07/01/2023
Collected from programming-hero.com
আমি আজকে যদ্দুর এসেছি, তদ্দুরের শুরু হয়েছিল এক বছর আগে একটা সিদ্ধান্তের মাধ্যমে।
আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যে, আমি এবার যতই-যা-হোক সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টে লেগে থাকবো। হ্যাঁ, আমার চারপাশ ও আমার ভেতর জুড়ে যদি "আমি কিচ্ছু জানি না", "আমি কিছুই পারি না", "আমাকে দিয়ে সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট হবে না", "আমি পারবো না"— এমন আশাহত জিনিসপত্রে আঁধার ঘনিয়েও আসে, তাও আমি লেগে থাকবো। হ্যাঁ, এরপর আঁধার অনেকবার ঘনিয়েছে। And I did not give up or give in— আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল 'আলামিন।
ফ্লাটার দিয়ে শুরু করেছিলাম। মাস ৪-৫ ফ্লাটার নিয়ে কাজ করেছিলাম ও অনেক পড়াশুনা করেছিলাম। Flutter the Complete Reference বইটা প্রায় পুরোটা পড়ে শেষ করেছি। আত্মবিশ্বাস অনেক ভালো পর্যায়ে ছিল। ফ্লাটার নিয়ে তা এখনো আছে, আলহামদুলিল্লাহ।
Turing. com-এ ফ্লাটার টেস্ট দিয়েছিলাম। পাশ করেছিলাম। কিন্তু টুরিং কমপক্ষে ৩ বছরের অভিজ্ঞতা চায়, যা আমার নেই।
এরপর আপওয়ার্কে একাউন্ট খুলে দেখলাম যে, ওরা নতুন Skill Certification চালু করেছে। কিন্তু ফ্লাটারে স্কিল সার্টিফাই করার অপশন ছিল না। Javascript Frontend Skill Certification ১ম ধাপে পাশ করলেও দ্বিতীয় ধাপে ফেল। তখন আবার সত্তা জুড়ে "আমাকে দিয়ে হবে না" চেপে বসেছিল অন্ধকার হয়ে। তখন ঐ সিদ্ধান্তের প্রতি প্রতিশ্রুতি মনে পড়লো। সেই প্রতিশ্রুতির যুগানো সাহসে হাল ছাড়িনি। এটা ছিল ২য় সেরা সিদ্ধান্ত।
এরপর আমাদের এই কোর্সের ৫ম ব্যাচের স্টুডেন্ট আমার এক বন্ধু এই কোর্সের কথা বললো। তখন আমার মনে হয়েছে, আল্লাহ মনে করিয়েছেন যে, আমি ফ্লাটারে যা-ই করেছি, সবকিছু এসেছে Patience থেকে। (প্রোগ্রামিং হিরো এই মনে হওয়াটাকে শক্ত করেছে বারবার।) আমি ফ্লাটারে এমন অনেক কিছু করেছি, তখন প্রজেক্টের অন্য অংশে গিয়েও আমার ওই অংশের কথা মনে পড়তো, যা আমি ভাবিনি যে, এমন কিছু আমি পারবো, অথবা অমন কিছু করা বা পারা বা না-পারার কথা আমি কোনোদিন ভাবনাতেও আনিনি। আমি প্রজেক্ট চলাকালীন এখন যে ফাইলে কাজ করছি, সেখান থেকে ওই ফাইলে গিয়ে কোডগুলো দেখতাম। অবাক হতাম, মুগ্ধ হতাম— আমি লিখেছি এই কোড! আলহামদুলিল্লাহ!
যাই হোক, যখন মন বুঝলো যে, ফ্লাটারে যা শিখেছি, সব এসেছে Patience থেকে, তখন আরো বুঝলাম— আমি মাস ছয় আগে ফ্লাটার-ডার্ট কিছুই জানতাম না। এখন যা জানি, একটি জিনিসই আমাকে সব এনে দিয়েছে— Patience। তখন নিজের ভেতরের অস্থিরতা থামালাম। দ্রুত কিছু করতে হবে, সে চিন্তা বাদ দিলাম। এবার ধীরেসুস্থে আগানোর সিদ্ধান্ত নিলাম। কন্ট্রোল জীবনের হাতে দিলাম। একটা নিঃশ্বাস ফেলে মাথা ও বুক হালকা করলাম। আর জীবনের দেওয়া সময় শান্ত মনে কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত নিলাম। শিখেছি— মন শান্ত করলে সব সম্ভব। React-এর কনসেপ্ট, Javascript, CSS, MongoDB— সবকিছুর চেয়ে বেশি দরকার এবং সবকিছুর জন্য দরকার শান্ত মন— A Patient Heart, A Calm Mind। Be Patient with having Nothing, Be Calm with having Nothing। কিচ্ছু জানেন না, কিচ্ছু পারেন না, আপনাকে দিয়ে হবে না— এই সব মেনে নিয়ে লেগে থাকেন।
বন্ধুর কথামত কোর্সে ভর্তি হওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। আমার বন্ধু আমার ওপর বিশ্বাস করেছে— “এই কোর্স থেকে তুমি অনেক কিছু নিতে পারবা।” কিন্তু পকেট পুরো খালি। কিছুদিন ভাবলাম যে, যাক, ভর্তি না-ই হলাম। ঝংকার স্যারের এক পোস্টে কমেন্ট করলাম, “আমাদের যাদের কোর্সে ভর্তি হওয়ার সামর্থ্য নেই, তাদের জন্য ওয়েব ডেভেলপার হওয়ার কোনো গাইডলাইন… … …।” তখন আরেক বন্ধু তার নিউজ ফিডে ঝংকার স্যারের পোস্টে আমার কমেন্ট দেখে সেধে এসে ভর্তি ফি ধার দিলো, যা আজো শোধ করিনি ও করতে পারিনি।
আমি আমার ১৬ বছরের শিক্ষাজীবনে এতো খাটিনি, যা এই ছয়মাসে খেটেছি। কোর্সের সব কাজ করার সাথে সাথে বই পড়েছি— Learning Javascript (Brown), Javascript the Definitive Guide (Flanagan), 30 Days of React, React and React Native (Boduch)— কোর্সের টেকগুলোর অফিসিয়াল ডক— আর্টিকেল।
"ধৈর্য দিয়ে কি কিছু হবে?", "তাড়াহুড়ো করেও পারিনি, এখন এভাবে আগালে কি হবে?" তাড়াহুড়োতেই কিছু হয় না। ধৈর্যে ও ধীরসুস্থেই সব হয়। এসব প্রশ্নের উত্তর ও সাহস আমাকে প্রোগ্রামিং হিরো দিয়েছে বারবার। সময়ে সময়ে নিজের শিক্ষকদের কাছে এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার শক্তি শব্দে বুঝানো সম্ভব না।
তাই, প্রোগ্রামিং হিরোকে বলবো— “To inspire is the greatest of teaching”। ঝংকার স্যার ও প্রোগ্রামিং হিরো টিম শিক্ষার্থীদেরকে ইন্সপায়ার করেন অবশ্যই। Make it a ‘planned’ agenda of Programming Hero, if it’s not already।
এই ছয় মাসে অনেক আর্থিক সমস্যার ভেতর দিয়ে গিয়েছি, অবশ্য কোভিড পরিস্থিতির শুরু থেকেই। এই ছয়মাসে অবস্থা বেশি খারাপ হয়েছে। একটা ডিম ভেজে তিনবেলা-পাঁচবেলা চালিয়েছি। তিনবেলা-চারবেলা যেন চালানো যায়, সেজন্য শুধু ডিম ভাজিনি, ডিমের সাথে পেঁয়াজ-মরিচ দিয়েছি। ভাজার সময় খেয়াল করেছি— আমি পেঁয়াজ-মরিচ দিয়ে ডিম ভাজতেছি না; আমি ডিম দিয়ে পেঁয়াজ-মরিচ ভাজতেছি :D । এই তেল-ডিমও এক পরিচিত ভাইয়ের দোকান থেকে বাকিতে নেওয়া। দিনের পর দিন আলুভর্তা দিয়ে ভাত খেয়েছি। যে বাসায় এখন থাকি, সেটা এক পরিচিত বড় ভাইয়ের। গত রমযানের ঈদের আগের দিন উঠেছি। এখনও ভাড়া দেইনি, উনিও চাননি।
হ্যাঁ, ভাবতে গেলে এই ছয় মাস অনেক কঠিন। “আমাকে দিয়ে কিছু হবে না” অনুভূতি ভয় দেখাতো যে,”আমাকে দিয়ে কিছু হবে না”, তাই লেগে থাকলে না খেয়ে থাকতে হবে। কিন্তু না, না খেয়ে থাকতে হয়নি। আল্লাহ আপনার জন্য রিযিক রাখলে, সেটা ঠিকই চলে আসবে।
শুনতে যতটা ভয় লাগে, এমন ছয়মাস আসলে তত কঠিন না। আলহামদুলিল্লাহ!
ডেভেলপমেন্টের সাথে আমার পরিচয় ২০১৮ সালে। এরপর ২০১৮, ২০১৯, ২০২০ আমি মাঝেমধ্যেই ডেভেলপমেন্ট ধরেছি। যখনই মনে হয়েছে যে, “আমাকে দিয়ে হবে না”, ছেড়ে দিয়েছি। অনেকবার। তখন যদি না ছেড়ে লেগে থাকতাম, আমার আজকের দিন হয়তো আরো আগেই আসতো।
আমার ইউনিভার্সিটি ম্যাজর ছিল কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং। কমপ্লিট করা হয়নি। I enjoyed Computer Science, I still do। কিন্তু ডেভেলপমেন্টে আমি তাল পাচ্ছিলাম না, ২০১৮-তে শুরুর পরেও।
কীসের অভাব ছিল আমার মাঝে? ধৈর্য।
কিন্তু আমি জীবনে অন্যদের ওপর ধৈর্য ধরে নিজেকে অনেকভাবে ধ্বংস করেছি। ধৈর্যের অভাব আমার মাঝে ছিল না। ছিল নিজের প্রতি ধৈর্যের অভাব।
এই পোস্টে এখন পর্যন্ত কী বলেছি, ভুলে যান। আমার একটাই কথা— Be Patient with Yourself।
এই ছয়টি মাস— I focused on being Patient with Myself— and ‘Programming Hero’ guided me, with Love and Care, through Technical and Interpersonal Skills— আমি ধৈর্যের সাথে এই ফ্লোতে থেকেছি।
নিজের ওপর ধৈর্য ও প্রোগ্রামিং হিরোর গাইড্যান্সে অর্জিত স্কিল মিলিয়ে— গত জানুয়ারি ০২, ২০২৩-এ অস্ট্রেলিয়া-বেসড স্টার্ট-আপ Enegotz Technologies-এ Fullstack Software Engineer হিসেবে যোগ দিয়েছি। দিন কয়েক আগে আপওয়ার্কে Javascript Frontend Skill Certification Test-এ পাশ করেছি। দু’আ ও শুভকামনা চাচ্ছি সবার কাছে।
সপ্তম ব্যাচে আমার এক ছাত্রকে ভর্তি করিয়েছি।
ঝংকার মাহবুব ( Jhankar Mahbub ) ভাইকে ধন্যবাদ ও ভালোবাসা প্রোগ্রামিং হিরোর জন্য, আর আমার শেষ ছয়মাসের জন্য। জব প্লেসমেন্ট টিমের শুভ ভাই, তারিক ভাই ও আবদুল্লাহ আল হাবিব (Abdullah Al Habib) ভাইসহ সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা।
সবাইকে বলে শেষ করি— মেনে নেন যে, “আপনাকে দিয়ে কিছু হবে না”। এরপর লেগে থাকেন। “আপনাকে দিয়ে কিছু হবে না” মেনে নিয়ে যখন লেগে থাকবেন, তখন আপনি আসলে “কিছু হতে হবে” ধরণের কোনো শর্ত বাদে নিজেকে সুযোগ দিচ্ছেন, নিজেকে নিঃশর্ত সুযোগ দিচ্ছেন। That’s when You are being patient with yourself। আপনি নিজেকে সুযোগ না দিলে প্রোগ্রামিং হিরোর সুযোগ কাজে আসবে না। Be Patient with Yourself।
Personalized, fun, and interactive learning process. Enjoy our gamified courses to master python, Web development, cyber security, C, C++ course and more.