07/10/2026
ডিপ্লোমা শেষ হওয়ার পর আমার সবচেয়ে কঠিন সময়টা শুরু হয়েছিল।
আমি সেলিম হোসেন। পাবনার একটা মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে।
২০২১ সালে, ডিপ্লোমা পড়ার সময় থেকেই অনলাইনে কিছু করার চেষ্টা শুরু করি।
Fiverr-এ ঢুকলাম। ভাবলাম, কিছু একটা শিখব, কাজ করব, নিজের একটা জায়গা তৈরি করব।
কিন্তু বাস্তবতা এত সহজ ছিল না।
ইংরেজিতে তখনও ভালো ছিলাম না।
মার্কেটপ্লেস কীভাবে কাজ করে,
কীভাবে নিজের কাজ মানুষকে বোঝাতে হয়—
এসবও ঠিকমতো জানতাম না।
অনেক চেষ্টা করেও Fiverr-এ কোনো কাজ পাইনি।
→ একটা সময় থেমেও গিয়েছিলাম।
ডিপ্লোমা শেষ হলো। বাড়িতে বসে আছি।
↳ আর তখনই শুরু হলো মানুষের কথা।
“কিছু একটা করো।”
“চাকরিতে ঢুকে যাও।”
“সারাদিন কম্পিউটার নিয়ে ঘরে বসে থেকে কী হবে?”
সুযোগ পেলে আপন মানুষ গুলোই বেশি খোটা দেয়।
কারণ বাইরে থেকে একটা কম্পিউটারের সামনে বসে থাকাটা খুব সহজ মনে হয়।
কিন্তু ওই কম্পিউটারের সামনে বসে নিজের একটা জায়গা তৈরি করার চেষ্টা করাটা মোটেও আমার জন্য সহজ ছিল না।
→ তারপর আবার শুরু করলাম।
২০২৩ সালের দিকে একটা কোর্সে যুক্ত হলাম। নতুন করে শেখা শুরু হলো।
Facebook Ads, Google Ads, Social Media Marketing, YouTube SEO, Keyword Research—তারপর আরও অনেক কিছু।
সবকিছুতে ব্যর্থ।
অনেক কিছু শিখেও কাজে লাগাতে পারিনি।
অনেক জায়গায় চেষ্টা করেছি, আবার থেমেছি।
আবার নতুন করে শুরু করেছি।
↳ আর একটা সময় এসে বুঝলাম, Digital কাজের struggle শুধু skill শেখার মধ্যেই শেষ না।
বাংলাদেশে কাজ করতে গিয়ে এমনও হয়েছে—
ক্লায়েন্টের ওপর ভরসা করে কাজ শুরু করেছি।
কখনো আগে পুরো payment নিইনি।
কাজ করেছি, website তৈরি করে দিয়েছি, Facebook campaign দিয়ে দিছি, পুরো কাজ শেষ করে দিয়েছি।
ভাবতাম, কাজটা ভালোভাবে করে দিতে পারলে payment নিয়ে আর সমস্যা হবে না।
কথায় আছে সময় যখন খারাপ হয় নিজের ছায়াও... শত্রু হয়
কিন্তু সব সময় সেটা হয়নি!
কখনো কাজ শেষ করার পর payment দেয় নাই।
কখনো যোগাযোগ বন্ধ করে দিছে।
কখনো এমনও হয়েছে, যাকে বিশ্বাস করে কাজটা করে দিয়েছি, শেষ পর্যন্ত তার কাছ থেকেই কোনো response পাইনি। বাস্তবতা! অভাব😇
সত্যি বলতে, এসব খুব হতাশ লাগতো।
কখনো মনে হয়েছে—
“আর কাজ করব না।” তার থেকে গার্মেন্টসে কাজ করাই ভালো 😇
আবার ভাবতাম যেহেতু রিজিকের মালিক আল্লাহ। তিনি আমাদের জন্মেরে ও ৫০ হাজার বছর আগে রিজিক লিখে রেখেছেন।
তাই এই পৃথিবীতে আমার এক বিন্দু রিজিক রেখে ও মৃত্যুবরণ করবো না। আমি চেষ্টা করে যাবো বাকিটা আল্লাহ ভরসা।
" জেনে রাখো আল্লাহর স্মরণের মাধ্যমেই অন্তরে সত্যিকারে প্রশান্তি লাভ করা যায় " সুরা: রাদ:২৬
এত সময় দিয়ে কাজ করার পর যদি নিজের প্রাপ্যটুকুও না পাই, তাহলে আবার শুরু করব কেন?
→ কিন্তু কিছুদিন পর আবার নিজেকেই বলেছি—
হয়তো সমস্যাটা শুধু কাজের না।
আমাকে আরও শিখতে হবে।
কীভাবে কাজ করতে হয়,
তার পাশাপাশি কীভাবে নিজের কাজকে protect করতে হয়,
কীভাবে client handle করতে হয়,
কীভাবে business করতে হয়—সেটাও শিখতে হবে।
এইভাবেই ধীরে ধীরে শিখতে হয়েছে।
আর এই পথ চলতে গিয়ে একটা ভালো জিনিসও পেয়েছি।
সব মানুষ একরকম না।
কিছু মানুষের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ হয়েছে, যাদের সততা, ব্যবহার এবং সহযোগিতা আমাকে সত্যিই ভালো লেগেছে।
তাদের মধ্যে ছিলেন—
ডা. মোঃ আরসাদ উল্লাহ — চিফ কনসালট্যান্ট,
ডা. মোঃ রফিকুল ইসলাম — শিশু বিশেষজ্ঞ,
ডা. মোঃ লতিফ সিরাজী,
ডাঃ খন্দকার,
ডাঃ এ বি এম কামরুল হাসান
তাদের সবার সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা আমার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
কারণ এই জার্নিতে যেমন কিছু মানুষ আমাকে হতাশ করেছে,
তেমনি কিছু মানুষ আবার বিশ্বাস করার কারণও দিয়েছে।
এটা হয়তো আমার এই পথচলার সবচেয়ে সুন্দর দিকগুলোর একটা। তাদের প্রতি আমি চির কৃতজ্ঞ।
মহান আল্লাহ তাদের নেক হায়াত দান করুক এবং সুস্থতা নসিব করুন। ইনশাআল্লাহ আমিন
আজও এমন না যে আমি অনেক কিছু জানি।
সত্যি বলতে, এখনো নিজের জায়গাটা তৈরি করার চেষ্টা করছি বার বার ব্যর্থ হচ্ছি। আলহামদুলিল্লাহ।
→ তবে আলহামদুলিল্লাহ, কাজের ক্ষেত্র অনেকটাই বদলেছে।
বর্তমানে বাংলাদেশের ডেন্টাল ডাক্তার ও ডেন্টাল ক্লিনিকগুলোর জন্য Facebook Ads, Website Design এবং AI Avatar/Digital Clone নিয়ে কাজ করছি।
পাশাপাশি প্রায় এক বছর ধরে USA মার্কেটেও AI Automation, Knowledge-Based AI Agent, 24/7 Support এবং Voice Agent নিয়ে কাজ করার সুযোগ হয়েছে।
"হে আমার রব আপনি আমার উপর যে অনুগ্রহ দান করবেন, আমি তার মুখাপেক্ষী "
আলহামদুলিল্লাহ।
এগুলোর কোনো কিছুই আমি শুধু নিজের যোগ্যতার ফল বলে মনে করি না।
আল্লাহর শুকরিয়া Alhamdulillah —যিনি শেখার সুযোগ দিয়েছেন,
কাজের সুযোগ দিয়েছেন এবং বারবার হতাশ হওয়ার পরও আবার চেষ্টা করার শক্তি দিয়েছেন।
এই জার্নিতে একটা জিনিস খুব ভালোভাবে বুঝেছি—
মানুষ কী বলল, সেটা শুনতে শুনতে নিজের পথ হারিয়ে ফেললে চলবে না।
সমাজ আপনার ব্যর্থতা নিয়ে কথা বলবে।
আপনি কী করছেন, কেন করছেন—সেটা নিয়েও প্রশ্ন করবে।
কেউ বলবে চাকরি করো।
কেউ বলবে অন্য কিছু করো।
কেউ হয়তো বুঝবেই না, আপনি আসলে কী করার চেষ্টা করছেন।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত জীবনটা আপনারই, পরিবার ও আপনারাই, তাদেরকে নিয়ে বাঁচতে হবে। কেউ হাত বাড়িয়ে দিবে না। বাস্তবতা এটাই সত্য।
আর ও একটা জিনিস শিখেছি—
ধৈর্য মানে শুধু অপেক্ষা করা না।
ধৈর্য মানে হতাশ হওয়ার পরও সঠিক পথে আবার চেষ্টা করা।
আল্লাহ কুরআনে বলেছেন:
“নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন।”
— সূরা আল-বাকারা :১৫৩
এই কথাটা আমার জন্য শুধু একটা আয়াত না।
এটা এমন একটা কথা, যেটা কঠিন সময়গুলোতে আমাকে আবার দাঁড়াতে সাহায্য করে। আলহামদুলিল্লাহ
কারণ এখনো অনেক কিছুই ঠিকঠাক হয়নি।
এখনো struggle আছে।
এখনো uncertainty আছে।
এখনো অনেক কিছু নতুন করে শিখতে হয়।
আমি এখনো গন্তব্যে পৌঁছাইনি।
হয়তো আরও অনেকবার ব্যর্থ হতে হবে।
হয়তো আরও অনেকবার নতুন করে শুরু করতে হবে।
→ কিন্তু আলহামদুলিল্লাহ—
এখন অন্তত জানি, থেমে গেলেই গল্প শেষ হয়ে যায়।
তিন বছর আগের এই ছবিটা তাই আমার কাছে শুধু একটা Memory না।
এটা আমাকে মনে করিয়ে দেয়—
আমি কোথা থেকে শুরু করেছিলাম।
কতবার থেমেছিলাম।
কতবার হতাশ হয়েছিলাম।
কতবার আবার শুরু করেছিলাম।
হয়তো এখনো আমাকে অনেকটা পথ struggle করেই যেতে হবে।
"মানুষ তাই পায় সে যা চেষ্টা করে এবং তার প্রচেষ্টার ফল শীঘ্রই দেখা দিবে।" ইনশাআল্লাহ।
সূরা আন নাজম, আয়াত ৩৯-৪০
তবুও—
আলহামদুলিল্লাহ। 🤍