিম এবং প্রিমিয়াম থিম এবং ক্র্যাক থিম গুলোর সম্পর্কে সম্পূর্ণ ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করেছি, যদি পোস্টটি বুঝতে কোনো ধরনের সমস্যা হয়, এবং আপনার যদি আমাদেরকে কোনো প্রশ্ন করার সাথে, তাহলে এই পোস্টের নিচে কমেন্ট করে জানিয়ে দিতে পারেন। পোস্টটি ভালো লাগলে আপনাদের সকল বন্ধুদের সাথে শেয়ার করে দিবেন, সবাই ভালো থাকবেন, সম্পূর্ণ পোস্টটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ।