01/03/2025
রমজান মাসের রোজা শুধু উম্মতে মুহাম্মাদীর জন্য ফরজ নয়, বরং অতীতের নবী-রাসুলদের উম্মতের ওপরও রোজা ফরজ ছিল। যদিও তাদের রোজার সময়, পদ্ধতি ও বিধান কিছুটা ভিন্ন ছিল।
📖 কোরআনের ভাষায় রোজার বিধান:
আল্লাহ তাআলা বলেন—
"হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর, যাতে তোমরা তাকওয়াবান হতে পারো।" (সুরা বাকারা: ১৮৩)
পূর্ববর্তী উম্মতদের রোজার বিধান
🔹 আদম (আ.)-এর যুগ:
আদম (আ.)-এর সময় প্রতি চান্দ্রমাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ রোজা রাখার বিধান ছিল, যা "আইয়ামে বিজ" নামে পরিচিত। এ রোজা ছিল আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের অন্যতম মাধ্যম।
🔹 নুহ (আ.)-এর যুগ:
নুহ (আ.)-এর সময়ও রোজার প্রচলন ছিল। বর্ণিত আছে, তিনি পুরো বছরই রোজা রাখতেন, শুধু ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার দিন বাদে।
🔹 মুসা (আ.)-এর যুগ:
বনি ইসরাইলের জন্য আশুরার রোজা ফরজ ছিল। মুসা (আ.) যখন তাদেরকে ফেরাউনের হাত থেকে মুক্ত করেন, তখন কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্য আশুরার দিন রোজা রাখেন। ইহুদিরাও এই দিন রোজা পালন করত। মহানবী (সা.) মদিনায় এসে তাদের রোজার কথা শুনে বলেন, "আমি মুসার (আ.) অনুসরণে তোমাদের তুলনায় বেশি হকদার।" এরপর তিনি নিজেও আশুরার রোজা রাখেন এবং সাহাবাদেরও রাখতে বলেন।
🔹 দাউদ (আ.)-এর যুগ:
দাউদ (আ.) এমনভাবে রোজা রাখতেন, যাতে তা দৈনন্দিন জীবনে ভারী না হয়ে যায়। তিনি একদিন রোজা রাখতেন এবং একদিন বিরত থাকতেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় রোজা হলো দাউদ (আ.)-এর রোজা।"
🔹 ঈসা (আ.)-এর যুগ:
ঈসা (আ.) ও তাঁর উম্মতের জন্যও রোজার বিধান ছিল। মরিয়ম (আ.)-এর কোরআনে উল্লেখিত বক্তব্য থেকে বোঝা যায় যে, রোজা শুধু খাবার থেকে বিরত থাকার জন্য ছিল না, বরং কথাবার্তা ও যোগাযোগ থেকেও বিরত থাকার বিধান ছিল।
উম্মতে মুহাম্মাদীর জন্য রমজানের রোজা ফরজ হওয়া
নবী (সা.)-এর আগমনের আগে জাহিলি যুগের লোকেরা আশুরার রোজা পালন করত। রাসুলুল্লাহ (সা.)-ও রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার আগে এই রোজা পালন করতেন। পরে রমজানের রোজা ফরজ হলে আশুরার রোজাকে নফল করা হয়।
অবশেষে দ্বিতীয় হিজরির শাবান মাসে রমজানের রোজা ফরজ করা হয়। কোরআনে বলা হয়েছে—
"রমজান মাস, এতে নাজিল করা হয়েছে কোরআন, যা মানুষের জন্য হেদায়েত, সত্য পথের স্পষ্ট নির্দেশনা এবং ন্যায় ও অন্যায়ের সুস্পষ্ট পার্থক্য। তাই তোমাদের মধ্যে যে এ মাস পাবে, সে যেন রোজা রাখে।"