19/09/2025
হাজারো এজেন্সি যেটা লুকিয়ে রাখে, সেই ফ্রান্স স্টুডেন্ট ভিসার ফুল গাইডলাইন আজ ফ্রি তে দিলাম!
দেখো, ফ্রান্সে অর্নাস মাস্টার্স বা পিএইচডি করতে চাইলে ভিসার জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ ধাপ প্রসেসের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। ডকুমেন্টস, ইন্টারভিউ আর কিছু নিয়ম মেনে চললেই বর্তমান সময়ে ভিসা পাওয়ার সম্ভবনা প্রায় ১০০%। আমি ধাপে ধাপে বলছি যেন সহজে মনে থাকে।
প্রথমেই পারসোনাল ডকুমেন্টস লাগবে। তোমার পাসপোর্ট প্রথমেই লাগবে ভ্যালিড পাসপোর্ট, বাবা বা মায়ের এনআইডি লাগবে অনুবাদসহ, তোমার ও বাবার জন্মনিবন্ধন লাগবে, আর পাসপোর্ট সাইজ ছবি অবশ্যই শেঞ্জেন ফরম্যাটে ৩৫×৪৫ হবে। এরপর ক্যাম্পাস ফ্রান্স ফর্ম এবং ফ্রেঞ্চ ভিসা রেজিস্ট্রেশন ফর্ম পূরণ করতে হবে। CVEC সার্টিফিকেটের পেমেন্ট স্লিপও সঙ্গে রাখতে হবে।
এরপর একাডেমিক ডকুমেন্টস দরকার। এসএসসি, এইচএসসি, ব্যাচেলর সার্টিফিকেট আর ট্রান্সক্রিপ্ট লাগবে। ব্যাচেলরের মেইন সার্টিফিকেট না থাকলে প্রভিশনালও চলবে। এছাড়া একসেপ্টেন্স লেটার বা এনরোলমেন্ট লেটার, একাডেমিক সিভি ২ পৃষ্ঠার মধ্যে হতে হবে, ল্যাঙ্গুয়েজ প্রফিসিয়েন্সি সার্টিফিকেট যেমন আইইলটিএস বা মই বা ফ্রেঞ্চ ল্যাংগুয়েজ সাটিফিকেট, ইন্টার্নশিপ বা এক্সপেরিয়েন্স সার্টিফিকেট,রেকমেন্ডে শন লেটার এবং মোটিভেশন লেটার সঙ্গে রাখতে হবে।
ফ্রান্সে কোথায় থাকবে তার প্রমাণ লাগবে। সেটা হতে পারে অ্যাপার্টমেন্ট, স্টুডেন্ট রেসিডেন্স বা হোস্টেল ভাড়া চুক্তিপত্র । যদি প্রমাণ না থাকে, তবে কেন নেই সেটা লিখে দিতে হবে।
ফিনানশিয়াল ডকুমেন্টস সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অনেকের ভিসা এখানেই রিজেক্ট হয়। এখন কথা হচ্ছে কেমন ফান্ড দেখাতে হয়। তুমি যদি মাস্টার্স প্রোগ্রামের হয়ে থাকো তাহলে ১ বছরের টিউশন ফি এর সাথে ১ বছরের লিভিং এক্সপেন্স প্রতিমাসে ৭০০ইউরো থেকে ১০০০ ইউরো ধরে হিসেব করতে পারো এই সমপরিমাণ টাকা দেখাতে হবে। আনুমানিক ১০/২০ লাখ টাকা। স্পনসরের শেষ তিন মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট, ব্যাংক সলভেন্সি ডিক্লারেশন, টিন সার্টিফিকেট, ট্যাক্স রিটার্ন, সোর্স অফ ফান্ড ২টি ট্রান্সলেটেড, ১টি নোটারাইজড, ফিনানশিয়াল অ্যাফিডেভিট, টিউশন ফি রিসিট এবং ফান্ড এক্সপ্লানেশন লেটার সব দিতে হবে। স্পনসরের এনআইডি ও জন্মনিবন্ধনও সঙ্গে রাখতে হবে।
ইন্টারভিউ দুই ধাপে হয়। প্রথম ধাপে ক্যাম্পাস ফ্রান্স একাডেমিক ইন্টারভিউ। এখানে সাধারণ প্রশ্নগুলো যেমন নিজেকে পরিচয় দেওয়া, কেন ওই বিশ্ববিদ্যালয় বেছে নিয়েছ, কেন ওই প্রোগ্রাম বেছে নিয়েছ, অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করা হয়েছে কি, কেন ফ্রান্স বেছে নিয়েছ, টিউশন ফি কত, স্কলারশিপ আছে কি, স্পনসর কে, পড়াশোনা কিভাবে ক্যারিয়ারে সাহায্য করবে, অনার্স মাস্টার্স শেষে ক্যারিয়ার প্ল্যান কি, আগের পড়াশোনা বা প্রজেক্ট কিভাবে সম্পর্কিত, আর তোমার দেশ কিভাবে উপকৃত হবে এইসব প্রশ্ন আসে।
দ্বিতীয় ধাপে কালচারাল ইন্টারভিউ হয়। এখানে জানতে চাওয়া হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অফার লেটার কীভাবে পেয়েছ এজেন্সি, নিজে বা ক্যাম্পাস ফ্রান্স থেকে, ফ্রান্সের কালচার কেমন মনে হচ্ছে, মানিয়ে নিতে পারবে কি, পড়াশোনা শেষে কী করবে, কেন ওই বিশ্ববিদ্যালয় বেছে নিয়েছ, আর কোর্সের কারিকুলাম বিস্তারিত বলতে হবে।
এরপর ডিসিশনের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।
মোটিভেশন লেটার লিখতে হবে তোমার একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ড, প্রজেক্ট অব স্টাডিজ, পড়াশোনা শেষে বাংলাদেশে কী করবে, ফ্রান্সে পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ, আর টিউশন ফি ও অ্যাকোমোডেশন কিভাবে ম্যানেজ করবে এই গুলোর সংমিশ্রণে।
শেষে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা কন্ডিশিনাল বা আন কন্ডিশনাল একসেপ্টটেন্স লেটার অবশ্যই লাগবে, একাডেমিক সিভি দুই পৃষ্ঠার মধ্যে হতে হবে, পাসপোর্ট কমপক্ষে দুই বছরের মেয়াদ থাকলে ভালো হয়, এসএসসি থেকে সবশেষ ডিগ্রি পর্যন্ত সব সার্টিফিকেট জমা দিতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী ফ্রেঞ্চ ল্যাঙ্গুয়েজ সার্টিফিকেট, আইইলটিএস, পূর্বের ডিগ্রির মিডিয়া ইনস্টাকশন যদি ইংলিশে হয় তাহলে মই সাটিফিকেট, অ্যাকোমোডেশন প্রুফ, রেকমেন্ডেশন লেটার, পোর্টফোলিও বা এটেস্টেশন লাগতে পারে। ক্যাম্পাস ফ্রান্স বাংলাদেশ জেনারেল ফর্ম ঠিকভাবে পূরণ করতে হবে। সব ডকুমেন্ট আলাদা পিডিএফ আকারে পাঠাতে হবে, গুগল ড্রাইভ লিঙ্ক গ্রহণযোগ্য নয়। রেজিস্ট্রেশনের সময় অরিজিন ফটোকপি দুটোই সঙ্গে নিয়ে যেতে হবে।
--©-- Hasan Sajid