24/08/2024
তাহলে সমাধান কি?
১.বাঁধের বিপরীতে বাঁধ নির্মাণ পুরোটাই একটি দেশীয় আবেগ! এটি কস্মিনকালেও কোন সমাধান নয়। বরং বাঁধ পুরোপুরি ভেংগে ফেলাটা অবশ্যই একটি স্থায়ী সমাধান। শুধু ফারাক্কা নয়! এক একটা বাঁধ। অথবা সারা বছর প্রাকৃতিক নিয়মে নদীকে চলতে দেয়ার স্বার্থে প্রতিটি গেইট খুলে রাখা। এটি দুদেশের কোটি কোটি মানুষের জন্যই কল্যাণের।
২. আন্তর্জাতিক পানিচুক্তির আওতায় ভারতকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার চেষ্টা করা। ব্যাপক চাপ প্রয়োগ করা। বুঝতে শেখা কেন সে চায়না বা অন্য কোন প্রতিবেশী রাষ্ট্রের প্রতি ভেজা বেড়াল আর আমাদের মত রাষ্ট্রের বেলায় বাঘ সাজতে চায়।
তার সাথে কথা বলার ভাষা বদল করা।
৩. মানসিকতার পরিবর্তন আনা। এটা ভুল ধারণা যে আমরা চারদিক দিয়ে ভারতবেষ্টিত বরং ভারতই তার চারদিক দিয়ে শত্রুবেষ্টিত। গভীরভাবে মানচিত্র দেখুন। চায়না পাকিস্তান নেপাল আফগান ইত্যাদি রাষ্ট্রের সাথে বিচক্ষণ কুটনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধি করা। এটাই মোক্ষম সময়। বৈশ্বিক এলাইয়েন্স বলয় পরিবর্তন করা। নতুন
এলায়েন্স বলয় তৈরি করা।
৪. আমাদের সমস্যা ভারতের সাধারণ মানুষের সাথে নয়, ভারত সরকারের ফেরাউনি নীতির সাথে। ভারতে রয়েছে আমাদের ইতিহাস,আকাবির ও দ্বীনি ভাই ও বোন৷ তাই ঢালাওভাবে সবাইকে গালি না দেয়া। বরং ভারত সরকারের সাথে বিগত ৩০ বছরের সমস্ত চুক্তির নথিপত্র রি-ওপেন করা৷ জাতীয় স্বার্থ বিরোধী সমস্ত চুক্তি বাতিল করা। রেল ট্রাঞ্জিট, মংলা, সব। শুধু পণ্য বয়কট নয়, এবার পুরো ভারতীয় পলিসি বয়কটের আওয়াজ তোলা! কারণ প্রজন্মের কাছে তাদের স্বরুপ ইতিমধ্যেই দিনের আলোর মতোই স্পষ্ট হয়ে গেছে! তাই সময়টা কাজে লাগানো!
৫. আমাদের প্রতিটি নদীকে মেগাড্রজিং প্রকল্পের আওতায় নিয়ে আসা, এতে আমাদের নদীর পানি সারা বছর আমরাই ধরে রাখব ইনশাআল্লাহ। যেমন চায়নার দেয়া তিস্তা প্রস্তাবকে সতর্কতার সাথে ডিল করা। এতে জালেমের গালে বেশাক চপেটাঘাত করা হবে। ড্রেজিং একটি উত্তম সমাধান।
আপাতত এতটুকুই!
ইনশাআল্লাহ পরবর্তীতে আরও বিস্তারিত বলার বা লেখার চেষ্টা করব। তবে সব কথাই একটি মৌলিক দর্শনে গিয়ে ঠেকে!
যতদিন না আল্লাহর জমিনে আল্লাহর শাসন ও হুকুম প্রতিষ্ঠা হচ্ছে ততদিন আমরা কেউই স্বাধীন নই!
কস্মিনকালেও নই!
আর যতদিন না আমরা নাবী (স) এর পরিপূর্ণ সিরাত ও সুন্নাতের ভাষায় দ্বীন কায়েমের পথে না হাটছি ততদিন কোন তন্ত্র মন্ত্র আমাদের শারিয়াহ ইমারাহ ও খিলাফাহও এনে দিতে পারবে না। কস্মিনকালে নয়।