21/10/2022
১. সরল বাণিজ্য যুগ (Simple trade era) –
আদিম সভ্যতার বিনিময় প্রথা পেরিয়ে সরল বাণিজ্য যুগের সূচনা হয়।
এই সময়ে চাহিদা অনুযায়ী কেবলমাত্র সীমিত পণ্য তৈরী করা হতো।
আর, পণ্যের চাহিদার ভিত্তিতেই নিয়মিত বাণিজ্য চলতো।
তখনকার যুগে মার্কেটিং-এর সূচনা হয়েছিল চাষিদের জমির সীমা ও গবাদি পশুর মালিকানা নির্ধারণের মাধ্যমে।
২. উৎপাদন যুগ (Production era) –
১৮৪০ থেকে ১৯২০-এর দশক পর্যন্ত সময়টি হল উৎপাদন যুগ।
এই সময়ে উৎপাদন কৌশলগুলোর ব্যাপক ব্যবহারের ফলে ভোগ্যপণ্য সহজলভ্য হয়ে ওঠে।
তখন ব্যবসা চলতো “যদি আপনি এই পণ্যটি তৈরি করেন, তবেই ক্রেতা আসবে”- এই মার্কেটিং তত্ত্বের উপর ভিত্তি করে।
ওই সময়ে একাধিক বিকল্প উপলব্ধ ছিল বলে বিভিন্ন কোম্পানিরা ব্যাপক উন্নতি লাভ করেছিল।
প্রথম এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ফলস্বরূপ, যখন পণ্যের সরবরাহে বিশৃঙ্খলতা দেখা দেয় তখন ক্রেতারা ব্যাপকভাবে সাধারণ ভোগ পণ্যের মজুত করা শুরু করে।
এর ফলে ওই সময়ে পণ্যের উৎপাদন অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়।
৩. বিক্রয় যুগ (Sales era) –
উৎপাদন যুগের ঠিক পরে ভোক্তাদের চাহিদা মিটে গেলে ১৯২০ থেকে ১৯৪০-এর দশক পর্যন্ত চলে বিক্রয় যুগ।
এই সময়টা থেকেই মূলত ব্যবসায়ীদের মধ্যে আধুনিক মার্কেটিং-এর ব্যাপারে একটি ধারণা তৈরী হয়েছিল।
চাহিদা দ্রুত কমে যাওয়ার পরে ও ক্রেতাদের প্রয়োজন মিটে যাওয়ার ফলে, তখনকার ব্যবসায়ীরা আগের মতো সহজে তাদের উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করতে পারছিল না।
আর, উৎপাদন যুগে প্রচুর কোম্পানির উদ্ভব হওয়ায়, বিক্রয়ের যুগে সেই কোম্পানিগুলোর মধ্যে বাজারে টিকে থাকার তীব্র লড়াই শুরু হয়।
এখন কোম্পানিগুলোকে তাদের পণ্য এবং পরিষেবাগুলো বিক্রির জন্য আগের তুলনায় অনেক বেশি পরিশ্রম করতে হচ্ছিল।
তার সাথে সাথে পণ্যগুলোও বাণিজ্যিক কোমোডিটিতে পরিণত হচ্ছিল আর পণ্যটির দাম ভোক্তাদের আকৃষ্ট করার মূল কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছিল।
৪. মার্কেটিং বিভাগের যুগ (Marketing department era) –
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরের (১৯৪০-৬০ দশক) অর্থনৈতিক উন্নতি মার্কেটিং বিভাগের যুগের উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল।
এই সময়েই নির্মাতারা বুঝতে পেরেছিলেন যে “সরাসরি বিক্রয়” (hard sell) পদ্ধতিটি ৬০-এর দশকের নতুন প্রজন্মের ক্রেতাদের উপর কাজ করবে না।
বরং, মধ্যবিত্তদের মধ্যে সমৃদ্ধির মাত্রা (affluence level) বৃদ্ধির মানে হল তাদের দর কষাকষি করার ক্ষমতাকে আরও প্রশ্রয় দেওয়া।
এখন থেকে ব্র্যান্ড মালিকরা মার্কেটিং-সম্পর্কিত ক্রিয়াকলাপ, যেমন- বিজ্ঞাপন ও স্পনসরশিপের উপর জোর দিতে থাকে।
আর, বিজ্ঞাপন, বিক্রয়, মূল্য প্রচার ও জনসংযোগের জন্যে তারা স্বাধীন বিভাগ তৈরী করে।
এই নতুন বিভাগগুলো বর্ধিত পণ্যীকরণের (increased commoditization) সাথে লড়াই করছিল, তবে তখন থেকে তাদের লাভের মার্জিন কমতে শুরু করে।
৫. মার্কেটিং কোম্পানির যুগ (Marketing company era) –
১৯৬০ সাল থেকে ৯০-এর দশকের প্রথমে ব্র্যান্ড মালিকরা গ্রাহকদের চাহিদার উপর পণ্য ও পরিষেবা প্রদানের প্রয়োজনীয়তাটা বুঝে গিয়েছিল।
আর, গ্রাহদের চাহিদা অনুযায়ী পণ্য নিমার্ণই মার্কেটিং-এর মূল মন্ত্র হয়ে উঠেছিল।
এই মুহুর্তে ব্র্যান্ড মালিকদের জন্য উৎপাদন ও বিক্রয় দক্ষতা বৃদ্ধিও ছিল একান্ত জরুরি।
এখন আর মার্কেটিং কোনো আলাদা বিভাগ নয় বরং এটি এখন যেকোনো সফল কোম্পানির মূল মাধ্যমে পরিণত হয়েছে।
এখানে সমস্ত কর্মচারী এখন “মার্কেটিং”-এর সাথে জড়িত আর এই নতুন বাজারে ‘গ্রাহকই হল ভগবান’।
৬. সম্পর্ক গঠনের মার্কেটিং যুগ (Relationship marketing era) –
৯০-এর দশকের মাঝামাঝি থেকে, ইন্টারনেট প্রযুক্তির বিশাল উন্নতি হয়।
তাই, ব্র্যান্ডের মালিকরা তাদের ব্যবসাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করার জন্য তথ্যের মানের উপর ক্রমবর্ধমানভাবে নির্ভর করতে থাকে।
আর, সেই সূত্রেই তারা গ্রাহক এবং ক্লায়েন্টদের সাথে দীর্ঘমেয়াদী, পারস্পরিক-লাভজনক সম্পর্ক তৈরীর কথা ভাবে।
কাস্টমার রিলেশনশিপ ম্যানেজমেন্ট (CRM) এবং ডেটা মাইনিং, মার্কেটারদের কাছে অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়ে।
প্রতিটি গ্রাহকের আচরণ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করার জন্য সমস্ত সিস্টেমকে সিঙ্কোনাইজ বা ঐক্যবদ্ধ করা বিভিন্ন ব্র্যান্ড মালিকদের (যেমন- মাইক্রোসফট, ভিসা ও ইত্যাদি) প্রধান কাজে পরিণত হয়।
৭. কোলাবরেশনের যুগ (Collaboration era) –
২০১৪ সাল থেকে এই কোলাবরেশন যুগের সূচনা হয়েছে।
এখন মার্কেটিং-এর মূল লক্ষ্য হল রিয়েল-টাইম যোগাযোগ ও সামাজিক আদান-প্রদানের উপর ভিত্তি করে ক্রেতাদের পণ্য কিনতে আগ্রহী করে তোলা।
আর, এখানে ব্র্যান্ডের মালিকের পরিবর্তে ক্রেতারাই হল প্রধান নিয়ন্ত্রক।
ক্রেতা বা ক্লায়েন্টদের সাথে একটি অর্থপূর্ণ কথোপকথনের মাধ্যমে মার্কেটাররা তাদের অনুমতি এবং বিশ্বাস অর্জন করতে পারলে, তবেই তারা লাভজনক ব্যবসা তৈরি করতে পারবে।
আর, তথ্য বিনিময়, সহযোগিতা এবং নতুন উদ্ভাবনের মাধ্যমেই তৈরি হবে পরবর্তী মার্কেটিং বিবর্তনের ধাপ।