15/12/2024
আপনি কি ৫০০ টাকার জিনিস ৭০০ টাকা দিয়ে কিনবেন?
একজন আপু আমাদের ফেসবুক পেইজে মেসেজ দিয়েছে উনি নাকি কয়েক জায়গায় কয়েকবার এডভারটাইজিং করিয়েছেন কিন্তু কোনো রেসপন্স পান নি। আমি তখন উনার পেইজ টা ঘুরে দেখলাম উনি অন্য একজন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে প্রোডাক্টের ছবি এনে সেই ছবিগুলো ফেসবুক পেইজে আপ্লোড করে সেল করার চেষ্টা করছে, এবং সেখানে সেল করতে ব্যর্থ হচ্ছে।
উনার অর্ডার না পাওয়ার উল্লেখযোগ্য কারণ হচ্ছেঃ
👉 অরিজিনাল বিক্রেতা যে ছবি দিয়েছেন, উনি সেটা দিয়ে ফেসবুক এ এডস চালাচ্ছেন, হতে পারে অরিজিনাল সেলার একই ছবি দিয়ে ফেসবুক এ আগে এড চালিয়েছেন। সেক্ষেত্রে আপনি যখন একই ছবি দুই পেইজ থেকে আপ্লোড দিবেন ফেসবুক প্রথমবার আপ্লোড হওয়া ছবিটাকেই অরিজিনাল মনে করবে এবং পরবর্তীতে সেই ছবিগুলো অন্য পেইজ থেকে আপ্লোড দিয়ে এড চালালে রেসপন্স ভালো আসে না, অনেক সময় পেইজ কনটেন্ট কপি করার জন্য পেইজ রেস্ট্রিকটেড করে দেয়।
👉 একটা পেইজের কনটেন্ট দেখে যদি প্রফেশনাল মনে না হয়, কোনো একটা দোকানের মধ্যে ছবি তোলা বা প্রোডাক্ট প্রেজেন্টেশন খুবই অগোছালো এবং পোস্টের ক্যাপশনের সাথে প্রোডাক্টের মিল না থাকে। তাহলে ক্রেতারা বুঝতে পারে যিনি বিজ্ঞাপন দিচ্ছেন, তিনি অরিজিনাল সেলার না হয়তো রিসেলার বা অপ্রফেশনাল কেউ, সেক্ষেত্রে অর্ডার করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে না।
👉 যারা রিসেলার হিসেবে কাজ করে তারা সাধারণত প্রোডাক্টের দাম বাড়িয়ে বিক্রি করে থাকে, সেক্ষেত্রে ৫০০ টাকার জিনিস ৭০০-৮০০ বা ক্ষেত্রবিশেষ এ আরো বেশি দামে বিক্রি করা হয়। আপনি কি চাইবেন ৫০০ টাকার জিনিস ৭০০ টাকা দিয়ে কিনতে?
👉 অনলাইন এ যারা কেনাকাটা করে তারা অনেক চালাক, আপনি নিজে চিন্তা করে দেখেন আপনি কোনো প্রোডাক্ট বা সার্ভিস কেনার সময় অরিজিনাল সেলার খুঁজেন, সেক্ষেত্রে পেইজ দেখে যদি রিসেলার মনে হয়, তাহলে ক্লায়েন্টরা অর্ডার করবে না।
চলুন যেনে নেই যারা রিসেলার হিসেবে কাজ করেন, তারা কিভাবে ফেসবুক এ এডভারটাইজিং করে বিজনেস করতে পারবেনঃ
✔️ আপনার পেইজ টা সুন্দর করে সাজানো এবং অপ্টিমাইজড থাকতে হবে। প্রয়োজনীয় ফোন নাম্বার, যোগাযোগের ঠিকানা ইত্যাদি অবশ্যই উল্লেখ থাকতে হবে।
✔️ অর্ডার কনফার্মেশন প্রসেস সুন্দর করে পিন পোস্ট আকারে পেইজ এ দিয়ে রাখতে হবে এবং সম্ভব হলে ব্যাংক একাউন্টের মাধ্যমে টাকা গ্রহণ করতে হবে। ট্রেড লাইসেন্স থাকলে বিজনেস ব্যাংক একাউন্ট এবং বিকাশ মার্চেন্ট একাউন্ট খোলা যায়, যা ব্যবসায়ের বিশ্বস্ততা বাড়াতে সাহায্য করে।
✔️ যে প্রোডাক্ট নিয়েই কাজ করেন, অবশ্যই সেটার স্যাম্পল আপনার নিজের কাছে থাকতে হবে। এবং খুব সুন্দর করে ফটোগ্রাফি, ভিডিওগ্রাফি করতে হবে যেন তা দেখতে আকর্ষণীয় হয়। সম্ভব হলে পেইজ থেকে মাঝে মধ্যে লাইভ এ আসতে হবে, যেকোনো বিজনেস এর মূলমন্ত্র হচ্ছে ক্রেতাদের বিশ্বস্ততা অর্জন, সেখানে ভিডিও উপস্থাপন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
✔️ কপি পেস্ট করে জীবনে কেউ ব্যবসায়ী হতে পারে না, তাই অন্যের কনটেন্ট কপি পেস্ট না করে নিজের মতো করে কনটেন্ট রাইটিং করতে হবে যেন আপনার ফার্স্ট লাইন দেখেই কাস্টমার থেমে যায়। আমার প্রথম লাইন টা খেয়াল করুন।
✔️ পেইজে কাস্টমার রিভিউ পোস্ট, প্রোডাক্ট প্যাকেজিং, ডেলিভারি সংক্রান্ত পোস্ট শেয়ার করতে হবে।
✔️ পেইজে সারাক্ষণ সেলস পোস্ট না দিয়ে, এনগেইজিং এবং ইন্টারেস্টিং কনটেন্ট দিতে হবে। যদিও এটা অনেক সময় সাপেক্ষ এবং অনেক রিসার্চের প্রয়োজন। তাছাড়া ক্লায়েন্ট কে যত দ্রুত সম্ভব রেসপন্স করার চেষ্টা করতে হবে, কারণ ক্লায়েন্ট আপনাকে মেসেজ দেয়ার পর এরকম আরো বিভিন্ন পেইজে মেসেজ করবে এবং যার প্রোডাক্ট এবং পেইজ ভালো লাগবে, দ্রুত রেসপন্স পাবে, সাধারণত সেখানেই অর্ডার প্লেস করে।
✔️ বিজনেস করতে হলে প্রচুর জিনিস জানতে হবে, বিভিন্ন ধরনের কোর্স করে নিজের স্কিল ডেভলপ করতে হবে, এবং সব সময় শেখার চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।
আশাকরি আমার লেখা এবং ভিডিও আপনাদের উপকারে আসবে। ভালো লাগলে অবশ্যই লাইক, কমেন্ট এবং শেয়ার করতে ভুলবেন না।
#কপি