09/02/2024
শুধু সিমেন্ট নয়, কংক্রিটের গুণগত মানও গুরুত্বপূর্ণ
সি মে ন্ট শি ল্প
সিমেন্টের কণা পানির সংস্পর্শে এলেই জমাট বেঁধে শক্ত হওয়া শুরু করে। সিমেন্টের এ প্রবণতার কারণে বাইন্ডিং ম্যাটেরিয়াল হিসেবে কংক্রিট তৈরিতে ব্যবহূত হয়। অর্থাত্ যখন পানি, বালি, পাথর, ইটের খোয়ার সঙ্গে সিমেন্ট মেশানো হয়, সিমেন্ট কণার পানির সঙ্গে বিক্রিয়ার কারণে সকল উপাদান জমাট বেঁধে কংক্রিট তৈরি করে। সিমেন্টের ব্যাগ আর্দ্রতারোধী হতে হবে, যেটি নিশ্চিত করার দায়িত্ব সিমেন্ট উত্পাদনকারী প্রতিষ্ঠানের। পাশাপাশি ক্রেতাকে আর্দ্রতারোধী সিমেন্ট ব্যাগ শুষ্ক জায়গায় সংরক্ষণ করতে হবে, যেন বৃষ্টির পানি এবং মাটি বা মেঝের আর্দ্রতার সংস্পর্শে না আসে
বাংলাদেশের আবহাওয়া এবং সিমেন্ট সংরক্ষণ
শীত মৌসুমের ২-৩ মাস বাদে সারা বছরই বাংলাদেশে বাতাসের আর্দ্রতা শতকরা ৭০ থেকে ৯০ ভাগ পর্যন্ত বজায় থাকে। সিমেন্টের কণা পানির সংস্পর্শে এলেই জমাট বেঁধে শক্ত হওয়া শুরু করে। সিমেন্টের এ প্রবণতার কারণে বাইন্ডিং ম্যাটেরিয়াল হিসেবে কংক্রিট তৈরিতে ব্যবহূত হয়। অর্থাত্ যখন পানি, বালি পাথর, ইটের খোয়ার সঙ্গে সিমেন্ট মেশানো হয়, সিমেন্ট কণার পানির সঙ্গে বিক্রিয়ার কারণে সকল উপাদান জমাট বেঁধে কংক্রিট তৈরি করে। সিমেন্টের ব্যাগ আর্দ্রতারোধী হতে হবে, যেটি নিশ্চিত করার দায়িত্ব সিমেন্ট উত্পাদনকারী প্রতিষ্ঠানের। পাশাপাশি ক্রেতাকে আর্দ্রতারোধী সিমেন্ট ব্যাগ শুষ্ক জায়গায় সংরক্ষণ করতে হবে, যেন বৃষ্টির পানি এবং মাটি বা মেঝের আর্দ্রতার সংস্পর্শে না আসে। ৩ মাসের অধিক সময় ধরে সিমেন্ট মজুদ রাখা উচিত নয়। সিমেন্টের শক্তি পরীক্ষা, সেটিং টাইম পরীক্ষা এবং ফাইননেস পরীক্ষা করে মান যাচাই করে নেওয়া উত্তম।
সিমেন্টের শক্তি বনাম কংক্রিটের শক্তি
পানি ও সিমেন্টের অনুপাত, অ্যাগ্রিগেটের গ্রেডিং, (বালি, পাথর বা ইটের খোয়াকে একত্রে অ্যাগ্রিগেট বলে), অ্যাগ্রিগেটের গুণগত মান, পানির গুণগত মান, সঠিক মিশ্রণ অনুপাত, কিউরিং ইত্যাদির ওপর কংক্রিটের শক্তি ও গুণগত মান নির্ভর করে। পাথরের খোয়া ও বালি ব্যবহারে বিভিন্ন সাইজের সমন্বয়কে অ্যাগ্রিগেটের গ্রেডিং বোঝায়। যদি অ্যাগ্রিগেটে বিভিন্ন সাইজের সমন্বয় থাকে, তাহলে সেটি ‘ভালো গ্রেডিং।’
ভিন্ন ভিন্ন স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী সিমেন্ট পরীক্ষার নমুনার ধরন, মিশ্রণ অনুপাত, যন্ত্রপাতি ও পরীক্ষা পদ্ধতিতে কিছু ভিন্নতা থাকে। উদাহরণস্বরূপ, একই মানসম্পন্ন সিমেন্ট এএসটিএম এবং ইএন স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী পরীক্ষা করা হয়, তাহলে এএসটিএম পরীক্ষার রিপোর্টে কম্প্রেসিভ শক্তির মান কিছু কম আসবে এবং ইএন পদ্ধতিতে কিছু বেশি আসবে।
এএসটিএম স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী সিমেন্ট, বালি, পানির মিশ্রণ টেম্পিং রডের মাধ্যমে কমপ্যাক্ট করে ৫০ মিমি – ৫০ মিমি – ৫০ মিমি কিউব আকৃতির নমুনার ওপর ৩ দিন, ৭ দিন ও ২৮ দিনের শক্তির মান যাচাই করা হয়। ইউরোপিয়ান স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী সিমেন্ট, বালি এবং পানির মিশ্রণ মেশিনে কমপ্যাক্ট করে ৪০ মিমি – ৪০ মিমি – ১৬০ মিমি প্রিজমাকৃতির নমুনার ওপর পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষা পদ্ধতিতে বালির সাইজের ভিন্নতাও লক্ষণীয়। ইএন স্ট্যান্ডার্ডে তুলনামূলক মোটা সাইজের বালি ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার ৫,০০০ পিএসআই শক্তির সিমেন্ট ব্যবহার করা মানে এই নয় যে ৫,০০০ পিএসআই-এর অধিক শক্তির কংক্রিট তৈরি করা যাবে না। এমনকি সিমেন্টের শক্তি ৫,০০০ পিএসআই হলেও কংক্রিটের শক্তি ২,০০০ পিএসআই হতে পারে যদি মিশ্রণ অনুপাত, ঢালাই পরবর্তী কম্প্যাকশন এবং কিউরিং যথাযথ না থাকে। সিমেন্টের ধরন অনুযায়ী সাধারণ পোর্টল্যান্ড সিমেন্টের (ওপিসি টাইপ-১ সিমেন্ট) ২৮ দিনের শক্তির মান, পোর্টল্যান্ড কম্পোজিট সিমেন্ট (পিসিসি বা টাইপ-২)-এর ২৮ দিনের শক্তির মানের চেয়ে বেশি। কিন্তু সঠিক মিক্স ডিজাইন, অর্থাত্ সকল উপাদানগুলোর সঠিক মিশ্রণ অনুপাত ব্যবহার করে এবং গুণগত মান বজায় রেখে দুই ধরনের সিমেন্ট ব্যবহার করেই একই শক্তিমাত্রার কংক্রিট তৈরি সম্ভব। এবং এটা মনে রাখতে হবে, সব উপাদান মিলিয়েই ঢালাইয়ের মসলা তৈরি করা হয়, যেটি জমাট বেঁধে শক্ত হয়ে আমাদের ভবনে নির্দিষ্ট শক্তিমাত্রার কংক্রিটের ফ্লোর, স্ল্যাব, কলাম, বিম তৈরি করে।
সিমেন্টের ধরন ও খনিজ উপাদান সংযুক্তি
যখন ৯৫%-৯৯% ক্লিংকার শুধুমাত্র ১%-৫% জিপসামের সঙ্গে মিশিয়ে সিমেন্ট উত্পাদন করা হয়, তা হলো অর্ডিনারি পোর্টল্যান্ড সিমেন্ট বা ওপিসি। ওপিসিকে ইউরোপিয়ান স্ট্যান্ডার্ডে (ইএন) বলা হয় সিইএম-১ এবং আমেরিকান স্ট্যান্ডার্ডে (এএসটিএম) বলা হয় টাইপ-১ সিমেন্ট।
আর যখন ক্লিংকারের সঙ্গে লাইম, ব্লাস্ট ফারনেস স্ল্যাগ ও ফ্লাই অ্যাশ মেশানো হয়, তখন তা হয় পোর্টল্যান্ড কম্পোজিট সিমেন্ট বা পিসিসি। এই সিমেন্টকে ইউরোপিয়ান স্ট্যান্ডার্ডে বলা হয় সিইএম-২ এবং আমেরিকান স্ট্যান্ডার্ডে বলা হয় টাইপ-২ সিমেন্ট। বাংলাদেশে সিমেন্ট কম্পোজিশনে ইউরোপিয়ান স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে।
বাংলাদেশে ইউরোপিয়ান স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী মূলত তিনটি ভিন্ন মিশ্রণের সিমেন্ট বেশি প্রচলিত। নিচের টেবিলে এই তিন ধরনের সিমেন্টের স্ট্যান্ডার্ড তুলে ধরা হয়েছে।
বলা যায়, এই খনিজ সংযোজন কংক্রিটে সিমেন্টের বাড়তি গুণাগুণ নিশ্চিত করে। বিশেষত কংক্রিটের স্থায়িত্ব বাড়াতে ব্লাস্ট ফার্নেস স্ল্যাগ ও ফ্লাই অ্যাশের ভূমিকা রয়েছে। আমাদের দেশে বেশিরভাগ সিমেন্ট উত্পাদনকারী প্রতিষ্ঠান ক্লিংকার আমদানি করে থাকে। এক টন ক্লিংকার উত্পাদনে প্রায় ১ টন গ্রিন হাউস গ্যাস নির্গত হয়। তাই ক্লিংকারের ব্যবহার কমাতে কলকারখানায় সহজাত উদ্বৃত্তের পুনঃব্যবহার হতে পারে ক্লিংকারের দারুণ বিকল্প ও পরিবেশবান্ধব। পরিবেশবান্ধব উপযোগিতা এবং কংক্রিটের শক্তি ও কার্যক্ষমতা বাড়াতে ইউরোপ ও আমেরিকায় গবেষণা করেই ক্লিংকার ও জিপসামের সঙ্গে এসব খনিজ সংযোজনে বিভিন্ন কম্পোজিশনের সিমেন্ট ক্যাটাগরি তৈরি হয়েছে। ব্লাস্ট ফারনেস স্ল্যাগ ও ফ্লাই অ্যাশ দুইভাবে গ্রিন হাউস গ্যাসের নিঃসরণ কমাতে পারে,
১. ক্লিংকারের ব্যবহার কমানোর মাধ্যমে যা গ্রিন হাউস গ্যাস নিঃসরণ করে। ২. কংক্রিটের স্থায়িত্ব বাড়ানোর মাধ্যমে, দীর্ঘস্থায়িত্ব নির্মাণ নিশ্চিত করে পুনরায় নির্মাণ কাজের হার কমিয়ে গ্রিন হাউস গ্যাস নিঃসরণ কমাতে সাহায্য করে।
বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় উচ্চ আর্দ্রতা ও বাতাসে ক্লোরাইড আয়নের উপস্থিতির কারণে কংক্রিটের ভেতরের রডে দ্রুত মরিচা ধরে। এই কারণে কংক্রিটের স্থায়িত্ব প্রায় ১০-২০ বছর নেমে আসে। রডের মরিচা ধরার জন্য কংক্রিটের ভেতরে চার্জের পরিবাহিতা দরকার। ওপিসি সিমেন্টের কংক্রিটে চার্জের পরিবাহিতা পিসিসি-এর চেয়ে বেশি। ওপিসি সিমেন্ট দিয়ে তৈরি কংক্রিট দ্রুত শক্তি অর্জন করে আবার পিসিসি সিমেন্ট দিয়ে তৈরি কংক্রিটের দীর্ঘস্থায়িত্ব পিসিসি সিমেন্টের চেয়ে বেশি। সিমেন্টের কম্পোজিশন অনুযায়ী শক্তি অর্জনের সময়, কর্ম-উপযোগিতা ও দীর্ঘস্থায়িত্ব অর্জনে বৈশিষ্ট্যগত কিছু পার্থক্য থাকলেও সঠিক মিশ্রণ অনুপাত ও অন্যান্য উপাদান ভালো মানের হলে কংক্রিটের শক্তি অর্জন একইভাবে সম্ভব।
কংক্রিটের আয়তনিক মিক্সিং অনুপাত এবং কংক্রিটের গুণগত মান আমাদের দেশে বৃহত্ প্রজেক্ট ছাড়া বেশিরভাগ নির্মাণ কাজেই আয়তনিক মিক্সিং অনুপাত ব্যবহার করে কংক্রিট তৈরি করা হয়। সংগ্রহকৃত অ্যাগ্রিগেট (বালি এবং পাথর-ইটের খোয়া) শুষ্ক, ভেজা বা আর্দ্রতাপূর্ণ থাকতে পারে। ঢালাইয়ের জন্য আদর্শ অবস্থায় এনে তারপর মেশাতে হয়। এসব বালি, পাথর বা ইটের ভেতর আর্দ্রতা (ময়েশ্চার কনটেন্ট) কতটুকু কমবেশি আছে, সেটি জানা অতি জরুরি। কারণ, পানি-সিমেন্টের অনুপাত নির্ধারণ করেই সাইটে ঢালাইয়ের মসলায় পানি কতটুকু মেশাতে হবে, তা নিরূপণ করতে হয়। কংক্রিটের কর্ম-উপযোগিতা, সঠিক সময়ে জমাট বেঁধে চূড়ান্ত শক্ত হওয়া, কমপ্যাক্ট কংক্রিট সবকিছুর জন্য এসব সূক্ষ্ম টেকনিক্যাল বিষয়গুলোর প্রতি লক্ষ রাখা উচিত। বড়ো প্রজেক্টে বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে নির্দিষ্ট শক্তিমাত্রার কংক্রিট তৈরিতে মিক্স ডিজাইনের মাধ্যমে পানিসহ প্রতিটি উপাদানের সঠিক পরিমাণ নির্ণয় করা হয়। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে এভাবে প্রচলিত সাইটে মিক্সিং কংক্রিট তৈরিতে সব সময় সঠিক পরিমাণ, বিশেষ করে পানির পরিমাণ নিরূপণ প্রায় অসম্ভব।
দীর্ঘস্থায়ী শক্তিশালী কংক্রিট তৈরিতে প্রয়োজন অনুযায়ী পানি-সিমেন্টের অনুপাত ০.৪০-০.৫০ হয়ে থাকে। বাংলাদেশে সাইটে মিক্স কংক্রিট প্রস্তুতিতে ১ :১.৫ :৩ এবং ১ :২ :৪ এই দু ধরনের আয়তনিক অনুপাত সবচেয়ে বেশি প্রচলিত। বিশেষ করে সাধারণ ঢালাই কাজে ১ :২ :৪ সবচেয়ে বেশি প্রচলিত। এই আয়তনিক অনুপাত সম্পূর্ণ অনুমাননির্ভর, যেটা ব্যবহার করে পানি-সিমেন্ট অনুপাত (০.৪০-০.৫০) বজায় রাখা সম্ভব হয় না, আবার এই পানি-সিমেন্ট অনুপাত বজায় রাখতে হলে একদম সরাসরি এই অনুপাত ব্যবহার করা যথাযথ নয়। গুণগত মানসম্পন্ন কংক্রিট প্রস্তুতির ক্ষেত্রে আরেকটি চ্যালেঞ্জিং বিষয় হলো সাইটে এই অনুপাত অনুযায়ী উপাদানগুলো পরিমাণমতো মেশানো। অর্থাত্ সঠিক মিশ্রণ অনুপাত, সঠিক পদ্ধতিতে মেশানো—এই দুটো বিষয়ের দিকেই লক্ষ রাখতে হবে।
সাইট মিশ্রণ অনুপাত সঠিক আছে কি না বোঝার একটি পরীক্ষা হলো ঢালাই মসলার স্ল্যাম্প টেস্ট করে স্ল্যাম্প-এর মান যাচাই করা। আয়তনিক মিশ্রণ অনুপাত সঠিকভাবে বজায় রেখে সদ্য প্রস্তুত কংক্রিটের স্ল্যাম্পের মান যদি ৫০ মিমি-১০০ মিমির ভেতর পাওয়া যায় বা রাখা হয় এবং ঢালাইয়ের পর যদি সঠিকভাবে কম্প্যাকশন এবং কিউরিং করা হয়, তাহলে কংক্রিট গুণগত মানসম্পন্ন হবে এবং দীর্ঘস্থায়ী সুফল আশা করা যেতে পারে। সাইটে মিশ্রিত পানির অনুপাতে পানির পরিমাণ একটি সংবেদনশীল বিষয়। কারণ পাথর বা ইটের খোয়া শুষ্ক অবস্থায় পানি বেশি টানবে আর যদি পাথর ভিজিয়ে শুকানো হয় তাহলে সেখানে অতিরিক্ত পানির পরিমাণ প্রয়োজন হবে না।
উদাহরণস্বরূপ অ্যাগ্রিগেটের আদর্শ অবস্থায় পানি-সিমেন্টের অনুপাত ০.৪০-এর জন্য ১ ব্যাগ সিমেন্টের অনুপাতে ২০ কেজি প্রয়োজন হয় , কিন্তু অ্যাগ্রিগেটে যদি আর্দ্রতা থাকে অর্থাত্ ভেতরে পানি থেকে থাকে (ধরা যাক, ৪%) তাহলে ২০ কেজি পানির পরিমাণ সমন্বয় করতে হবে, পানির পরিমাণ কমাতে হবে।
মিক্সিং অনুপাত নির্ণয়, সাইটে মান যাচাই ও সমন্বয় সাধন এবং ঢালাই পরবর্তী কংক্রিটের পরিচর্যা ও কিউরিং সব ব্যাপারেই দক্ষ প্রকৌশলীর তত্ত্বাবধানে দক্ষ মনিটরিং প্রয়োজন।
বড়ো প্রজেক্টে সাইটে মিক্সিং পানির পরিমাণ কয়েক ধাপে নিরীক্ষণের মাধ্যমে নিরূপণ করা হয়, প্রথম ধাপে অল্প পরিমাণ পানি ঢেলে স্ল্যাম্পের মান পর্যবেক্ষণ করা হয়। তারপর প্রতি ধাপে পানি ০.৫ কেজি পরিমাণে বাড়িয়ে স্ল্যাম্পের মান নেওয়া হয়, এভাবে স্ট্যান্ডার্ড চার্ট অনুযায়ী স্ল্যাম্পের আদর্শ মানের রেঞ্জে পৌঁছালে সেই পরিমাণ পানি মেজারমেন্ট পাত্র ব্যবহার করে মেশানো হয়।
সাইটে মিক্সচার মেশিন ব্যবহার করে কংক্রিট প্রস্তুত করা হয়, বাংলাদেশের সব জায়গাতেই এখন মিক্সচার মেশিন সহজলভ্য। ১ ব্যাগ (৫০ কেজি বা ১.২৫ কিউবিক ফুট) সিমেন্ট আয়তনের প্রেক্ষিতে অ্যাগ্রিগেটের আয়তন পরিমাপ করে মেশিনে ঢুকানো হয়, তারপর ১ ব্যাগ সিমেন্ট ঢেলে দেওয়া হয়। অ্যাগ্রিগেট মেশানোর জন্য স্থানীয়ভাবে নির্দিষ্ট আয়তনের বাক্স বা ফেরা বা টুকরি ব্যবহার হয়। এসব ফেরা বা টুকরিতে কোনোভাবেই অ্যাগ্রিগেট স্তূপাকারে ভরে মেশানো যাবে না। নির্দিষ্ট অনুপাত বজায় রাখার জন্য প্রচলিত ফেরাতে ক্যালিব্রেশন বাক্স ব্যবহার করে অ্যাগ্রিগেটের সঠিক পরিমাপ নিশ্চিত করা উচিত।
ব্রিক চিপস ব্যবহার করে কীভাবে ভালোমানের কংক্রিট পাওয়া যায়?
ব্রিক চিপসে ফাঁকা স্থান বেশি থাকে, তাই দীর্ঘস্থায়ী অ্যাগ্রিগেট ব্রিক চিপস দিয়ে সম্ভব হয় না। আমাদের দেশে অনুমাননির্ভর মিক্সিং অনুপাতে তৈরি কংক্রিটের ভবনের দৃঢ়তা ১০-১৫ বছর পর হ্রাস পেতে শুরু করে। ব্রিক চিপস দিয়ে ভালো মানের কংক্রিট পেতে হলে সিমেন্ট ও বালির অনুপাত বাড়াতে হয়। যেমন ব্রিক চিপস ব্যবহার করে ৩৫০০ পিএসআইয়ের কংক্রিট পেতে ১ :২ :৪ আয়তনিক অনুপাতের পরিবর্তে ১ :১.৫ :২.৫ অনুপাতে মিক্সিং করতে হবে। ব্রিক চিপস নির্বাচনের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকতে হবে, হলুদাভ ইটের পরিবর্তে লাল ও বেশি পোড়া ইটের চিপস অপেক্ষাকৃত ভালো মানের কংক্রিট দেয়। আর ব্যবহারের আগে অবশ্যই তা ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে। আর এক্ষেত্রে ওপিসির পরিবর্তে পিসিসি সিমেন্ট ব্যবহার করলে ভালো ফল পাওয়া যাবে। পানির পরিমাণও প্রতি এক ঘণ্টা অন্তর স্ল্যাম্পের মান নিরূপণ করে করে নির্ধারণ করতে হবে। এই স্ল্যাম্পের মান ৫০ মিমি-১০০ মিমির মধ্যে হলে কংক্রিট মিক্সিং ও ঢালাইয়ের পর কম্প্যাকশন সহজ হয়।
স্টোন চিপস ব্যবহার করে কীভাবে ভালো মানের কংক্রিট পাওয়া যায়?
কংক্রিট তৈরির জন্য পাথরের খোয়া পাতলা-চ্যাপটা ধরনের এবং সম্প্রসারিত হতে পারবে না। পাথরের খোয়ার ক্ষেত্রে বিভিন্ন সাইজের সমন্বয় থাকতে হবে। বড়ো আকৃতির পাথরের খোয়ার ফাঁকা স্থানগুলো ছোট আকৃতির খোয়া দিয়ে পূরণ করা হয়। ভালো গ্রেডের কোর্স অ্যাগ্রিগেট পেতে ১২ মিমি এবং ২০ মিমি আকৃতির পাথরের খোয়া ৪০:৬০ অনুপাতে ব্যবহার করা উত্তম। পাথরের খোয়া ব্যবহারের আগে ধুয়ে নিতে হবে।
ওপরের আলোচনায় নির্মাণ কাজে ব্যবহূত উপাদানগুলোর সঙ্গে সম্পর্কিত প্রাসঙ্গিক বিষয়গুলো সহজভাবে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করা হয়েছে, স্বচ্ছ ধারণা থেকে সচেতনতার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহজতর হয়। বাংলাদেশের আবহাওয়া বিবেচনায়, দীর্ঘস্থায়ী কংক্রিট তৈরিতে সিইএম-২ (পিসিসি) সিমেন্ট ব্যবহার করা উত্তম। বাংলাদেশে যেহেতু ইউরোপিয়ান স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করা হয়, সকল সিমেন্ট টেস্টিং ল্যাবগুলোতে ইউরোপিয়ান স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী মান যাচাইয়ের ব্যবস্থা থাকা উচিত। প্রচলিত একই আয়তনিক মিক্সিং অনুপাত ব্যবহারের পরিবর্তে ভিন্ন ভিন্ন শক্তিমাত্রার কংক্রিটের জন্য পুনর্বিবেচনা করে বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে সমন্বয় করা উচিত, প্রচলিত পদ্ধতিতেও উচ্চ মানসম্পন্ন কংক্রিট নিশ্চিত সম্ভব হবে। বাংলাদেশের সিমেন্টের মান বেশ ভালো এবং সন্তোষজনক হলেও কংক্রিটের গুণগত মানের ধারাবাহিকতা অনুরূপ নয়। প্রকৌশলী এবং নির্মাণকর্মীদের সঠিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে ভালো মানসম্পন্ন ও দীর্ঘস্থায়ী কংক্রিট নিশ্চিত সম্ভব, টেকসই বাংলাদেশ বিনির্মাণে তা অন্যতম পূর্বশর্ত।
লেখক :ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম,অধ্যাপক, পুরকৌশল বিভাগ, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়।
আপনার_স্বপ্নের_নির্মাণ_বাস্তবায়নে_
#বিশ্বস্ত_সহযোগী_প্রতিষ্ঠান
ভূঁইয়া এন্টারপ্রাইজ
প্রোঃ রাকিবুল হাসান (রকি ভূঁইয়া)
যোগাযোগঃ01726415053,01306561256
#রুস্তম_আলী_কলেজ_গেইটের দক্ষিণ_পাশে_ ভূঁইয়া ফার্নিচার সংলগ্ন,রায়পুর,লক্ষিপুর।