Hridoy Pigeon Loft

Hridoy Pigeon Loft চেষ্টা করুন যে কোন কাজে ইনশাআল্লাহ সফলতা আসবে।

কনের অপেক্ষায় 😍😍😍😍
03/02/2021

কনের অপেক্ষায় 😍😍😍😍

03/02/2021
শখের কালদম আমার, ডিমে আছে
03/02/2021

শখের কালদম আমার, ডিমে আছে

মিলি বার রেসার নতুন পেয়ার প্রথম ডিম দিয়েছে........
03/02/2021

মিলি বার রেসার নতুন পেয়ার প্রথম ডিম দিয়েছে........

Happy family 👨‍👩‍👦‍👦
03/02/2021

Happy family 👨‍👩‍👦‍👦

কবুতরের খাবার মিক্স এবং আমার পছন্দ নিয়ে কিছু কথা।কবুতরের খাবার উপাদানগুলোকে আমরা মুলত প্রধান তিন ভাগে ভাগ করতে পারি।(১) ...
13/10/2019

কবুতরের খাবার মিক্স এবং আমার পছন্দ নিয়ে কিছু কথা।

কবুতরের খাবার উপাদানগুলোকে আমরা মুলত প্রধান তিন ভাগে ভাগ করতে পারি।

(১) #কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার:

#কার্বোহাইড্রেট হচ্ছে কবুতরের আসল চালিকা শক্তি বা পেট্রোল।

অন্যান্য প্রানী এবং পাখিদের মতোই কার্বোহাইড্রেট কবুতরের মূল জ্বালানীর সরবরাহকারী। এটা দ্রুত ব্লাড সুগার সরবরাহ করে কবুতরকে উড়তে সাহায্য করে।

ধান, চাল, গম, ভুট্টা, বাজরা, চিনা, মিলেট, জব, বাকহুইট ইত্যাদি।

(২) #প্রোটিন জাতীয় খাবার:

#প্রোটিন দেহ গঠনের মুল উপাদান। শক্তিশালী দেহ এবং ডানা গঠনে এর কোন বিকল্প নেই।
ওড়ার ক্ষেত্রে কবুতরের জন্য দ্বিতীয় পর্যায়ের জ্বালানী হিসেবে কাজ করে।

থর বা ব্রীডিং এর কবুতরের জন্য প্রোটিনের গুরুত্ব অপরিসীম। কবুতরের বাচ্চাদেরকে বাবা-মা যে পিজন মিল্ক খাওয়ায় তাতে প্রায় ৬০% প্রোটিন থাকে।

ডাবলি, ছোলা, মুশুরি, মুগ, রেজা, খেশারি, ফেলন, মটর, কালী, এংকর, ইত্যাদি।

(৩) #ফ্যাট/তেল জাতীয় খাবার:

#ফ্যাট ঠান্ডার বিরুদ্ধে লড়ার জন্য কবুতরের মূল হাতিয়ার আর লম্বা সময় ওড়ার জন্য ৩য় পর্যায়ের জ্বালানী হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া ব্রীডিং এর কবুতরের জন্য ফ্যাট একটি গুরুত্বপূর্ন খাবার। পিজিন মিল্কে প্রায় ৩৬% ফ্যাট থাকে।

সমীক্ষায় দেখা গেছে ১ ঘন্টা ওড়ার পর কবুতরের ব্লাড সুগার, যা সে কার্বোহাইড্রেট থেকে সংগ্রহ করে, শেষ হয়ে যায়। এর পর সে উড়ার জন্য দেহে জমা থাকা ফ্যাট ভেঙ্গে শক্তি সংগ্রহ করে। দেহে জমা ফ্যাট যখন নিঃশেষ হয়ে যায় তখন সে দেহের কোষ ভেঙ্গে ওড়ার শক্তি সংগ্রহ করে। দেহ কোষ ভাঙ্গা শেষ হয়ে গেলে কবুতরের জ্বালানী শেষ। এরপর কবুতর আর উরতে পারবে না, তাকে বিশ্রাম।নিয়ে পুনরায় জ্বালানী সংগ্রহের জন্য আকাশ ছেড়ে নেমে আসতে হবে।

সয়াবিন, হেম্প সীড, সরিষা, কুসুম ফুলের বীজ, তীসি, সূর্যমুখীর বীজ, তিল, কালিজিরা, বাদাম ইত্যাদি।

👉 কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন এবং তেলবীজ এই তিন ধরনের খাবার থেকে অন্তত দুটি করে আইটেম মিশিয়ে খাবার মিক্স তৈরী করে নিলে ইনশা আল্লাহ কবুতর ভালো থাকবে। আইটেম যত বেশী হবে কবুতর তত বেশী পছন্দ করবে, কবুতরের দীর্ঘায়ু এবং সুস্বাস্থ্যের জন্য হবে দারুন উপকারী।

>> #পোল্ট্রি ফীড:
পোল্ট্রি ফীড কবুতরের জন্য একটি আদর্শ খাবার হতে পারে। বিশেষ করে খাচায় বন্দী ব্রীডিং এর কবুতরের জন্য এর থেকে ব্যালেন্সড খাবার আমাদের দেশে পাওয়া মুশকিল। অবশ্য খাবার এর উপাদান এবং এদের খাদ্যমান সম্পর্কে খুব গভীর ধারনা থাকলে অবশ্যই এর থেকেও ভালো মানের খাবার মিক্স তৈরি করা সম্ভব।

পোল্ট্রি ফীডের ভেতর যে খাবার দেয়া যাবে তা হলো, " #লেয়ার #গ্রোয়ার" অথবা " #লেয়ার #লেয়ার" পিলেট। মোট খাবারের ১০% থেকে শুরু করে ১০০% পর্যন্ত দেয়া যেতে পারে। অবশ্যই নামী কোম্পানীর ব্রান্ডেড খাবার দিতে হবে।

- কোনমতেই #ব্রয়লার বা #সোনালী ফীড দেয়া যাবে #না।
- বাজারের খোলা খাবার দিবেন না। অবশ্যই #ভালো কোম্পানীর #ব্রান্ডেড ফীড দিবেন।
- ম্যাশ বা ভর্তা বা ভাংগা ফীড দিলে কবুতর শুধু ভুট্টা ভাঙ্গাগুলো খাবে, পাউডার খাবার খাবে না।

- পোল্ট্রি ফীড দুই ধরনের হয় - (১) এনিমেল প্রোটিন নির্ভর
(২) ভেজিটেবল প্রোটিন নির্ভর। অবশ্যই ভেজিটেবল প্রোটিন নির্ভর ফীড দিবেন। প্রতিটি কোম্পানীর ফীডের বস্তার গায়ে এ সম্পর্কিত তথ্য পাবেন।

- পোল্ট্রি ফীড হিট ট্রিটমেন্ট করে জীবানু মুক্ত করা থাকে, তাই খাবার পরিস্কারের বাড়তি ঝামেলার দরকার হয় না।
- এটি দামের দিক থেকে সাশ্রয়ী, সারা বছর প্রায় একই দামে পাওয়া যায়।

ফেন্সি কবুতরের জন্য পারিপার্শিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আমার মতে এটি একটি আদর্শ খাবার।

তবে এই ফীডের মূল সমস্যা কবুতরের ড্রপিংস। দ্রুত হজম হয়ে যায় বলে কবুতরের খাদ্য গ্রহন বেড়ে যায় আর তার সাথে অবশ্যাম্ভাবী ভাবেই বেড় যায় ড্রপিংস৷ সেই সাথে খারাপ গন্ধ।

👉 নিজস্ব মিক্স বানাবার জন্য নীচের রেশিও ব্যবহার করা যেতে পারে:

(১) গ্রীষ্মকালীন

৬০ - ৭০ % কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার
২৯ - ৩৯% প্রোটিন জাতীয় খাবার
১-২.৫% ফ্যাট জাতীয় খাবার

(২) শীতকালীন:

৬০ - ৭০ % কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার
২০ - ৩০% প্রোটিন জাতীয় খাবার
৫- ১০% ফ্যাট জাতীয় খাবার

(৩) রেসিং সর্ট ডিস্ট্যান্স বেইজ মিক্সঃ
কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবারঃ ৮০-৮৫%
প্রোটিন জাতীয় খাবারঃ ১০-১২%
ফ্যাট জাতীয় খাবারঃ ২-৬%

(৪) মোল্টিং মিক্স:

মোল্টিং চলাকালীন সময়ে কবুতরের প্রচুর প্রটিনের প্রয়োজন হয়। কারন পালকের ৯০% এর বেশী প্রোটিন দিয়ে গঠিত হয়।

এসময় আমি যত ধরনের ডাল এবং তেল বীজ উপাদান আছে (তিসী বাদে) সবগুলো সমান পরিমান করে নিয়ে আলাদা একটা মিক্স বানাই। সবগুলো তেলবীজ যে পরিমান হয় সেই পরিমান তিসী মিক্সে মিশাই।

এরপর আমার স্বাভাবিক খাবার মিক্সের সাথে মোল্টিংমিক্স ১০% হারে যোগ করে দেই। অর্থাৎ ১ কেজি স্বাভাবিক মিক্সে ১০০ গ্রাম মোল্টিং মিক্স মিশিয়ে দেই।

** গরমে কোন তেল জাতীয় খাবার কম দেয়া ভালো। তবে থর বা ব্রীডিং এর কবুতরের ক্ষেত্রে দেয়া যেতে পারে। খাবারে ওমেগা রেশিও ধরে রাখার জন্য তীসি অবশ্যই থাকা প্রয়োজিন।
** সয়াবীন এবং হেম্পসীড এ প্রোটিন এবং ফ্যাট দুটোই বেশী মাত্রায় আছে।

👉 খাবার সবসময় ঝেড়ে, রোদে শুকিয়ে নেই। কখোনই খাবার পানি দিয়ে #ধুই_না। প্রয়োজন হলে চুলায় হাড়ীতে খাবার গরম করে নেই।
👉 #ফুটানো পানি দেবার চেষ্টা করি। ফুটাতে না পারলে এসিডিফাইয়ার মিশ্রিত পানি দেই৷
👉 #প্রতিদিন গ্রিট দেয়া আমার খুব পছন্দ, প্রয়োজনে গ্রিটে ক্যালশিয়ামের পরিমান কমাবার ব্যবস্থা করবেন।
👉 খাবারে #ভুট্টা_ভাঙ্গা এড়িয়ে চলি। ব্রীডিং মিক্সে দিলেও চুলাতে অবশ্যই গরম করে নেই। এটা সাল্মোনেলা সহ বেশীর ভাগ ব্যাক্টেরিয়াল রোগের একটি প্রধান উৎস।
👉 সয়াবীন এবং ভুট্টা নির্ভর খাবার মিক্সের খারাপ প্রভাবমুক্ত রাখার জন্য আলাদা নিউট্রিশন বা টক্সিন কোন্ট্রোল সাপ্লিমেন্ট, ফুড কনভার্শন রেশিও (FCR) বাড়াবে এবং কবুতরকে সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করে।

👀👀👀 #যেদিকে_খেয়াল_রাখা_দরকারঃ

খাবার মিক্স করার সময়ে খেয়াল রাখতে হবে যে, মিক্সে কার্বোহাইড্রেট বেশী হলে #গ্যাস হবে, প্রোটিন বেশী হলে ড্রপিংস #নরম হবে, ফ্যাট বেশী হলে #স্থুলতা দেখা দিবে।

কার্বোহাইড্রেট দিয়ে প্রোটিনের প্রয়োজন মেটানো সম্ভব নয়, কিন্তু প্রোটিন দিয়ে কার্বোহাইড্রেটের প্রয়োজন মেটানো সম্ভব। উড়ানোর কবুতরের পেশীর পুনর্গঠনের জন্য এবং বেবী কবুতরের বৃদ্ধির জন্য, ব্রিডীংএর কবুতরের প্রজনন স্বাস্থ রক্ষার জন্য সঠিক মাত্রায় প্রোটিনের যোগান দেয়া আবশ্যক।

👉 ব্রিডীং এর কবুতর এবং বাড়ন্ত বাচ্চাদের জন্য ১৮%(+/- ২) প্রোটিন + ৬-৮% ফ্যাট প্রয়োজন। এই মিক্সে ডাল জাতীয় উপাদান (কমপক্ষে ৩০%) যত বেশী ধরনের হবে বেবী তত বেশী সুন্দর, স্বাস্থ্যবান এবং বুদ্ধিমান হবে।

👉 তরুন কবুতরের জন্য ১৬% (+/-২) প্রোটিন এবং ৪-৬% ফ্যাট প্রয়োজন

👉 রেসার (শর্ট ডিস্ট্যান্স) এর জন্য ১৪% (+/-২) প্রোটিন এবং ২-৪%ফ্যাট প্রয়োজন

👉 রেসার (লং ডিস্ট্যান্স, ৪০০+ কিমি) ১৮% (+/-২) প্রটিন এবং ৬-১০% (রেসের ডিস্ট্যান্স অনুযায়ী) ফ্যাট প্রয়োজন।

গিরিবাজের জন্য খাবারের ব্যাপার একদম আলাদা বলে শুনেছি। অভিজ্ঞ ভাইদের মুখে শুনেছি এদের খাবারে ধান এবং হিঙ্গা বা রেজার প্রাধান্য থাকে। এর প্র্যাক্টিক্যাল অভিজ্ঞতা খুব বেশী না থাকার কারনে সে ব্যাপারে চুপচাপ থাকার পথ বেছে নিলাম।

সাল্মোনেল্লোসিস প্রতিরোধ হিসাবে লেবু,চিনি ও লবনের মিশ্রণ। উপাদানঃ-***লেবু :লেবুতে যে সকল উপাদান বিদ্যামান থাকেঃলেবু একটি...
13/10/2019

সাল্মোনেল্লোসিস প্রতিরোধ হিসাবে লেবু,চিনি ও লবনের মিশ্রণ।


উপাদানঃ-
***লেবু :

লেবুতে যে সকল উপাদান বিদ্যামান থাকেঃ

লেবু একটি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক এসিডিফায়ার(সাইট্রিক এসিড), কার্বহাইডেট,প্রটিন,ফ্যাট,এনার্জি,
ভিটামিন A, ভিটামিন B1,ভিটামিন B5,ভিটামিন B6,ভিটামিন B9,ভিটামিন C, ভিটামিনE,আইরোন,পটাসিয়াম,ক্যালসিয়াম,ম্যাগনেসিয়াম,ম্যাঙ্গানিজ,কপার,মলিবডেনাম,সোডিয়াম, ফসফোরাস,ফ্লুরিড,এবং জিংক।এতে কোনো প্রিজারভেটিভ নেই। তাই গুনাগুন থাকে অক্ষুন্ন এবং যে কোনো পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াবিহীন।

***চিনিঃ

চিনিতে যেসকল উপাদান বিদ্যামানঃ-

চিনিতে গ্লুকোজ, ফ্রুক্টোজ, সুক্রোজ,ক্যালসিয়াম,ম্যাগনেসিয়াম,পটাসিয়াম,সোডিয়াম এবং এন্টি অক্সাইড প্রচুর পরিমানে রয়েছে। যে কোনো প্রকারের ডায়রিয়া জনিত পানিশূন্যতারোধে অধিক মাত্রায় কার্যকরী।

***লবন(আয়োডিন যুক্ত)ঃ

লবনে যেসকল উপাদান বিদ্যামানঃ-

লবণ বা নুন​ হলো খাদ্যে ব্যবহৃত এক প্রকারের দানাদার পদার্থ যার মূল উপাদান হলো সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl)। এটি প্রাণীর জীবনধারণের জন্য অপরিহার্য, কিন্তু অধিকাংশ স্থলজ উদ্ভিদের জন্য বিষবৎ। লবনের স্ফটিক তৈরির এর সাথে জৈব ইউরিয়ারূপে মূত্র ব্যবহার করা হয়।এর লবনাক্ততার জন্য স্বাদকে মৌলিক স্বাদের একটি বলে গণ্য করা হয়। পৃথিবীর সর্বত্র এটি খাদ্য প্রস্তুতিতে ব্যবহার করা হয়। দৈহিক উন্নয়নের অক্ষমতাগুলো দূর করতে লবন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

লেবু,চিনি ও লবনের মিশ্রণ এর উপকারিতাঃ

১. লেবু বডি পিএইচ কমিয়ে দিয়ে সাল্মোনেল্লা, ই কোলাই সহ অনান্য ক্ষতিকর গ্রাম নেগেটিভ ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশান প্রতিহত করে
২. ডায়রিয়া জনিত পানি শূন্যতা ও জিংক এর অভাব পূরন করে শরীরকে সতেজ রাখে।
৩. বিভিন্ন ভিটামিন ও মিনারেল এর অভাব জনিত রোগ প্রতিহত করে।
৪. কবুতরের ক্রমাগত বুকের মাংশ শুকিয়ে যাওয়া প্রতিহত করে।
৫. ডায়রিয়া/প্যারাটাইফয়েড(সাল্মোনেল্লসিস) এর কারনে শরীরে লবন এর ঘাটতি পূরন করে।
৬.শরীরে আয়োডিন এর অভাব পূরন করে।

ব্যবহার বিধিঃ
#সাল্মোনেল্লা, োলাই ও অনান্য গ্রাম নেগেটিভ ব্যাক্টেরিয়াল ইনফেকশন প্রতিরোধে, ভিটামিন-মিনারেল এর অভাব জনিত রোগ ও পানিশূন্যতা রোধে:

১.পানিঃ ১ লিটার।

২.লেবুর রস, মাঝারি সাইজ এর অর্ধেক।

৩. চিনি: ৫ চা চামচ।

৪. লবন: ৫ চিমটি।

ভালোভাবে মিক্স করে কবুতরকে প্রতি সপ্তাহে ১ দিন করে খাওয়ান। দীর্ঘ মেয়াদে কবুতরকে সাল্মোনেল্লা মুক্ত রাখতে ভেক্সিন এর কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু বাংলাদেশে কবুতরের ভেক্সিন ব্যয়বহুল, দূর্লভ ও প্রয়োগের ক্ষেত্রে প্রশিক্ষিত পযাপ্ত লোক না থাকায় স্বল্প মেয়াদে সাল্মোনেল্লা থেকে কবুতরকে মুক্ত রাখতে বিকল্প হিসাবে এই নিয়মটি ফলো করতে পারেন।

কবুতর পরিচিত গৃহপালিত পাখি। দেখতে বেশ চমৎকার। বিভিন্ন রঙের ও ঢঙের, সাদা, কালো, সিলভার, হলুদ, খয়েরি ও নীল বর্ণের। কবুতর ম...
12/10/2019

কবুতর পরিচিত গৃহপালিত পাখি। দেখতে বেশ চমৎকার। বিভিন্ন রঙের ও ঢঙের, সাদা, কালো, সিলভার, হলুদ, খয়েরি ও নীল বর্ণের। কবুতর মানুষের রাগ-অনুরাগ বোঝে। শত্রু-মিত্র চেনে। একবার যাকে দেখে তাকে আর ভোলে না। কবুতরের ডিগবাজি, ভেল্কিবাজি ও ওড়াউড়ি মানুষকে বিমোহিত করে। পায়রার রমণপ্রয়াসী বকম বকম অব্যক্ত ও মধুর ধ্বনি যে কাউকে আকৃষ্ট করে।

কবুতর শান্তির প্রতীক। এ জন্য যে কোনো শুভ অনুষ্ঠানে শান্তির শ্বেতকপোত উড়ানো হয়। কবুতর উড়ানোর প্রথা সেকাল থেকে অদ্যাবধি প্রচলিত আছে। আগেকার দিনে শাসক ও অভিজাত শ্রেণী পায়রার মাধ্যমে সংবাদপত্র আদান-প্রদান করত। মোগল আমলে লক্ষ্নৌর নবাবরা পায়রা নিয়ে দিনমান কাটিয়ে দিতেন। অনেক নবাব-রাজা-বাদশাহর এ ধরনের শখ ছিল। উনিশ শতকে কলকাতার বাবুরা ডুবে গিয়েছিল বিলাসব্যসনে। তারা কবুতরের বিয়েতে লাখ লাখ টাকা খরচ করত।

এ কবুতরকে আমরা বিভিন্ন নামে চিনি। যেমন- পায়রা, কপোত, পারাবত, কলরব ও প্রাসাদকুক্কুট। ভাষাবিদরা বলেন, কবুতর শব্দটি এসেছে অস্ট্রিক ভাষা থেকে। আপন্নসংস্কার হয়ে সংস্কৃতে ঢুকেছে। কবুতরকে কপোত বলার ব্যাখ্যা অভিধানে এভাবে এসেছে, ক মানে বায়ু। এ বায়ুতে এটি পোত বা জাহাজের মতো চলে বলে এর নাম কপোত। পাখিটি বাড়িতে কুক্কুট বা মোরগের মতো ঘুরে বেড়ায় বলে এটি প্রাসাদকুক্কুট। নদীর তীরে পত করে পড়ে যাওয়ার কারণে এর নাম পারাবত। এ শব্দ থেকেই বাংলা চলিত ভাষায় পায়রার জন্ম।

গৃহপালিত পাখির মধ্যে কবুতর খুব প্রাচীন। পৃথিবীতে ৬০০ প্রজাতির কবুতর আছে। মাংস উৎপাদনের জন্য সিলভারকিং, হামকাচ্চা, কারনিউ, মনডেইন-সুইস, ফ্রেন্স, আমেরিকান জায়ান্ট, হোমার, রান্ট, ডাউকা, কাউরা, গোলা, গোলি, পক্কা, লক্ষা ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। ফ্লাইং হিসেবে বার্মিংহাম রোলার, টিপলার, থাম্বলার, কিউমুলেট, হর্সম্যান প্রসিদ্ধ। শোভাবর্ধনকারী হিসেবে মালটেজ, ক্যারিয়ার, হোয়াইট ফাউন্টেল, টিম্বালার, পোটারস, নান্স অন্যতম। চিত্তবিনোদনের জন্য ময়ূরপঙ্খী, সিরাজি, লাহোরি, ফ্যানটেইল, জেকোডিন, মুক, গিরিবাজ, টেম্পলারলোটন- এসব জাতের কবুতর রয়েছে। গিরিবাজ কবুতর উড়ন্ত অবস্থায় ডিগবাজি খেয়ে চিত্তাকর্ষণ করে। কবুতরের আয়ুষ্কাল ১০ থেকে ১৫ বছর। পাখি বিশারদদের মতে, এসব প্রজাতির বেশি পাওয়া যায় ভারত, মালয়, ইন্দোনেশিয়া ও অস্ট্রেলিয়া মহাদেশে। এছাড়াও আমাদের দেশে উল্লেখযোগ্য কবুতরের একটি জাত হচ্ছে- 'জালালি কবুতর'। এ নামটি হজরত শাহজালাল (রহ.) এর পুণ্য স্মৃতির সঙ্গে জড়িত।

কবুতর খুব বিচক্ষণ পাখি। মানবিক উপকারিতা ছাড়াও কবুতর ভূমিকম্পের পূর্বাভাস দেয়। সম্প্রতি নেপালের ভূমিকম্পে তার প্রমাণ ঘটে। নেপালের পশুপতিনাথ মন্দিরের স্থায়ী বাসিন্দা হাজার কয়েক পায়রাকে ডেকে ব্যর্থ হন। তিনি যখন খাবারের জন্য তার পোষা কবুতরগুলোকে ডাকছিলেন, সেদিন চেনা সে ডাকে সাড়া না দিয়ে আকাশে উন্মাতাল উড়ছিল। যার কিছুক্ষণ পরই ঘটে প্রলয়ঙ্করী ভূমিকম্প। এ ঘটনা অবশ্য নতুন নয়। ১৯৬৬ সালে চীনের শিংতাই প্রদেশে প্রলয়ঙ্করী ভূমিকম্পের আগে দিনভর আকাশে উড়েছিল পায়রারা। ২০০১ সালে গুজরাটের ভুজ কেঁপে ওঠার আগেও স্থানীয় বাসিন্দারা অবাক হয়ে গিয়েছিলেন পায়রাদের এমন অস্থির ডানা ঝাপটানো দেখে।

কবুতর পুষে একদিকে আমিষ জাতীয় খাদ্যের চাহিদা মেটানো যায়, অপরদিকে বাড়তি আয়েরও সুযোগ হয়। কবুতর পালনে বাড়তি জ্ঞান ও শিক্ষার প্রয়োজন পড়ে না, শুধু সামান্য নজরদারি আর সতর্ক হলেই চলে। এতে স্বল্প পুঁজি ও শ্রমে সহজেই লাভবান হওয়া যায়। কবুতরের থাকার ঘর তৈরি করতেও খরচ কম লাগে। খাবারও সুলভ ও সহজলভ্য। বাচ্চা কবুতরের রয়েছে ব্যাপক চাহিদা। ২৫ থেকে ২৬ দিন বয়স হলেই খাবার উপযোগী হয়। এ সময় বাচ্চা সরিয়ে ফেললে মা কবুতর নতুন করে ডিম দিতে প্রস্তুতি গ্রহণ করে।

বাচ্চা কবুতর জোড়া যদি নর ও মাদি হয় এবং ভালো খাবার পায় তবে পাঁচ মাসের মধ্যে এরা প্রথম ডিম দেয়। গড়ে প্রতি মাসে একবার ডিম দেয়। অনুকূল পরিবেশ, ভালো খোঁপ ও খাবার পেলে অধিকাংশ জাতের কবুতর প্রতি ৫০ দিনের মধ্যে দুইবার ডিম দেয়। স্ত্রী-পুরুষ উভয়েই পালাক্রমে ডিমে তা দেয়। কবুতর সাধারণত জোড়া বেঁধে থাকতে পছন্দ করে।

কবুতর নর ও মাদি দুই শ্রেণীরই হয়। এসব কবুতর চেনার কিছু উপায় রয়েছে। নর কবুতর সাধারণত আকারে বড় হয়। পা ও আঙুল অসমান ও অমসৃণ হয়। গলার রগও তুলনামূলক মোটা হয়। নর কবুতরের ঠোঁটে ধরলে সে ছাড়িয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। খুব ঘনঘন ও জোরে জোরে ডাকে। সূর্য ডোবার আগে অস্থির হয়ে পড়ে। পক্ষান্তরে মাদি কবুতর এসবের বিপরীত হয়।

কবুতরের খাবারে রয়েছে বৈচিত্র্য। কবুতর সাধারণত যব, ভুট্টা, গম, ধান, চাল, কলাই, কাউন, খুদ, খেসারি, সরিষা, রেজা, বাজরাসহ বিভিন্ন ধরনের বীজ খেয়ে থাকে। মুরগির জন্য তৈরি খাবারও কবুতর খায়। খাবারের সঙ্গে পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি দিতে হয়। মানুষ তা নেশা, পেশা ও শখের বশেই করে- শৌখিনরাও কবুতর পোষেন। কবুতর নিজের মতো বিভিন্ন ক্ষেত-খামারে, বাড়ির ছাদে, পুরনো ভবনের ভেতর স্বাধীনভাবে বসবাস করে। মসজিদ, মন্দির, গির্জা, মঠেও কবুতর উড়তে দেখা যায়। গ্রামের ১০০ ঘরের মধ্যে ৬০ ঘরেই কবুতর পালতে দেখা যায়।

কবুতরের যম বাজপাখি। এ জন্য কবুতরের বাসস্থান নিরাপদ জায়গায় রাখা উচিত। কুকুর, বিড়াল, বেজির আক্রমণ থেকেও দূরে রাখতে হবে। উঁচু ও শক্ত ঘর বাঁধতে হবে। কাঠ, বাঁশ ও বাঁশের চাটাই, শন, পলিথিন, খড় ইত্যাদি উপকরণ দিয়ে কবুতরের ঘর বানানো যায় সহজেই। প্রতি মাসে একবার করে ঘর পরিষ্কার করে দিতে হবে।

হাদিসে পাকে কবুতরের কথা উল্লেখ রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) এর হিজরতের সময় ছুর পাহাড়ের গুহামুখে কবুতরের ডিম দেয়া তার একটি মোজেজাও বটে। এ ব্যাপারে ওলামায়ে কেরামদের ঐকমত্য রয়েছে। মহানবী (সা.) পোষা পশুপাখির যত্ন-আত্তি করার ব্যাপারে উৎসাহ দেন। তিনি এরশাদ করেন, 'যদি কোনো মুসলিম পোষা প্রাণী রাখতে পছন্দ করেন, তার দায়িত্ব হলো ভালো মতো এর যত্ন নেয়া। যথাযথ খাদ্য, পানি ও আশ্রয়ের ব্যাপারে খেয়াল রাখা। যদি কেউ পোষা প্রাণীর যত্নের ব্যাপারে উদাসীন হয় তার কঠিন শাস্তি বর্ণনা করেছেন।' (বোখারি)।

কবুতরের গোশত খুব জনপ্রিয়। অত্যন্ত সুস্বাদু ও পুষ্টিকর। এক সময় কবুতরের গোশত ছাড়া জামাই আপ্যায়ন হতো না। কবুতর খাওয়া সম্পূর্ণরূপে হালাল। আর হালাল খাবারের ব্যাপারে পবিত্র কোরআনের বাণী, 'তোমরা উত্তম ও পবিত্র বস্তু খাও, যা আমি তোমাদের জীবিকারূপে দান করেছি।' (সূরা বাকারা : ১৭২)।

Address

Nabinagar Brahmanbaria
Nabinagar
3410

Telephone

+8801814334882

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Hridoy Pigeon Loft posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Hridoy Pigeon Loft:

Share