16/11/2022
বিলাশী
----পাঠ ৪
সেদিন আমি দুইটি টাকা দান করে বুঝতে পারলাম যে গরীব দুঃখী মানুষ জন দের সাহায্য বা সেবা করার মাঝে যে কতটুকু আনন্দের হয়।তখন আমার মনে আমার মনে হলো জ্ঞানী গুনীজনরা ঠিক কথাই বলে গেছেন। জীবে দয়া করে যে জন,
ঈশ্বরকে সেবা করে সেই জন,প্রত্যেকটা জীবের মাঝেই ঈশ্বরের অবতার। ঐ দিক দিয়ে বাবার বাজার করা প্রায় শেষ। তাই সেই দিনের মত আমি বাজার থেকে বাজার নিয়ে বাড়ি চলে আসলাম। সেই দিন সারা রাত একটুও ঘুম হয়নি আমার। সারা রাত শুধু ভেবেছি যে,যাদের অনেক টাকা পয়সা আছে তারা যদি গরীব দুঃখী কষ্ট মানুষের পাশে একটু দাড়াতো তাহলে হয়তো গরীব দুঃখী মানুষের কোন দুঃখ কষ্ট থাকতো না।মনে মনে চিন্তা করতে লাগলাম, আজ যদি সৃষ্টিকর্তা আমাকে অনেক টাকা পয়সা ধনদৌলত দিত তাহলে প্রায় সবকিছু গরীব দুঃখীর মাঝে বিলিয়ে দিতাম। হয়তো সৃষ্টিকর্তা আমাকে টাকা পয়সা দেয়নি,যাক হাজার কেটি সুখে আছি বৃদ্ধ মহিলার চেয়ে সৃষ্টি কর্তার অশেষে বাজারে আসলাম।বাবার কাছ থেকে খাবারের কথা বলে টাকা নিয়ে আজও বৃদ্ধা মহিলাকে দিয়ে দিলাম। এভাবে প্রায় অনেক দিন এক টাকা,দুই টাকা করে দিতে লাগলাম। আর লক্ষ্য করিতে লাগিলাম আমি যখন মহিলাটিকে টাকা দেই, তখন মহিলাটি অশ্রুভেজা চোখে আমার দিকে তাকিয়ে কী যেন ভাবতে থাকে। একনি করে,একদিন বৃদ্ধাটি আমাকে বলিতে লাগিল তোমার নাম কী বাবা? তোমার বাড়ী কোথায়? আমি বৃদ্ধাটির উওরে বলিলাম আমার নাম আপন,আমার বাড়ী পাশের গ্রামেই।আরও বলিতে লাগিল কী কর তুমি? বৃদ্ধাটির কথায় আমি বুঝিতে পারলাম যে মহিলাটি অনেক শিক্ষিত হইবে।আমি এবারে প্রশ্নের কোন উওর দেই নি।নিরব হয়ে বসে আছি তাহার কাছে। আমার নিরবতা দেখে, আমাকে আবার প্রশ্ন করিতে লাগিল তখন আমি আর নিরব হয়ে থকিতে পারিলাম না।আমি লেখাপড়া করি বুড়ি মা,আমি যখন বৃদ্ধাটিকে মা বলিয়া ডাকিলাম তখন আমার কথা শুনিয়া বৃদ্ধাটি হাউমাউ করিয়া কাদিঁতে লাগিল।বৃদ্ধ মহিলাটির কান্না শুনিয়া আমি মনে মনে ভাবিতে লাগিলাম যে,হয়তো আমাকে দেখিয়া তাহার সন্তানের কথা মনে পরিয়া গেল।কান্না দেখিয়া আমি বলিলাম বুড়ি মা আপনি কাদিতেছেন কেন?আমার কথা শুনিয়া বুড়িমা আরও বেশি করে কাদিঁতে লাগল।আমি আবার বলিলাম বুড়ি মা আপনি কাদিতেছেন কেন।বুড়ি মা আমার কথার কোন উওর দেয়নি।শুধু কাদিঁয়া চলিছে।বুড়ি মার কান্না দেখিয়া আমারও ভেতর টা কেমন জানি করিতেছে।আমারও কেমন জানি কান্না আসিতেছে। তাই এখনে বেশিক্ষণ থকিতে পারছিলাম না।