10/04/2022
🔵আইটি কি?
ইনফরমেশন টেকনোলজির সংক্ষিপ্ত রুপ হলো আইটি।যার আভিধানিক অর্থ হলো তথ্য প্রযুক্তি।কম্পিউটার বা কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইসের মাধ্যমে ইনফরমেশন বা তথ্য সংরক্ষণ,ইনফরমেশন ট্রান্সমিট এবং ম্যানিপুলেশন করাই হলো ইনফরমেশন টেকনোলজি।আইসিটি হলো আইটি এর একটি উপসেট।
মেসোপটেমিয়ায় সুমেরীয়রা প্রায় 3000 খ্রিস্টপূর্বাব্দে লিখিত লেখার পর থেকে মানুষ সংরক্ষণ, পুনরুদ্ধার, হস্তক্ষেপ এবং তথ্য যোগাযোগ শুরু করেছে।
আইটি শব্দটি সাধারণত,কম্পিউটার এবং কম্পিউটার নেটওয়ার্কগুলির সমার্থক হিসাবে ব্যবহৃত হয়, তবে এটি অন্যান্য তথ্য বিতরণের প্রযুক্তি যেমন টেলিভিশন এবং মোবাইল ফোনেরও অন্তর্ভুক্ত।একটি দেশের অর্থনীতির মধ্যে বেশ কিছু পণ্য বা সেবা তথ্য প্রযুক্তির সাথে যুক্ত, কম্পিউটার হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার, ইলেকট্রনিক্স, সেমিকন্ডাক্টরস, ইন্টারনেট, টেলিকম সরঞ্জাম এবং ই-কমার্স প্রভৃতি সবই আইটির সাথে সম্পর্কযুক্ত।
🔵আইটির কাজ কি?
বর্তমান যুগে অনেক কোম্পানিতে কম্পিউটার, নেটওয়ার্ক এবং তাদের ব্যবসা সংক্রান্ত কার্যক্রম প্রযুক্তিগতভাবে পরিচালনার জন্য আইটি সেক্টর আছে। আইটি বসেক্টরে বিভিন্নধরনের কাজ আছে। যেমনঃকম্পিউটার প্রোগ্রামিং, নেটওয়ার্ক প্রশাসন, কম্পিউটার প্রকৌশল, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট,সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, অ্যাপ তৈরী, টেকনিক্যাল সাপোর্ট প্রভৃতি। যেহেতু,দেশ ক্রমাগত ডিজিটাল হচ্ছে তাই আমাদের জীবনে আইটির প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করার অপেক্ষা রাখেনা।
🔵আইটি সার্ভিস প্রোভাইডার কি?
আইটি সার্ভিস প্রোভাইডার হল আইটি সম্পর্কিত সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান।এটি এমন এক প্রতিষ্ঠান যা আইটি সম্পর্কিত প্রযুক্তি ব্যবহারকারী বা সংস্থাগুলিকে আইটি সমাধান এবং সেবা প্রদান করে থাকে।
🔵আইটি সার্ভিস প্রোভাইডারের প্রকারভেদঃ
🔹 হোস্টিং সার্ভিস প্রোভাইডার ( Hosting service provider-HSP)
🔹 ক্লাউড সার্ভিস প্রোভাইডার ( Cloud service provider-CSP)
🔹স্টোরেজ সার্ভিস প্রোভাইডার ( Storage service provider-SSP)
🔹 সফটওয়্যার এস এ সার্ভিস (saas) প্রোভাইডার ( Software as a service providers-SAASP)
🔹অ্যাপ্লিকেশন সার্ভিস প্রোভাইডার ( Application service provider-ASP)
🔹নেটওয়ার্ক সার্ভিস প্রোভাইডার ( Network service provider- NSP)
🔹 ইন্টার্নেট সার্ভিস প্রোভাইডার ( Internet service provider-ISP )
🔹ম্যানেজড সার্ভিস প্রোভাইডার ( Managed service provider-MSP )
🔹 টেলিকমিউনিকেশন সার্ভিস প্রোভাইডার( Telecommunications service provider-TLSP)
🔹অনলাইন সার্ভিস প্রোভাইডার ( Online service provider-OSP )
🔹মাস্টার মেনেজড সার্ভিস প্রোভাইডার (Master managed service provider (MMSP)
🔹 পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার। (Payment service provider- PSP)
উল্লেখিত সার্ভিস ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের সার্ভিস প্রোভাইডার আছে,যারা বিভিন্ন ধরনের সেবা প্রদান করে থাকে।
🔵বাংলাদেশে জনপ্রিয় ১০ টি আইটি জবঃ
বর্তমানে বাংলাদেশ সরকার “ডিজিটাল বাংলাদেশ” গড়ার যে প্রকল্প হাতে নিয়েছে তাতে তথ্য প্রযুক্তি বিষয়টির গুরুত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে, এতে কাজের সুযোগ অনেক বেশি তৈরি হচ্ছে। বিশাল এই সেক্টরে কাজের পরিধি অনেক।সরকারি ও বেসরকারি অনেক প্রতিষ্ঠান আছে যেখানে আইটি সেক্টরে জনশক্তির প্রয়োজন হয়।আইটি জবের পদগুলোর নাম একেক প্রতিষ্ঠানে একেক রকম হতে পারে। যে প্রতিষ্ঠানগুলো আইটি জব দেয় তারা সাধারণত কম্পিউটার এবং সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রিধারী প্রার্থীকে প্রাধান্য দেয়। নিচে বাংলাদেশের জনপ্রিয় কিছু আইটি জব সম্পর্কে আলোচনা করা হলোঃ
🔹সফটওয়্যার ডেভেলপারঃ
সফটওয়্যার ডেভেলপারের কাজ হল বিভিন্ন সফটওয়্যার ডিজাইন এবং বিভিন্ন প্রোগ্রামের টেস্ট করা। সফটওয়্যার ডেভেলপাররা নতুন অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করে এবং সলিউশনের কাজ করে। তাই এ কাজের জন্য প্রোগ্রামিং দক্ষতার প্রয়োজন হয়। এ সব কাজের প্রসার ইন্টারনেটের দুনিয়ায় দিন দিন বেড়েই চলছে তাই, সফটওয়্যার ডেভেলপারদের চাহিদা কত তা বলার অপেক্ষা রাখে না। জনপ্রিয় কিছু সফটওয়্যার ডেভেলপারের কাজগুলোর মধ্যে আছে-
মোবাইল এপ্লিকেশন ডেভেলপার
ওয়েব ডেভেলপার
ফ্রন্ট ইনড ডেভেলপার
জাভা ডেভেলপার ইত্যাদি।
🔹সিস্টেম অ্যাডমিনিস্ট্রেটরঃ
এ পদের কাজ হল নেটওয়ার্ক এবং কমিউনিকেশন এর উপর চোখ রাখা যাতে তথ্য ও যোগাযোগ সঠিকভাবে হতে পারে। সিস্টেম অ্যাডমিনিস্ট্রেটরদের কাজের স্পেশালিটি হল টিমওয়ার্ক করা। এ জবেরও অনেক পদ আছে যেমনঃ
নেটওয়ার্ক ইঞ্জিনিয়ার
নেটওয়ার্ক অ্যাডমিনিস্ট্রেটর
নেটওয়ার্ক আর্কিটেক্ট
টেলিকমিউনিকেশন স্পেশালিস্ট ইত্যাদি।
আইটি সাপোর্ট এক্সিকিউটিভ
প্রায় সব ধরনের সফটওয়্যার ফার্মে এই পজিশন আছে।এ পদের লোকজনেরা কোম্পানির ক্লায়েন্টদেরকে যেকোনো সমস্যায় সাপোর্ট দিয়ে থাকে।যেমন- কোন ক্লায়েন্ট কোন সফটওয়্যার সিস্টেম ব্যবহার করতে পারছে না তখন তার সমাধান আইটি সাপোর্ট এক্সিকিউটিভ পদের লোক করে থাকে।
🔹 রিসার্চ এনালিস্টঃ
এ পদে চাকরির জন্য প্রোগ্রামিং জানার দরকার হয় না। রিসার্চ এনালিস্ট এর কাজ হলো কোম্পানি যে কাজ করে সে সম্পর্কে ডাটা সংগ্রহ করা ও এনালাইসিস করা। যেমন- কোন কোম্পানি কোন একটি অ্যাপ বানাবে সেটার জন্য যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ, সুবিধা ও অসুবিধা কেমন, মানুষ সেগুলো কেন ইউজ করে বা করে না ইত্যাদি সব তথ্য নিয়ে রিসার্চ করা একজন রিসার্চ এনালিস্ট এর কাজ। এক কথায় সারাদিন গুগলের মত কাজ করা।
🔹আইটি প্রজেক্ট ম্যানেজারঃ
আইটি প্রজেক্ট ম্যানেজার এর কাজ হচ্ছে প্রজেক্ট এর পুরো কাজ প্রোগ্রামারদের বুঝিয়ে দেওয়া এবং তাদের কাছ থেকে কাজ বুঝে নেয়া। কোন ফ্রেশারকে সরাসরি আইটি প্রজেক্ট ম্যানেজার হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয় না। প্রোগ্রামার হিসাবে অভিজ্ঞতা হওয়ার পরেই এই পদে আসা যায়। এ কাজে জব ফ্যাসিলিটি বেশ ভাল।
🔹কোয়ালিটি অ্যাসিওরেন্স ইঞ্জিনিয়ারঃ
কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স ইঞ্জিনিয়ার কে সংক্ষেপে QA ইঞ্জিনিয়ার বলা হয়। এই পদের জন্য কাজ হল সফটওয়্যার বা সিস্টেমের কোয়ালিটি চেক করা এবং বিভিন্ন টুলস বা মেথডের মাধ্যমে পরীক্ষা করা যে কোথাও কোন ত্রুটি আছে কিনা। QA ইঞ্জিনিয়াররা হোয়াইটবক্স টেস্টিং এর কাজ করে তাই প্রোগ্রামিংয়ের ব্যাসিক ধারণা থাকা জরুরী।
🔹সাইবার সিকিউরিটি স্পেশালিস্টঃ
বর্তমানে সরকারি প্রতিষ্ঠান ও মন্ত্রণালয়গুলোতে এ পদের লোকজনের চাহিদা বেড়ে যাচ্ছে। কারণ এনাদের কাজ হল বিভিন্ন সাইবার অ্যাটাক থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলোকে রক্ষা করা যাতে এগুলো পাবলিকলি লিক না হয়। এই পদটি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য ও অনেক গুরুত্বপূর্ণ।
🔹ব্যাংক আইটি অফিসারঃ
বর্তমানে সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে এ পদের জবের জন্য লোকজন হুমড়ি খেয়ে পড়ছে। প্রত্যেকটা ব্যাংকেই আইটির লোকবলের প্রয়োজন হয়। কারণ ইন্টারনেটের দুনিয়ায় প্রত্যেকটি কাজেই কম্পিউটার দ্বারা করা হয়। তাই নিঃসন্দেহে বর্তমানে বাংলাদেশে এটি খুব জনপ্রিয় একটি জব।
🔹গ্রাফিক্স ডিজাইনারঃ
আপনি যদি ডিজাইন করতে পারদর্শী হন তাহলে এই জব টি আপনার জন্য পারফেক্ট। গ্রাফিক্স ডিজাইনাররা বিভিন্ন ডিজাইন যেমন ইউ এক্স ডিজাইন, বিভিন্ন ওয়েব ডিজাইন, লোগো ডিজাইন, ব্যানার ডিজাইন ও সফটওয়্যার ডিজাইনের কাজ করে থাকে। বর্তমানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এ জব টির চাহিদা প্রচুর। গ্রাফিক্স ডিজাইনের পড়াশুনা করা লোকজনের প্রাধান্য বেশি।
🔹 কম্পিউটার অপারেটরঃ
এ জবের জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যে দক্ষতার প্রয়োজন পড়ে সেগুলো হলো- মাইক্রোসফট অফিস, এডোবি ফটোশপ, ইন্টারনেট ব্রাউজিং, নথিপত্র স্ক্যান, ইমেইল লেখা এবং কম্পিউটারের অন্যান্য বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান। বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, প্রতিষ্ঠান, দোকান, বিভিন্ন বড় শপিং মল ইত্যাদি জায়গায় কম্পিউটার অপারেটরদের কাজের সুবিধা আছে।
🔹কনটেন্ট রাইটারঃ
বর্তমানে এটি একটি জনপ্রিয় পেশা। এই পেশাতে ইংরেজিতে দক্ষ হলেই যথেষ্ট।অসংখ্য পত্রিকা, ওয়েব পোর্টাল, ব্লগ সাইট আছে যেগুলোতে আন্তর্জাতিক মানের ব্লগ লিখে আয় করা যায়। চাকরির বেতনের থেকেও এগুলো থেকে অনেক আয় করা যায়। নিজের একটি ওয়েবসাইট খুলে ও কনটেন্ট রাইটিং করা যায়।
🔹 ডিজিটাল মার্কেটারঃ
ডিজিটাল মার্কেটিং হল একটি অন্যতম জনপ্রিয় পেশা। বর্তমান সময়ে এ পেশাকে অনেকে প্রাধান্য দিয়ে থাকে। যেহেতু সোশ্যাল মিডিয়া গুলো দিনে দিনে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে তাই এগুলো পণ্য কেনা বেচার জন্য উৎকৃষ্ট মাধ্যম। তাই সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটার বা ডিজিটাল মার্কেটার জবটির চাহিদা দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে।
এসব ছাড়াও,আরো কিছু কাজের ক্ষেত্র বিদ্যমান আছে এই বিশাল সেক্টরে।বাংলাদেশে এ সেক্টরে জবের চাহিদাগুলোর মধ্যে কম্পিউটার বিষয়ে পড়াশোনা করে শিক্ষকতা করা, কোন প্রতিষ্ঠানে ট্রেইনার হিসেবে কাজ করা, ফুলটাইম ফ্রিল্যান্সার হওয়া, আইটি ফার্ম দিয়ে উদ্যোক্তা হওয়া ইত্যাদি।এছাড়াও অনেক কাজের ক্ষেত্র রয়েছে।তবে আইটি জব এর জন্য অবশ্যই যে কোন একটা বিষয় এক্সপার্ট হতেই হয় তবেই হাজারটা অপশন তৈরী হয়ে যায়।বর্তমান বিশ্বে যে দেশ আইটি সেক্টরে যত উন্নত সে দেশ তত বেশী ধনী।আমাদের তারণ্যশক্তিকে কাজে লাগিয়ে আমরাও আমাদের দেশকে বিশ্বের একটি উন্নত দেশে পরিনত করতে পারি।
তাই,এ বিষয়ে তরূণদের আগ্রহের সাথে কাজ করার গুরুত্ব বলার অপেক্ষা রাখেনা।