16/09/2026
জমিয়তে উলামায়ে ইসলামে ফের ভাঙনের সুর: সভাপতি উবায়দুল্লাহ ফারুকের বিরুদ্ধে চরম অসন্তোষ
বিশেষ প্রতিনিধি: জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশে আবার দ্বিখণ্ডিত হওয়ার উপক্রম তৈরি হয়েছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া কার্যনির্বাহী (আমেলা) বৈঠকের পর দলটি আনুষ্ঠানিকভাবে বিভক্ত হয়ে যেতে পারে।
দলটির নেতা মুনীর হোসাইন কাসেমীকে বারবার সতর্ক করার পরও তিনি চরম ‘বিএনপি-ঘেঁষা’ রাজনীতি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিএনপির অংশীজন হয়ে সরকারের পদ-পদবি গ্রহণ এবং দলটির রাজনৈতিক কর্মসূচির ভাগীদার হওয়ার বিষয়টি নিয়ে তীব্র অজুহাত ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে একটি পক্ষের মধ্যে।
সূত্রের খবর, এই অসন্তোষের জেরে মুনীর কাসেমী, জুনায়েদ আল হাবীব এবং জাকির কাসেমীরা নতুন একটি আলাদা গ্রুপ গঠন করতে পারেন। অথবা তারা গোলাম মুহিউদ্দিন ইকরামের নেতৃত্বাধীন অংশের সাথে একীভূত হয়ে নতুন রাজনৈতিক পথচলা শুরু করতে পারেন।
ইতিমধ্যেই পদ-পদবি ও আনুষঙ্গিক নানা বিষয়ে গোলাম মুহিউদ্দিন ইকরামের সাথে ওই পক্ষের অন্তত দুই দফা বৈঠক সম্পন্ন হয়েছে।
অন্যদিকে, জমিয়তের বর্তমান নেতৃত্বের অভ্যন্তরীণ ভিত্তি নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন দলের একাধিক দায়িত্বশীল নেতা। বর্তমান সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক এবং মহাসচিব মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দীর নিয়ন্ত্রণে ঢাকায় নিজস্ব কোনো শক্ত মাদরাসা নেই। বিশেষ করে সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুকের একক কর্তৃত্ববাদী মনোভাব, রূঢ় আচরণ এবং অন্যের পরামর্শ উপেক্ষা করার অভ্যাসের কারণে দলে এই অস্থিরতা চরম রূপ নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একাংশের মতে, দলকে সুসংগঠিত করার বদলে তার অদূরদর্শী সিদ্ধান্তের কারণেই বারবার দল ভাঙনের মুখে পড়ছে।
এছাড়া, রাজনৈতিক অঙ্গনেও জমিয়ত গুরুত্ব হারাচ্ছে বলে মনে করছেন দলটির নেতাদের একাংশ। সভাপতি উবায়দুল্লাহ ফারুকের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাহীনতা, আক্রমণাত্মক কথাবার্তা এবং অপেশাদার সাক্ষাৎকারের কারণে তাদের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক মিত্র বিএনপিও এখন জমিয়তকে গুরুত্ব দিচ্ছে না।
সব মিলিয়ে, দলটির মাঠপর্যায়ের কর্মী ও একাংশের নেতাদের মতে, বর্তমান সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুকের দায়িত্ব পালনে চরম অনভিজ্ঞতা, হীনমন্যতা এবং অভ্যন্তরীণ কোন্দলই জমিয়তকে ইতিহাসের অন্যতম রাজনৈতিক সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
সংগৃহীত,