25/09/2026
মৃত্যুর পর মায়ের চিঠির বাকি অংশঃ
তোর বাবা যখন মারা গেল তখন অনেক কষ্টে আমাকে সংসারটা চালাতে হয়েছিল। খোকা জানিস তখন একটা ডিম ভেজে দুই টুকরো করে তোকে দুবেলায় দিতাম! এমনও দিন গেছে নুন দিয়ে ভাত খেয়েছি আমি! কিন্তু তোকে কোন কষ্ট বুঝতে দেইনি আমি।
খোকা, তুই কি জানিস একদিন রান্না করার মতো চাউল ছিলো না ঘরে। তখন কোন উপায় না পেয়ে এক বাড়ীতে কাজ করে কিছু চাউল এনে ভাত রেঁধে খাইয়েছিলাম তোকে।হয়ত তুই ভুলে গেছিস।যখন তোর এসএসসি পরীক্ষার ফি দিতে পারছিলাম না, তখন তোর পিতার দেওয়া শেষ স্মৃতি নাকফুলটা বিক্রি করে দিয়েছিলাম। আরো অনেক কথা আছে যা লিখতে গেলে হয়ত খাতা শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু আমাদের কষ্টের বোঝা লিখে শেষ করা যাবে না। খোকা, তুই হয়ত মনে মনে ভাবছিস এতো কথা তোকে কেনো লিখে গেলাম। তুই যখন বড় হলি।ভালো একটা চাকরী পেলি।আর তার কিছু দিন পর বিয়ে করলি।তখন আমি তোদের নিয়ে ভালোই ছিলাম।খোকা, মনে আছে একদিন ঘর থেকে তোর কিছু টাকা চুরি হলো! সেদিন তুই আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলি আমি তোর টাকার ব্যাপারে কিছু জানি কি না।তুই আমাকে সরাসরি না বললেও আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে তুই আমাকে চুর ভেবেছিলি।এর কিছু দিন পর তুই আমাকে চুরের অপবাদ দিয়ে অন্য একটি ঘরে রেখে দিলি! খোকা রে, আমার সেই ঘরটিতে একা একা থাকতে অনেক ভয় করতো। কারণ ঘরটি তোদের কাছ থেকে অনেক দূরে ছিলো। খোকা,তোকে একদিন বলেও ছিলাম আমার একা একা থাকতে অনেক ভয় লাগে। তুই বলেছিলি, মরণ আসলে কবরে একা থাকতে হবে।আমার হাটুর ব্যথাটা বেড়েছিল তাই তোকে বলেছিলাম, খোকা আমাকে কিছু ঔষধ কিনে দিবি।তখন তুই বলেছিলি।এই বয়সে এতো ঔষধ খাওয়া লাগে না।এমনি এমনি ঠিক হয়ে যাবে। খোকা, বিছানা থেকে উঠতে পারতাম না।শরীরে ফোসকা পড়ে গিয়েছিল, শরীর থেকে পচা গন্ধ আসতো!কতদিন যে গোসল করিনি তা ঠিক বলতে পারবো না। আর আমি একা কিভাবে গোসল করবো আমি ত একা একা উঠতে পারি না। খোকা, তোর ঘর টা ছিল আমার ঘর থেকে অনেক দূরে। কখন আসিস কখন চলে যাস আমি কিছুই দেখতে পারতাম না। তবুও পথের দিকে তাকিয়ে থাকতাম খোকা।তুই যখন ছোট ছিলি আমি খেতে বসলে তোকে কোলে নিয়ে খেতে বসতাম তবুও তোকে চোখের আড়াল হতে দিতাম না।
(বাকি অংশ সামনে আসবে)