25/04/2016
আমাদের টেলিফিল্ম "জেড-ফ্যাক্টর " এর শুরুতেই আমরা এরকম দুটি স্লাইডে গল্পটার বিষয়বস্তু সম্পর্কে সম্যক ধারণা দেয়ার চেষ্টা করেছিলাম। অনেকেই হয়তো সেই বক্তব্য গুলো বুঝতে চেষ্টা করেননি, বা নিছক দর্শন কিংবা মনোস্তাত্তিক ভাবে এড়িয়ে গেছেন।
যার কারনে অনেকের মনেই প্রশ্নটা চলে এসেছে- একি দৃশ্য বার বার কেন?
উত্তর হলো- চারটি দৃষ্টিকোণ থেকে একি ঘটনা কিরকম রূপ নেয়, সেটাই দেখাতে চেয়েছিলাম। চারটি মাত্রা- জেরিনের কাছে, ফারহানের কাছে, রিফাতের কাছে এবং তাদের অগোচরের চতুর্থ মাত্রা মমিনের কাছে। দৃশ্যপট গুলো আলাদা হলে হয়তো দর্শক কে বোঝাতে ব্যার্থ হবো-এই ভেবেই সামঞ্জস্যতা রেখেই দৃশ্যগুলোর রিপিট করা হয়েছে।
সাউন্ড নিয়ে অসন্তুষ্টি আমার নিজের মধ্যেই ছিলো। আমাদের সব থেকে বড় সীমাবদ্ধতা - আমাদের ফান্ডিং, ব্যাক-আপ। যার প্রভাব পড়েছে সাউন্ড এ। ইচ্ছা শক্তি থাকার পরেও ক্লাশ পরীক্ষার টাইট শিডিউলে সবার ডাবিং সম্ভব ছিলোনা... এই ব্যর্থতা আমাদের।
গল্পটা ছোট, আগেই বোঝা যাচ্ছিলো। হ্যা, সেটাও সম্ভব... কারণ মিউজিক ভিডিওতে ক্লিয়ার করে দিছিলাম আগেই।
যাই হোক, আমাদের এই নিবেদন আপনাদের জন্যই, আপনারাই এর বিচারক। তবে, বিচার করার আগে "জেড-ফ্যাক্টর" মাথায় রেখেই চিন্তা করতে হবে। কয়েকটা আমি বলি-
*শুটিং ইউনিট ছাড়াই শুটিং, এতো বড় একটা প্রোজেক্ট এর... পুরোটাই হাতে শুট।
*সাউন্ড বুম ছিলোনা....শুধু তাই নয়, কোন টেকনিকাল সাপোর্ট ছিলোনা।
*মার্ক ২ বা মার্ক ৩ ক্যামেরা নয়
* ট্রলি, ক্রেন, স্লাইডিং ট্রে কিছুই নাই...
*বাজেট মামুলি-যে বাজেটে একটা শর্টফিল্মও একগন কেউ বানায় না
*ক্যামেরা পিছনে যারা সবাই নতুন, কেউ প্রোফেশনাল নয়
*সামনের অভিনেতারাও নয়
*কয়েকজন হেল্পিং হ্যান্ড ছিলো, বাট যুদ্ধটা আমার একার ছিলো। আমি সামস সুমনই ছিলাম এর গল্পকার, চিত্রনাট্যকার, ফোটোগ্রাফার, এডিটর, পরিচালক, শুটিং ক্রু, ম্যানেজমেন্ট বয়... এটসেটেরা....এটসেটেরা....
হ্যা, "জেড-ফ্যাক্টর " টেলিফিল্মের পিছনের জেড ফ্যাক্টর টা আমি নিজেই... সময়ের সাথে, সীমাবদ্ধতার সাথে, কোয়ালিটির সাথে যুদ্ধ করে আজ আপনাদের সামনে যা উপহার দিতে পেরেছি-তাতেই আমি সন্তুষ্ট। কারণ আমার প্রতি আপনাদের যে আকাঙ্খা দেখছি-সেটাই আমাকে ভালো কিছু করার সাহস আর উদ্দীপনা জোগাবে।
তারপরেও কথা থেকেই যায়। শুধু কি উদ্দীপনা দিয়েই সব হয়? চাই একটা ব্যাক-আপ, চাই আপনাদের সহযোগীতা। তানাহলে স্রোতের বিপরিতে রহস্য নির্ভর যে গল্পে আপনাদের মশগুল কপ্রে রেখেছিলাম, সেটা হয়তো আর সম্ভব না। কারণ আপনারাই। সিম্পল একটা বিশটাকার কূপন সংগ্রহ করতেও আপনাদের বিবেকে বাঁধে। তাহলে আমরা এগুবো কিভাবে?
প্রশ্নটা যৌক্তিক নয় কি??
আমাদের টেলিফিল্ম নিয়ে আপনাদের গঠনমূলক সমালোচনা মাথা পেতে নিলাম, ভবিষ্যতে আপনাদের ভালো কিছু উপহার দেয়ার প্রাণান্ত চেষ্টাই আমাদের থাকবে। আমাদের সাথে থাকবেন, এই কামনাই করি। আমাদের সাহায্য করতে চাইলে কিছুই করতে হবেনা, শুধু মাত্র "Butterfly Film Production" এর পেজে লাইক দিয়ে এক্টিভ থাকুন আর YouTube channel এ সাবস্ক্রাইব করুন। পারলে নিজের টাইমলাইনে একটু শেয়ার, আপনার ভালোলাগার কথা একটু বলে আমাদের জানালেন- যাস্ত এতোটুকুই। আপনাদের ভালবাসায় সামনে এগিয়ে যেতে চাই, ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইবার কিনে ফলস জনপ্রিয়তা দেখানোর পক্ষে কোনভাবেই নই।
দোয়া করবেন।
আমাদের পাশে থাকার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ...
সামস সুমন
ফাউন্ডার ডিরেক্টর
বাটারফ্লাই ফিল্ম প্রোডাকশন