বিদিরপুর

বিদিরপুর বিদিরপুর, ৬নং মাটিকাটা ইউনিয়ন,
(3)

রাজশাহী-১: ৪ হাজার ভোটের ব্যবধানে বিএনপি প্রার্থীকে হারিয়ে জামায়াতের মুজিবুর রহমান জয়ী​ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশ...
12/02/2026

রাজশাহী-১: ৪ হাজার ভোটের ব্যবধানে বিএনপি প্রার্থীকে হারিয়ে জামায়াতের মুজিবুর রহমান জয়ী

​ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী উপজেলা) আসনে শ্বাসরুদ্ধকর লড়াই শেষে বেসরকারিভাবে জয়লাভ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো: মুজিবুর রহমান। দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে তিনি তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রার্থী মো: শরীফ উদ্দীনকে পরাজিত করেছেন।
​ফলাফলের ব্যবধান
১৮টি ভোটকেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত প্রাথমিক বেসরকারি ফলাফলে দেখা গেছে, জামায়াত প্রার্থী মো: মুজিবুর রহমান পেয়েছেন ১,০৭,৪৬০ ভোট। অন্যদিকে বিএনপির মো: শরীফ উদ্দীন ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১,০৩,৩৩৬ ভোট। ৪,১২৪ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন মুজিবুর রহমান।

নির্বাচন সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই আসনে মোট বৈধ ভোটের সংখ্যা ২,১১,৯৪৮টি। বাতিলকৃত ভোটের সংখ্যা ৪,৭৬৬টি। সর্বমোট ২,১৬,৭১৪ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন, যা মোট ভোটের ৭৩.৬৩৭১%।
​অন্যান্য প্রার্থীদের প্রাপ্ত ভোট
নির্বাচনে আরও তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তাদের প্রাপ্ত ভোটের হিসাব নিচে দেওয়া হলো:
​মো: আব্দুর রহমান (আমার বাংলাদেশ পার্টি - ঈগল): ৬১৪ ভোট
​মো: আস-সাআদ (স্বতন্ত্র - মোবাইল ফোন): ৩৪৫ ভোট
​মির মো: শাহজাহান (গণ অধিকার পরিষদ - ট্রাক): ১৯৩ ভোট

নির্বাচন বিশ্লেষকরা বলছেন, শুরু থেকেই জামায়াত ও বিএনপির মধ্যে এই আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছিল। দিনভর শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ শেষে রাতে এই ফলাফল ঘোষণা করা হয়। তবে এটি প্রাথমিক বেসরকারি ফলাফল, নির্বাচন কমিশন চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশের পর ফলাফলটি দাপ্তরিকভাবে নিশ্চিত করা হবে।
​জয়ের সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর গোদাগাড়ী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আনন্দ মিছিল বের করেন জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীরা।

এই নির্বাচনে বিজয়ী অধ্যাপক মো: মুজিবুর রহমান স্যারকে বিদিরপুর পেজ থেকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা।। নারায়ে তাকবির আল্লাহু আকবর।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী–তানোর) আসনে নিচের ৫ জন প্রার্থীর মধ্যে কাকে এমপি হিসেবে দেখতে ...
26/01/2026

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬
রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী–তানোর) আসনে নিচের ৫ জন প্রার্থীর মধ্যে কাকে এমপি হিসেবে দেখতে চান?
👉 কমেন্ট করে আপনার মতামত জানান।

প্রার্থীদের তালিকা:
১️⃣ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী
মেজর জেনারেল (অব.) মোঃ শরীফ উদ্দিন —🟢 ধানের শীষ।

২️⃣ ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য সমর্থিত ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মোঃ মুজিবুর রহমান — ⚖️ দাঁড়িপাল্লা।

৩️⃣ এবি পার্টির মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক ড. মুহাম্মাদ আব্দুর রহমান মুহসেনী — 🦅 ঈগল।

4️⃣ গণঅধিকার পরিষদ মনোনীত প্রার্থী মির মোঃ শাহজাহান — 🚚 ট্রাক।

৫️⃣ স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা: মোঃ আল-সাআদ (বাচ্চু)— 📱 মোবাইল ফোন।

🗳️ আপনার পছন্দের প্রার্থীর নম্বর লিখে কমেন্ট করুন।
মতামত দিন, আলোচনা হোক—গণতন্ত্র শক্তিশালী হোক।

আরবের এক ব্যক্তির দোকান আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেল। আগুনের লেলিহান শিখা নেভার পর দেখা গেল, শুধু দেয়ালগুলোই অবশিষ্ট আছে। লোকজ...
16/12/2025

আরবের এক ব্যক্তির দোকান আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেল। আগুনের লেলিহান শিখা নেভার পর দেখা গেল, শুধু দেয়ালগুলোই অবশিষ্ট আছে। লোকজন তাকে সান্ত্বনা দিতে জড়ো হলো। কিন্তু সবাই অবাক হয়ে দেখল, লোকটি কাঁদছে না; বরং তার মুখে হাসি! যেন তার কিছুই হয়নি।

লোকেরা জিজ্ঞেস করল, "ওহে আবু আব্দুল্লাহ! তোমার কি মাথা খারাপ হয়ে গেছে? তোমার এত বড় ক্ষতি হলো, আর তুমি হাসছ?"
তিনি উত্তর দিলেন, "আমি কেন দুঃখ করব? আমার দৃঢ় বিশ্বাস, আমি যদি আল্লাহর ফয়সালায় সন্তুষ্ট থাকি, তবে আল্লাহ আমাকে এর চেয়েও উত্তম কিছু দান করবেন। আমি আমার সব বিষয় আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিয়েছি এবং সর্বাবস্থায় তাঁর শুকরিয়া আদায় করছি।"

মাত্র দুই সপ্তাহ পর, লোকেরা অবাক হয়ে দেখল সেই জায়গায় একটি বিশাল নতুন দোকান দাঁড়িয়ে আছে, যা হরেক রকমের মালামালে পরিপূর্ণ। কৌতূহলী হয়ে তারা ভেতরে উঁকি দিয়ে দেখল, আবু আব্দুল্লাহ দোকানের ভেতরে নামাজ পড়ছেন।
লোকেরা জিজ্ঞেস করল, "এটা কীভাবে সম্ভব? মাত্র দুই সপ্তাহ আগে আপনি সবকিছু হারিয়েছিলেন। এত টাকা আপনি কোথায় পেলেন?"

আবু আব্দুল্লাহ মুচকি হেসে বললেন, "আমি কি তোমাদের বলিনি যে আমার বিশ্বাস ছিল আল্লাহ আমাকে দান করবেন? আল্লাহর কসম! তিনি তাঁর দানে আমাকে অবাক করে দিয়েছেন।"

আবু আব্দুল্লাহ বলতে শুরু করলেন:
"দোকান পোড়ার পর এক শুক্রবার সকালে আমার কাছে বাচ্চাদের খাবারের টাকাও ছিল না। আমার স্ত্রী তার বোনের কাছ থেকে কিছু টাকা ধার করে আনল। আমি সেই টাকা নিয়ে বাজারে মাছ কিনতে গেলাম।

বাজারে দেখলাম, এক জেলে একটি ছোট মাছ হাতে নিয়ে কাকুতি-মিনতি করছে। সে মাছটি ২০০ দিনারে বিক্রি করতে চাইছিল। কিন্তু মাছটির যা আকার, তাতে কেউ ৫০ দিনারও দিতে চাইছিল না। আমি কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, 'ভাই, তুমি এত বেশি দাম চাইছ কেন?'

জেলে বলল, 'আমার মেয়ে খুব অসুস্থ। সারাদিন চেষ্টা করে আমি শুধু এই একটি মাছই পেয়েছি। আমার ২০০ দিনার খুব দরকার, যাতে আমি মেয়ের চিকিৎসার পুরো ওষুধ কিনতে পারি।'

তার অবস্থা দেখে আমার খুব মায়া হলো। আমি ভাবলাম, আল্লাহর রাস্তায় এটি সদকা করে দিই। আমি তাকে ২০০ দিনার দিয়ে মাছটি কিনে নিলাম এবং বাড়ি ফিরে স্ত্রীকে রান্না করতে বললাম। এরপর আমি জুমার নামাজ পড়তে চলে গেলাম।"

"নামাজ থেকে ফিরে দেখি আমার স্ত্রী অবাক হয়ে বলছে, 'দেখো তো, মাছের পেটে এগুলো কী পাওয়া গেছে?'আমি দেখলাম, নয়টি সুন্দর চকচকে পাথর। আমি বললাম, 'বাহ! পাথরগুলো খুব সুন্দর, আমরা এগুলো যত্ন করে রেখে দেব।'

দুদিন পর আমার মেয়ে ও জামাই বেড়াতে এল। আমি জামাইকে পাথরগুলো দেখালাম। সে পাথরগুলো দেখেই চমকে উঠল! সে বলল, 'আব্বা! এগুলো সাধারণ পাথর নয়, এগুলো অত্যন্ত দামী মুক্তা! এগুলোর অনেক দাম, আপনি তো ধনী হয়ে যাবেন!'

"আমার জামাই তখন ব্যবসায়ীদের সাথে যোগাযোগ করল। তারা এই মুক্তাগুলো কেনার জন্য রীতিমতো প্রতিযোগিতা শুরু করল। আমি মাত্র তিনটি মুক্তা বিক্রি করলাম, আর বাকি ছয়টি রেখে দিলাম। আল্লাহ আমাকে সাহায্য করলেন এবং আমি যা হারিয়েছিলাম, তার চেয়ে বহুগুণ বেশি ফিরিয়ে দিলেন।"

পরদিন আমি সেই জেলেকে খুঁজতে বাজারে গেলাম, যাতে আল্লাহর এই নিয়ামত থেকে তাকেও কিছু দিতে পারি। কিন্তু তাকে আর খুঁজে পেলাম না। অন্য জেলেদের জিজ্ঞেস করলে তারা বলল, 'এখানে এমন কোনো ব্যক্তিকে আমরা চিনি না।'
তখন আমি বুঝতে পারলাম, সে আসলে কোনো সাধারণ জেলে ছিল না। হয়তো আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো পরীক্ষা বা সাহায্য ছিল, যা মানুষরুপে এসেছিল।" (আরবী হেকায়াত)

যখন আল্লাহর ওপর আপনার সুধারণা খাঁটি হয়, তখন তিনি আপনাকে এমন জায়গা থেকে রিজিক ও খুশি দান করেন, যা আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না। তাই সর্বাবস্থায় আল্লাহর ওপর ভরসা রাখুন।

© Salman Farsi

ব্রিটিশ শাসনের সময়  এক ব্রিটিশ অফিসার এক ভারতীয় যুবকের মুখে থাপ্পড় দেন।  সাথে সাথে যুবকটিও তাঁর সমস্ত  শক্তি দিয়ে বৃ...
15/11/2025

ব্রিটিশ শাসনের সময় এক ব্রিটিশ অফিসার এক ভারতীয় যুবকের মুখে থাপ্পড় দেন। সাথে সাথে যুবকটিও তাঁর সমস্ত শক্তি দিয়ে বৃটিশ অফিসারকে এতো জোরে থাপ্পড় মারে অফিসার মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

এই অপমানে হতবাক হয়ে যাওয়া অফিসার ভাবলেন সামান্য এক ভারতীয় যুবক কীভাবে এমন এক সাম্রাজ্যের সেনা অফিসারকে থাপ্পড় মারল যে সাম্রাজ্যের সূর্য কখনো অস্ত যায় না।

তিনি দ্রুত তার পোস্টে গিয়ে ওই ভারতীয়কে কঠোর শাস্তি দেওয়ার জন্য দাবী করলেন।
কিন্তু উচ্চপদস্থ কমান্ডার তাকে শান্ত করে বললেন ভারতীয় লোকটিকে শাস্তি না দিয়ে বরং তাকে পুরষ্কৃত করতে। আর পুরষ্কার হিসাবে তাকে দশ হাজার রুপি উপহার দিতে।

অফিসার ঘৃণায় চিৎকার করে বললেন এটা শুধু আমার, আপনার অপমান না। বরং এটা বৃটিশ মহারাণীরও অপমান। আর আপনি বলছেন তাকে শাস্তি না দিয়ে আরো পুরষ্কৃত করতে।

কমাণ্ডার এবার বললেন- এটা একটি সামরিক আদেশ আর তুমি দেরি না করে এ আদেশ পালন করবে।
জুনিয়র অফিসার তার কমান্ডারের আদেশ মেনে দশ হাজার রুপি সাথে নিয়ে ওই ভারতীয়ের কাছে গিয়ে বললেন- অনুগ্রহ করে আমাকে ক্ষমা করে দিন। আর এই দশ হাজার রুপি উপহার হিসাবে গ্রহণ করুন।

ভারতীয় যুবক উপহার গ্রহণ করলেন এবং ভুলে গেলেন যে তাকে তার দেশের মাটিতে এক ঔপনিবেশ সেনা অফিসার দ্বারা থাপ্পড় মারা হয়েছে।

সেই সময়ে দশ হাজার রুপি অনেক বড় অর্থ। তিনি এই অর্থ যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে কয়েক বছরের মধ্যে জীবনের মান উন্নত করে বেশ বিত্তশালী হয়ে ওঠলেন। আগে ছিলেন একজন সাধারণ যুবক। এখন সমাজে বেশ প্রতিষ্ঠিত।


অনেক বছর পর সেই ইংরেজ কমান্ডার তার জুনিয়র অফিসারকে ডেকে নিয়ে গিয়ে বললেন- তুমি কি সেই ভারতীয়কে মনে রেখেছো- যে তোমাকে থাপ্পড় মেরেছিলো?

অফিসার বলল: সেই অপমান আমি ভুলি কেমন করে?

কমান্ডার বললেন: এখন সময় এসেছে।তুমি তাকে খুঁজে বের করো এবং জনসম্মুখে তাকে জোরে থাপ্পড় মেরে এসো।
অফিসার বলল: সেটা কিভাবে সম্ভব। যে গরীব থাকা অবস্থায় আঘাতের পাল্টা জবাব দিয়েছিলো। আর এখন সে বেশ বিত্তবান। সেতো আমাকে মেরেই ফেলবে।

কমান্ডার বললেন: আমি যা বলছি তাই করো। এটাও তোমার উপর আদেশ।
জুনিয়র অফিসারকে আদেশ মানতে হয়। তিনি সেই ভারতীর কাছে গেলেন এবং খুর জোরে তাকে থাপ্পড় মারলেন।
কিন্তু এবার ঘটলো সম্পূর্ণ উল্টো ঘটনা।

ভারতীয় যুবক এবার কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা গেল না। এমনকি সাহস করে অফিসারের দিকে তাকাতে পর্যন্ত পারলো না।

অফিসার হতবাক হয়ে ফিরে এসে তার কমান্ডারের কাছে গেলেন।
কমান্ডার বললেন: আমি তোমার মুখে বিস্ময়ের ছাপ দেখছি। তুমি এতো বিস্মিত কেন?

অফিসার বলল: যখন সে দরিদ্র ছিলো। তখন সে পাল্টা আঘাত করেছিলো। কিন্তু আজ যখন তার বিত্ত রয়েছে তখন সে চোখ তুলে তাকাতে পর্যন্ত পারলো না। এটা কেমন করে সম্ভব।

ইংরেজ কমান্ডার ধীরভাবে বললেন: প্রথমবার তার কাছে তার সম্মান ছাড়া আর কিছু ছিল না। সে সেটাকেই সবচেয়ে মূল্যবান মনে করেছিল এবং তা রক্ষার করার জন্য সে মৃত্যু ঝুকি নিয়েও লড়েছিলো। আর এখন সে আর সেটা রক্ষার চেষ্টা করে নি। কারণ তার কাছে এখন তার সম্মানের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়েছে বিত্ত। যেদিন সে দশ হাজার রুপি উপহার হিসাবে গ্রহণ করেছে সেদিনই সে তার মর্যাদা, আত্ম সম্মানবোধ রুপির কাছে বিক্রি করে দিয়েছে।

আর বিত্তের কাছে মানুষের আত্ম সম্মানবোধ যখন বিক্রি হয়ে যায় তখন যে কোন মানুষের মেরুদণ্ডও বাঁকা হয়ে যায়।

আসুন আত্মসম্মানবোধ বজায় রাখি। পদ , উপহার কিংবা কোনো কিছুর লোভে নিজেকে বিক্রি না করে নিজের মেরুদণ্ড শক্ত রাখি।

- Arif Mahmud

একটা ছাত্র পড়াই।ক্লাস এইটে পড়ে।আমাকে সে ডাকে আপু।প্রচন্ড দুষ্টু,পড়াশোনায় ফাঁকিবাজ।বয়ঃসন্ধি কাল পার করছে, ফলে নানান উদ্ভট...
05/11/2025

একটা ছাত্র পড়াই।ক্লাস এইটে পড়ে।আমাকে সে ডাকে আপু।প্রচন্ড দুষ্টু,পড়াশোনায় ফাঁকিবাজ।বয়ঃসন্ধি কাল পার করছে, ফলে নানান উদ্ভট কথা তার মাথায় ঘোরে।অকপটে আমার কাছে সেসব শেয়ারও করে।আমিও বন্ধুসুলভ-ভাবেই শুনি সব কিছু।একদিন হুট করে কন্ঠ খাদে নামিয়ে বলে কি,আপু আমার না ম*দ খাওয়ার খুব শখ।জীবনে একবার হলেও জিনিসটা টেস্ট করে দেখতে হবে।
বলেই কাঁচুমাচু মুখ করে তাকিয়ে রইলো।হয়তো,ভাবছে আমি রাগ করবো! বাট,আমি কি আর অন্যসব শিক্ষকদের মতো?আমি হাই তুলে বললাম,টেস্ট করিস।অবশ্য তেমন স্পেশাল কিছুই না।হুদাই হাইপ।
তার চোখ বড়বড় হয়ে গেলো মুহুর্তেই।এদিক ওদিক তাকিয়ে বললো,আপনি খাইছেন নাকি?
আমি নির্লিপ্ত ভাবে উত্তর দিলাম,হুহ!টেস্ট করছিলাম ১ বার।
আমার কথা শুনে তার মাথা ঘুরে যাচ্ছে আমি বুঝতেই পারছি।সে বললো,কই পাইছিলেন আপু?আমরা খোঁজ করি পাইনা।
আমি হেসে বললাম,তোরা খোঁজ করলেই পেয়ে যাবি এতোই বুঝি সোজা?অবশ্য পেতে পারিস ২ নম্বর মা"ল।ওগুলোই তোদের গছাবে বলদ পেয়ে।
সে বললো,আপু আপনি আসলটা ১ দিন আমাকে এনে দিবেন প্লিজ?
তার কন্ঠে আকুতি।আমি ভ্রুঁ কুঁচকে তাকালাম।
সে বললো,আপু আমি ১ বার খালি ১ শিশি খাবো।বেশি না।যাস্ট কৌতুহল দমন আরকি!কাউকে বলবো না।
আমি বললাম,না রে এসব অনুরোধ করে লাভ নেই।তোর যা পড়াশোনার অবস্থা আবার তোকে আমি ঐসব ছাইপাঁশ এনে গিলাবো?আমি অতো পা"গল নই।
এবার সে লাইনে এলো।বললো,আমি এখন থেকে রোজ হোমওয়ার্ক করবো যদি আমাকে এনে দেন।বার্ষিক পরিক্ষায় ১-৩ এর ভিতরে নিয়ে আসবো রোল প্রমিজ।প্লিজ না করবেন না।
আমি বললাম,বাকিতে বিশ্বাসী নই আমি।পরে,,খাওয়ানোর পর দেখবো তুই যেই লাউ সেই কদুই আছিস।
ও বারবার অনুনয় করতে থাকলো।আমি বললাম,শোন যদি এখন থেকে তিনমাস রোজ হোমওয়ার্ক করিস আর তিনমাস পর সত্যিই পরিক্ষায় ১-৩ এ আসতে পারিস।তবে,আমি তোকে ১ শিশি না,পুরো বোতলই এনে দিবো যাহ।
ওর চোখ চকচক করে উঠলো।কিন্তু,পরক্ষনেই হতাশ হয়ে বললো,এত্তো দেরী??
আমি বললাম,তোহ?সবুরে মেওয়া ফলে জানিস না?আর অথেন্টিক জিনিশ যোগার করতেও তো টাইম লাগবে নাকি?
ও মেনে নিলো।বললো,ঠিকাছে।কিন্তু, আপনি এসব কই পাবেন?
আমি ধমকে বললাম,তুই আদার ব্যাপারি আদা নিয়ে খুশি থাক জাহাজের খবর জেনে তোর দরকার কি?
ও এবার নিভলো।
আমি বললাম,আরেকটা কথা।জিনিশটা সিক্রেট রাখবি।যদি কেউ জানে, তুই বি""পদে পরবি মাথায় রাখিস।
ও বললো,,আরে নাহ আপু।আমি কি আর পে*টপাতলা নাকি?
পরদিন থেকে শুরু হলো ওর ভিতর আমূল পরিবর্তন। পড়াশোনায় চরম লেভেলের মনোযোগী। পরিক্ষায় ১ম ওর হতেই হবে। পরের মাসে বেতন দেওয়ার সময় ছাত্রের মা আমার হাতে বেতনের পাশাপাশি এক্সট্রা ৫০০ টাকা গুঁজে দিলেন।উনি বেতন বাড়িয়েছেন। আনন্দিত কন্ঠে বললেন,,কি বলবো নিশাত..আমার ছেলেটা কতো অমনোযোগী ছিলো আগে,খালি ফাঁকিবাজি করতো।কত টিচার যে পাল্টালাম,তবুও পড়ায় মন নেই।কিন্তু,তুমি আসার পর থেকে রোজ রাতে তোমার হোমওয়ার্ক করে মন দিয়ে বসে বসে রাত ১০/১১ টা অবধি।ফোন ধরার নেশাটাও কেটেছে অনেকটা।
আমি হেসে বললাম,আপনাকে আগেই বলেছিলাম আমি অন্যসব শিক্ষকদের মতো নই।
উনি তৃপ্তির হাসি হাসলেন।
দেখতে দেখতে তিনমাস কাটলো খুব ভালো ভাবেই।ওর মেধা আছে,কিন্তু পড়েনা।ইউনিভার্সাল সমস্যা আরকি।আমার বেতন এরভিতর টোটাল ১০০০ টাকা বাড়লো।দেখতে দেখতে ওর ফাইনাল পরিক্ষার রেজাল্টও বেরুলো।অবিশ্বাস্য ভাবে ও রোল নং ৪১ থেকে ০২ - এসেছে।ওর মা তো ফোন করে খুশিতে কাঁদতে কাঁদতে শেষ।আমাকে দাওয়াত করে রীতিমতো বিয়ে বাড়ির ভোজের মতো আয়োজন করলেন উনারা।গিফট দিলেন।বারংবার বলতে লাগলেন,মা তুমি টিউশনটা ছাইড়ো না ভুলেও।
আসার সময় ছাত্র এগিয়ে দিতে এলো আমাকে।সবগুলো দাঁত বের করে বললো,আপু আমার ইয়েটা!
আমি বললাম,হায়রে ২য় হইছিস সেই খুশিতেও ঐ জিনিশ ভুললি না কি রে তুই?
সে মুখ গোমড়া করে বললো,এসব বলছেন কেন?
আমি বললাম,আচ্ছা সন্ধ্যার পর দেখা করতে আসিস।আমাদের বাড়ির ছাদে।জিনিস পাবি।
সম্মতি জানিয়ে,ও খুশিতে লম্ফঝম্প দিতে লাগলো।
আমি বাড়ি এসে মদ বানানোর কাজ শুরু করে নিলাম।১টা জগে কোক/পেপসি/মোজো যা সামনে পেয়েছি ঢেলে নিলাম অর্ধেকটা জগ জুড়ে।এরপর,তাতে চা পাতা খানিকটা,কফির গুড়া খানিকটা মিশালাম।কিচেন হাতড়ে জিরার গুড়ো আর বিটনূন পেলাম ওগুলোও কিছুটা মিশালাম।একটা আম ছিলো ঘরে,ঐটাও চিপে একটু দিলাম।মধুও খানিকটা দেওয়া হলো।কিছুটা সস,ম"রিচের গুড়া,আদাবাটা,ম্যাগি নুডুলসের মশলা....আরো যা যা পেলাম ঘর হাতড়ে সবই হালকা হালকা মিশিয়ে জম্পেশ ১ টা মিশ্রন তৈরি করলাম।
মিশমিশে কালো,ঝাঁঝালো বিচ্ছিরি খেতে জিনিশটা ঠিক কতটুকু বিচ্ছিরি তা আর টেস্ট করার সাহস আমার হলোনা।আমার ছোট বোন আর্ট করে নানান শৌখিন জিনিশ বানায়।কিছু কাঁচের বোতল ঘরে সে-ই এনে রেখেছে।ওগুলোতে নাকি রং করে কিসব ডিজাইন করবে।ওখান থেকেই একটা বোতল তুলে নিলাম আর আমার বানানো জম্পেশ জুসটা ওটায় ভরে ফ্রীজে রেখে দিলাম কিছুক্ষন।
ছাত্র যখন এলো ছাদে তখন মোটামুটি সন্ধ্যার আলো মিলিয়ে গেছে।চারপাশ অন্ধকার।
আমি ছাদে নিয়ে এলাম তার কাঙ্ক্ষিত বোতল।সে দেখেই ঢোক গিললো।আবছা যেটুকু আলো রয়েছে তাতে দেখলাম ২ চোখ তার লোভে,উৎসাহে একদম চকচক করছে।
বললাম,নে।একদম অথেন্টিক জিনিশ।ভুলেও আবার এ কথা কাউকে বলিস না।
ও বললো,জীবনেও বলবো না।বললে তো আমারই নাম খারাপ হবে।
সে হাত বাড়ালো অধীর আগ্রহে।
আমি বললাম,খুব বাজে কিন্তু খেতে।জানিস তো?
ও বলে,হুম হুম জানি জানি।শুনেছি অনেক বাজে খেতে।
ও হাসিমুখে বোতল হাতে নিয়ে কিছুক্ষণ এক দৃষ্টিতে চেয়ে রইলো।এরপর,চোখ বুজে এক ঢোক মুখে দিয়েই সাথে সাথে মুখ থেকে ফেলে দিলো।
আমি বললাম,কি রে??
সে ঢোক গিলে বললো।এতো বাজে আপু...
আগেই বলেছি।
এই ছাই মানুষ খায় কিভাবে??
এরপর,তবু সে অতিকষ্টে এক ঢোক খেলো।খেয়ে কাশতে লাগলো।চোখে তার পানি চলে এসেছে।
আমি বললাম,আর খাবিনা?পুরো বোতল তোরই।
ও বললো,মাফ চাই।কানে ধরছি।জীবনে মরে গেলেও এই ঘোড়ার ডিম আর খাবো না।মাথা ঘুরতেসে আমার এখনি।
আমি বললাম,নে*শা হইছে আরকি।
দেখি কয়টা আঙুল এখানে বলতো?
ওর মুখের সামনে তিনটা আঙুল উঁচিয়ে ধরলাম।
ও বললো,তিনটা।
আমি বললাম,হায়রে পুরো নে*শা হয়ে গেছে।ধরছি ১ টা আঙুল আর ছেলে বলে কিনা তিনটা।
ও চোখ ডলে আবার তাকালো।
আসলেই ১ টা ধরছেন আপু??
ওর চোখে মুখে বিস্ময়।আমি বললাম,নয়তো কি?
আকাশে ততক্ষনে অজস্র তারা ফুটে উঠেছে।ও আকাশের দিকে তাকিয়ে রইলো।আমি বললাম,আজকে আকাশে একদম কম তারা উঠেছে তাইনা?
আবার,ওর চোখ বড়বড় হয়ে গেলো।বললো,কি বলেন?আমি তো অনেক বেশি দেখতেছি।
আমি বললাম,তাই স্বাভাবিক। ছাইপাঁশ গিলেছিস।
ও কাঁদতে লাগলো।বললো,,আপু আপনি আমার নিজের বোনের চেয়েও ভালো।আমার জীবনের একটা শখ ছিলো পূরন করছেন।
শখ যেহেতু পুরণ হয়েছে আর খাওয়ার দরকার নেই।
না না মোটেও না।বমি পাচ্ছে এখনো।যাই আপু।
যা সাবধানে।
ও ভেবেছে ওর নেশা ধরেছে।সিঁড়ির রেলিং ধরে ধরে নামছিলো,যদি পরে যায় তাই।পিছন ফিরে বললো,বাসায় যেয়েই কাঁথা মুড়ি দিয়ে শুয়ে পরবো।মা যদি বুঝি যায়।খবর করে ফেলবে।
হুঁ তাই থাকিস।
খুব গর্ব হচ্ছে একটু হলেও জীবনে নেশা কি সেটা টের পেলাম।
ভালো রে বিদায় হ আর,মন দিয়ে পড়বি কিন্তু।আবার,লাগলে বলবি।
না না পাগল নাকি?পশ্চিম দিক ফিরা বলতেসি আর জীবনে এসবের নাম নিবো না।বাজে এত!
(সমাপ্ত)
গল্প : নেশা
লেখক : Md Mazharul Haque Himu

ওরা তাকে বলেছিলো সবচেয়ে রূপসী মেয়েটিকে প্রপোজ করতে, উদ্দেশ্য ছিল মেয়েটির দ্বারা তাকে অপমান করা।সহপাঠীরা মাসের পর মাস ঠাট...
27/10/2025

ওরা তাকে বলেছিলো সবচেয়ে রূপসী মেয়েটিকে প্রপোজ করতে, উদ্দেশ্য ছিল মেয়েটির দ্বারা তাকে অপমান করা।

সহপাঠীরা মাসের পর মাস ঠাট্টাতামাশা ব্যঙ্গবিদ্রুপ করতো, জশের স্থূল স্বাস্থ্য নিয়ে। সবার তাকানোর ভঙ্গি, কানাকানি, ফিসফাস, তাচ্ছিল্য, হাসাহাসি, এইসব সইতে না-পেরে জশের প্রায়ই ইচ্ছে করতো ঘরের কোণে লুকিয়ে থাকতে।

এমনই এক দিনে, ওরা আরও অপমানে অপদস্থ করার সিদ্ধান্ত নিলো। স্কুলের সবচেয়ে রূপবতী, সবার ক্রাশ মেয়েটার সাথে নাচের ব্যবস্থা করে ফেললো তারা, পুরো এলাকায় জশকে হেনস্থা করার মজাদার দৃশ্য দৃশ্যায়নের জন্য।

জশ, একেবারে কোণঠাসা জশ, এবার বললো নিজেকে─ কী আর হবে! রোজকার মতো অপমানই তো। সেই বুকভাঙা লজ্জার আরেকটি দিন। হায়! তো হয়েই যাক এবেলা!

অতএব, জশ বলেই বসলো─ "হয়ে যাক।"

নির্দিষ্ট সময়ে, বুকের ভিতরে জীবনের সমস্ত সাহস সঞ্চয় করে, মেয়েটির দুয়ারে হাজির হলো জশ; কম্পমান হাতে ছোট্ট একটি ফুলের তোড়া; মনে সবার হাসির পাত্র হওয়ার নিশ্চিত সম্ভাবনা, নিয়ে।

জশ প্রপোজ করলো, নাচের।
অবাক! অবাক!! রূপসী তন্বী ফেরালো না! তাচ্ছিল্য তো দূরের ব্যাপার, হাসলো মিষ্টি, এবং...
দু'হাত প্রসারিত করে হাগ করলো জশকে,
এবং বললো─ "নিশ্চয়ই জশ।" ❤️

নাচের পুরোটা সময়, জশের মাথাটা ছিল অটল সোজা দৃঢ় সুউচ্চ। এবং পুরো ডান্স-রুম পিনপতন নিরব হয়ে দেখছিলো ওদের─ ঠাট্টায় নয়, চমৎকৃতে।

কেন? কারণ─ সেই রাতে, একটি বালিকার হার্দিক আচরণ, হারিয়ে দিয়েছিলো পুরো একটি এলাকার অমানবিকতাকে।

এবং জশ?
বালকটি জেনেছিলো: পুরো পৃথিবী যেদিন নিষ্ঠুর হয়ে যাবে, সেদিনও কেউ একজন থাকবে এই পৃথিবীতেই যার হৃদয় চুঁইয়ে বিচ্ছুরিত হতে থাকবে বন্ধুতা।

হ্যাঁ, বন্ধুতা সুন্দরতম।

আপন
২৫.১০.২০২৫ খৃষ্টাব্দ।

25/10/2025

সমস্যা: আমি ভিডিও বানাতে পছন্দ করি না
সমাধান: Vheer.com

সমস্যা: আমি ছবি এডিট করতে জানি না
সমাধান: Gemini.google.com

সমস্যা: ভাইরাল পোস্ট আইডিয়া মাথায় আসে না
সমাধান: Threadmaster.ai

সমস্যা: আমার ওয়েবসাইট গুগলে র‍্যাঙ্ক করতে পারছে না
সমাধান: Ranked.ai

সমস্যা: আমি Cold ইমেইল লিখতে পছন্দ করি না
সমাধান: Instantly.ai

সমস্যা: আমার কোনো প্রফেশনাল হেডশট নেই
সমাধান: FastPhoto.io

সমস্যা: প্রেজেন্টেশন বানাতে ফরম্যাটিংয়ে অনেক সময় নষ্ট হয়
সমাধান: SlidesAI.io

সমস্যা: আমি আমার ব্র্যান্ডের জন্য AI Avatar বানাতে চাই
সমাধান: Heygen.com

সমস্যা: ছোট ভিডিও এডিট করতে অনেক সময় চলে যায়
সমাধান: Submagic.co

সমস্যা: আমি কোড করতে জানি না
সমাধান: Manus.im

একবার এক  জ্ঞানী ব্যক্তি তার ছেলেকে বললেন:শোনো , জীবনে তিনটি বিষয়ে কখনোই আপস করবে না। সর্বোত্তম খাবার খাওয়া, সর্বোত্তম...
18/10/2025

একবার এক জ্ঞানী ব্যক্তি তার ছেলেকে বললেন:

শোনো , জীবনে তিনটি বিষয়ে কখনোই আপস করবে না।

সর্বোত্তম খাবার খাওয়া, সর্বোত্তম বিছানায় ঘুমানো এবং সর্বোত্তম ঘরে বসবাস করা।

এ কথা শুনে ছেলে তারা বাবাকে বলে-

বাবা, আমরা তো গরিব। এ সবতো শুধু ধনীদের পক্ষেই সম্ভব। আমি চাইলেও তো এসব করতে পারবো না।

বাবা তখন ছেলেকে বললেন:

যদি তুমি কেবল তখনই খাও যখন তুমি সত্যিকারের ক্ষুধার্ত এবং সে খাবার যদি আসে হালাল উপায়ে, অন্য কাউকে না ঠকিয়ে তাহলে যা খাবে সেটাই হবে সর্বোত্তম খাবার।

যদি তুমি অনেক পরিশ্রম করো এবং ক্লান্ত হয়ে ঘুমাও তাহলে তোমার শোবার বিছানাই হবে সর্বোত্তম বিছানা।

আর যদি তুমি মানুষের সাথে ভালো ব্যবহার করো, মানুষের প্রতি সদয় হও তাহলে তুমি তাদের হৃদয়ে বাস করবে। ফলে সেটাই হবে তোমার জন্য সর্বোত্তম ঘর।

Arif Mahmud

সকাল ১১টার দিকে গলির মোড়ের চায়ের দোকানে বসে চা খাচ্ছি।  এমন সময় পিছন থেকে কেউ একজন আমায় ডাক দিলো।  আমি পিছন ফিরে তাকিয়ে ...
17/08/2025

সকাল ১১টার দিকে গলির মোড়ের চায়ের দোকানে বসে চা খাচ্ছি। এমন সময় পিছন থেকে কেউ একজন আমায় ডাক দিলো। আমি পিছন ফিরে তাকিয়ে দেখি পাঞ্জাবি-পায়জামা পরা ১২-১৩ বছরের একটা ছেলে। ছেলেটা আমায় সালাম দিয়ে বললো,
-" ভাই, আমায় লজিং রাখবেন? আমায় দুইবেলা অল্প খেতে দিলেই হবে। বিনিময়ে আমি আপনাদের টুকটাক বাসার কাজ করার পাশাপাশি আপনার ছেলে মেয়েকে কুরআন শিক্ষা দিবো । আর রাতে আমি মাদ্রাসাতেই থাকবো"

আমি মুচকি হেসে ছেলেটাকে বললাম,
--হুজুর, আমি তো বিয়েই করি নি। ছেলে-মেয়ে কোথা থেকে হবে?

আমার কথাশুনে ছেলেটা মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইলো। আমি চা'টা একটানে শেষ করে ছেলেটাকে বললাম,
-- চলেন হুজুর, আপনার লজিং থাকার ব্যবস্থা করছি...

কলিংবেল বাজাতেই আমার ছাত্রের বড় বোন দরজা খুললো। আমার দিকে বিরক্তি কর চোখে তাকিয়ে বললো,
-" এই টাইমে তো রাফি স্কুলে থাকে। আপনি এখন কেন পড়াতে আসলেন?"

আমি তখন বললাম,
-- আমি রাফির কাছে আসি নি। আন্টির কাছে একটা দরকারে এসেছিলাম।

ছাত্রের বোন আর কিছু না বলে চলে গেলো। আমি হুজুর ছেলেটাকে সাথে নিয়ে বাসার ভিতর বসলাম। কিছুক্ষণ পর আন্টি আসলে আমি আন্টিকে বললাম,
-- আন্টি, রাফি তো আরবি পরতে পারে না এই ছেলেটা রাফিকে আরবি শিখাবে আর তার বিনিময়ে ছেলেটাকে প্রতিদিন দুইবেলা খেতে দিয়েন। ছেলেটা এতিম বাবা মা কেউ নেই। কয়েকমাস পর ছেলেটা কোরআনে হাফেজ হয়ে যাবে। আপনি না হয় ছেলেটাকে একটু সাহায্য সহযোগিতা করলেন।

আন্টি আমার দিকে ভ্রু কুচকে তাকিয়ে বললো,
-"পিয়াস, আমাদের অবস্থা খুব একটা ভালো না যে বাড়তি একটা লোকের খাওয়ার দায়িত্ব নিতে পারবো। তুমি বরং অন্য কোথাও চেষ্টা করে দেখো"...

এমন সময় কাজের মেয়েটা বাহির থেকে বাসার ভিতর ঢুকলে আন্টি কাজের মেয়েটাকে রেগে গিয়ে বলতে লাগলো,
-"তোকে না বলেছিলাম লিও আর টুকির মাংসের তরকারিটা রান্না করে বাহিরে যেতে। কখন থেকে ওরা না খেয়ে আছে "

আমি আর কিছু না বলে বাসা থেকে বের হয়ে আসলাম। রাস্তায় যখন হুজুর ছেলেটাকে নিয়ে হাটছিলাম তখন হুজুর ছেলেটাকে বললাম,
--আচ্ছা হুজুর বলেন তো, লিও আর টুকি আন্টির কে হয়?

হুজুর ছেলেটা কতক্ষণ চিন্তা করে বললো,
-" এমন নাম তো আগে কখনো শুনি নি। উনার ছেলে মেয়েই হবে হয়তো"

আমি হাসতে হাসতে হুজুর ছেলেটাকে বললাম,
- লিও আর টুকি হলো দুইটা উন্নত বিদেশি জাতের কুকুর। এই শহরের বড়লোক মানুষ গুলো প্রতিদিন বিদেশি জাতের কুকুরকে মাংস দিয়ে ভাত খাওয়াতে পারবে কিন্তু কোন এতিম বাচ্চাকে দুইবেলা ডাল ভাত খাওয়াতে পারবে না।

দুপুর থেকে বিকাল পর্যন্ত হুজুর ছেলেটাকে সাথে নিয়ে মানুষের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরলাম অথচ কেউ ছেলেটার দুইবেলার খাওয়ার দায়িত্ব নিলো না। কেউ কেউ বললো, "যদি বাংলা পড়াতে পারতো তাহলে ভেবে দেখতাম"

সন্ধ্যার আগে আগে ছেলেটাকে সাথে নিয়ে ওর মাদ্রাসার সামনে গেলাম। মানিব্যাগ খুলে দেখি মানিব্যাগে দুইটা ১হাজার টাকার নোট আছে আর কিছু খুচরো টাকা। আমি ছেলেটার হাতে দুই হাজার টাকা দিয়ে বললাম,
-- বুঝলেন হুজুর এই শহরের মানুষদের কুরআন শিক্ষার কোন দরকার নেই ওরা মনে করে ওরা মৃত্যুর পর এমনিতেই চেলচেলাইয়া বেহেশতে চলে যাবে। আমি নিজে থাকি মেসে টিউশানি করে নিজের পড়াশোনার খরচ চালায় তবুও চেষ্টা করবো প্রতিমাসে আপনায় সাহায্য সহযোগিতা করতে..

তারপর থেকে প্রতিমাসে ছেলেটাকে আমি কিছু টাকা পয়সা দিতাম। পরিচিত কয়েকজন বন্ধু বান্ধবের সহযোগিতাই ছেলেটাকে একটা হোটেলে প্রতিবেলা খাবারের ব্যবস্থা করে দিলাম।

ছেলেটা যেদিন কুরআনে হাফেজ হয়েছিলো সেদিন সর্বপ্রথম আমার সাথে দেখা করে। আমায় বুকে জড়িয়ে ধরে বলেছিলো,
"ভাই আপনি আমার জন্য অনেক করেছেন। আমি যতদিন বেঁচে থাকবো ততদিন প্রতি ওয়াক্ত নামাজ শেষে আপনার জন্য দোয়া করবো"

কথাটা শুনে আমার চোখ দিয়ে পানি বের হয়ে গিয়েছিলো। একজন মুসলিমের এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কিছু হতে পারে না...

----
------

আমার ৪বছরের বাচ্চা ছেলেটা যখন আমার দিকে করুণ চোখে তাকিয়ে বললো,
-"বাবা, আমি আরবি শিখবো না। আমিও তন্ময় ভাইয়ার মত গান শিখবো আর জেনি আপুর মত নাচ শিখবো "

কথাটা শুনে আমি মোটেও অবাক হয় নি বরং কিছুক্ষণ আগে যা ঘটলো তা শুধু আমার বাচ্চা ছেলের মনে প্রভাব ফেলে নি। আমার মনেও প্রভাব ফেলেছে...

আমার শ্বশুর চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর পারিবারিক একটা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সেই অনুষ্ঠানে উনার সকল ছেলেমেয়েরা আসে।

সন্ধ্যার পর আমরা সবাই মিলে যখন কথাবার্তা বলছি তখন আমার ছোট সালা বাচ্চাদের জন্য একটা প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। সেই প্রতিযোগিতায় বাচ্চারা যে যা পারে সেটা তারা করে দেখাবে। আমার ছেলেকে প্রথম ডাকলে আমি আমার ছেলের কানে কানে বলি,
--বাবা, তুমি সূরা ফাতিয়া খুব সুন্দর করে পাঠ করবে কেমন?

আমার ছেলে যখন সূরা পাঠ করছিলো তখন কেউ সেটা মনোযোগ দিয়ে শুনছিলো না। সবাই যার যার মত ফোন টিপছিলো, কথাবার্তা বলছিলো। কিন্তু আমার স্ত্রী শ্রাবণীর বড় বোনের ৬ বছরের ছেলেটা যখন মাইয়া ও মাইয়ারে তুই অপরাধীরে এই গানটা গাইছিলো তখন সবাই অনেক মনোযোগ দিয়ে শুনছিলো। কেউ কেউ গানের সাথে সুর মেলাচ্ছিল। গান শেষে সবাই করজোড়ে হাততালি দিলো। কেউ কেউ জড়িয়ে ধরে চুমু খেলো। শ্রাবণীর বড় ভাইয়ের ৮ বছরের মেয়েটা যখন ও সাকি গানের সাথে নাচ করছিলো তখন ওর সাথে উপস্থিত অনেকেই নাচছিলো। হেসে খেলে খুব মজা করছিলো।
এটা দেখেই আমার বাচ্চা ছেলেটার মন খারাপ হয়ে গেলো। সে মনে মনে হয়তো ভাবছে, সে গান নাচ পারে না দেখে তাকে কেউ আদর করে নি...

রাতে খাবার টেবিলে বসে যখন সবাই খাচ্ছিলাম তখন শ্রাবণীর বড় ভাই আমার দিকে তাকিয়ে বললো,
-"তুমি নিজে হলে কাঠমোল্লা আর আমার ছোট বোনটাকেও বানালে তোমার মতো। এই গরমের ভিতর দেখি তুমি আমার বোনটাকে আলখাল্লা পরিয়ে নিয়ে এসেছো। এইভাবে নাকমুখ ঢেকে চলাচল করলে দম আটকে তো মরে যাবে। ছেলেটাকে তোমাদের মত না বানিয়ে ক্রিয়েটিভ কিছু শিখাও"

আমি ঘাড় নেড়ে শুধু বললাম,
--জ্বি আচ্ছা

শ্রাবণীর বড় বোন তখন বললো,
-" আমার ছেলের গানের মাস্টারকে প্রতি মাসে ৫ হাজার টাকা করে দিতে হয়। আমি তো শ্রাবনীকে সব সময় বলি তোর ছেলেকেও একটা গানের টিচার রেখে দে। কিন্তু শ্রাবণী তো আমার কোন কথায় শুনে না।"

কথাটা শুনে শ্রাবণীর বড় ভাই আমায় খোঁচা দিয়ে বললো,
-" গানের টিচার রাখলে তো পিয়াসের টাকা নষ্ট হবে। তাই সে ও ওর ছেলেকে ওর মত কাঠমোল্লা বানাবে। বিয়ের পর দেখলাম না কখনো আমার বোনকে দামি কিছু কিনে দিতে "

কথাগুলো কেন জানি সহ্য করতে পারছিলাম না তাই মৃদু হেসে শ্রাবনীর বড় ভাইকে বললাম,
-- ভাই, আপনি মারা গেলে আপনার মেয়ে প্রতিদিন আপনায় স্মরণ করে সাকি সাকি গানের তালে তালে নাচবে। এতে কি আপনার কবরের আজাব কমবে না বাড়বে সেটা আমি ঠিক জানি না

আর তারপর শ্রাবণীর বড় বোনের দিকে তাকিয়ে বললাম,
-- আপা, আপনি মারা গেলে আপনার ছেলে প্রতিদিন আপনার কবরের সামনে গিয়ে অপরাধী গান শুনিয়ে আসবে। এতে মনে হয় কবরের আজাবটা দ্বিগুন বৃদ্ধি পাবে। তখন শুধু এটাই বলবেন, যদি ছেলেকে ৫ হাজার টাকা খরচ করে গান না শিখিয়ে ৫০০টাকা খরচ করে একটু কুরআন শিক্ষা দিতাম তাহলে কবরে আমার এতটা আজাব হতো না..

আমি মারা গেলে না হয় আমার কাঠমোল্লা ছেলে কবরে পাশে দাড়িয়ে একটু দোয়া করে আসবে। এতে নিশ্চয়ই আমার কবরের আজাব পুরোটা না কমলেও কিছুটা হলেও কমনে

আমার কথাগুলো শুনে সবাই মাথা নিচু করে চুপ করে রইলো আর কিছু না বলে নিজের প্লেটে থাকা খাবারটা শেষ করলাম...
---
-----

রাতে ঘুম আসছিলো না তাই বেলকনিতে দাঁড়িয়ে ছিলাম। হঠাৎ শ্রাবণী পিছন থেকে আমার কাঁধে হাত রেখে বললো,
-" ভাইয়া আপুর কথায় কিছু মনে করেছো কি?"

আমি হেসে বললাম,
--আরে না, আচ্ছা আমি যে তোমায় দামী কিছু কিনে দিতে পারি না এজন্য কি আমার প্রতি তোমার কোন অভিযোগ আছে?

শ্রাবণী আমায় শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বললো,
-" তোমার মত একজনকে আমি পেয়েছি এটাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। আমার আর কিছু চাই না"

প্রাপ্তি
আবুল_বাশার_পিয়াস

বিঃদ্রঃ- লেখাটা মুসলিমদের উদ্দেশ্যে লেখা। অন্য ধর্মের মানুষদের দ্বিমত থাকতে পারে তাই আপনারা লেখাটা ইগনোর করেন...

যেদিন এই ছবিটা তুলেছিল সেদিন তাদের মনে কতো স্বপ্ন ছিল, ছিল কতো আনন্দ।‘চিরদিনের জন্য চলে গেলাম। আমি চাই সবাই ভালো থাকবেন।...
16/08/2025

যেদিন এই ছবিটা তুলেছিল সেদিন তাদের মনে কতো স্বপ্ন ছিল, ছিল কতো আনন্দ।

‘চিরদিনের জন্য চলে গেলাম। আমি চাই সবাই ভালো থাকবেন। ধন্যবাদ’- এমন কথা লেখা একটি চিরকুট পাওয়া গেছে রাজশাহীর পবা উপজেলায় একই পরিবারের ৪ জনের মরদেহ উদ্ধার হওয়া সেই বাড়িতে।

নিহতরা হলেন- মিনারুল ইসলাম (৩০), তার স্ত্রী মনিরা বেগম (২৮), ছেলে মাহিম (১৩) ও মেয়ে মিথিলা (১৮ মাস)। মাহিম খড়খড়ি উচ্চ বিদয়ালয়ের অষ্টম শ্রেণিতে পড়াশোনা করতেন। তাদের মরদেহ দুটি ঘরে পাশাপাশি পড়ে ছিল। আর মিনারুলের মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় ছিল। ঘটেছে আমার বাসা থেকে মাইল দুয়েক দূরে।

ছিলেন ঋণগ্রস্ত। এদেশ তো ঋণগ্রহীতাদের জন্য বেহেস্ত স্বর্গ।
তাহলে কেন বাঁচলোনা মিনারুল - মনিরা ও তাদের দুসন্তান?
এই নিয়ে দুই লাইন বলেন তো।
আমরা ব্যর্থ - সৎ মানুষদের বাঁচার জন্য এখনো এই জনপদ গড়তে পারিনি।
ছবিটার দিকে চোখ দিন - বলেন এই শোক কি ভুলা যায়।😢

Address

বিদিরপুর, গোদাগাড়ী, রাজশাহী
Rajshahi
6290

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when বিদিরপুর posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share