09/03/2026
ধর্মীয় ও নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে একটি বড় সমস্যা হলো ব্যক্তি স্বার্থের ন্যারেটিভ। অনেক সময় দেখা যায়, ব্যক্তি নিজের স্বার্থের ক্ষেত্রে প্রায় সবকিছুকেই জায়েজ মনে করে; কিন্তু অন্য কেউ একই কাজ করলে তখনই নানা ধরনের ফতোয়া, সমালোচনা ও নৈতিকতার কথা সামনে আসে।
প্রশ্ন হলো—ন্যায় কি কেবল ব্যক্তির জন্য, নাকি তা সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য?
ধর্মের মৌলিক শিক্ষা হলো ন্যায়, সততা ও আত্মসমালোচনা। প্রকৃত ধর্মীয় চেতনা মানুষকে শেখায় যে, যে মানদণ্ডে আমরা অন্যকে বিচার করি, একই মানদণ্ডে নিজের কর্মকেও বিচার করতে হবে। কারণ ন্যায় কখনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীভেদে আলাদা হয় না; ন্যায় সব মানুষের জন্য সমান।
যখন মানুষ নিজের স্বার্থকে সত্যের উপরে স্থান দেয়, তখন ন্যায়বোধ ক্ষীণ হয়ে যায় এবং দ্বিমুখী মানদণ্ড তৈরি হয়। অথচ ধর্ম আমাদের শিক্ষা দেয়—নিজের জন্য যা চাই, অন্যের জন্যও তাই চাইতে হবে এবং নিজের জন্য যা অন্যায় মনে করি, তা অন্যের জন্যও অন্যায় বলে মানতে হবে।
অতএব, ন্যায় কেবল অন্যের জন্য নয়; ন্যায় সবার জন্য। আর প্রকৃত ধর্মীয়তা তখনই প্রকাশ পায়, যখন মানুষ নিজের স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সত্য ও ন্যায়ের পথে অটল থাকে।