05/06/2025
আপনি কি Polaroid-এর গল্প জানেন?
একটা সময় ছিল যখন ছবি তোলার মানে ছিল Polaroid ক্যামেরা হাতে নেওয়া। ১৯৩৭ সালে Edwin H. Land যখন এই কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন, তখন কেউ ভাবেনি যে এটি ভবিষ্যতে একটি সম্পূর্ণ আলাদা প্রযুক্তির প্রতীক হয়ে উঠবে "instant photography", ক্যামেরা দিয়ে ছবি তুলে সঙ্গে সঙ্গেই হাতে প্রিন্ট পাওয়া, এই অভিজ্ঞতা এক সময়ের মানুষের কাছে ছিল ঠিক জাদুর মতো। পুরো পৃথিবী ছবি তোলার নতুন এক বিপ্লব দেখেছিল Polaroid-এর হাত ধরে।
তবে সমস্যা শুরু হয় তখনই, যখন Polaroid নিজের সাফল্যেই ঘুমিয়ে পড়ে। ১৯৯০ দশকের পর যখন ডিজিটাল ক্যামেরা এবং পরে স্মার্টফোন ক্যামেরার উত্থান ঘটে, তখন Polaroid সেই পরিবর্তনকে স্বাগত জানাতে পারেনি। তারা ভেবেছিল, মানুষ সবসময়ই ফিজিক্যাল প্রিন্ট চাবে, কিন্তু তারা ভুল ছিল। সময় পাল্টে গিয়েছিল, কিন্তু Polaroid নিজেকে পাল্টাতে পারেনি। আর ঠিক সেই কারণেই ২০০১ সালে Polaroid দেউলিয়া হয়ে যায়। যাদের হাতে একদিন ছিল ক্যামেরা দুনিয়ার একচ্ছত্র আধিপত্য, তাদের ইতিহাসে ঠাঁই হয় ‘যারা সময় বুঝতে পারেনি’ দলে।
এটা শুধু Polaroid-এর গল্প নয়। এই তালিকায় আছে Kodak, যার ১ লক্ষ ৭০ হাজার কর্মী ছিল, কিন্তু ডিজিটাল যুগে টিকতে না পেরে মুছে গেল। আছে Blockbuster, যাদের ভিডিও স্টোর আজ আর কোনো কাজে লাগে না, কারণ Netflix, YouTube, Amazon Prime দুনিয়া দখল করে নিয়েছে। Nokia একসময় মোবাইলের রাজা ছিল, কিন্তু Android না বুঝে তাদের পতন ঘটে। Compaq ছিল শক্তিশালী পিসি ব্র্যান্ড, Borders ছিল জনপ্রিয় বুকস্টোর, Pan Am ছিল সাড়া জাগানো এয়ারলাইন, সবই ইতিহাস হয়ে গেছে, কারণ তারা সময়ের চেয়ে ধীর ছিল।
আজকের যুগে দাঁড়িয়ে আপনি যদি মনে করেন, "আমার ব্যবসা ভালো চলছে", তাহলে সেটাই আপনার সবচেয়ে বড় ভুল ধারণা হতে পারে। কারণ সময় ভালো থাকা মানে নয়, সময়ের চেয়ে এগিয়ে থাকা। যারা সময়ের ভাষা পড়ে ফেলতে পারে না, তারা সময়ের সঙ্গে যুদ্ধ করে হেরে যায়।
আজ Uber-এর কোনো গাড়ি নেই, তবুও তারা পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ট্যাক্সি সেবা। Airbnb-এর কোনো হোটেল নেই, তবুও তারা দুনিয়ার সবচেয়ে বড় হোটেল নেটওয়ার্ক। Doctor on Demand-এর কোনো ডাক্তার নিজে রোগী দেখে না, কিন্তু তারা লক্ষ লক্ষ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা দেয় AI দিয়ে। এগুলো সময়ের ফর্মুলা যারা বুঝবে, টিকে থাকবে; যারা বুঝবে না, ডাস্টবিনের অপেক্ষায় থাকবে।
আগামী ৫–১০ বছরে চাকরির ৭০–৯০% ধ্বংস হয়ে যাবে। গাড়ি চালানো, হিসাব রাখা, তথ্য সাজানো, আইন পেশা, এমনকি ডাক্তারিও সবকিছুকে Replace করবে সফটওয়্যার ও AI। যারা শিখবে না, বদলাবে না, তারা শুধু বাজারের দর্শক হবে, অংশগ্রহণকারী নয়।
STD বুথগুলো কোথায় গেলো? একদিন দেশের সব মোড়েই ছিল। আজ নেই। কারণ মোবাইল এসে গেছে। আর সেই মোবাইলের রিচার্জ দোকানও এখন হুমকির মুখে। কারণ রিচার্জও এখন অনলাইনে হয়। যাদের পরিবর্তনের সাহস আছে, তারাই নতুন জায়গা তৈরি করে নেয়। আর বাকিরা খোঁজও পায় না, কীভাবে তারা হারিয়ে গেল।
এই পৃথিবী আর আগের মতো নেই, আর কখনো হবেও না।
আপডেট হোন। নিজেকে বদলান। না হলে আপনি থাকবেন না, আপনার জায়গাটাও থাকবে না।