04/12/2020
How to write a winning Upwork proposal
আমার সেইদিনের Upwork Update সম্পর্কিত পোষ্টে আপনাদের সাড়া আর অনুরোধে এই দুঃসাহস টি করতে যাচ্ছি। আর সাথে সাথে, আজকের লেখার দুটি বেষ্ট টিপস লেখার শেষের দিকে দিয়ে দিলাম।
যাই হোক, একটু বড় করে লিখতে চাচ্ছি কারন তাহলে আমার বোঝাতে সুবিধা হবে, একটু সময় নিয়ে পড়ূন, আর যদি এখন ব্যাস্ত থাকেন তাহলে লেখাটা আমি আমার পেইজেও পোষ্ট করে রাখব, সময় করে পড়ে নেবেন।
সেদিনও বলেছি, আবারো বলছি, সবার ই সাকসেসফুল প্রোপোজাল লেখার নিজস্ব পদ্ধতি থাকে। আবার সবার ই ১০০% প্রোপোজাল সাকসেস হয় না, একটা জব পাওয়ার পেছনে ভাল প্রোপোজাল এর পাশাপাশি আরো অনেক ব্যাপার কাজ করে। তাই এখানে আমি কেবল মাত্র আমার প্রোপোজাল লেখার কৌশল আমি বলব যেগুলো লিখে আমি ক্লায়েন্ট থেকে ভাল সাড়া পেয়েছি।
১. পড়ুনঃ পড়ার কোন বিকল্প নেই, কিন্তু অনেকেই পড়েন না, শুধু জব পোষ্ট আর হেডলাইন দেখেই বিড করে ফেলেন। হেডলাইনে লেখা আছে লোগো ডিজাইন লাগবে দেখেই আপনি বিড করলে তো হবে না, পোষ্ট এর ভেতরে দেখতে হবে তার কোম্পানি কি, কি ধরনের লোগো ক্লায়েন্ট চাচ্ছে, আপনি সেই ধরনের লোগো তৈরি করেন কি না সেগুলো ভেবে তারপরেই বিড করা উচিত।
এখানে বলতে পারেন যে অনেক জব পোষ্টে তো সব ডিটেইলস দেয়া থাকে না, তখন কি করব?
এরকম খেত্রে আমি চেষ্টা করি সেই সকল জবে বিড না করতে। কারন কায়েন্ট যদি প্রফেশনাল হয় তাহলে সে সঠিক নিয়মেই জব পোষ্ট করবে, আর প্রফেশনাল ক্লায়েন্টদের সাথে কাজ করার মজাই আলাদা।
২. রিসার্চ করুনঃ জব পোষ্টে দেয়া তথ্যগুলো রিসার্স করুন। ক্লায়েন্ট এর দেয়া বিভিন্ন লিংক, রেফারেন্স, এটাচমেন্ট চেক করুন, গুগলে খুজে খুজে খুজে দেখুন। এতে করে ক্লায়েন্ট কি পছন্দ করে তার একটা আইডিয়া পাবেন এবং তার ওপরে ভিত্তি করে যদি প্রোপোজাল পাঠান তাহলে ক্লায়েন্ট বুঝবে যে আপনি তার জব পোষ্ট টা পড়েছেন এবং রিসার্চ করেছেন, সুতরাং আপনি প্রফেশনাল এবং আপনার কাজের ব্যাপারে সিরিয়াস। এতে করে আপনি ইন্টারভিউতে ডাক পাওয়ায় একধাপ এগিয়ে গেলেন।
যদি বলেন, মাত্র ৫ ডলারের একটা জবের জন্য এত রিসার্চ করব?
তাহলে বলব, এই পোষ্ট টা আপনার জন্য না। হাজার হাজার ডলারের স্বপ্ন আমি দেখাচ্ছি না কিন্তু একজন সার্ভিস প্রোভাইডার হিসেবে আপনার একটা মুল্য আছে, নিজেকে এবং নিজের সময়কে মুল্যায়ন করতে শিখুন।
৩. লিখুনঃ লেখার ক্ষেত্রে আমি একটু খুতখুতে, প্রথম দিকে কপি পেষ্ট প্রোপোজাল পাঠাতাম, কিন্তু এখন আর সেটা করি না, আপনাদেরও বলছি, কপি পেষ্ট যতদুর সম্ভব এড়িয়ে চলুন।
প্রতিটা জব/প্রজেক্ট আলাদা আলাদা হয়, এক একটা জবের এক এক বৈশিষ্ট, কোনটা খুবই সোজা আবার কোনটা কঠিন, চ্যালেঞ্জিং। এমনকি ক্ষেত্রও ভিন্ন হয়ে থাকে। তাই জব ভালভাবে বুঝে সেই অনুযায়ী আলাদা প্রোপোজাল লিখুন।
প্রোপোজালে আপনার নাম, পেশা, ঠিকানা এসবের দিকে কম নজর দিয়ে প্রব্লেম সল্ভিং এর দিকে বেশি নজর দেয়া উচিত। একজন লোক হার্ভার্ড থেকে কোন বিষয়ের ওপরে পিএইচডি ডিগ্রিধারী কিন্তু ক্লায়েন্ট এর ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইটের একটা বাগ ঠিক করতে পারে না, ক্লায়েন্ট এর কাছে ঐ লোকের চেয়ে একজন কম শিক্ষিত, কম এক্সপেরিয়েন্স কিন্তু তার সমস্যার সমাধান পারে এমন লোক এর দাম বেশি।
আর, আপনি একটা জব না পেলে তো সেটা পেলেন ই না, কিন্তু জবটা পেয়ে গেলে সেটা আপনার জীবন ও পালটে দিতে পারে, তাই প্রতিটা জবকেই ভ্যালু দিন, প্রতিটা প্রোপোজালের পেছনে সময় দিন, লিখুন।
Tip #1: ক্লায়েন্ট এর সবথেকে মোক্ষম সমস্যা খুজে বের করুন। যেমন ক্লায়েন্ট একটি ওয়েবসাইট লাগবে। ক্লায়েন্ট জব পোষ্টে বিশেষ ভাবে বলে দিয়েছেন যে তার ওয়েবসাইটে অনলাইন বুকিং এর ব্যাবস্থা অবশ্যই থাকতে হবে।
আপনি যদি আগেই কোন ওয়েবসাইটে অনলাইন বুকিং নিয়ে কাজ করে থাকেন তাহলে সেই ওয়েবসাইটের বুকিং পেইজের লিংক টা প্রথমেই দিয়ে দেবেন।
যেমনঃ
Dear X, first of all, let me show you the amazing online booking page I created for 'ABCD' (Page Link)
এর পরে বাকি কথা লিখবেন। এতে করে ক্লায়েন্ট এর মুল সমস্যার সমাধান প্রথমেই দেখবে এবং আপনার ভিউ হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে।
৪. আবার চেক করুনঃ প্রোপোজাল লেখা হলেই সেন্ড বাটনে ক্লিক করার আগে আরেকবার ভাল করে পড়ে নেবেন। এতে করে লেখার মধ্যে কোন ভুল থাকলে বা কোন কিছু পরিবর্তন করা জরুরী হলে করতে পারবেন। [কম্পিউটারে/ব্রাউজারে Grammerly এপ্লিকেশন ইনস্টল করে নেবেন, বানান এবং গ্রামার সমস্যার অনেকটা সমাধান হয়ে যাবে।]
এবং যারা ইংরেজিতে দুর্বল তাদের জন্য Tip #2:
ইংরেজীতে লেখা জব পোষ্ট বুঝতে না পারলে গুগল ট্রান্সলেটরের সাহায্য নেবেন এটা তো খুবই কমন একটা বিষয়, কিন্তু তার আগে অবশ্যই পোষ্ট টা ইংরেজিতে পড়ার চেষ্টা করবেন তাহলে পোষ্টের মধ্যে অনেক লেখা থাকবে যা প্রজেক্ট ল্যাঙ্গুয়েজ আর সাধারন বাংলা অর্থে এক হবে না, সেগুলো বুঝতে পারবেন।
উদাহরন স্বরুপঃ জব পোষ্টে ক্লায়েন্ট একটা ওয়েবসাইট লিংক দিয়েছে bee.com, এবার এটা যদি ট্রান্সলেট করা হয় তাহলে এটার বাংলা আসবে মৌমাছি.কম।
এবং যদি ইংরেজিতে প্রোপোজাল লিখতে সমস্যা হয় তাহলে প্রেশার নেবেন না, ক্লায়েন্ট যদি বাংলাদেশি হত তাহলে তার কাছে বাংলায় যেভাবে বিড করতেন সেরকম বাংলায় আগে প্রোপোজাল টা লিখে ফেলুন সুন্দর করে, তারপরে সেটা গুগল ট্রান্সলেট এ ইংরেজি তে কনভার্ট করে পাঠিয়ে দেবেন। যদিও লেখায় কিছু গড়মিল হবে তবে একদম পাঠাতে না পারার থেকে অবশ্যই এটা ভাল।
উপসংহারে বলব যে, মার্কেটপ্লেস এ সব জব পোষ্ট আপনার জন্য হবে না, তাই জব পোষ্ট পাওয়া মাত্রই বিড না করে আগে ভালভাবে বিশ্লেষন করে তারপরে প্রোপোজাল পাঠালে কাজ পাওয়ার চান্স বেশি থাকবে।
অনেক ধন্যবাদ এত সময় দিয়ে এত বড় লেখা পড়ার জন্য। লেখাটি কেমন লাগল জানাতে ভুলবেন না, আর আপনার আপওয়ার্কে সাকসেস এর জন্য কোন ধরনের কোম্পানির সাথে আপনার কাজ করা উচিত জানতে চাইলে অবশ্যই কমেন্টে বলবেন, আপনি বললে আমি লেখার অনুপ্রেরনা পাই।