22/01/2022
চাকরি ও পড়াশোনার পাশাপাশি যেভাবে অনলাইন থেকে আয় করবেন।
অনলাইন থেকে আয় করতে কমবেশি সবাই চায়। কেউ থাকেন চাকরিতে ব্যস্ত আর কেউ পড়াশোনায়। অনলাইন থেকে আয়ের প্রচুর উপায় রয়েছে। তবে সবগুলো চাকরি ও পড়াশোনায় ব্যস্ত এমন মানুষের জন্য পারফেক্ট না। তাদের জন্য সময় বের করে অনলাইন থেকে অতিরিক্ত আয় করা যেনো মহাযুদ্ধে অংশগ্রহণ করার মতো। এজন্য পারফেক্ট হবে এমন কয়েকটি কাজের নাম উল্লেখ করার চেষ্টা করেছি।
Blogging:
লেখালেখি তে ভালো হলে ব্লগিং শুরু করা যেতে পারে। পছন্দের বিষয় কে কেন্দ্র করে সুন্দর একটি ওয়েবসাইট তৈরি করে লেখা আপলোড করা যেতে পারে। এভাবে নিয়মিত লেখার চেষ্টা চালিয়ে গেলে লেখালেখিতে পারদর্শী না হলেও ধীরে ধীরে পারদর্শী হয়ে উঠবেন। ওয়েবসাইটকে মোটামুটি প্রতিষ্ঠিত করতে পারলে কয়েকটি মাধ্যমে আয় আসতে থাকবে। গুগল এডসেন্স, কোম্পানি প্রমোশন, প্রডাক্ট প্রমোশন, প্রডাক্ট রেফার ইত্যাদি মাধ্যমে আয় করা সম্ভব।
Affiliate Marketing:
সহজে বুঝাতে, কোনো ফিজিক্যাল বা ডিজিটাল প্রডাক্ট কে রেফারের মাধ্যমে সেল নিশ্চিত করাই এফিলিয়েট মার্কেটিং। যেমনঃ আমি Amazon এর এফিলিয়েট মার্কেটার। কেউ Amazon থেকে আইফোন কেনার জন্য গুগলে বা যেকোনো সোশ্যাল মিডিয়া সার্চ করলো। তাতে আমার লেখা আইফোন নিয়ে রিভিউ পড়ে ভালো লাগায় একটি লিংকের মাধ্যমে Amazon এ প্রবেশ করে আইফোন কিনলো। সেজন্য আইফোনের প্রফিট থেকে আমাকে কিছু কমিশন দিবে Amazon. এফিলিয়েট মার্কেটিং করলে বিভিন্ন স্পন্সর, গুগল এডসেন্সের মাধ্যমে ইনকাম করা যায়।
Website Flipping:
ওয়েবসাইট ফ্লিপিংয়ের সাথে আমরা খুব বেশি পরিচিত না। একটি ওয়েবসাইট কে নিজের প্রফিট নিশ্চিত করে বিক্রি করে দেওয়ার মাধ্যমকে ওয়েবসাইট ফ্লিপিং বলা হয়। আরো সহজে বললে, ওয়েবসাইট কেনা-বেচার মাধ্যমকে ওয়েবসাইট ফ্লিপিং বলে। যেকোনো নিশ বা বিষয় কে কেন্দ্র করে একটি ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত করতে হয়। ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত করতে প্রয়োজন সুন্দর ডোমেইন, গতিসম্পন্ন হোস্টিং, সুন্দর রেস্পন্সিব ডিজাইন, সুন্দর সুন্দর কন্টেন্ট/পোস্ট এবং এসইও। এই প্রত্যেকটা স্টেপ পারফেক্টভাবে সম্পন্ন করতে পারলে একটি ওয়েবসাইট কে প্রতিষ্ঠিত করা যায়। এসব স্টেপ নিজে সম্পন্ন করার সক্ষমতা না রাখলে ইনভেস্ট করে ফ্রিল্যান্সার দিয়ে করা যেতে পারে। তার সাথে গুগল এডসেন্স, এফিলিয়েট সেটাপ করা থাকলে তুলনামূলক বেশি মূল্যে সেল করা যায়।
Amazon Kindle Publishing (KDP):
Amazon কে সবাই চেনে। Amazon এর বই, ম্যাগাজিন এবং এই রিলেটেড একটি আলাদা প্লাটফর্ম আছে। যেটার নাম Amazon Kindle. সেখানে ২ ধরনের বই পাওয়া যায়। ১. ডিজিটাল (ই-বুক) এবং ২. ফিজিক্যাল (হার্ডকপি)। এই কিন্ডেল এ নিজের লিখা বই অথবা অন্য কাউকে দিয়ে লিখিয়ে নিয়ে পাবলিশ করে আয় করা যেতে পারে। বই লিখালিখি ছাড়াও বিভিন্ন ডায়েরি, বার্থডে কার্ড ইত্যাদি ডিজাইন করে সেল করা যেতে পারে।
Print On Demand (POD):
প্রিন্ট অন ডিমান্ড এমন একটি বিজনেস যেখানে বিভিন্ন প্রডাক্ট মন মতো ডিজাইন করে সেল করা যেতে পারে। প্রিন্ট করে যেসব প্রডাক্ট সেল করা সম্ভব সেসব প্রডাক্ট নিয়েই কাজ করা যেতে পারে। যেমনঃ টি-শার্ট, মগ, ওয়ালপেপার, টাইলস ইত্যাদি। আপনি শুধু আপনার করা ডিজাইন আপলোড করবেন স্টোরে। সেখান থেকে সেল হলে আপনাকে একটা কমিশন দিবে। প্রিন্ট অন ডিমান্ড এ কাজ করার সুযোগ দেয় অসংখ্য কোম্পানি। তার মধ্যে Amazon, Teespring, Redbubble, Printify সহ প্রচুর কোম্পানি রয়েছে।
উল্লেখিত এই ৫ টি কাজ চাকরি ও পড়াশোনা করেন এমন মানুষের জন্য পারফেক্ট বলে আমি মনে করি। ১ম ৩ টির মধ্যে একটি অন্যটির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সব কাজই ক্রিয়েটিভিটির খেলা। যত বেশি ক্রিয়েটিভ থাকবেন তত বেশি আয় করবেন। নিজের প্যাশন সিলেক্ট না করে যেকোনো কাজ শুরু করা বোকামী। উল্লেখিত কাজগুলোর মধ্যে যে কাজে প্যাশন আছে সে কাজ নিয়ে এগিয়ে যাওয়া নিশ্চয় বুদ্ধিমান ব্যক্তির কাজ। আশা করি নিজের প্যাশন সিলেক্ট করে দ্রুত কাজ শুরু করে দিবেন।