06/01/2024
শেহনাজ হুসেইন
"বিউটি কেয়ারের রানী" হিসাবে সমাদৃত হয়েছেন "শেহনাজ হুসেইন"।জন্ম ভারতেই।
স্কুল শেষ হতেই ১৫ বছর বয়সেই তার বিয়ে হয়ে যায়। ১৬ বছর বয়সেই তিনি মা হন। নিজে কিছু একটা করতে চেয়েছেন তিনি। প্রচন্ড উচ্চাকাঙ্খী ও ছিলেন ।যেহেতু, লিখতে ভালোবাসতেন, তাই ইরান ট্রিবিউনের জন্য বিভিন্ন বিষয়ে অনেক লিখতে শুরু করলেন।
সপ্তাহে ১ হাজার শব্দ লিখতেন, কিন্তু তার লেখার মান ভালো হওয়াতে তাকে পুরো ইংরেজি পত্রিকার দিক গুলো দেখতে বলা হয়েছিলো। তখন কার সময়ে " ম্যানুয়াল টাইপরাইটার" ছিল।টাইপ করার টার্গেট ও সময়সীমা সামলে উঠতে তিনি অনেক বেশিই দ্রুত টাইপ করতেন।ফলস্বরূপ এক পর্যায়ে তার আঙুল দিয়ে রক্ত পড়তে থাকে, তবুও তিনি থামেন নি, ব্যান্ডেজ বেঁধে টাইপ করেছেন, তার ধ্যান ব্যাথার দিকে ছিলোনা। চিকিৎসা নিতে গেলে রাশিয়ান ডাক্তার তাকে বলেন "আপনি যদি টাইপ করা বন্ধ না করেন তবে আমাকে আপনার আঙ্গুলগুলি কেটে ফেলতে হবে।"
হার্ভার্ড বিজনেস স্কুল তাকে একটি আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠার সাফল্যের গল্প বলার জন্য আমন্ত্রণ জানায় এবং তার গল্প গুলোই হার্ভার্ড কেস স্টাডির পাঠ্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
শেহনাজ হুসেইন কে তার পড়াশুনার জন্য টাকার দরকারেই আয় করতে টাইপ করতে হত,আর তিনি পড়ালেখাকে অন্য কোন কিছুর সাথে অপশন হিসেবে বেছে নিতে পারবেন না তা নিজেও জানতেন।তিনি ডক্টর কে জিজ্ঞাসা করলে,তার আঙুল কেটে ফেললে বাকি আঙুলের অংশ দিয়ে তো টাইপ করতে পারবেন।তাই আঙুল কেটে ফেলার জন্য ও তিনি পূর্বপ্রস্তুতি নিয়ে নিয়েছিলেন মানসিক ভাবেই, তবু টাইপ বন্ধ করবেন না,পড়াশুনা চালিয়ে যাবেন।
তিনি তখন উচ্চ শিক্ষিত না হওয়া সত্ত্বেও - নিজেকে শিক্ষিত করার জন্য উপার্জন করেছেন। চার্লস ডিকেন্স এর একটা উক্তি আছে__
"There is nothing so strong or safe in an emergency of life as the simple truth."
হ্যাঁ! তিনি প্রয়োজন ও বাস্তবতার সাথে লড়াই করে দেখিয়েছেন।
✍️তিনি তার শিক্ষা ও অভিজ্ঞতাকে কি কাজে লাগিয়েছেন???
লন্ডনে পড়াশুনা ও প্রশিক্ষণের সময় তিনি দেখলেন যে,রাসায়নিক ও ক্যামিকেল প্রসাধনীর ক্ষতি অনেক মারাত্মক পর্যায়ের। তিনি উদ্যোগ নিলেন প্রাকৃতিক উপাদানের সমাহারেই প্রসাধনী নিয়ে ভাববেন।
আয়ুর্বেদের উপর ভিত্তি করে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের প্রতিকার সহ, ত্বক এবং চুলের সমস্যার সমাধানে তারই উদ্যোগের প্রসাধনীকে বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে সফল হয়েছেন।৪০ বছরের ও বেশি সময় ধরে শেহনাজ হুসেইনের ভেষজ ও ক্যামিকেল মুক্ত প্রসাধনী সবার কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। খুব নিখুঁত পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যেমে তার পণ্য গুলো তৈরি করা হচ্ছে।প্রথমে তার বাসাতেই একটা ছোট পার্লার থেকেই শুরু হয়েছিলো উদ্যোগের গল্প টা।
আয়ুর্বেদিক চিকিৎসার আশ্রয়ে তিনি উদ্ভিদজাত পণ্য এবং প্রাকৃতিক পদার্থ ব্যবহার করেছেন তার সব প্রোডাক্টসে। তার মতে নিরাপত্তা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
শেহনাজ হুসেইন এর ব্যাক্তিত্ব ও অর্জন সম্পর্কে আমার বলার ও প্রয়োজন নেই বলেই আমি মনে করি। কেননা,তার অর্জন ও তার পরিচয় এর কথা সবাই-ই কম বেশি জানি। তবে তার মত একজন ডেডিকেটেড মানুষ এর থেকে আমরা সব থেকে বড় যে ম্যাসেজটা পাই তা হচ্ছে আমি বা আপনি যাই করি না কেন?আমাদের কে পড়াশুনা করতে হবে। সেটা ইন্টারনেট হোক গুগল হোক,বা যেভাবেই হোক।
এই পোস্ট এর মূল ব্যাপার টা যেই অনুপ্রেরণাদায়ক শেহনাজ হুসেইন কে নিয়ে তিনি পড়ালেখা না করলে কখনোই সর্বত্র তার প্রাকৃতিক উপাদানের প্রসাধনী গুলো ছড়িয়ে দিয়ে মানুষের কল্যাণে নিজের জ্ঞান কে কাজে লাগাতে পারতেন না।ক্যামিকেল ও প্রাকৃতিক উপাদানের মধ্যেকার যে তফাৎ এটা বুঝতে হলে এবং বুঝাতে হলে ও তাকে সে বিষয়ে বিজ্ঞ হতে হয়।
একজন শেহনাজ হুসেইন ভালোবেসেছেন পড়াশুনাকে৷ সে আজ তার নামে গুগলে সার্চ দিলে শত শত কন্টেন্ট, ইউটিউবে অসংখ্য ভিডিও পেয়ে যাচ্ছি।না,সবাই তো শেহনাজ হুসেইন হবে না,এক একজন মানুষ পড়াশুনাকে তার ক্যারিয়ারে কাজে লাগিয়ে নিজ নিজ স্বপ্নপূরণে এগিয়ে যেতে পারব।
পড়াশুনার প্রতি আবেগ ও আগ্রহ থাকা টা সব থেকে বেশি দরকার।
___________________________________________
ছবি: সংগৃহীত
Naimatul Jannat