12/03/2026
ভিক্ষা নয়, কাজের মূল্য শিখতে হবে
সম্প্রতি একটা বিষয় খুব বেশি চোখে পড়ছে—সমাজে ভিক্ষা করার প্রবণতা যেন দিন দিন বেড়েই চলেছে। প্রতিদিন আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বা বাসায় অনেক মানুষ আসে সাহায্যের জন্য। আমি চেষ্টা করি আমার সামর্থ্য অনুযায়ী কাউকে খালি হাতে ফিরিয়ে না দিতে।
কিন্তু আজ একটা ছোট ঘটনা আমাকে অনেক বড় একটা প্রশ্নের সামনে দাঁড় করিয়ে দিল।
আজ আমার দোকানের সামনে অনেক ধুলোবালি জমে ছিল। এমন সময় একজন সুস্থ-স্বাভাবিক পুরুষ মানুষ সাহায্যের জন্য এলো। আমি তাকে বললাম—
“ভাই, আপনি যদি একটু এই জায়গাটা পরিষ্কার করে দেন, আমি আপনাকে টাকা দেব।”
সে কোনো দ্বিধা না করেই বললো—
“আমি কাজ করতে পারি না।”
কিছুক্ষণ পর একজন সুস্থ মহিলা এলেন সাহায্যের আশায়। আমি তাকেও একই প্রস্তাব দিলাম—
“কাকী, আপনি যদি এই জায়গাটা পরিষ্কার করে দেন, আমি আপনাকে ভালোভাবে টাকা দেব, শুধু সাহায্যের মতো নয়।”
কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়—
তিনিও বললেন, “আমি এসব কাজ করতে পারবো না।”
সেই মুহূর্তে মনে একটা প্রশ্ন জাগলো—
আমরা কি ধীরে ধীরে কাজের চেয়ে ভিক্ষাকেই সহজ পথ হিসেবে বেছে নিচ্ছি?
আমার বিশ্বাস, কাজ কখনো ছোট নয়। ছোট কাজ করে উপার্জন করাও সম্মানের।
সমাজে অনেক সত্যিকারের অসহায় মানুষ আছেন—তাদের সাহায্য করা অবশ্যই আমাদের দায়িত্ব।
কিন্তু যারা সুস্থ, সক্ষম—তাদের কাছে আমার ছোট্ট অনুরোধ,
ভিক্ষার হাত নয়, কাজের হাত বাড়ান।
কারণ—
ভিক্ষায় হয়তো টাকা পাওয়া যায়, কিন্তু কাজে পাওয়া যায় সম্মান।