বিকিকিনি'র প্রধান বিক্রির বিষয়- অর্গানিক পণ্য।
অর্গানিক পণ্য কী?
অর্গানিক শব্দের বাংলা অর্থ জৈব। সাধারণভাবে অর্গানিক খাদ্য বলতে কোনো প্রকার রাসায়নিক বা কীটনাশক ব্যবহার ছাড়া উৎপাদিত পণ্যকে বোঝায়। এ ক্ষেত্রে আরো কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে। জমিতে আগে রাসায়নিক ব্যবহার হলে তা মুক্ত করা, বীজ হতে হবে প্রাকৃতিকভাবে সংগৃহীত, বাজার থেকে কেনা হাইব্রিড বীজ নয়। উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাত থেকে শুরু করে বাজারজাতকরণ পর্
যন্ত কোনো ধরনের রাসায়নিক ব্যবহার করা যাবে না ওই পণ্যে।
অর্গানিক খাদ্য বিকিকিনি : বাংলাদেশে বাড়ছে চাহিদা; কিন্তু মান নিশ্চিত হচ্ছে কী?
বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে দেশের ৫২টি পণ্য বাজার থেকে তুলে নেয়ার জন্য আদালতের আদেশের পর খাদ্যে ভেজাল নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বাংলাদেশে যারা প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে উৎপাদিত অর্থাৎ অর্গানিক খাদ্যসামগ্রী বিক্রি করেন তারা বলছেন সম্প্রতি তাদের ক্রেতা হঠাৎ করেই খানিকটা বেড়ে গেছে। ফল ও সবজিতে রাসায়নিক পদার্থ বা খাদ্যে ভেজাল নিয়ে উদ্বেগের কারণে অনেকেই এই ব্যবসাতেও আগ্রহী হয়ে উঠছেন। কিন্তু তারা নিজেরা আদৌ অর্গানিক সামগ্রী দিচ্ছেন কিনা সেটি কি কোনভাবে নিশ্চিত হচ্ছে?
অর্গানিক ফল, সবজি বা খাবার এমন শব্দ লিখে অনলাইনে একটু খুঁজতেই অনেকগুলো সরবরাহকারীর নাম চলে আসে। ফেসবুকেও এরকম নানা নাম চোখে পড়ে।
কী ধরনের অর্গানিক পণ্য বিক্রি হচ্ছে?
অর্গানিক বলে যেসব পণ্য বিক্রি হচ্ছে তার বিপণন কেন্দ্রগুলোতে সাধারণত একটু অন্য আকৃতির লাউ, কলা, কুমড়ো বা মৌসুমি ফল চোখে পডে। একটু জীর্ণ দেখতে সবজিও রয়েছে। এসব দোকানে সরিষার তেল, ঘি বা মধুর বোতলে নেই বাণিজ্যিক পণ্যের চাকচিক্য।
মোড়কে ঝলমলে লোগো, ছবি অথবা মডেলরাও অনুপস্থিত। দেশে অর্গানিক সামগ্রীর ব্যবসা করছে এমন বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান। বিকিকিনি সাম্প্রতিক শুরু হওয়া এমনই একটি প্রতিষ্ঠান।
বিকিকিনি'র পণ্য তালিকা লম্বা নয়, সব ধরনের পণ্য সরবরাহ করে না। আমরা নিজেরা গ্রামে ঘুরে ঘুরে কৃষকের কাছ থেকে অর্গানিক পণ্য সংগ্রহ করি। চোখে দেখা পণ্যগুলোই কেবল বিক্রি করে থাকি। না দেখে বা নিশ্চিত না হয়ে কোন পণ্য বাজারজাত করি না। একারণে আমাদের পণ্য সমাহার নেই। যে পণ্য পরিবার-পরিজন নিয়ে নিজেরা খাই না, সে পণ্য আমরা কখনও বিক্রি করি না; আমরা বস্তুত কমিটমেন্ট বিক্রি করি। এই কমিটমেন্টই আমাদের একমাত্র পুঁজি...
অর্গানিক কিনা সেটি কিভাবে নিশ্চিত হচ্ছি?
নির্দিষ্ট কিছু কৃষক আছে আমাদের। আমরা নিজেরা মাঠে গিয়ে পরিদর্শন করি। জিনিসটা দেখে যাচাই বাছাই করেই তারপরই আমাদের ভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দেয়া হয়। পণ্যের মান ঠিক রাখতে গিয়ে দামটা একটু বেশি পড়ে যাচ্ছে। কিছুই করার নাই।
অর্গানিক পণ্য নিশ্চয়তায় ভোক্তারা কিভাবে বুঝবেন আসলে তারা কী খাচ্ছেন?
প্রথমত পণ্য দেখে চিনতে হবে। দ্বিতীয়ত খেয়ে স্বাদ বুঝতে হবে। ভোজনরসিকরা অর্গানিক ও ভেজাল পণ্য হাতে নিলেই বুঝতে পারেন। রান্নায়ও নির্ভেজাল যাচাইয়ের সুযোগ আছে। প্রচুর সার বা অন্যান্য রাসায়নিক দেয়া সবজি বা ফল রান্না করার সময় প্রচুর পানি বের হয়। একবার আমাদের পণ্য হাতে নিয়ে দেখুন; তারপরে আপনার কাছ থেকেই ইতিবাচক জবাব পাবো ইনশাআল্লাহ।
বেশিরভাগ লোকে মনে করেন সবজি বা ফল চক চক করলে বা তা দেখতে সুন্দর হলে সেগুলোই ভালো। কিন্তু বাস্তবে তা নয়। একসময় মানুষজনকে বিষয়টা বোঝানো মুশকিল থাকলেও এখন সচেতনতা বেড়েছে।