14/05/2023
ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’ -এর খবর আপনারা নিশ্চয় শুনেছেন। ঘূর্ণিঝড়গুলোকে আমরা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন নামে নামকরণ করতে দেখি।
কিন্তু কেন ও কীভাবে এই নামকরণ করা হয়?
এক সময় ঘূর্ণিঝড়ের কোনো নাম রাখা হতো না। এজন্য দেখবেন অনেক আগের ঘূর্ণিঝড়গুলোর কোনো নাম পাওয়া যায় না। সেগুলোকে বছর বা সালের নামে চিহ্নিত করা হতো। ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ করলে ঘূর্ণিঝড়ের শক্তি, ধরন সম্পর্কে সহজে প্রচার করা যায়। আবহাওয়া সংস্থাগুলোর মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান সহজ হয়। মানুষজনকে সতর্ক করা সহজ হয়। এসব বিষয় মাথায় রেখে ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণের প্রচলন শুরু হয়। ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ করে আন্তর্জাতিক আবহাওয়া সংস্থা ওয়ার্ল্ড মেটিওরোলজিক্যাল অর্গানাইজেশন (WMO)। WMO বিশ্বের পাঁচটি বিশেষ আঞ্চলিক আবহাওয়া সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে ২০০৪ সাল থেকে ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ করে আসছে।
আমাদের বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়ের নামের তালিকা অনুমোদন করে আঞ্চলিক কমিটির একটি প্যানেল। যার সদস্য হলো: ভারত, শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ, মালদ্বীপ, মিয়ানমার, ওমান, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, ইরান, কাতার, সৌদি আরব, ইয়েমেন ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। ২০১৮ সালে এই কমিটির ১৩টি দেশ ১৩টি করে নাম দেয়। নামকরণের ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় মেনে চলা হয়। যেমন:
১. নামগুলো রাজনীতি বা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, ধর্মীয় বিশ্বাস, সংস্কৃতি বা লিঙ্গ নিরপেক্ষ হতে হবে।
২. বিশ্বের কোনো অঞ্চলের কোনো মানুষের অনুভূতিতে আঘাত করে, এমন নাম দেওয়া যাবে না।
৩. নাম রূঢ় হতে পারবে না।
৪. এটি সংক্ষিপ্ত ও সহজে উচ্চারণযোগ্য হতে হবে।
৫. নামে সর্বোচ্চ ৮টি বর্ণ থাকতে হবে।
৬. নামের সাথে উচ্চারণও প্রদান করতে হবে।
এরকম বেশ কিছু শর্ত মেনে বিশ্বের ৫টি অঞ্চল কতকগুলো নাম প্রদান করে থাকে। এভাবে ৬ বছরের জন্য নাম নির্ধারণ করা হয় এবং সেখান থেকে নামগুলো নিয়ে ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ করা হয়।
তো ‘মোখা’ নামটি কোত্থেকে এল?
মোখা নামটি ইয়েমেনের দেওয়া। মোখা ইয়েমেনের বন্দর শহরের নাম। শহরটি কফির বাণিজ্যের জন্য সুপরিচিত। এবারের ঘূর্ণিঝড়ের নামটি সেখান থেকেই নেওয়া।
তথ্যসূত্র: প্রথম আলো, উইকিপিডিয়া