07/03/2026
আব্বু, জানো!
-
বদর যুদ্ধের ঘোষণা হয়ে গেছে। সাহাবীগণ জিহাদের প্রস্তুতি নিতে শুরু করলেন। সা‘দ বিন খাইসামাহও পিছিয়ে থাকলেন না। তিনি মদীনার আনসারগণের বারো নেতার একজন। আকাবার দ্বিতীয় বাইয়াতে অংশ নিয়েছেন। মুহাজিরগণ মদীনায় আসার পর, তাদের মেহমানদারীতে অংশ নিয়েছেন।
পেয়ারা নবীজি মদীনায় এসে প্রথমে ‘কুলসুম বিন হাদম’-এর ঘরে বসেছিলেন। সেসময় নবীজি সা‘দের ঘরে বসে সাহাবায়ে কেরামকে দ্বীন শিক্ষা দিতেন। তারপর আবু আইয়ুব আনসারী রা.-এর বাড়িতে যান।
জানো আব্বু,
নবীজি কাকে সা‘দের ভাই বানিয়েছিলেন? আবু সালামাহ বিন আবদুল আসাদকে। তুমি তো জানোই, মক্কা থেকে সাহাবায়ে কেরাম মদীনায় হিজরত করেছিলেন। নবীজি মক্কা থেকে সাহাবীদেরকে মদীনার সাহাবীদের ভাই বানিয়ে দিয়েছিলেন। আজ দুপুরেও তোমাকে বলেছি ব্যাপারটা।
সা‘দের আব্বুর নাম ছিল খাইসামাহ। বদর জিহাদের ঘোষণা শুনে বাবা ঘরে ফিরলেন। ছেলে সা‘দকে বললেন,
-বাবা, সা‘দ! তুমি ঘরে থাকো। নারী-শিশুদের দেখাশোনা করো। আমি জিহাদে যাই।
-জি¦ না, আব্বু, তা হয় না। আমি জান্নাত নিয়ে আপনার সাথে কোনও আপোষ করতে চাই না। জান্নাত ছাড়া অন্য কিছু হলে, আপনার জন্যে ত্যাগ স্বীকার করতে আমার কোনও আপত্তি থাকতো না।
-এখন কী করা যায়? আমি যাবোই পাশাপাশি ঘরেও কেউ একজনকে থাকতে হবে?
-আমরা লটারি করতে পারি!
-ঠিক আছে, তাই হোক।
লটারি করা হল। বাবা হেরে গেলেন। ছেলে জিতে গেল। কী আর করা। অগত্যা বাবাকে হার মেনে নিতে হল। ছেলে সা‘দ সানন্দে জিহাদে চলে গেলেন। নবীজির নেতৃত্বে জিহাদ করতে করতে শহীদ হয়ে গেলেন। বাবার মনে কষ্ট, শহীদ হতে পারলেন না। আল্লাহ তা‘আলা তাকে বেশিদিন কষ্ট পেতে দিলেন না। বাবা খাইসামাহও ওহুদের জিহাদে শাহাদাতের সৌভাগ্য অর্জন করলেন।
আব্বু, কয়েকটা বিষয় লক্ষ্য করেছ?
১: তারা বাপ ও বেটা মিলে জিহাদে যাওয়ার প্রতিযোগিতা করেছিলেন।
২: বাবার কথার উত্তরে ছেলে কী সুন্দর করে জবাব দিয়েছে? সরাসরি মুখের উপর না বলে দেয়নি। আবার বাবার কথায় সায়ও দেয়নি।
চলো, আমরাও শাহাদাতের প্রস্তুতি নিতে শুরু করি!
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।
রাদিয়াল্লাহু আনহুম ওয়া রাদু আনহু।
✍️ উস্তায আতীক উল্লাহ হাফিযাহুল্লাহ