03/12/2024
বর্তমানে ২০২৪ শেষের দিকে, আর কিছু দিন ঘুমিয়ে থাকলেই পেয়ে যাবেন ২০২৩ সাল। দিন যত যাচ্ছে ফেসবুকে বিজনেস করা যেন কঠিন থেকে কঠিনতম হয়ে উঠছে, ক্লায়েন্ট তার মার্কেটার কে আর মার্কেটার ক্লায়েন্টের প্রডাক্ট কে দোষ দিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু এটা বুঝতে পারছে না এতোদিন ধরে যে এডস গুলো চালিয়ে আসছে সেগুলোতে আসলে মেসেজ নাকি সেল দরকার? ঠিক এই কথাটার উত্তর হিসেবে এই লেখা টা।
উত্তর দেওয়ার আগে একটা ব্যাপার জানিয়ে রাখি এই পোস্ট তাদের জন্য না, যারা একটা পেইজ থেকে মাছ-মাংশ থেকে শুরু করে গাজরের হালুয়া আর শাড়ি থ্রিপিস সাথে কেক আর আমের আচার সহ দুনিয়ার হাবিজাবি সব বিক্রি করছেন বা করার চিন্তা করছেন। যদি আপনি একটা প্রডাক্ট বা এক ধরনের প্রডাক্ট নিয়ে বিজনেস করছেন বা করার চিন্তা করছেন তাহলে পোস্ট টা আপনার জন্য হেল্পফুল তা নিশ্চিত।
মেসেজ নাকি সেল? এই প্রশ্নের উত্তর স্ট্রেইট ফরওয়ার্ড হলো এগুলোর মধ্যে আপনার কোন টাই দরকার নেই, আপনার যা দরকার তা হলো সত্য টা জানা, আর সে অনুযায়ী কাজ করা এবং ভালো আউটপুট বের করে আনতে হলে সে সব অবশ্যই দরকার। একটা সময় দেখা যেতো এক পেইজ থেকেই মাস শেষে লক্ষ লক্ষ টাকার সেল করে বিজনেস করছে অনেকেই, বর্তমানে সে দিন নাই, এখন আপনার দরকার সরাসরি আপডেট, বিজনেস স্কেল করতে যা যা দরকার তার আপডেট। আমি সে সব ব্যাপারগুলো কয়েকটা ধাপে আলোচনা করার চেষ্টা করছি,
প্রথম ধাপঃ আপনি যে প্রডাক্ট বা সার্ভিস টা বিক্রি করছেন সে প্রডাক্ট/সার্ভিস নিয়ে সম্পূর্ণ জানুন, শুধু সম্পূর্ণ না তার চেয়ে বেশি জানুন, কখনও প্রডাক্ট/সার্ভিসের স্ক্রিপ্ট মুখস্থ করার দরকার নেই, আপনি যখন কোন প্রডাক্ট/সার্ভিস নিয়ে বিজনেস করছেন তখন আপনার সে প্রডাক্ট/সার্ভিস সম্পর্কে পূর্ণ ধারণা যেমনঃ কেন কীভাবে কখন কোথায় কি হবে সেটা জানা টা আপনার উচিত।
দ্বিতীয় ধাপঃ এই ধাপে আপনাকে যে ব্যাপার টা নিয়ে কাজ করতে হবে তা হলো আপনার অডিয়েন্স/কাস্টমার খুঁজে বের করা, প্রতিটা প্রডাক্ট/সার্ভিস এর ভিন্ন এবং আলাদা আলাদা অডিয়েন্স/কাস্টমার রয়েছে যাদের সে প্রডাক্ট/সার্ভিস টা আসলেই দরকার, অর্থাৎ লয়াল অডিয়েন্স খুঁজে বের করা। একটা উদাহরণ এর মাধ্যমে যদি বুঝাতে চাই, ধরুন আপনার প্রডাক্ট হলো 'Organic Foods' যা একটি ফ্যামিলি কেয়ার প্রডাক্ট। এবার এই প্রডাক্ট এর অডিয়েন্স বের করবেন কীভাবে? এ জন্য আপনাকে কয়েকটা ধাপে আগাতে হবে,
যেমনঃ এই প্রডাক্ট কাদের লাগবে?
উত্তরঃ অবশ্যই যারা নিজের এবং ফ্যামিলির স্বাস্থ্য নিয়ে চিন্তা করে
কোন জেন্ডারের মানুষ নিবে?
উত্তরঃ যেহেতু ফ্যামিলি, তাই মহিলা-পুরুষ উভয়ে নিবে।
কোন বয়সের মানুষ কিনবে?
উত্তরঃ ২২ থেকে ৫০ বছর (ফ্যামিলিতে বেশিরভাগ কন্ট্রিবিউশন থাকে এই বয়সের এবং এই বয়সের মধ্যেই টাকা ইনকাম এর শুরু এবং তারাই ফ্যামিলির জন্য বেশি চিন্তা করে থাকে, অর্থাৎ আপনার প্রডাক্ট টি ফ্যামিলি প্রডাক্ট হলে এরাই কিনবে)
এবার ঠিক করুন আপনার প্রডাক্ট এর দাম কত?
বাংলাদেশের মার্কেটে সাধারণত Organic Foods এর দাম নির্ধারণ হয় পরিমাণ এবং কোয়ালিটির উপর। ধরুন আপনার একটাই প্রডাক্ট এবং একটাই কোয়ালিটি এবং তার প্রাইস ২০০০৳, অর্থাৎ যারা নিম্ন আয়ের মানুষ তারা সহজে আপনার প্রডাক্ট কিনবে না। আপনি আরো একি ধরনের কিছু বাস্তবসম্মত উপায় ব্যবহার করে আরো ফিল্টারিং এবং টার্গেটিং করতে পারেন। আপাতত এ টুকু ব্যবহার করলে বুঝতে পারা যায় আপনার অডিয়েন্স/কাস্টমার কারা।
এ পর্যায়ে আপনার অডিয়েন্স কে আইডেন্টিফাই করার পরে আপনার দরকার একটা এড ডিজাইন বা এড কপি, অর্থাৎ আপনার যে প্রডাক্ট সেটা সম্পর্কে মানুষ কে জানানো এবং হাইলাইট করা। হাইলাইট এ প্রডাক্ট এর উপকারিতা, এবং প্রডাক্ট ব্যবহার করলে কি রকম বেনিফিট হবে সেটার প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে এবং কাস্টমার এর বিশ্বাস অর্জন করে এমন কিছু চেষ্টা করতে হবে। এক্ষেত্রে আপনি ভিডিও কিংবা ইমেজ এড কপি ব্যবহার করতে পারেন, তবে ভিডিওর মাধ্যমে প্রডাক্ট কে Customer কে Better Understanding দেয়।
এই মুহূর্তে আপনার ব্রান্ড, প্রডাক্ট, এবং অডিয়েন্স/কাস্টমার রেডি হয়ে গেছে, এখন আপনার প্রডাক্ট এর এড রান করার ধাপ, অনেকেই বিভিন্ন কমন এবং ভুল ট্রিক্স ফলো করেন দেখে ২/৪ দিন বিজনেস করে সেল না হলে বোরিং হয়ে বিজনেস কে সালাম দিয়ে চলে যায়, হয়ত আপনার সাথেও এমন টা হচ্ছে। তাই এসব ব্যাপার কে টপকাতে হলে আপনার দরকার প্রপার মার্কেটিং ট্রিক্স।
মার্কেটিং ধাপে যাওয়ার আগে আপনার আরো একটি মেইন জিনিস দরকার তা হলো ওয়েবসাইট এবং সেখানে আপনার প্রডাক্ট এর বিস্তারিত দিয়ে লিস্টিং করে ফেলা। এরপর আপনার বিজনেস ম্যানেজার এ ওয়েবসাইট কে এড করে পিক্সেল সেটআপ করা, সাথে প্রপার প্লানিং নিয়ে একটা ফানেল তৈরি করা এবং তা দিয়ে আপনি ধাপে ধাপে গ্রাউন্ড লেভেল মার্কেটিং থেকে টপ লেভেল মার্কেটিং এ পৌঁছাবেন। পিক্সেল সেটআপ এর মাধ্যমে Day-1 থেকে আপনার সকল ডাটা স্টোর এবং সে ডাটা দিয়ে রি-মার্কেটিং করে রিপিট কাস্টমার, সেলস জেনারেট সহ আরো বিভিন্ন কাজ করবেন। (এটা নিয়ে আরো বিস্তারিত অর্থাৎ ওয়েবসাইট কেন দরকার তা নিয়ে পরবর্তীতে আলোচনা করবো)
এই মুহূর্তে আপনার ব্রান্ড, প্রডাক্ট, এড ডিজাইন/এড কপি, এবং ওয়েবসাইটও রেডি করা হয়ে গেলো, অতঃপর আপনার কাজ হলো এডস রান করা। বরাবরের মতো আমরা সবাই এই জায়গা তে একটা ভুল করে থাকি তা হলো Engagement থেকে Messages Conversation দিয়ে ক্যাম্পেইন করা। যেহেতু প্রডাক্ট এর এড ডিজাইন/এড কপি'তে বিস্তারিত সব কিছু বলে দেওয়া হয়েছে তাহলে কাস্টমার কে এমন কোন কিছু জানানোর দরকার নেই যে যার জন্য আগে Messages Conversation এ এনে পরবর্তীতে অর্ডার করবে, এবং দাম টা সে ওয়েবসাইটে গেলেই দেখতে পাবে।
তাই এই জায়গায় একটু ভিন্নভাবে করতে হবে, Engagement এর মাধ্যমে Post Engagement অপশন টা কে ব্যবহার করে কল টু অ্যাকশন বা CTA বাটন সেটআপ করতে হবে এবং এখানে ডিরেক্ট প্রডাক্ট এর লিংক টা দিতে হবে। এর আগে অবশ্যই বাজেট, ডিউরেশন এবং অডিয়েন্স অপশনে অডিয়েন্স সেট করে নিবেন। সাথে আরো একটি সেম বাজেট এবং ডেট এর সেলস এডস দিবেন যা একি কন্টেন্ট, এড ডিজাইন/এড কপি সব গুলো দিয়ে Sales অব্জেক্টিভ থেকে Conversation দিয়ে সেলস ক্যাম্পেইন রান করবেন। একি সাথে দুইটা এডস রান থাকার কারণে আপনার কম্পারিজন সহ বিভিন্ন আপ এন্ড ডাউন বুঝতে সুবিধা হবে, যা অনেক টা A B টেস্ট এর মতো কাজ করবে।
এখানে লক্ষণীয় ব্যাপার হলো আপনার এড সেট অপশনে প্রপার অডিয়েন্স, বাজেট, ডিউরেশন এবং প্ল্যাটফর্ম গুলো সঠিক ভাবে সিলেক্ট করছেন কিনা এবং অডিয়েন্স ডাটা অবশ্যই অডিয়েন্স ইনসাইট থেকে ফিলটার করে অডিয়েন্স সেট তৈরি করে নিবেন। এভাবে সব কিছু প্রপার ওয়ে তে সম্পন্ন করার পরে এড রান হওয়ার পর থেকে ১০ দিনের জন্য এড দুইটা রান করতে পারেন। এবং কাস্টমার দের থেকে অর্ডার নিতে থাকবেন, কোন কাস্টমার পেইজে কিছু জানতে চাইলে সে ব্যাপার গুলো নোট করে নিবেন এবং সেটার ভালো উত্তর বের করে নোটে রেখে দিবেন।
১০ দিন পর এসে যা আপনাকে করতে হবেঃ গত দশ দিনে যা অর্ডার এসেছিল এবং সেগুলো কাস্টমার দের কে ডেলিভারি দেওয়ার পরে কাস্টমার দের থেকে ফিডব্যাক নিবেন এবং সেগুলোকে নোট করবেন। এড রান করা অবস্থায় যে সকল প্রশ্ন পেইজের ইনবক্সে পেয়েছেন এবং নোট করেছেন সেগুলো থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন গুলো আলাদা করে আগের যে প্রডাক্ট ডেসক্রিপশন ছিল সেখানে যোগ করে দিবেন, সাথে গুরুত্বপূর্ণ কোন পরিবর্তন আনা দরকার বলে মনে হলে তা করবেন।
এসব শেষে এবার আসুন রি-টার্গেটিং মার্কেটিং নিয়ে কাজ করা যাক, এতো দিন যে অডিয়েন্স/কাস্টমার দের কাছে আপনার প্রডাক্ট এবং পেইজ রিচ করেছে বা যারা প্রডাক্ট এর প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছে তাদের কে আবার টার্গেট করুন এবং তা করবেন পিক্সেল ব্যবহার করে যা ইতোমধ্যেই আপনার ওয়েবসাইটের সাথে এড ম্যানেজার লিংক করার মাধ্যমে করেছেন। এবং এভাবে আপনি আপনার প্রডাক্ট এর গ্রাউন্ড লেভেল মার্কেটিং থেকে টপ লেভেল মার্কেটিং করতে পারবেন প্লানিং এবং ফানেল ব্যবহার করে।
আশা করছি এই লেখা থেকে আপনার বিজনেস গ্রোথে ভালোভাবে কাজ করবে সাথে পিক্সেল, ফানেল, প্রপার প্ল্যানিং অনুযায়ী সব কিছু ঠিক ভাবে মেনটেইন করলে অবশ্যই আপনার বিজনেস গ্রোথ করবে এবং প্রডাক্ট এর সেলস জেনারেট এ অনেক পার্থক্য আসবে বলে আশা করছি।