12/10/2025
ইসলামে মানুষের সম্মান ও অধিকার
আল্লাহ মানবজাতিকে সম্মানিত করেছেন তার মর্যাদা ও অধিকার রক্ষার মাধ্যমে। শুধু জীবনকালে নয়; বরং মৃত্যুর পর তাকে মর্যাদার অধিকারী করেছেন।
সব মানুষই সম্মানিত
মানবজাতির এই সম্মান ও মর্যাদা সর্বজনীন। প্রতিটি মানুষ সে বিশ্বাসী হোক বা অবিশ্বাসী মৌলিক সম্মান ও অধিকারের ক্ষেত্রে সমান। পবিত্র কোরআনের বর্ণনা থেকেও ‘সাধারণ সম্মান সব মানুষের জন্য’ প্রমাণিত হয়।
মহান আল্লাহ বলেন,
আর আমি তো আদম সন্তানদের সম্মানিত করেছি এবং আমি তাদেরকে স্থলে ও সমুদ্রে বাহন দিয়েছি এবং তাদেরকে দিয়েছি উত্তম রিয্ক। আর আমি যা সৃষ্টি করেছি তাদের থেকে অনেকের উপর আমি তাদেরকে অনেক মর্যাদা দিয়েছি।
[সূরা বনী ইসরাঈল আয়াত ৭০]
রাসুলুল্লাহ (সা.)-ও ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে মানুষকে সম্মান দিয়েছেন। হাদিসে এসেছে,
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সামনে দিয়ে একটি জানাযা যাচ্ছিল। তখন তিনি দাঁড়িয়ে গেলে তাঁকে বলা হল, এটা তো এক ইয়াহূদীর জানাযা। তিনি এরশাদ করলেনঃ সে কি মানুষ নয়?
[সহীহ বুখারী ১৩১২]
মৌলিক অধিকারে সবাই সমান
মানুষের সম্মানসংক্রান্ত আয়াতে আল্লাহ যেমন বিশ্বাসী ও অবিশ্বাসীর মধ্যে পার্থক্য করেননি, তেমন মৌলিক অধিকারসংক্রান্ত আয়াতেও তা করা হয়নি।
মহান আল্লাহ বলেন,
আর বৈধ কারণ ছাড়া তোমরা সেই প্রাণকে হত্যা করো না, আল্লাহ যা হারাম করেছেন।
[সূরা আল আন'আম আয়াত ১৫১]
এসব আয়াতের ভিত্তিতে ইসলামী আইনবেত্তারা বলেন, ‘মানুষ সত্তাগতভাবে সম্মানী। সুতরাং তাকে অপমান করা, তার প্রতি অবিচার করা, তার অধিকার নষ্ট করা, সম্মানহানি করা অন্য কোনো মানুষের জন্য বৈধ নয়। সবার প্রতি সুবিচার নিশ্চিত করা আবশ্যক।
জীবনের অধিকার সবার
আল্লাহ মুসলমানের রক্ত ও সম্পদের বিশেষ মর্যাদা দান করেছেন। তবে নিরাপদ জীবন যাপন ও বেঁচে থাকার অধিকার দিয়েছেন সব মানুষকেই। পবিত্র কোরআনে একজন মানুষের জীবনকে সমগ্র মানবজাতির জীবনের সঙ্গে তুলনা করে বলা হয়েছে,
মহান আল্লাহ বলেন,
যে ব্যক্তি কাউকে হত্যা করা কিংবা যমীনে ফাসাদ সৃষ্টি করা ছাড়া যে কাউকে হত্যা করল, সে যেন সব মানুষকে হত্যা করল। আর যে তাকে বাঁচাল, সে যেন সব মানুষকে বাঁচাল।
[সূরা আল মায়িদাহ আয়াত ৩২]
ভ্রূণ হত্যাও অপরাধ
মানুষের মতো মানব-ভ্রূণও ইসলামের দৃষ্টিতে সম্মানিত। ইসলাম শরিয়ত অনুমোদিত কারণ ছাড়া মানব-ভ্রূণ হত্যাকে নিষিদ্ধ করেছে। কেননা তা প্রকারান্তে মানব হত্যারই শামিল এবং মানব সত্তার প্রতি অসম্মান। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে,
মহান আল্লাহ বলেন,
আর দারিদ্রের কারণে তোমাদের সন্তানদেরকে হত্যা করবে না। আমিই তোমাদেরকে রিয্ক দেই এবং তাদেরকেও। আর অশ্লীল কাজের নিকটবর্তী হবে না।
[সূরা আল আন'আম আয়াত ১৫১]
আত্মহত্যা মনুষ্যত্বের প্রতি অসম্মান
ইসলামের দৃষ্টিতে আত্মহত্যা নিষিদ্ধ ও জঘন্যতম পাপ। কেননা আত্মহত্যার মাধ্যমে মানুষ নিজের প্রতি এবং তার স্রষ্টার প্রতি অসম্মান ও অনাস্থা প্রকাশ করে। আল্লাহ তার প্রতি যে সীমাহীন অনুগ্রহ করেছেন তা অস্বীকারের নামান্তর আত্মহত্যা।
মহান আল্লাহ বলেন,
আর তোমরা নিজেরা নিজেদের হত্যা কোরো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের প্রতি পরম দয়ালু।
আর যে কেউ সীমা লঙ্ঘন করে, অন্যায়ভাবে তা করে আমি অচিরেই তাকে আগুনে প্রবেশ করাব। আর তা আল্লাহর পক্ষে খুব সহজ।
[সুরা আন-নিসা আয়াত ২৯-৩০]
নির্দোষ ও নিরপরাধ জীবন মানুষের অধিকার
নির্দোষ ও নিরপরাধ জীবনযাপন মানুষের অধিকার। কেউ তাকে ও তার সামাজিক অবস্থানকে কলুষিত করার অধিকার রাখে না। অন্যায়ভাবে মানুষের ওপর দোষ চাপানো এবং অন্যায় কাজে তাকে বাধ্য করা ইসলামের দৃষ্টিতে অপরাধ।
আল্লাহ তাআলা বলেন,
আর যারা মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদেরকে তাদের কৃত কোন অন্যায় ছাড়াই কষ্ট দেয়, নিশ্চয় তারা বহন করবে অপবাদ ও সুস্পষ্ট পাপ।
[সূরা আল আহযাব আয়াত ৫৮]
মৃত্যুর পরও মানুষ সম্মানিত
জীবিত অবস্থায় মানুষ যেমন সম্মানিত, মৃত্যুর পরও সে সম্মানের যোগ্য। ইসলাম মানুষের আল্লাহ প্রদত্ত সম্মান রক্ষার জন্য।
আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা মৃতদেরকে গালি দিও না। কারণ তারা তাদের কৃতকর্মের (পরিণাম ফল) পর্যন্ত পৌঁছে গেছে।
[সহীহ বুখারী ৬৫১৬]
মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব মানবিকতায়
মৌলিক অধিকার ও সম্মানে সব মানুষ সমান হলেও জ্ঞান, আল্লাহভীতি ও মানবিকতার দ্বারা মানুষ অন্যের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করতে পারে।
মহান আল্লাহ বলেন,
যারা জানে আর যারা জানে না তারা কি সমান?’ বিবেকবান লোকেরাই কেবল উপদেশ গ্রহণ করে।
[সূরা আয-যুমার আয়াত ৯]
#সার্থখোর